তালা – দখিন দর্পণ
Image
Sorry, no posts Have .......

মঙ্গলবার  •  ১১ কার্তিক ১৪২৮ • ২৬ অক্টোবর ২০২১

পহেলা বৈশাখে হবে ভার্চুয়ালি উদযাপন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

পহেলা বৈশাখে  হবে ভার্চুয়ালি উদযাপন

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় জনসমাগম করে আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। আজ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কথা জানিয়েছে।

বলা হয়েছে, বাংলা নববর্ষ আয়োজনে কোনো অবস্থাতেই জনসমাগম করা যাবে না। তবে জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান পরিহার করে অনলাইন বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে ক্রমাগত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। প্রতিদিন আগের দিনের রেকর্ড এমনকি দেশের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৩ জন। এ সময়ে করোনা ধরা পড়েছে ৭ হাজার ৬৬২ জনের শরীরে।
এর প্রেক্ষিতে বুধবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আ স ম হাসান আল আমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হলো।

চিঠিতে বলা হয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ উদযাপন সংক্রান্ত গৃহীত কর্মসূচির বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারি করা নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান পরিহার করে সম্ভব হলে অনলাইন বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অনুরোধ জানানো হলো। কোনো অবস্থাতেই জনসমাগম করা যাবে না।

গত বছরও করোনা পরিস্থিতির জন্য ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছিল।

সাকিবকে নিয়ে নাইট রাইডার্সের উন্মাদনা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার, ১১:৫০ অপরাহ্ন

সাকিবকে নিয়ে নাইট রাইডার্সের উন্মাদনা

আইপিএলে সাকিব খেলছেন ২০১১ সাল থেকে। ৮ আসরে অংশ নিয়ে ৭৪৬ রান করেছেন। বল হাতে নিয়েছেন ৫৯ উইকেট। আইপিএলে সাকিবের সবচেয়ে সফল আসর ছিল ২০১৮ সাল। সেবার ২৩৯ রানের পাশাপাশি নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট।সাকিব আল হাসানকে নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স যে উচ্ছ্বসিত সেটা তাদের প্রচারণা দেখেই বোঝা যায়। তাদের পোস্টারেও বাংলাদেশের তারকাকে বেশ ফোকাস করা হচ্ছে। তা ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাকিবকে নিয়ে আলাদা ভিডিও বানিয়েছে শাহরুখ খানের দল।

নাইট রাইডার্সের অফিসিয়াল ফেসবুকে সাকিবকে নিয়ে পোস্ট দেওয়া মানেই লাইক, শেয়ার, কমেন্টের ঝড়। নাইটদের ফ্যানপেজে সবচেয়ে বেশি লাইক-কমেন্ট বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে নিয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসে। নাইটদের আশা, এবার মাঠেও দেখিয়ে দেবেন সাকিব। অবশ্য এক দিন আগেই মিডিয়াকে তিনি বলেছেন, এবার কলকাতার হয়ে এমন রেকর্ড গড়তে চান তা আগে কখনো হয়নি। একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন দেখার অপেক্ষা মাঠে কেমন পারফর্ম করেন তিনি।  আইপিএলে সাকিব খেলছেন ২০১১ সাল থেকে। ৮ আসরে অংশ নিয়ে ৭৪৬ রান করেছেন। বল হাতে নিয়েছেন ৫৯ উইকেট। আইপিএলে সাকিবের সবচেয়ে সফল আসর ছিল ২০১৮ সাল। সেবার ২৩৯ রানের পাশাপাশি নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট। নিষেধাজ্ঞার কারণে গত আইপিএলে খেলতে পারেননি।

৯ এপ্রিল মাঠে গড়াবে আইপিএলের এবারের আসর। কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম ম্যাচ ১১ এপ্রিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিরুদ্ধে। রোহিত শর্মার দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

তবে ভারতে যেভাবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে, শেষ পর্যন্ত আইপিএল স্থগিত হয়ে যায় কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়!

আধা ঘণ্টার গরম বাতাসে শত শত হেক্টর ধান ক্ষেতের ফসল নষ্ট

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

আধা ঘণ্টার গরম বাতাসে শত শত হেক্টর ধান ক্ষেতের ফসল নষ্ট

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া এবং কাশিয়ানীতে কৃষকের ফসলি জমির যে দিকে চোখ যায় শুধু ধান আর ধান। দিগন্তের নিচে ধানের সবুজের সমারহে চোখ জুড়িয়ে যায়। ধানের বুকে বাতাস লেগে দোল খেয়ে প্রকৃতি অপরূপ রূপ ধারণ করে। কৃষকেরও তখন ধানের দিকে তাকিয়ে বুক জুড়িয়ে যায়।

ধারদেনা করে নিজ হাতে যত্নে গড়ে তোলা ধানের দিকে তাকিয়ে অনাগত সন্তানের মতো সুখ লাভ করে। অপেক্ষা শুধু কয়েক দিনের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলার। ঠিক সেই সময় কৃষকের স্বপ্নের বুকে বিষ ঢেলে দিয়েছে গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া ঝড়ের সাথে ৩০ মিনিট স্থায়ী গরম হাওয়া।এক রাতের মধ্যে শত শত হেক্টর জমির ধান সবুজ থেকে সাদা হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ধানের শীষ। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন লু হাওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গোপালগঞ্জের অন্তত ১০টি ইউনিয়নে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পরে বয়ে যাওয়া ঝড়ের সাথে ৩০ মিনিটের মতো সময় ধরে এসব এলাকায় গরম বাতাস বয়ে যায়। এ গরম বাতাসে ক্ষেতে উঠতি বোরো ধানের শিষে মাত্র ‘দুধ এর মতো পানি’ এসেছে, সেই ধান সব চিটায় পরিণত হয়ে সাদা রঙ ধারণ করেছে। ধানের শীষে হাত দিলে এতে কোনো ধানের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু চিটা আর চিটা। আর এতে জেলার শত শত কৃষকরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার ৪টি উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে গরম হাওয়া বয়ে যায়। আধা ঘণ্টা ধরে চলা এ গরম হাওয়ায় কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি, পিঞ্জুরী, হিরণ ও আমতলী ইউনিয়ন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর, ডুমুরিয়া, পাটগাতি ও বর্নি ইউনিয়ন, কাশিয়ানীর রাতইল ইউনিয়ন, সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের শত শত হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। ধানের এমন ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা শুধু কাদঁছেন। কী করে ধার-দেনার টাকা শোধ করবেন। সন্তানদের নিয়ে সারা বছর কী খাবেন!

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দু কুমার রায় বলেছেন, গত রবিবার সন্ধ্যায় ঝড়ো হাওয়ার সাথে ৩০ মিনিট বয়ে যাওয়া গরম হাওয়ার কারণে ধানের এ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছেন। ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, এ বছর জেলায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে বলে জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তার চাঁদর ঢাকা হয়েছে গোটা সাতক্ষীরা, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৬ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ন

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তার চাঁদর ঢাকা হয়েছে গোটা সাতক্ষীরা, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

আগামি ২৭ মার্চ নরেন্দ্র মোদী সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ইশ্বরীপুর যশোরশ্বরী কালি মন্দির পুজা দিতে আসছেন তিনি। তার আগমনকে ঘিরে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে বরন করতে অধির আগ্রহ অপেক্ষা করছেন সাতক্ষীরা বাসী। তার আগমনকে ঘিরে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের উৎসবের আমেজ। তবে, তার সফরটি খুবই সংক্ষিপ্ত হলেও আয়োজনে কোনো ঘাটতি রাখেননি জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে তারা সেখানে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। হ্যালিপ্যাড থেকে যশোরশ্বরী কালিমন্দির পর্যন্ত সাজানো হয়েছে নান্দনিকভাবে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে ঘিরে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। হ্যালিপ্যাড থেকে যশোরশ্বরী কালিমন্দির পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে নান্দনিকভাবে সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। যা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দেখে খুবই ভাল লাগবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। এছাড়া যশোরশ্বরী কালীমন্দিরসহ সংস্কার করা হয়েছে কালিমন্দির সংলগ্ন সড়ক। নির্মান করা হয়েছে টি হ্যালিপ্যাড। তিনি বলেন, ভারতীয় প্রধান মন্ত্রীর বিশ্রামের বিষয়টিও মাথায় রেখে স্থানীয় ভুমি অফিসকেও সাজানো হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। নরেন্দ্র মোদী আগামী ২৭ মার্চ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট শ্যামনগর . সোবাহান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নবনির্মিত হ্যালিপ্যাডে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে অবতরন করবেন। এরপর তিনি সকাল টা ৫০ মিনিট যশোরাশ্বরী দেবি মন্দিরে পূজা দেয়ার জন্য প্রবেশ করবেন। সেখানে তিনি মাত্র ২০ মিনিট থাকার পর ১০ টা ১০ মিনিট মন্দির ত্যাগ করবেন। এরপর তিনি ১০ টা ১৫ মিনিট হ্যালিকপ্টার যোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। সেখানে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ পরিদর্শন পুষ্পস্তবক অর্পন করবেন। তিনি আরো জানান, নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢাকা হয়েছে গোটা সাতক্ষীরা। নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছেন এসএসএফ। তাদের সাথে রয়েছেন আইনশৃংখলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা। তিনি এসময় জেলা ব্যাপী আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক শান্তি পূর্ণ রয়েছে বলে জানান।

সরকারী খাল দখল করে পোল্ট্রি খামার এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত অপসারণের

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৯ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ১০:৪১ অপরাহ্ন

সরকারী খাল দখল করে পোল্ট্রি খামার এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত অপসারণের

স্টাফ রিপোর্টার :সরকারি খাল দখল করে অবৈধ ভাবে পোল্ট্রি খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ও কাশেমপুর গ্রামের মধ্যেবর্তি নৌখালের উপর নির্মিত খামারটি কোন বাঁধা ছাড়াই গড়ে উঠছে। সাতক্ষীরা শহরের থানাঘাটা থেকে ভারত সীমান্তবর্তী সোনাই নদীতে মিশে যাওয়া নৌখাল দিয়ে ৩৭ টি গ্রামের ও ১৯টি বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ।এই খালের উপর লাবসা খালকূল কলোনির  মোকছেদ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম বিশাল একটি পোলট্রি খামার তৈরি করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে বাঁধা হতে পারে এবং ঘন জনবসতি এলাকায় পোল্ট্রি খামারের গন্ধে পরিবেশ দূষিত হতে পারে এই সম্ভাবনা এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খালের মাঝখান পর্যন্ত ইট, কাঠ ও বাঁশের দিয়ে তৈরি খামারটি প্রায় শেষ। বাকি আছে শুধু ছাউনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানান,তার টাকার জোর আছে। ক্ষমতার দাপটে সে তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খামারটি যদি উচ্ছেদ না করে তবে ওই খাল দখল হয়ে যাবে। শহিদুল ইসলাম বলেন,”খালের উপর তৈরি করছি তাতে কোন সমস্যা হবে না। আর কে কি বলবে সেটা আমি দেখে নিবান”।

মিয়ানমারে সেনাঅভ্যুত্থান ও বিক্ষোভ: বেরিয়ে এল চীনের ভূমিকা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৯ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ১০:১২ অপরাহ্ন

মিয়ানমারে সেনাঅভ্যুত্থান ও বিক্ষোভ: বেরিয়ে এল চীনের ভূমিকা

গত ১ ফ্রেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গ্রেফতার করে  ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চিকে।

অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের রাজপথে নেমে আসে দেশটির জনগণ। আন্দোলনরত বেসামরিক জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, যা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।এদিকে, অভ্যুত্থানের জন্য সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করায় চীনা মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা জ্বালিয়ে দেয় মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীরা। এর পরপরই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ইয়াঙ্গুনের কিছু অংশে সামরিক আইন জারি করে।

রবিবার মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়।

ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই হামলাকে ‘অত্যন্ত জঘন্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং সহিংসতা বন্ধ, অপরাধীদের শাস্তি এবং দেশটির চীনা ব্যবসা এবং জনগণকে রক্ষা করার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

দূতাবাসের মতে, বেশ কয়েকটি চীনা মালিকাধীন কারখানা ভেঙে ফেলা হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে অনেক চীনা নাগরিক আহত হয়।

দূতাবাস বলেছে, আমরা মিয়ানমারের জনগণকে তাদের দাবি বৈধভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য উস্কানি ও শোষণ এড়াতে অনুরোধ করছি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীরা চীনের সমালোচনা করেছে এবং তারা বেইজিংকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সমর্থক হিসেবে দেখছে।

এমন পরিস্থিতিতে চীনের প্রতিক্রিয়া অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে। তারা এটিকে মিয়ানমারের একটি ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যেকোনও পদক্ষেপ সংঘাত বাড়াতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।  

মিয়ানমারের নাগরিকরা সামরিক জান্তার সাথে চীনের সম্পর্ক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে তার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা চীনের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর তালিকা শেয়ার করেছে।

ইয়াঙ্গুনের আক্রান্ত বাসিন্দারা বলেছেন, তারা বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে দিনদিন হতাশ হচ্ছেন।

ফেডারেশন অব জেনারেল ওয়ার্কার্স মিয়ানমারের চেয়ারপার্সন মন সান্দার মাইন্ট বলেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় চীনা নিয়োগকর্তারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের অনেককে হুমকি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, চীনা দূতাবাসের বিবৃতি বিক্ষোভকারীদের প্রতি বেইজিং-এর বিদ্বেষকে অস্বীকার করেছে এবং নিহত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি দেখায়নি।

মিয়ানমারের জাতীয় পোশাক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানার মালিক চীনা। 

অরিজিতের প্রথম স্ত্রী বলে নেট দুনিয়ায় জোর চর্চা! কি বললেন রূপরেখা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৯ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ১০:০২ অপরাহ্ন

অরিজিতের প্রথম স্ত্রী বলে নেট দুনিয়ায় জোর চর্চা! কি বললেন রূপরেখা

তিনি ওপার বাংলার ছেলে হলেও বর্তমানে বলিউডের তারকা গায়ক। তার নামেই বহু তরুণীর হৃদয় উদ্বেলিত হয়, স্বপ্ন দেখেন অনেকে। তবে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কখনো মুখ খুলেননি অরিজিৎ সিং। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রয়েছে অনেক গুঞ্জন। শোনা যায়, দুই বিয়ে করেছেন এ গায়ক। প্রথম বিয়ে এক বছরের মধ্যেই ভেঙে যায়। তারপর বিয়ে করেন কোয়েল রায়কে।

জানা গেছে, অরিজিৎ সিংয়ের বর্তমান স্ত্রী কোয়েল। তবে নেটদুনিয়ায় সার্চ করলে অরিজিৎ সিংয়ের প্রথম স্ত্রী হিসেবে উঠে আসে গায়িকা রূপরেখা ব্যানার্জির নাম। যদিও এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। সম্প্রতি এ বিষয়েই মুখ খুলেছেন এই গায়িকা।নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করে তিনি বলেন, ‘কিছু ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে আমার নামে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমাকে অপমান করাও হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই আমার সঙ্গে অরিজিতের নাম জড়ানো হচ্ছে। প্রথমে গুরুত্ব দিই না। কারণ, তারকাদের নিয়ে এমন অনেক কথাই রটে। দিনের পর দিন এই গুজব বাড়ছে, তাই মুখ খুলতে বাধ্য হলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি অরিজিৎ সিং কাকে প্রথম বিয়ে করেছিলেন সেটা জানার প্রয়োজন আমার নেই। সেটা ওর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমি ওর প্রথম পক্ষের স্ত্রী নই। আর আমি একবারই বিয়ে করেছি। ২০১০ সালে কলকাতায় নলীনাক্ষ ভট্টাচর্যের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়।’

৪ কোটি ছাড়াল পরীমণি ও সিয়ামের ‘তুই কি আমার হবি রে’

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

৪ কোটি ছাড়াল পরীমণি ও সিয়ামের ‘তুই কি আমার হবি রে’

দেশের প্রেক্ষাগৃহে টানা দুই মাস ধরে চলছে জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি ও চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ জুটির প্রথম ছবি ‘বিশ্বসুন্দরী’। গেল বছরের ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ৮ম সপ্তাহে এসেও ঢাকা ও এর বাইরের বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানছে। এরইমধ্যে ছবিটির ‘তুই কি আমার হবি রে’ শিরোনামের গানটি দেখা হয়েছে চার কোটিরও বেশি বার। 

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর অনলাইনে প্রকাশিত হয় এই গান। চলচ্চিত্রটির সম্প্রচার সহযোগী মাছরাঙা টেলিভিশনের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গানটি দর্শকেরা দেখেছেন তিন কোটি ১০ লাখেরও বেশি বার। এছাড়া পরিবেশক জাজ মাল্টিমিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে গানটি দেখা হয়েছে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি (৯১ লাখেরও বেশি)।গীতিকবি কবির বকুলের লেখা, সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুলের সুর ও সংগীতে গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান ও কনা। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সুমন রহমান, চিত্রগ্রহণে খায়ের খন্দকার এবং সম্পাদনায় ইকবাল কবীর।
‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমা সূত্র জানিয়েছে, পাঁচ দিন লেগেছে গানটি ধারণ করতে। এর দৃশ্য ধারণ করা হয় বান্দরবানের নীলগিরিসহ কক্সবাজার ও ঢাকায়।

এদিকে, মুক্তির ৮ম সপ্তাহে এসেও ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স (বসুন্ধরা সিটি ও সীমান্ত সম্ভার শাখা), ব্লকবাস্টার সিনেমাস, সেনা অডিটোরিয়াম, বিজিবি (ঢাকা) ও চট্টগ্রামে সিলভার স্ক্রিনে চলছে ‘বিশ্বসুন্দরী’। শুরু থেকেই আলোচনায় থাকা এই সিনেমাটি চয়নিকার চৌধুরীর প্রথম নির্মাণ। এতে লাস্যময়ী নায়িকা পরীমণি-সিয়াম জুটির রসায়ন, শ্রুতিমধুর গান, ছবির গল্প ও নির্মাণ শৈলী- সব মিলিয়ে ‘বিশ্বসুন্দরী’ নিয়ে এখনো দর্শকদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

শোনা যাচ্ছে, গত বছরের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্যবসা সফল ছবি এটি। আবার কেউ কেউ বলছেন ব্যবসার দিক দিয়ে অন্যতম নয়, শীর্ষ ব্যবসা সফল ছবি ‘বিশ্বসুন্দরী’। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি, হল মালিক, প্রযোজক আর ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অন্যান্য ছবির তুলনায় ‘বিশ্বসুন্দরী’ ভালো চলছে।

সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন আলমগীর, চম্পা, ফজলুর রহমান বাবু, মনিরা মিঠু, আনন্দ খালেদ, হীরা, সুজন, সীমান্তসহ আরো অনেকে। ছবির কাহিনি চিত্রনাট্য ও সংলাপ রুম্মান রশীদ খানের। ছবিটি মুক্তির প্রথম দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গত ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ছবিটি দেখে সবাই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে। 

আলজাজিরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

আলজাজিরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ

আবারও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে নতুন এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরা। একের পর এক সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্ভট, বিতর্কিত ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে হেয় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ রয়েছে গণমাধ্যমটির বিরুদ্ধে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনা করে সাজা খাটা ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ও  এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতসহ একটি বিশেষ গোষ্ঠী। 
সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন ও গণমাধ্যমটির ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড়। সরকারসহ দেশের গণমাধ্যমও সমালোচনায় মুখর। এই ঝড় ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ও সরকার নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা। সরকারও এই অপ্রপচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কড়া জবাব দিচ্ছে। সরকার বলছে, আলজাজিরায় প্রচারিত এই প্রতিবেদন তথ্যবহুল নয়, মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। দেশের একটি ধিক্কৃত ও বর্জিত শ্রেণি দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ষড়যন্ত্র করছে। এই অসত্য তথ্য প্রচার করায় গণমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। 
গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে কাতারভিত্তিক বিতর্কিত গণমাধ্যম আলজাজিরা বাংলাদেশবিষয়ক কথিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ শিরোনামে তথাকথিত এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটির ব্যাপ্তি এক ঘণ্টারও বেশি। এতে বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়। আলজাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ‘তথ্যভিত্তিক নয়’ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, এটি ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ বহিঃপ্রকাশ। আলজাজিরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তবে ভিন্ন কথা বলেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। ‘আলজাজিরায় অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কীনা’- প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য কিংবা অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচারের অভিযোগে আলজাজিরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কতটুকু সুযোগ আছে? তিনি বলেন, ‘আপনাদের পত্রিকায় অসত্য নিউজ ছাপা হয় না? কোনো মামলা হয়েছে? আপনার উত্তরটি পেয়েছেন?’
তবে আলজাজিরার মিথ্যা ও উগ্রবাদীদের উস্কানি দেওয়ার কারণে টিভি চ্যানেলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে আরব দেশের অন্তত ১১টি দেশ।বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ইতিপূর্বেও আলজাজিরায় প্রকাশিত খবর সম্পর্কে রয়েছে নানা বিতর্ক। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে দেশের স্বাধীনতা, যুদ্ধাপরাধের বিচার, নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলন, রোহিঙ্গাসহ সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক বাংলাদেশের যে কোনো আন্দোলন, ইস্যু ও সংকট নিয়ে খবর প্রচারের ক্ষেত্রেই আলজাজিরার বস্তুনিষ্ঠতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক বাংলাদেশের যে কোনো আন্দোলন, ইস্যু ও সংকট নিয়ে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক রং লাগিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করা কিংবা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের লক্ষ্য বলে মনে করেন অনেকে। কারণ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা দেশে ঘৃণিত, বর্জিত, ধিক্কৃত- তারা দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এ ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
৬ বছর আগে যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর ফাঁসির রায়ের পর মরিয়া হয়ে ওঠে আলজাজিরা। পরদিনই জামায়াতের নিয়োগ করা লবিস্ট টবি ক্যাডম্যান ও ডেভিড বার্গম্যানকে নিয়ে আয়োজন করা হয় এক অনুষ্ঠানের। ‘হোয়াটস বিহাইন্ড বাংলাদেশ ওয়ার ক্রাইমস ট্রায়াল’ নামক ওই অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধের বিচার ব্যবস্থা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে  প্রশ্নবিদ্ধ করে নানা বক্তব্য দেন টবি ও বার্গম্যান। যুদ্ধাপরাধের বিচারে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সমান সুযোগ পেলেও একতরফা বিচার বলে প্রচার করেছে তারা। তখন ইংরেজি দৈনিক নিউএজে কর্মরত ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যান।
এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বার্গম্যানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও আদালতকক্ষে সাজা দেন। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেন, বার্গম্যান ‘জাতির অনুভূতিতে আঘাত করেছেন’ এবং ‘জাতির গর্ব মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তিনি যে ন্যায়ভ্রষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন, তা তার মানসিকতা পরীক্ষা করলেই বোঝা যায়।’ এরপরের বছর দেশ ছাড়েন বার্গম্যান। শুধু যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নয়, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এমনকি রোহিঙ্গা ইস্যুতেও নেতিবাচক খবর প্রচার করেছে আলজাজিরা। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে পুঁজি করে একের পর সরকারের নানা সমালোচনা করা হয় গণমাধ্যমটিতে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় সরকারবিরোধীদের। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাবকে জড়িয়ে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুম ও খুনের বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনও প্রচার করে আসছে গণমাধ্যমটি। যার অধিকাংশই করেছেন বিতর্কিত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।
শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আলজাজিরার প্রতিবেদন উদ্দেশ্যমূলক ও অপপ্রচারের নোংরা বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে অসত্য তথ্যপ্রচার অত্যন্ত নিন্দনীয়।

সাতক্ষীরায় মুনসুর আহমদের জানাযায় মানুষের ঢল, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায়

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বুধবার, ২:০৬ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় মুনসুর আহমদের জানাযায় মানুষের ঢল, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায়

 লাখো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শোক সাগরে ভাসিয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক প্রবীণ রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ।

মঙ্গলবার বাদ জোহর সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে তার জানাজা নামাজে জনতার ঢল নামে। এর আগে তার মরদেহে জেলার সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জানাজা নামাজের আগে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এসময় সৃষ্টি হয় বেদনা বিধূর পরিবেশ। জানাজা নামাজের আগে মরহুমের জীবন ও কর্ম তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক-এমপি, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল, সাবেক এমপি ফজলুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু, জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু প্রমুখ। এ সময় মোবাইল ফোনে অডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। জানাজা শেষে তাকে সাতক্ষীরার নলতা শরীফে আরও একটি জানাযা শেষে দেবহাটারর পারুলিয়াস্থ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে আরেক দফা জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত,সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ০৫ মিনিটে রাজধানীর ঢাকার স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি কোভিড-১৯ করোনাক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সিভি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক আব্দুল মইন গত ২৮ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতা জনিতকারণে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি তাদের দু’জনেরই করোনা নেগেটিভ আসে। তবে, শারীরিক নানা জটিলতার কারণে পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মুনসুর আহমেদ ১৯৪৮ সালে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হামিজ উদ্দীন এবং মাতার নাম নাম দেলজান বিবি। সাতক্ষীরা পিএন হাইস্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেন এবং খুলনা কমার্স কলেজ থেকে তিনি স্নাতক পাশ করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে সাতক্ষীরার গণমানুষের অধিকার ও উন্নয়নে তার অবদান অপরিসীম। কৃষক শ্রমিক ছাত্র আন্দোলনে তার নেতৃত্বে বারবার কেঁপেছে রাজপথ। তিনি ছিলেন সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনের অভিভাবক। তিনি দীর্ঘদিন পারুলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর তৎকালীন সাতক্ষীরা-০৪ (দেবহাটা-কালিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সাতক্ষীরার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও সংস্কারে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে তিনি ভূমিকা রেথেছেন। জীবনটা কাটিয়েছেন তিনি মানবসেবায়।
জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মুনসুর আহমেদ। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত টানা ১৯ বছর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

এরপর ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে মুনসুর আহমেদের নাম ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ২১ মার্চ এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর গত ৮ জানুয়ারি নবীন-প্রবীনদের সমন্বয়ে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরআগে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে পুনরায় মুনসুর আহমেদকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে মুনসুর আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

তার মৃত্যুর খবরে সাতক্ষীরায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন রাজনৈতিক মদদপুষ্ট অপপ্রচার : আইএসপিআর

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বুধবার, ২:০৩ অপরাহ্ন

আল-জাজিরার প্রতিবেদন রাজনৈতিক মদদপুষ্ট অপপ্রচার : আইএসপিআর

 কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরার ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক মদদপুষ্ট অপপ্রচার আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার।

সাধারণত জনগণের প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতিগুলোর বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর উগ্রগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিবেদন প্রচার করে আল-জাজিরা।

১৯৭১ সালে গণহত্যায় জামায়াতে ইসলামীর অপরাধী চক্র লাখ লাখ বাঙালি বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিল। দুই লক্ষাধিক বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করেছিল। তবে আল-জাজিরা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে এটা কখনোই তুলে ধরেনি। আল-জাজিরার প্রধান ভাষ্যকার ডেভিড বার্গম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ কর্তৃক একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সরকারি মৃত্যুর সংখ্যা চ্যালেঞ্জের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

‘এটি লক্ষণীয় যে আল-জাজিরার অভিযোগের মূল ‘উৎস’ হলেন একজন কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধী, যাকে আল-জাজিরা নিজেই ‘মানসিক রোগী’ বলে দাবি করেছে। প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের অন্য সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ওই ব্যক্তির যোগসাজশের ছিটেফোঁটা প্রমাণও নেই। মানসিকভাবে অপ্রকৃতস্থ কোনো ব্যক্তির কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেলের পক্ষে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে জামায়াতে ইসলামীর পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকজন দণ্ডিত পলাতক আসামি এবং নিন্দিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারের সঙ্গে প্রতিবেদনটি মিলে যায়। সংগঠনটি বহুবার আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী দল এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছে, বিশেষ করে আল-জাজিরার সঙ্গে…’

‘উগ্রপন্থী এবং তাদের লন্ডন ও অন্য জায়গায় তৎপর মিত্রদের মাধ্যমে প্ররোচিত এই মরিয়া অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করছে বাংলাদেশ সরকার। আফসোস এটা যে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে অপপ্রচারকারীদের বিষাক্ত রাজনৈতিক নকশার একটি অস্ত্র হতে নিজেকে সঁপে দিয়েছে আল-জাজিরা’—বলা হয় বিবৃতিতে।

মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বুধবার, ২:০১ অপরাহ্ন

মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

 মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জনস্বার্থে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি পুনঃর্নিধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসি বা এর কম হলে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যমান শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি পূর্বের চার হাজার ২০০ টাকার জায়গায় দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসির ঊর্ধ্বে হলে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যমান শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি পূর্বে পাঁচ হাজার ৬০০ টাকার জায়গায় তিন হাজার টাকা হবে।

এর আগে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রস্তাবে সম্মতি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জাপান যৌথ সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক সংলাপ’ শীর্ষক বৈঠকে মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি বাজারমূল্যের ১০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে জাপানি রাষ্ট্রদূত শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মোটরসাইকেল নিবন্ধন খরচ কমানোর প্রস্তাব করেন।

সম্প্রতি অর্থ বিভাগের ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের (এনটিআর-২) উপসচিব শাব্বির আহমেদ স্বাক্ষরিত সম্মতি সংক্রান্ত চিঠি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসি বা এর কম হলে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যমান শুধু নিবন্ধন ফি চার হাজার ২০০ টাকার স্থলে দুই হাজার টাকা হবে। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসির ঊর্ধ্বে হলে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যমান শুধু নিবন্ধন ফি পাঁচ হাজার ৬০০ টাকার স্থলে তিন হাজার টাকা হবে।

বাংলাদেশ মোটরসাইকেল সংযোজনকারী ও উৎপাদক সমিতি (বিএমএএমএ) জানিয়েছে, ১১০ সিসির একটি মোটরসাইকেলের মাশুল বাংলাদেশে ২২ হাজার ২৮৪ টাকা। ভারতে তা তিন হাজার ৮৭৯, শ্রীলঙ্কায় চার হাজার, পাকিস্তানে দুই হাজার ৬৮, মিয়ানমারে তিন হাজার ৩২০ এবং মালয়েশিয়ায় এক হাজার ১৩২ টাকা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, করোনার কারণে চলাচল সীমিত থাকলেও গত বছর সারাদেশে তিন লাখ ১১ হাজার ১৬টি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন করেন গ্রাহকরা। যেখানে ২০১৯ সালে নিবন্ধন নেয়া হয়েছে চার লাখ এক হাজার ৪৫২টির। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে যথাক্রমে এ সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৮৭৬ এবং তিন লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৫টি।

জুলাই থেকে দেশে সব অবৈধ ও নকল মুঠোফোন বন্ধ : বিটিআরসি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৮ জানুয়ারী ২০২১, শুক্রবার, ৯:১৫ অপরাহ্ন

জুলাই থেকে দেশে সব অবৈধ ও নকল মুঠোফোন বন্ধ : বিটিআরসি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেছেন, ‘আগামী ১ জুলাই থেকে অবৈধ ও নকল মোবাইল সেটগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।। এর আগে গ্রাহকদের হাতে থাকা সচল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিটিআরসি কার্যালয়ে টেলিকম খাতের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়ম সভায় একথা বলেন তিনি। শ্যাম সুন্দর জানান, যে মোবাইল সেটগুলো চালু আছে তাদের ইনকরপোরেট করে নেব, সে সুযোগ দেব। নতুন যেগুলো আসবে সেগুলো অবশ্যই নিবন্ধন হয়ে আসতে হবে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে এ সময় সংস্থার মহাপরিচালক (স্পেকট্রাম) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম জানান, গ্রাহকরা তার সেট পরীক্ষা করতে পারেন যে এটি বৈধ কি না। আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে ম্যানুয়ালি অপারেটরগুলো জানাবে নতুন আইএমইআইভুক্ত সেটগুলো। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যক্রম অনলাইন করা হবে। জনগণের হাতে যেসব সেট আছে সেগুলো নিবন্ধন করে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, অবৈধ মোবাইল সেট বন্ধ ও বৈধ সেটের নিবন্ধনে ডিসেম্বরে বিটিআরসির সঙ্গে চুক্তি করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি। চুক্তি অনুযায়ী, ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম চালু করতে হবে সিনেসিসকে।

সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন যারা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৮ জানুয়ারী ২০২১, শুক্রবার, ৯:০৮ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন যারা

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন- ইঞ্জি শেখ মুজিবর রহমান, ফিরোজ আহমেদ, এসএম জগলুল হায়দার, এসএম শওকত হোসেন, এ.বিএ.ম মোস্তাকিম, এ্যাড. মোজহার হোসেন কান্টু, শেখ নুরুল ইসলাম, নরীম আলী মাস্টার, মো: মুজিবুর রহমান, ফিরোজ আহমেদ স্বপন, শেখ নাসেরুল হক, শেখ আব্দুর রশিদ, মো: শাহ্জাহান আলী, মো: শাহাদাত হোসেন, ঘোষ সনৎ কুমার, এসএম আতাউল হক দোলন, মো: মনিরুজ্জামান মনি, শেখ মারুফ হাসান মিঠু, আমিনুল ইসলাম লাল্টু, সাঈদ মেহেদী, মো: আব্দুল কাদের, সাজেদুর রহমান খান চৌধুরী মজনু, অধ্যক্ষ ফাজরুল আলম বাবু, মীর মোশারফ হোসেন মন্টু, আসাদুজ্জামান অসলে, এড. সৈয়দ জিয়াউর রহমান বাচ্চু, এনামুল হক ছোট, ইঞ্জি মেহেদী হাসান সুমন, মিসেস কহিনুর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান নাছিম, শেখ মনিরুল হোসেন মাসুম, নাজমুন নাহার মুন্নি, মো: সামছুর রহমান, মীর জাকির হোসেন, মিসেস মাহফুজা রুবি ও ইসমত আরা বেগম।

কলারোয়ায় মুজিব শতবর্ষের ঘর দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শিশুসহ আহত-৩

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ জানুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:০৫ অপরাহ্ন

কলারোয়ায় মুজিব শতবর্ষের ঘর দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শিশুসহ আহত-৩


কলারোয়া প্রতিনিধি: মুজিব শতবর্ষে ভ‚মিহীনদের মধ্যে ঘর পাওয়া
না পাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শিশু ও মহিলাসহ অন্তত তিন
জন আহত হয়েছে।গতকাল দুপুরে সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার
কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালচাতর গ্রামে ওই ঘটনাটিঘটে।
আহতরা হলেন,রিপন মন্ডলের ছেলে এলেক্ধসঢ়;্র মন্ডল (৭),রবিন মন্ডলের স্ত্রী
হিরা মন্ডল (২৫),রুবেল মন্ডলের স্ত্রী নলিতা মন্ডল(২২)।আহতদের কলারোয়া
উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেøক্রে ভর্তি করা হয়।পরে, এলেক্ধসঢ়;্র মন্ডলের অবস্থার
অবনতি দেখে খুলনা ২৫০ বেড হাসপাতালে পাঠানো হয়।এ ব্যাপারে
এ্যালেক্র মন্ডলের চাচা বাদী হয়ে সন্ধায় কলারোয়া থানায় ৭ জনের নাম
উল্লেখ করে একটি এজহার দাখিল করেছে।
এজহার সূত্রে জানা যায়,ইউনিয়নে মুজিব শতবর্ষে ভ‚মিহীনদের
মধ্যে ঘর বিতরণের প্রেক্ষিতে গোয়ালচাতর গ্রামের জ্যাকব মন্ডল
একটি ঘর পায়।কিন্তু একই এলাকার শুকলাল মিত্রের ছেলে সিরাস্থিন মিত্র
ওরফে কালু ও তার সংঙ্গবদ্ধ চক্র জ্যাকব মন্ডলের কাছে এক লক্ষ টাকা চাদা
দাবী করে।জ্যাকব ৫ হাজার টাকা দিতে রাজী হয়।কালু বাহিনী ওই
টাকায় সন্তুষ্ট না হয়ে বাকী টাকা দাবী করে।জ্যাকব বাকী টাকা না
দিয়ে ঘর উঠাতে গেলে গতকাল কালু,মৃত হিনু মন্ডলের ছেলে জোহন ও
নব্দ মন্ডলসহ ৮/১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে
জ্যাকবের বাড়ীতে হামলা চালায়।এতে শিশু ও নারীসহ তিন জন গুরুতর
আহত হয়।

সাতক্ষীরায় সবজির বাম্পার ফলন: দামে স্বপ্নভঙ্গ চাষির

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ জানুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরায় সবজির বাম্পার ফলন: দামে স্বপ্নভঙ্গ চাষির

বুকভরা আশা আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে ফুলকপি চাষ করেছিলেন কৃষক শহর আলী। ক্ষেতের সবুজ গালিচা ভেদ করে তারার মতো ফুটেছিল ফুলকপি। সোনালী রঙের ফুলকপি দেখে স্বপ্ন রাঙিয়ে নিয়েছিলেন কৃষক শহর আলী। কিন্তু সেই স্বপ্ন মলিন হয়ে গেছে তার।

বাজারে ফুলকপির দাম নিয়ে চলছে রীতিমত তামাশা। কৃষক শহর আলীর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের পাঁচপাড়া এলাকায়। তার পিতার নাম মরহুম এবাদুল ইসলাম।

কৃষক শহর আলী জানান, অনেক আশা নিয়ে তিনি দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছিলেন। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ফুলকপির দাম নেই বাজারে। ফুলকপি ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে নেয়া পর্যন্ত যে খরচ তাও উঠছে। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা। একমণ ফুলকপি বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারীরা ঠাট্টা করে। কেউ কেউ এসে মজা করে ফুলকপি মাথায় ধরে।

একই কথা বলেন, একই এলাকার সোবহান গাজীর ছেলে আনোয়ার গাজী। তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। প্রতিবিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৭হাজার টাকা। এতে তিন বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০হাজার টাকা। কিন্তু সর্বসাকুল্যে তিনবিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করেছেন মাত্র ১৩ হাজার টাকায়। গ্রামের বাজারে দাম কম। অথচ শহরের বাজারে দাম বেশি। গ্রামের বাজারে যে ফুলকপি আড়াই টাকা কেজি শহরের বাজারে তার দাম ৮-১০টাকা। লাভের অংশ খেয়ে ফেলছে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা।

এদিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামের বেগুন চাষী আরিজুল ইসলাম ছালাম, সিরাজুল, আরশাদ আলী, মোশাররফ হোসেন, রবিউল ইসলাম, শাহিনুর রহমান, রুহুল কুদ্দুস জানান, খোরদোর হাটে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১০ টাকা। সেই বেগুন সাতক্ষীরায় বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। কৃষকদের ক্ষেত থেকে পাইকারী বিক্রেতারা কিনছেন ৬-৮ টাকা কেজি দরে। কৃষক ও ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে একটি চক্র। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলেন, এ বছর বর্ষার কারণে জমিতে বেগুন, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা একাধিকবার রোপন করতে হয়েছে। সবজি চাষে ব্যাপক খরচ ও খাটা-খাটুনি করতে হয়।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সব্যসাচী কয়াল জানান, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরায় ৯১৪০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২২৫০ হেক্টর, তালা উপজেলায় ১৬৯০ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ১৭১০ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ৬১০ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ২০২০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ হয়েছে। সবজির বাম্পার ফলনের কারণে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সবজি পাঠানো হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই ৩০ জানুয়ারি: সাতক্ষীরার তালিকায় এমপি রবিসহ ৪৩৩ জনের নাম

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ জানুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই ৩০ জানুয়ারি: সাতক্ষীরার তালিকায় এমপি রবিসহ ৪৩৩ জনের নাম

 ৯ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩০ জানুয়ারি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ৯ জানুয়ারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তা স্থগিত করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। বুধবার (৬ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাইয়ের নতুন তারিখ জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০০২-এর ধারা ৭ (ঝ) ব্যত্যয় ঘটিয়ে জামুকার সুপারিশবিহীন শুধু বেসামরিক গেজেট নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ৯ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

জামুকার ৭১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেসামরিক গেজেট নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে যাচাইযোগ্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এদিন (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে, মহানগরের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাক্ষ্য, তথ্য-উপাত্তসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাঁদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বেসামরিক গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে-এমন ৩৮ হাজার ৩৮৬ জনের তালিকা ৩০ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই করা হবে। তাঁদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের আওতাভুক্ত তালিকা ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (িি.িসড়ষধি.মড়া.নফ) এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে (িি.িলধসঁশধ.মড়া.নফ) পাওয়া যাবে।

এর আগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৯৬১ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় স্বীকৃত বিভিন্ন প্রমাণপত্রে নাম থাকার পরও অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায় রয়েছে। পরে এই তালিকা থেকে ১ হাজার ৫৯৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দেওয়া হয়। জামুকার ৭১তম সভায় তাদের অনুমোদন ছাড়া যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম বেসামরিক গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে, তা যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাচাইয়ের কাজটি শেষ করতে চেয়েছিল জামুকা। পরে ৯ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। এখন যাচাই-বাছাইয়ের নতুন তারিখ ৩০ জানুয়ারি ঠিক করা হলো।

এদিকে তালিকায় সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলায় ৪৩৩ জনের নাম অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। ওয়েব সাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৮০ জনের নাম রয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য শহরের মুনজিতপুর এলাকার মীর মোস্তাক আহমেদ, সাবেক জেলা কমান্ডার এনামুল হক বিশ্বাস, সাবেক জেলা কমান্ডার মো. শহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ঠ রাজনীতিক মরহুম কাজী কামাল ছোট্টুর নাম রয়েছে। কলারোয়ায় ১০৭ জনের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য বিএম নজরুল ইসলাম, দেবহাটায় ১০২ জনের মধ্যে মৃত মনোরঞ্জন মুখার্জী মনি ঠাকুর, সুভাষ ঘোষ এর নাম রয়েছে। তালিকায় আশাশুনিতে ১২৬ জন, কালিগঞ্জে ৯১ জন, তালায় ৪২ জন এবং শ্যামনগরে ৮৫ জনের নাম রয়েছে।


লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর মহাসড়ক অবরোধ, অভিযুক্ত পুলিশের বাড়ি ভাংচুর

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৪ জানুয়ারী ২০২১, সোমবার, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর মহাসড়ক অবরোধ, অভিযুক্ত পুলিশের বাড়ি ভাংচুর

বরিশালে গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত পুলিশের কঠোর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ এবং মহাসড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নগরীর সাগরদী শের-ই বাংলা সড়কে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিনের বাসার জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। খবর পেয়ে মেট্রো পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচারের আশ্বাস দেয়ায় অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধরা। এ ঘটনা তদন্তে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনারকে (দক্ষিণ) প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। 

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রবিবার দুপুরের পর ময়না তদন্ত শেষে বিকেল ৫টার দিকে রেজাউল করিমের লাশ তার নিজ বাড়ি নিয়ে যায় স্বজন সহ এলাকাবাসী। এ সময় উত্তেজিত বাসিন্দারা রেজাউল হত্যার বিচারের দাবিতে তার লাশ নিয়ে সাগরদী মাদ্রাসার সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে। মাদক উদ্ধারের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন স্থানীয় যুবক রেজাউলকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে দাবি করে অভিযুক্তের বিচার দাবী করেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রেজাউল হত্যার বিচার দাবিতে নানা শ্লোগান দেয় তারা। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষণি) মো. মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় তারা। এরপরই তারা সংলগ্ন শের-ই বাংলা সড়কে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিনের নিজ বাস ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে এবং ইটপাটকেল ছুড়ে তার বাসার ১০টিরও বেশি জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। এ সময় কোতয়ালী থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। 

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মোক্তার হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ কমিশনার। 

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর সাগরদী হামিদ খান সড়কের সন্মুখের একটি চায়ের দোকান থেকে রেজাউল করিমকে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দা ও গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মহিউদ্দিন। এ সময় মহিউদ্দিন তার পকেট থেকে ১৩৮ গ্রাম গাঁজা এবং ৪টি মরফিন ইনজেকশন উদ্ধারের দাবি করলেও স্থানীয় কোন প্রত্যক্ষদর্শীকে সাক্ষী করেননি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করে। পরদিন শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরন করে পুলিশ। 

কারাগারের জেলার মো. শাহেআলমের দাবী রেজাউল করিমকে কারাগারে নেয়া হয়েছে মেডিকেল সার্টিফিকেট সহ শরীরে ফুলা জখম অবস্থায়। আদালতের নির্দেশ প্রথমে তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা মো. ইউসুফ মুন্সির অভিযোগ, তার ছেলেকে সুস্থ-সবল অবস্থায় ধরে নিয়ে যায় এসআই মহিউদ্দিন। এ সময় তিনি তাকে ছেড়ে দেয়ার অনুনয়-বিনিনয় করলেও তাকে উল্টো অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে মহিউদ্দিন। পুলিশ তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের দাবী করলেও স্থানীয় কোন প্রত্যক্ষদর্শী নেই। গোয়েন্দা পুলিশ নির্যাতন করে রেজাউলকে হত্যা করেছে দাবী করে অভিযুক্ত পুলিশের বিচার চান তিনি। 

নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদী হামিদ খান সড়কের বাসিন্দা ও সাগরদী বাজারের মাংশ ব্যবসায়ী মো. ইউনুস মুন্সির ছেলে রেজাউল করিম রেজা (৩০) সদ্য এলএলবি পাশ করে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। তার স্ত্রী রয়েছে।

ফোর্বস-এর চোখে ২০২০ তালিকা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ জানুয়ারী ২০২১, রবিবার, ১১:১৪ অপরাহ্ন

ফোর্বস-এর চোখে ২০২০ তালিকা

আলোচিত ১০ ক্ষমতাধর ব্যক্তি

 শি জিন পিং

তাঁর হাত ধরেই সুপার পাওয়ার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে চীন

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর আলোচিত ব্যক্তি শি জিন পিং। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি। আরও আগেই চীনের সংসদে সংসদ সদস্যরা আইন পরিবর্তন করে শি জিন পিংকে আজীবন ক্ষমতায় থাকার অনুমোদন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। ফোর্বস বলছে, স্থানীয়ভাবে এমন আস্থা ও ক্ষমতাই শি জিন পিংকে তালিকার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলে থাকেন, বিংশ শতাব্দী যদি যুক্তরাষ্ট্রের হয়, একবিংশ শতাব্দী হবে চীনের। ২০ বছর আগেও যে চীনকে মনে হয়নি তারা কখনো সুপার পাওয়ার হতে পারে, সেই চীনই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিচ্ছে। বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিচ্ছে চীন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ককে অনেকে দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ বলে থাকেন। চীন যার হাত ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপার পাওয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে তিনি চীনের বর্তমান এই চৌকস  প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

 ভ্লাদিমির পুতিন

প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের ঘোষণা দেন তিনি

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে আজ অবধি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নয়তো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ২০১২ সাল থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। এ ছাড়াও ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনাইটেড রাশিয়া দলের সভাপতি এবং রাশিয়া ও বেলারুশের মন্ত্রিসভার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশটির ক্ষমতাধর নেতা হচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর বয়স ৬৭। রাশিয়ায় অনেক তরুণ ভোটার আছেন, যারা তাদের জীবনে ভøাদিমির পুতিন ছাড়া আর কাউকে দেশটির নেতা হিসেবে দেখেননি। পুতিনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এ বছর পুতিন ঘোষণা করেছিলেন, বিশ্বে প্রথম করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আসবে রাশিয়া।  সেই মতো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর কথা রেখেছেন বিশ্ববাসীর সামনে।

 ডোনাল্ড ট্রাম্প

গোটা বিশ্বের জন্যই বিস্ময়কর ট্রাম্পের শাসনকাল

তৃতীয় অবস্থানে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়াও তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও লেখক হিসেবে আলোচিত। তিনি দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের পরিচালক এবং ট্রাম্প এন্টারটেইনমেন্ট রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা। গোটা বিশ্বের জন্যই বিস্ময়কর ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদকাল। সেই মেয়াদকালের বাইরেও তাঁর অঘটনগুলো জন্ম দিয়েছে নানা বিতর্ক। কখনো তিনি বিরোধীপক্ষ বা ব্যক্তিকে অবিশ্বাস্যভাবে কাছে টেনেছেন। আবার আপনজনদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন। নানা রকম মন্তব্য করে সবসময়ই আলোচনায় থেকেছেন এই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কথা স্বীকার করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো গররাজি।  তবে ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 অ্যাঙ্গেলা মেরকেল

শীর্ষ প্রভাবশালী নারী

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ও সামরিক সুসজ্জিত দেশের চ্যান্সেলর হিসেবে তিনি বিশ্বরাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর নানা জরিপে বরাবরই তাঁর নাম থাকছে প্রভাবশালী নারী রাজনীতিবিদ হিসেবে। এ বছরও ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী তিনি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ও সামরিক সুসজ্জিত দেশের চ্যান্সেলর হিসেবে তিনি বিশ্বরাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। বিশ্বরাজনীতির পালাবদলে তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ এখনো সেলুনে গিয়ে অন্যদের মতো চুল কাটান, কোনো বিশেষ ছাড় তিনি নেন না। তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা, গণমাধ্যমে পারফরম্যান্স বিবেচনা, জার্মানিতে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য আবারও বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর  নারীর তালিকার শীর্ষে তিনি।

 জেফ বেজোস

সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি

অ্যামাজন সাম্রাজ্যের অধিপতি জেফ বেজোস। ২০১০ সালে তিনি ছিলেন বিশ্বের ৪৩তম শীর্ষ ধনী। আর বর্তমানে তিনি ১০৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের মালিক। গত ১০ বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৯৭ দশমিক ৪ ডলার। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট অ্যামাজন নয়, বলা হচ্ছে অনলাইনের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস অ্যামাজন ডটকমের কথা। অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস। অ্যামাজন ডটকমের ১৭% শেয়ার এখন তাঁর নামে। অ্যামাজন বিশ্বের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান যেটি সবচেয়ে দ্রুত ১০০ বিলিয়ন বিক্রির রেকর্ড গড়েছে। ১৯৯৪ সালে অনলাইনে বই বিক্রির সাধারণ আইডিয়া নিয়ে জেফ বেজোস যাত্রা শুরু করেছিলেন। অনলাইনে কেনাকাটার সেই ধারণা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়ে অ্যামাজন ডটকম রীতিমতো গোটা বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে। বেতন, বোনাস, শেয়ার ও অন্যান্য খাত থেকে বছরে তাঁর আয় হয় ১৬ লাখ ৮১ হাজার ডলার। দীর্ঘ সময় সাহসী উদ্যোক্তার মতোই প্রতিষ্ঠানটিকে টেনে নিয়ে যান জেফ। একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান তৈরির চেয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী  প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেই মনোযোগী ছিলেন এই উদ্যোক্তা।

 পোপ ফ্রান্সিস

একজন উদারনৈতিক বিশ্ব চেতনার অধিকারী

ষষ্ঠ অবস্থানে আছেন আর্জেন্টিনার নাগরিক ভ্যাটিক্যান সিটির পোপ ফ্রান্সিস। তিনি রোমান ক্যাথলিক চার্চের পোপ ও খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক চার্চের প্রধান তিনি। পোপ ফ্রান্সিস এমন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব যিনি উদারনৈতিক বিশ্বচেতনার অনুসারী। তাঁর মূল্যবোধ পৃথিবীর সব মানুষকে যুক্ত করে এবং কাউকেই বাদ দেয় না। ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১২০ কোটি ক্যাথলিক খ্রিস্টবিশ্বাসীর সর্বোচ্চ ধর্মগুরু বহুমাত্রিক পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে আসছেন। তিনি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ তথা দক্ষিণ গোলার্ধের প্রথম পোপ এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছরের মধ্যে প্রথম অ-ইউরোপীয় পোপ। পোপ ফ্রান্সিস বলেন, প্রভুর আজ্ঞা অনুধ্যান করে তোমরা দেখবে। যা পড় তা যেন বিশ্বাস কর। যা বিশ্বাস কর তা শিক্ষা  দাও এবং যা শিক্ষা দাও তা অনুশীলন কর।

 বিল গেটস

মানবতার সেবায় নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন

বাবা-মা চেয়েছিলেন বিল গেটস আইনজীবী হোক। কিন্তু বিল গেটস সারা দিন পড়ে থাকতেন কম্পিউটার নিয়ে। স্কুলেই প্রোগ্রামিংয়ে হাতেখড়ি তাঁর। নিজে নিজেই লিখে ফেলেন গেমিং প্রোগ্রামিং। স্কুল থেকে বহিষ্কার হন নীতিবিরুদ্ধ অপারেটিং সিস্টেম চালানোর জন্য। উল্টো হার্ভার্ডে এসে প্রোগ্রামিংয়ে আরও মনোযোগী হন তিনি। স্যাট পরীক্ষায় ১৬০০ নম্বরে ১৫৯০ পেয়েও পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি। বন্ধু পল অ্যালেনকে নিয়ে গড়ে তোলেন মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এনে বদলে দিলেন পুরো কম্পিউটার জগৎ। মাইক্রোসফট হয়ে উঠল বিশ্বের শীর্ষ টেক কোম্পানির একটি। সেই সাফল্যেই এলো হাজার হাজার কোটি টাকা। টানা প্রায় দেড় দশক বিশ্বের শীর্ষ ধনীর আসনে ছিলেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে যাচ্ছেন এই ধনকুবের। তবু সম্পদ বাড়ছেই। তাঁর মোট সম্পত্তি ৯৮  বিলিয়ন ডলার।

 মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ

পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ হলেন সৌদি আরবের যুবরাজ, উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি আল সৌদ রাজদরবারের প্রধান এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। ২০১৭ সালের শুরুতে পরিবারের আর ১০টা প্রিন্সের মতো ছিল তাঁর অবস্থান। তবে ক্যালেন্ডারের পাতা যত উল্টাল, তাঁর অবস্থান ততই বদলে যেতে থাকল। ক্ষমতাবান হয়ে উঠলেন তিনি। একের পর এক ঘটনায় উঠে এলো তাঁর নাম। তিন বছর ধরে নানা খেলা দেখিয়ে আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে নাম লেখান তিনি। সৎভাই আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর সৌদির সিংহাসনে বসেন বাদশাহ সালমান। প্রথমে ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ক্রাউন প্রিন্স অর্থাৎ রাজবংশের পরবর্তী উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। আর ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে করেন ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স। অনেকে বলেন, ভাতিজাকে সামনে রেখে আসলে ছেলেকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।

 নরেন্দ্র মোদি

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তাঁর

ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক রেলস্টেশনে চা বিক্রি করতেন বালক নরেন্দ্র মোদি। তারপর এক সময় নাম লেখালেন রাজনীতিতে। তিনি ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। তিনি বিজেপি দলের মাধ্যমে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসেন। বর্তমানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের ক্ষমতাশালী আলোচিত ব্যক্তির তালিকায় নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন মোদি। বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। পেছনে ফেলেছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব নেতৃত্বকে। মোদির জনপ্রিয়তা নিয়ে পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘ভারতের কোটি কোটি মানুষের কাছে আজও সমান জনপ্রিয় মোদি। ২০১৬ সালে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন তিনি।’ পত্রিকায় আরও বলা হয়েছে, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেকে বিশ্বমানের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন তিনি। জলবায়ু সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে  আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নজর কেড়েছেন মোদি।

১০ ল্যারি পেজ

আড়ালে থাকতে ভালোবাসেন

দশম অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী গুগলের প্রতিষ্ঠাতা এবং ইন্টারনেট উদ্যোক্তা অ্যালফাবেটের প্রেসিডেন্ট ল্যারি পেজ। ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন লরেন্স অ্যাডওয়ার্ড পেজ যিনি ল্যারি পেজ নামেই পরিচিত। তিনি ছিলেন বাবা কার্ল ভিক্টর পেজ এবং মা গ্লোরিয়া পেজের দ্বিতীয় সন্তান। বাবা ছিলেন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অধ্যাপক। গুগল সার্চ ইঞ্জিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগল আমাদের যতটা কাছে থাকে এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ততটাই থাকেন পর্দার আড়ালে। তাই তাঁর সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায় না। বড় কোম্পানির সিইওরা যেখানে সুপারস্টারদের মতো চলাফেরা করেন, ল্যারি পেজ সেখানে ব্যতিক্রম। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সবার থেকে দূরেই রাখেন। মিডিয়াতেও তাঁকে খুব বেশি দেখা যায় না। ২০০৭ সালে বিয়ে করেন রিসার্চ সায়েন্টিস্ট লুসিন্ডা সাউথওর্থকে। স্ত্রী এবং দুই বাচ্চার সংসার  নিয়ে থাকেন পালো আল্টোতে।

সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ উদ্ধার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ জানুয়ারী ২০২১, রবিবার, ১১:১১ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ উদ্ধার

সদর উপজেলার  মল্লিকপাড়া কলোনির মল্লিক নাহিদ আরাফাত টিংকু (২৪) নামের এক প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোদাঘাটা গ্রামে মল্লিকপাড়ার মোঃ আব্দুল জব্বারের ছেলে।গতকাল ভোরে নৌখাল সংলগ্ন ভনো মাস্টারের মৎস্য ঘের থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ২৮/১২/২০২০ তারিখ রাতে রিঙ্কু হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পাওয়ায় গত ৩০/১২/২০২০ তারিখে নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষিতে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। গতকাল ভোরে পার্শ্ববর্তী পুকুরে গ্রামের মহিলারা পানি নিয়ে আসতে গেলে তারা রিংকুর লাশ দেখতে পায়।রিংকুর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।পরে সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার জানান, রিঙ্কু খুব ভালো ছেলে ছিল। তার সাথে কোনো মানুষের দ্বন্দ্ব আছে বলে আমার জানা নাই।তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত হয়েছি।
৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান,খুবই ভালো ছেলে ছিল। প্রতিবন্ধী হলেও সবার সাথে তার সম্পর্ক ভালো ছিল।কিভাবে মৃত্যু হলো এখনও আমরা জানতে পারেনি।যদি হত্যা হয় তবে প্রকৃত দোষীরা যেন শাস্তি পায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃআসাদুজ্জামান জানান, সংবাদ পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে লাশটি উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।ছেলেটি প্রতিবন্ধী ছিল। তবে,হত্যা না মৃত্যু বিষয়টি তদন্ত শেষে জানা যাবে।
এদিকে,প্রতিবন্ধী ছেলেটির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

ছাত্রলীগ সম্পাদকের নেতৃত্বে ছিনতাই, অতঃপর…

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ জানুয়ারী ২০২১, রবিবার, ১১:০৮ অপরাহ্ন

ছাত্রলীগ সম্পাদকের নেতৃত্বে ছিনতাই, অতঃপর…

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে চার সদস্যের ছিনতাই চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। কাপড় ব্যবসায়ীর উপর বর্বরোচিত জখমের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এই তথ্য পায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইতোমধ্যে চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের রবিবার সন্ধ্যায় আদালতে তোলা হয়। 

রবিবার বিকেলে (৩ জানুয়ারী) পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান।
 
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রেজওয়ান ইসলাম (২২), উপজেলা শহরের মাথাভাঙ্গা এলাকার নাহিদ হাসান মিঠু (২২) ও মুদিপাড়া এলাকার বিশাল রায় (২১)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৫ ডিসেম্বর ভোরে জলঢাকা শহরের কাপড় ব্যবসায়ী শাহ মো. আরিফ চৌধুরীকে হত্যার উদ্দেশে ছুরি চাপাতি দিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কয়েকজন মাইক্রোবাস চালক জনৈক ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। টহল পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং পরে সেখান থেকে ঢাকায় নিউরো সায়েন্স এ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ব্যক্তির মাথায় ১২৮টি সেলাই পড়েছে। ঢাকার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরিফ চৌধুরী। 

এক পর্যায়ে শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে জলঢাকা শহরের নাহিদ হাসান মিঠুকে গ্রেফতার করা হলে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একঘণ্টা পর বিশাল রায় নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোরে গ্রেফতার করা হয় ঘটনার মূলহোতা রেজওয়ানকে। 

এ সময় তাদের সাথে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ছোরা, চাপাতি এবং চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয় মন্থের ডাঙ্গা এলাকার একটি ড্রেন থেকে। 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান জানান, রেজওয়ান এর নেতৃত্বে জলঢাকায় একটি ছিনতাই চক্র তৈরি হয়েছে। এই চক্রে এখন পর্যন্ত চারজন রয়েছেন। তারা ভোরে ঢাকা কিংবা বিভিন্ন জায়গা থেকে জলঢাকায় পৌঁছালে তাদের ছিনতাইয়ের শিকার হন।
পলাতক অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে আসামীরা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আরিফ চৌধুরীর উপর হামলা চালিয়েছিলো মৃত ভেবে তারা পালিয়ে যায়। কিন্তু অধিকতর জানতে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনায় আরো কারা জড়িত রয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আসামিরা উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ব্যবহার করতেন। এ ব্যাপারে জলঢাকা থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মোস্তানছির বিল্লাহ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।  

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) এ এস এম মোক্তারুজ্জামান, জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। 

মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ জানুয়ারী ২০২১, রবিবার, ১১:০৩ অপরাহ্ন

মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে যারাই নাড়াচাড়া করেন তারাই আলোচনা করেন ‘বাংলাদেশ প্যারাডক্স’ নিয়ে। সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থনীতির ছাত্ররাই পরিচিত এ শব্দটির সঙ্গে। তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা ঝেড়ে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের অগ্রযাত্রার রহস্য বুঝতে চান সবাই। এ আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা অর্থনীতিবিদরাও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ নিয়ে।

কারণ বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতোই।জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পাট রপ্তানিতে বিশ্বে প্রথম এবং উৎপাদনে দ্বিতীয়, ইলিশ উৎপাদনে প্রথম, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে চতুর্থ, ছাগল উৎপাদনে চতুর্থ, চাল উৎপাদনে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে ষষ্ঠ, ক্রিকেটে সপ্তম, আম উৎপাদনে সপ্তম, জনশক্তিতে অষ্টম, বাইসাইকেল রপ্তানিতে অষ্টম, আউটসোর্র্সিংয়ে অষ্টম, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে অষ্টম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, মৌসুমি ফল উৎপাদনে দশম স্থানে রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের এখনকার সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় করোনাভাইরাস মহামারী। সেখানেও বাংলাদেশের মিলেছে সাফল্যের স্বীকৃতি। নানা অব্যবস্থাপনা ও ঘাটতির পরও মহামারী মোকাবিলায় সফল দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে ২০তম স্থান পেয়েছে একটি র‌্যাংকিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ডাটা মিডিয়া ব্লুমবার্গ বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী ২০তম ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ব্লুমবার্গের স্বীকৃতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ব্লুমবার্গ কেবল দেশের অর্থনৈতিক সফলতা দেখেই রিপোর্টটি করেনি, প্রতিষ্ঠানটি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, টিকাদান সক্ষমতা, চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি মেট্রিক্স বিবেচনা করে এ ফল ঘোষণা করেছে।

মহামারীর ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি যখন পর্যুদস্ত তখন বড় ধরনের কোনো সংকট ছাড়াই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়, কৃষি উৎপাদন ও রপ্তানি বাণিজ্য। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মতে, ‘মহামারী পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের অর্থনীতির তুলনা করলে দেখা যাবে আমরা পাশের দেশগুলোর তুলনায় ভালো করেছি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির মতো উন্নয়নসহযোগী সংস্থাসমূহও বিদায়ী বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করেছে। চলতি অর্থবছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের কম হবে না। তা হলে তা হবে আমাদের জন্য বড় অর্জন।’

অবশ্য বাংলাদেশের সাফল্যের অগ্রযাত্রা সামনে যে আরও উজ্জ্বল হবে সে ইঙ্গিতও দিচ্ছে নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ বলছে, বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কী হারে বাড়বে, তারই পূর্বাভাস দিয়ে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল ২০২১’ নামের এ প্রতিবেদনে ১৯৩টি দেশের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সিইবিআর বলছে, ২০২০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি আছে ৪১ নম্বরে। ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে ২৫তম অর্থনৈতিক শক্তি। সিইবিআরের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটবে গড়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হারে। লন্ডনের প্রভাবশালী সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের অনেক বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করলেও তারা সাফল্যযাত্রা বুঝতে ভুল করেনি। তাই তো প্রায় এক যুগ আগে ‘আউট অব দ্য বাস্কেট’ নিবন্ধে ইকোনমিস্ট বলেছে, ‘কী করা যায়, তা দেখিয়ে দেওয়ার মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। কী করে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়া যায়, তাও দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।’

আর ‘বাংলাদেশ প্যারাডক্স’ নিয়ে গবেষণা করা বিশ্বের নামকরা অর্থনীতিবিদের একজন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন। ‘হোয়াই ইজ বাংলাদেশ বুমিং’ শীর্ষক লেখায় কৌশিক বসু বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তবে কিছু ঝুঁকির বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সচেতনতা দরকার। কারণ যখন কোনো দেশের অর্থনীতি ভালো করতে থাকে, তখন সে দেশে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য এসবও বাড়তে থাকে। যদি এসবের রাশ টেনে ধরা না যায়, তা সমৃদ্ধির গতি থামিয়ে দিতে পারে। তবে এর চেয়েও বড় ঝুঁকি হলো কট্টর ধর্মীয় ও সামাজিক রক্ষণশীল শক্তি। এরা প্রগতিশীল বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রগতির বিপক্ষে। তাই এদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সামাজিক খাতে বিনিয়োগ যদি বাংলাদেশ বন্ধ করে দেয়, তা বাংলাদেশকে আবার অনেক পেছনে নিয়ে যাবে।

সন্তানের উপর রাগ করে সম্পত্তি লিখে দিলেন পোষ্য কুকুরকে!

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১ জানুয়ারী ২০২১, শুক্রবার, ৮:১০ অপরাহ্ন

সন্তানের উপর রাগ করে সম্পত্তি লিখে দিলেন পোষ্য কুকুরকে!

সন্তানদের ওপর রাগ করে নিজের সম্পত্তির একটা অংশ উইল করেছেন স্ত্রীর নামে। আর বাকী অংশ লিখে দিলেন নিজের পোষ্য কুকুরকে। অদ্ভুত এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। মধ্য বয়সী ওই ব্যক্তির অভিমত পোষ্য কুকুরটিই তার নিজের ছেলের মতো। 

জানা গেছে ওম নারায়ণ ভার্মা নামে রাজ্যটির ছিন্দওয়ারা জেলার বাদিওয়ারা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় কৃষক। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পতি তার স্ত্রী চম্পা বাই ও নিজের পোষা নেড়ি কুকুর জ্যাকির নামে লিখে দিয়েছেন। অর্থাৎ ওম নারায়ণের মৃত্যুর পর এই দুইজনেই তার আইনসম্মত উত্তরাধিকারী হবেন। আসলে নানা কারণে ৫০ বছর বয়সী ওম নারায়ণ নিজের ছেলের ওপর অসন্তুষ্ট, তাই তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে স্ত্রী ও পোষ্য জীবকে এই সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন তিনি। তবে এও জানিয়েছেন জ্যাকিকে যদি কোন ব্যক্তি নিয়ে গিয়ে তার দেখাশোনা করেন, তবে সেক্ষেত্রে জ্যাকির নামে লিখে দেওয়া অংশের ভাগীদার হতে পারবেন সেই ব্যক্তি। 

ওম নারায়ণ বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও পোষ্য কুকুর-ই আমার দেখাশোনা করে। আমি তাদের কাছে খুবই কাছের মানুষ। আমার মৃত্যুর পর আমার দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পা বাই ও পোষ্য কুকুর জ্যাকি আমার গোটা সম্পত্তির মালিক হবে। এবং যদি কোন ব্যক্তি জ্যাকির দায়িত্ব নেয় তবে সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি জ্যাকির অংশের সম্পত্তির মালিকানা পাবে।’ 
নিজের নামে ২১ একর জমি রয়েছে ওম নারায়ণের। আছে দুই জন স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর নাম ধনবন্তী ভার্মা। সেই পক্ষে আছে তিন কন্যা এবং এক পুত্র। দ্বিতীয় পক্ষে দুই কন্যা সন্তান। 

২০২০ যেন গুণীজন হারানোর বছর

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১১:০০ অপরাহ্ন

২০২০ যেন গুণীজন হারানোর বছর

২০২০ ছিল যেন স্বজন হারানোর বছর। করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব ছিল বছরজুড়ে। অদৃশ্য ভাইরাসের থাবায় সরকারি হিসাবেই প্রাণ গেছে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষের। মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন যোগ হয়েছেন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। অসংখ্য মানুষ হারিয়েছে স্বজন। দেশ হারিয়েছে প্রথিতযশা শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পপতি, রাজনীতিক, আমলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ পেশাজীবীদের।

করোনাসহ বিভিন্ন কারণে বিদায়ী বছরে মারা গেছেন অনেক বর্ষীয়ান রাজনীতিক। করোনার সম্মুখযোদ্ধা বেশ কয়েকজন চিকিৎসক মারা গেছেন অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে। ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারা গেছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও মাঠে থেকে মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছে দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী।৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্তের পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা মানুষের  মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। অধিকাংশ মৃত্যুই হয় করোনাভাইরাস সংক্রমণে। এ ছাড়া হৃদ, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

এপ্রিলের মাঝামাঝি সিলেটে গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ডা. মো. মঈন উদ্দিন মারা যান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তার আগে ৬ এপ্রিল দুদক পরিচালক জালাল সাইফুর রহমান করোনায় মারা যান। ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার মিনিবাস মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সৈয়দ মফচ্ছিল আলী মারা যান করোনা সংক্রমণে। ২২ এপ্রিল মারা যান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দত হুসাইন। ২৮ এপ্রিল মারা যান খ্যাতিমান প্রকৌশলী জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা গেলেও পরে করোনা পরীক্ষায় তিনি পজিটিভ হন।

৩ মে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিফ হেমোটোলজিস্ট এবং ল্যাবরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট অধ্যাপক কর্নেল (অব.) মো. মনিরুজ্জামান করোনায় মারা যান। ৫ মে মারা যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম। ৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ড. নাজমুল করিম করোনায় মারা যান। ১০ মে করোনায় মারা যান বিএনপি জোট সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল কবির তালুকদার। ১২ মে ইবনে সিনার রেডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মেজর (অব.) আবুল মোকারিম মো. মহসিন উদ্দিন করোনায় মারা যান। ১৪ মে করোনায় মৃত্যু হয় একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের। ভারত সরকারের কাছ থেকেও তিনি পদ্মভূষণ পদক পান। ১৫ মে করোনায় মারা যান টেলিভিশন নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাবেক সভাপতি হাসান ইমাম। ২৪ মে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, সাবেক এমপি হাজী মো. মকবুল হোসেনের। ২৬ মে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুরে এলাহীর স্ত্রী, সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল নিলুফার মঞ্জুর করোনা সংক্রমণে মারা যান। ২৭ মে করোনায় মারা যান সাবেক যুগ্মসচিব, মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূইয়া। ৩১ মে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান এনটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান, টিভি ব্যক্তিত্ব, নাট্য নির্দেশক, অভিনেতা ও আবৃত্তিকার মোস্তফা কামাল সৈয়দ ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক সচিব বজলুল করিম চৌধুরী।

১৩ জুন করোনা সংক্রমণে মারা যান আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি ছিলেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে। ১৪ জুন করোনায় মারা যান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ। ১৫ জুন মারা যান সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। ২০ জুন করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক কামাল লোহানীর। ২৫ জুন মারা যান ইসলা?মিক ফাউন্ডেশনের সা?বেক মহাপ?রিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল।

৬ জুলাই মারা যান প্লেব্যাক সিঙ্গার খ্যাত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। তিনি দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ৯ জুলাই থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। ১৩ জুলাই করোনা সংক্রমণে মারা যান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান। ১৪ জুলাই মারা যান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা পর্বের সাক্ষী, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজ। ১৭ জুলাই মারা যান বরেণ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। ওই দিনই করোনা সংক্রমণে মারা যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবদুল হাই। ২৭ জুলাই করোনা সংক্রমণে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে মারা যান নওগাঁ-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম।

৩ আগস্ট করোনা সংক্রমণে মারা যান বাংলাদেশ টেলিভিশনের খ্যাতিমান প্রযোজক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ। তিনি নন্দিত অভিনেত্রী বিজরী বরকতুল্লাহর বাবা ও নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকততুল্লাহর স্বামী। ৯ আগস্ট মারা যান কিংবদন্তি সুরসম্রাট আলাউদ্দিন আলী। ১০ আগস্ট করোনায় মারা যান রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) কমিউনিটি মেডিসিনের সাবেক অধ্যাপক ডা. মোস্তাক হোসেন আনসারী। ২৫ আগস্ট মারা যান সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত (বীরউত্তম)। ২৩ আগস্ট মারা যান এনটিভির যুগ্ম প্রধান বার্তা সম্পাদক আবদুস শহীদ।

৫ সেপ্টেম্বর করোনা সংক্রমণে মারা যান সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ওসমান চৌধুরী। ১৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা জেলহত্যা, সংবিধানের ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনীসহ ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক মামলার শুনানি করেন।

৮ অক্টোবর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ২৪ অক্টোবর মারা যান খ্যাতিমান আইনজীবী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

১ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, সাহিত্য পত্রিকা ‘কালি ও কলম’ সম্পাদক, বাংলা একাডেমির ফেলো আবুল হাসনাত ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে মারা যান। ১১ নভেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবহন কোম্পানি হানিফ পরিবহনের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১৬ নভেম্বর মারা যান জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি, শরীয়তপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত ছয়বারের সংসদ সদস্য, স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শওকত আলী। ২১ নভেম্বর করোনা সংক্রমণে মারা যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার ঐতিহ্যবাহী দরবারের পীর ও আড়াইবাড়ী ইসলামিয়া সাঈদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রখ্যাত আলেম দীন মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদী। ২৪ নভেম্বর দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মুনীরুজ্জামান করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ২৭ নভেম্বর ক্যান্সার ও করোনা সংক্রমণে মারা যান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকের। ২৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহা. আবদুল হান্নান খান পিপিএম করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

১০ ডিসেম্বর মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সচিব, রাষ্ট্রদূত, মুক্তিযুদ্ধকালীন কাদেরিয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান কর্নেল (অব.) আনোয়ার উল আলম শহীদ। ১৩ ডিসেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম হেফাজতে ইসলামের নবনির্বাচিত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় মারা যান। ২৪ ডিসেম্বর করোনা সংক্রমণে মারা যান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর। ২৬ ডিসেম্বর করোনায় মারা যান জনপ্রিয় অভিনেতা, বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পী আবদুল কাদের। জনপ্রিয় এ অভিনেতা কর্মজীবনে টেনাশিনাস পদক, মহানগরী সাংস্কৃতিক ফোরাম পদক, অগ্রগামী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পদক, জাদুকর পি সি সরকার পদক, টেলিভিশন দর্শক ফোরাম অ্যাওয়ার্ড, মহানগরী অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পদক পান। ২৯ ডিসেম্বর মারা যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের ভগ্নিপতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. আতফুল হাই শিবলী।

এ ছাড়া দৈনিক ভোরের কাগজের সাবেক সহকারী সম্পাদক, এনটিভির সাবেক বার্তা সম্পাদক সুমন মাহমুদ, দৈনিক সময়ের আলোর নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খোকন, ভোরের কাগজের ক্রাইম রিপোর্টার গীতিকার আসলাম রহমান, দৈনিক সময়ের আলোর মাহমুদুল হাকিম অপু, এশিয়ান কারাতে ফেডারেশনের রেফারি, বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সদস্য ও বাংলাদেশ আনসার কারাতে দলের কোচ হুমায়ুন কবীর জুয়েল, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ নজবুল হক, সদ্য অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়া অতিরিক্ত সচিব তৌফিকুল আলম করোনা সংক্রমণে বিদায়ী বছরে মারা যান। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবরিনা ইসলাম সুইটির। এ ছাড়া বিদায়ী বছরে এ অদৃশ্য ভাইরাসে আরও অনেক গুণীজন হারিয়েছে দেশ।

ছোট ছোট দুঃখ কথা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

ছোট ছোট দুঃখ কথা

১. বাংলাদেশে তিন আর তিরিশ নিয়ে তর্ক হয়। ৭১এর যুদ্ধে পাকিস্তানি আর্মি ৩ লক্ষ বাঙালি মেরেছে নাকি তিরিশ লক্ষ! ধরা যাক তিরিশ লক্ষ নয়, মরেছে তিন লক্ষ, তাতে কি হাহাকার কিছু কম হয়? বাহান্নতে তো হাতেগোনা কয়েকজন মরেছিল, আমরা তো আজও কাঁদি ভাষা শহীদদের জন্য! সংখ্যা বড় নয়, বড় আমাদের লক্ষ্য, আমাদের চেতনা, আমাদের মূল্যবোধ। যে লক্ষ্যে আমরা যুদ্ধে নেমেছিলাম, সেই লক্ষ্যের কিছু কি পূরণ হয়েছে? ধর্মনিরপেক্ষতার মৃত্যু হয়েছে, অমুসলিমরা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে, ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার, নারী-বিদ্বেষ, দারিদ্র্য আর বৈষম্য গ্রাস করে ফেলেছে দেশকে। আগে তো দেশকে বাঁচাও। আগে তো অন্ধকে আলো দাও। ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে থাকলেই মানুষ অতীত নিয়ে পড়ে থাকে, তিন আর তিরিশের বিতর্কে মেতে ওঠে।

২. লক্ষ করেছি ভারতের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত বাঙালি হিন্দুরা বড়দিন বা ক্রিসমাস পালন করতে খুব পছন্দ করেন। নিজের ধর্মের বাইরে খ্রিস্টানদের ধর্মেই যথেষ্ট আগ্রহ তাঁদের, এমনকি নিজের ধর্মও যাঁরা মানেন না, তাঁরাও ক্রিসমাস এলে শুভেচ্ছা জানানো, গির্জায় যাওয়া, কেক খাওয়া, উপহার দেওয়া ইত্যাদি কাজে বেশ উৎসাহ বোধ করেন। তাঁরা কিন্তু ঈদ, বা বুদ্ধ পূর্ণিমা, বা হানুকা, বা গুরু নানক পালন করেন না এমন ঘটা করে। এর কারণটি কী? ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতায় দীর্ঘকাল সাহেবদের ক্রিসমাস উৎসব দেখেছেন এবং উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন বলে এ একরকম ঐতিহ্যে দাঁড়িয়ে গেছে? নাকি কোনও এককালের প্রভুদের গায়ের রঙ, চেহারা, পোশাক আশাক, ভাষা, ধর্ম, রিচুয়াল সবকিছুকে নিজেদের থেকে বেটার বলে মনে হতো এবং ওই মনে হওয়াটি এখনও মস্তিষ্কে বাসা বেঁধে আছে বলে?৩. লোকে যখন ভারত পাকিস্তান দেখে, আমি মহাবিশ্ব দেখি। লোকে যখন হিন্দু মুসলমান দেখে, আমি মানব প্রজাতি দেখি। বড় কিছু না দেখলে বড় হওয়া যায় না। যত ক্ষুদ্র জিনিস দেখবে, তত ক্ষুদ্র হবে।

যখন মানব প্রজাতিই এই মহাবিশ্বে আদৌ টিকে থাকবে কিনা, থাকলেও ক’দিন টিকে থাকবে- এই প্রশ্নটি সামনে আসছে, তখন হিন্দু ধর্ম টিকবে কিনা, ইসলাম টিকবে কিনা এ নিয়ে বিস্তর মাথা ঘামাচ্ছে লোকেরা। এই পৃথিবীই নড়বড় হয়ে উঠেছে বলে আমরা মহাকাশে গ্রহ খুঁজছি পাড়ি দেওয়ার জন্য, প্রজাতির অস্তিত্ব সামান্য হলেও টিকিয়ে রাখার জন্য- সেখানে কোথায় ধর্ম কোথায় জাত! গ্রেকোরোমান আর মিশরীয় ধর্মের মতো ডাকসাইটে ধর্মগুলো কবেই মরে গেছে। এখনকারগুলোও মরবে। কিছুতে ভর দিয়ে চলার অভ্যেস মানুষের। দু পায়ে ভর দিয়ে হাঁটার অভ্যেস না করলে মানুষের পঙ্গুত্ব দূর হবে না।

৪. আমি নাকি কোরআন সংশোধন করতে চেয়েছি, এই মিথ্যে খবরটি হু হু করে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়েছিল ১৯৯৪ সালে। এ কারণে বাংলাদেশ সরকার আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নেমে আমার ফাঁসির দাবি করেছিল। কিন্তু চীন দেশের সরকার যে কোরআন সংশোধন করতে চাইছে, নতুন করে লিখতে চাইছে কোরআন, এরপরও দুনিয়ার মুসলমান এক হচ্ছে না কেন? চীন সরকারের মু-ু চাইছে না কেন?

৫. বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী একবার কলকাতায় গিয়েছিলেন। তাঁকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছেন, কেন বাংলাদেশ সরকার তসলিমাকে দেশে ফিরতে দিচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘তসলিমা দেশে ফিরতে চাইলে সরকারের কোনও আপত্তি নেই।’ আহ! ডাহা মিথ্যে কথা। দীপু মনি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তিনিও তাই করতেন। তিনিও দেশে দেশে বলে বেড়াতেন, ‘তসলিমা চাইলেই দেশে ফিরতে পারে, সরকার তো বাধা দিচ্ছে না।’ এই মিথ্যেগুলো বলার এঁদের দরকার কী, আমি বুঝি না। বুক ফুলিয়ে বললেই তো হয়, ‘আমরা চাই না তসলিমা দেশে ফিরুক, তাই ওকে ফিরতে দিচ্ছি না, ওর বাংলাদেশ পাসপোর্ট রিনিউ করছি না, ওর বিদেশি পাসপোর্টে ভিসা দিচ্ছি না। এসব করছি যেন বাংলাদেশগামী কোনও বাহনে ও চড়তে না পারে। এমনকি ওর পাওয়ার অব এটর্নিতেও সই করছি না, যেন ভোগে। ও ভুগলে আমাদের আনন্দ হয়।’

সত্য বললে সরকারের অসুবিধেটা কী! কেউ মারবে? মিথ্যে বলতে লোকগুলোর লজ্জা হয় না। অথচ ওদের লজ্জাহীনতা দেখলে আমারই লজ্জা হয়।

৬. অ্যান্থনি কুইন ওয়ারনার ন্যাশভিলে একা থাকতেন। কম্পিউটার নষ্ট হলে এ বাড়ি ও বাড়ি ডাক পড়তো। তিনি কম্পিউটার সারিয়ে দিয়ে চলে আসতেন। পঞ্চাশ হয়েছিল বয়স। এক প্রতিবেশীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল এরকম, ‘কী গো, সান্তাক্লজ কি এবার ভালো কিছু উপহার দিচ্ছে তোমাকে?’ উত্তরে অ্যান্থনি বলেছিলেন, ‘এইতো আর কটা দিন, বেশ বিখ্যাত হতে যাচ্ছি। হ্যাঁ বেশ বিখ্যাত’। অ্যান্থনি কুইন এইতো ক’দিন আগে ক্রিসমাসের সকালে আত্মঘাতী বোমায় নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন, আশেপাশের চল্লিশটি দোকানপাটও উড়িয়ে দিয়েছেন। পুরো ন্যাশভিল উঠে বসেছে সুনসান ভোরবেলায় বিকট বোমার শব্দে। অ্যান্থনি কুইনের নাম যারা জানতো না, তারা জেনেছে। পত্রিকার প্রথম পাতায় কোনওদিন ছবি ছাপা হতো না বেঁচে থাকলে, তাই তিনি এমনভাবে মরেছেন যেন ছবি ছাপা হয়।

বিখ্যাত হওয়ার ইচ্ছে সবার। মার্ক ডেভিড চ্যাপম্যানকে মনে আছে? সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। হাওয়াই থেকে নিউ ইয়র্কে চলে এসেছিলেন বিখ্যাত তারকা জন লেননকে খুন করবেন বলে। করেছিলেন খুন। খুন করে গ্রেফতার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন সেখানে। তাঁরও স্বপ্ন ছিল বিখ্যাত হওয়া।

এঁরা আসলে কেউ বিখ্যাত হননি। হয়েছেন কুখ্যাত।

জীবনে কোনও তরঙ্গ নেই। তাই মেরে বা মরে হলেও তরঙ্গ চায় কিছু মানুষ। এই কিছু মানুষের মস্তিষ্ককে কি অসুস্থ বলবো? নাকি সুস্থ মস্তিষ্কেও এই ইচ্ছের আনাগোনা চলতে পারে! বিখ্যাত হওয়ার ইচ্ছের! সুস্থ মস্তিষ্ক যে সবসময় অন্যের সুখ সুস্থতা চায় তা তো নয়। কেউ যদি বোমা মেরে ধ্বংস করে চারদিক, সে যদি বাদামী হয়, সাধারণত সে জিহাদি। আর যদি সাদা হয় তাহলে তাদের মাথা খারাপ লোক বলে রায় দেওয়া হয়।

মাথা খারাপ লোকেরা কিন্তু খুনি খুব কমই হয়। মাথাভালো লোকেরাই বুঝে শুনে হিসাব করে খুন বেশি করে। ক্রিমিনালদের এক বাক্যে মানসিক রোগী বানিয়ে যদি ফেল, তাহলে কিন্তু মানসিক রোগীদেরও তুমি একবাক্যে ক্রিমিনাল বানিয়ে ফেলছো। এটা কিন্তু ঠিক নয়।

৭. পদ্য লেখকরা আমাকে বলেন, তুমি গদ্যটা ভালো লেখো। গদ্য লেখকরা বলেন, তুমি পদ্যটা ভালো লেখো। এর মানে কেউ তাঁদের টেরিটরিতে আমাকে জায়গা দিতে চান না। আমার যে পদ্য পাঠকেরা ভালোবাসেন, সে পদ্য প্রেমের পদ্য। প্রেম না করলে ভালো প্রেমের কবিতা লেখা যায় না। চরম বিরহে চুরমার না হয়ে গেলে ভালো বিরহের কবিতাও লেখা যায় না।

নন-ফিকশান- গদ্য সারা বছর লেখা যায়। দুনিয়ায় কী হচ্ছে না হচ্ছে চোখ কান খোলা রাখলেই চলে।

ভাবছি নতুন কিছু প্রেমের কবিতা লিখবো। কল্পনার কোনও প্রেমিকের সঙ্গে না হয় প্রেম করবো। কল্পনার প্রেমিক রক্তমাংসের প্রেমিকের চেয়ে ঢের ভালো। একবার কবিতা লেখা হয়ে গেলে কাকে ভেবে লিখেছি সে কবিতা, তা গৌণ হয়ে যায়। চিরকালই, প্রেমিকের চেয়ে প্রেম বড়, মানুষের চেয়ে মানুষের জন্য অনুভব বড়।

৮. আমার বাড়ি থেকে সব চুরি হয়ে যায়। সোনা রুপা, হীরে জহরত, দামি কাপড় চোপড়, দামি জিনিসপত্র- সব। কত রকমের লোক আমার বাড়িতে যাওয়া আসা করে। সবাইকে তো আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করতেই হয়। তাদের ওপর বাড়িঘরের বেড়ালের দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে আমাকে এক মাস দুই মাসের জন্য পৃথিবীর পথে বেরোতে হয় প্রায়ই। তারা নিশ্চয়ই এই কান্ড ঘটায়। অথবা অন্য কেউ। দুঃখজনক কিন্তু করার কিছু নেই। কারণ মানুষকে বিশ্বাস না করে আমি পারি না। যাদের আমি কাছে টেনে নিই, তাদের আমি ভেবেই নিই বিশ্বস্ত। সব চুরি হয়ে যায়, এমনকি পুরোনো চায়ের কাপ, ছুরি চামচও থাকে না। আমি অবশ্য চুরি হওয়া বলি না, আমি বলি হারিয়ে যাওয়া। হারিয়ে যাওয়া মেনে নিলে কাউকে চোর হিসেবে সন্দেহ করার চিন্তাটা মাথায় আসে না। কিন্তু একটা জিনিস আমার বাড়ি থেকে কখনও চুরি হয় না, সে বই। আমার বইগুলো দিব্যি রয়ে যায় যেখানে আছে সেখানে। কেউ বই পড়ে না, সে কারণে বই চুরি হয় না। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলেও আমি এখন জানি যে আর কিছু না থাকুক আমার বইগুলো আমার কাছেই থেকে যাবে। একদিক থেকে ভালোই, আমার সঙ্গী হবে আমার বই, অবসর সময়ে বইয়ের চেয়ে বড় বন্ধু আর কে আছে!

৯. প্রচ- ঠান্ডা এ অঞ্চলে। বিকেলে-সন্ধ্যেয় প্রায়ই থাই স্যুপ খাচ্ছি। টম খা গাই বা টম ইয়াম গুং। ঘরেই বানাচ্ছি। ঘরে বানানো স্যুপ আর দোকানে বানানো স্যুপে পার্থক্য প্রচুর। ঘরেরটা খাঁটি, বাইরেরটা ভেজাল। কিছু রান্নাও শিখেছি ঘরে থাকার দীর্ঘ এই সময়ে। আগে ভাবতাম রান্না জানি। অথচ শেখার পর মনে হচ্ছে আগে তো কিছুই জানতাম না। কাল রসগোল্লা বানিয়েছিলাম। রসগোল্লা এ নিয়ে চার বার বানালাম। খাঁটি রসগোল্লা দোকানে থাকে না। দোকানে ছানার সঙ্গে ময়দা মেশায়। রসগোল্লা তো আছেই, ঘরেই কেক বিস্কুট বানাতে শিখেছি। শুধু ভাপা পিঠেটাই শত চেষ্টা করে সম্ভব হয়নি। এত রান্না শিখে লাভ হলো এই যে রান্না শিখলাম। কভিডের টিকা নেওয়ার পর হয়তো আবার আলসে হয়ে যাবো, রাঁধুনি রাখবো। তখন সে যা খাওয়াবে, তাই খেতে হবে। তবে শেখার একটা আনন্দ আছে। এখনও নতুন একটি শব্দ শুনলে সেটার পেছনে পড়ে থাকি, শব্দটি শিখে তারপর আমার শান্তি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কেবল শিখতে চাই। জীবন কী, জগৎ কী, মানুষের মন কী, প্রাণীদের জীবনাচরণ কী, বিশ্ব ব্রহ্মা- কী। কেউ কেউ ভাবতে পারে এত শিখে কী লাভ? শিখে কী লাভ? শেখাটাই লাভ। শিখে লাভজনক কিছু না করলে শিখে লাভ নেই যারা ভাবে, আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। কোন ব্রহ্মান্ডে একটা জীবন কাটালাম, তার ইতিহাস ভূগোল, তার বিজ্ঞান, তার দর্শন, তার আদ্যোপান্ত জানার মধ্যে যে আনন্দ, সে আনন্দ আর কোথায় আছে? একটা পিঁপড়ে কোত্থেকে আসে, কোথায় কী করে, কোথায় যায়- আজও আমি সব কাজ ফেলে সেটা দেখি।

১০. ব্রাজিলে একটা ছবি বানানো হয়েছিল, নাম ‘দ্য ফার্স্ট টেম্পটেশান অব ক্রাইস্ট’। যীশুকে নিয়ে হাস্যরসের ছবি। যীশু সমকামী। যীশু বদলোক হলে লোকের আপত্তি ছিল না, আপত্তি সমকামীতে। ধর্মান্ধ ক্রিশ্চানদের মুখ ভার বটে। ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নেটফ্লিক্সকে চিঠি পাঠিয়েছে। গত বছর ক্রিসমাসে একই কমেডি গ্রুপ বানিয়েছিল ‘দ্য লাস্ট হ্যাঙ্গোভার’। সেটিতেও যীশুর পাগলামো দেখানো হয়েছিল। ব্লাসফেমি একেই বলে। কিন্তু কথা হলো, এসব ছবিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্রিশ্চানদের দেশ পুরস্কৃতও করছে, ভালো রিভিউও ছাপাচ্ছে।

আজকাল হিন্দুও তাদের দেব দেবী ভগবান নিয়ে মশকরা সহ্য করে না।

আমি মন্টি পাইথনের লাইফ অব ব্রায়ান দেখেছি, দ্য লাস্ট টেম্পটেশান অব ক্রাইস্ট দেখেছি, কিন্তু মশকরার চূড়ান্ত ব্রাজিলের এই দুটো ছবি। পর্তুগিজ ভাষার ছবি। সাবটাইটেল পড়ে পড়ে দেখতে হয়। কিন্তু দেখার পর মানুষের বাক স্বাধীনতা আছে বলে আনন্দ হয়। দ্য নেইম অব দ্য রোজের কথা মনে আছে? কীভাবে মধ্যযুগে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সামান্য সন্দেহ হতো যাদের, তাদের মেরে ফেলতো ইনকুইজিটররা!

যুগ তো বদলাচ্ছে। যুগকে বদলাতে দিতে হয়। আঁকড়ে রাখতে হয় না।

            লেখক : নির্বাসিত লেখিকা,তসলিমা নাসরিন।

খাগড়াছড়িতে ঝর্ণার পানিতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

খাগড়াছড়িতে ঝর্ণার পানিতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার রিছাং ঝর্ণাতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন-খাগড়াছড়ি সদরের রুখই চৌধুরী পাড়ার প্রীতম দেবনাথ (১৮) ও লক্ষ্মীপুর সদরের অপু চন্দ্র দাশ (২২)।স্থানীয়রা জানায়, মূল রিছাং ঝর্ণার উপরে আরেকটি ঝর্ণা রয়েছে। যেটি অনেক গভীর ও দুর্গম। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা ওই ঝর্ণায় গোসল করতে যায়। এ সময় পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়।

খাগড়াছড়ির ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক সন্তোষ ধামাই জানান, বিকেলে স্থানীয় একজন পানিতে মরদেহ দেখতে পায়। মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস

জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির ২০২১-২২ মেয়াদে সভাপতি পদে ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিয়াস খান নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে হাসান হাফিজ, সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা, যুগ্ম সম্পাদক পদে মাঈনুল আলম ও মো. আশরাফ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।সদস্য পদে জিতেছেন আইয়ুব ভূঁইয়া, জাহিদুজ্জামান ফারুক, ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, রহমান মুস্তাফিজ, রেজানুর রহমান, শাহনাজ সিদ্দিকী সোমা, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাজী রওনাক হোসেন, বখতিয়ার রাণা, শাহনাজ বেগম পলি।

এর আগে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে ভোটগ্রহণ।

জাতীয় প্রেসক্লাবের এবারের নির্বাচনে ১৭টি পদে সর্বমোট ৪৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

যে কারণে স্ত্রীকে হত্যার পর চামড়া কেটে লবণ দিল স্বামী

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:৪২ অপরাহ্ন

যে কারণে স্ত্রীকে হত্যার পর চামড়া কেটে লবণ দিল স্বামী

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গৃহবধূ শান্তা আক্তার (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে ঘাতক স্বামী স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম। 

বুধবার নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ন কবিরের আদালতে ওই জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।জবানবন্দীতে আমিনুল বলেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে সে স্ত্রী শান্তাকে শিলপুতা দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে হত্যা করে। এরপর মাছ কাটার বটি দিয়ে শরীরের চামড়া ছিড়ে তাতে লবণ লাগিয়ে দেয়। এছাড়া সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকত স্ত্রী শান্তা আক্তার। স্বামী আমিনুল তার প্রতিবাদ করলে তার কথা শুনতো না। এ নিয়েও তাদের মধ্যে ঝগড়াও হতো।  

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকেলে শান্তার মরদেহ উদ্ধারের পর বাবা কলিমউল্লাহ বাদী হয়ে রাতেই স্বামী আমিনুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার বারদীর ওরলাপুর এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে বন্দর গালর্স স্কুলের পিটি শিক্ষক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ২০১৭ সালে সোনারগাঁ উপজেলার বারদী এলাকার কলিমউল্লাহ’র মেয়ে শান্তা আক্তারের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের কারণে ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর শান্তার অন্যত্র বিয়ে হয়। ৭ মাস ওই স্বামীর সঙ্গে সংসার করার পর এ বছরের ২০ অক্টোবর আমিনুল ইসলাম ফুসলিয়ে পুনরায় শান্তাকে বিয়ে করে। এরপর বন্দরের রাজবাড়ি এলাকার সুলতান মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করে তারা। পুনরায় বিয়ে করার ২ মাস ৬ দিনের মাথায় শান্তাকে হত্যা করে আমিনুল ইসলাম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বন্দর থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক এসআই আবদুস সবুর জানান, বুধবার আদালতে হাজির করা হলে আমিনুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ডিসেম্বর শনিবার স্বামী স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম শান্তাকে হত্যা করে শরীরের চামড়া ছিড়ে লবণ মেখে লাশ গুম করার জন্য কম্বল পেঁচিয়ে ৩ দিন ভাড়া করা বাসায় রেখে দেয়। মাছ কেটে যেভাবে হলুদ মরিচ আর মশলা মাখানো হয় ঠিক সেভাবেই স্ত্রীর শরীরের বিভিন্নস্থানেই ধারালো অস্ত্রের দ্বারা কাটা কাটা ছিল। সেখানে মশলার মতই মাখানো হয় লবণ। উদ্দেশ্য মৃতদেহ যেন পঁচে না যায় কিংবা দুর্গন্ধ না ছড়ায়। কিন্তু সময়টা বেশী অতিক্রান্ত হওয়াতে আর ঘরে সেই মৃতদেহ রাখা সম্ভব হয়নি। তাই অসুস্থ বলে মৃত স্ত্রীকে কম্বল মুড়িয়ে নিয়ে চলে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে নাটক সাজান তার স্ত্রী অসুস্থ। কিন্তু ডাক্তাররা লবণ মাখানো নারীকে দেখেই আঁতকে উঠে। নিশ্চিত হয় কয়েকদিন আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিছক লাশ আনা হয়েছে হাসপাতালে। আটক করা হয় সঙ্গে থাকা স্বামীকে।

প্রকৃতির এমন বিধ্বংসী রূপ ১৪০ বছরেও দেখেনি ক্রোয়েশিয়া

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন

প্রকৃতির এমন বিধ্বংসী রূপ ১৪০ বছরেও দেখেনি ক্রোয়েশিয়া

২০২০-র কান্না যেন থামছে না আর। বছর শেষে তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ক্রোয়েশিয়া। মুহূর্তে ধুলিসাৎ শহর। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বড় বড় বিল্ডিং। প্রথমে কেউ মারা যাননি বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু ধ্বংসস্তূপ যত সরছে তত দেহ বেরিয়ে আসছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আহত অগণিত। 

ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হলেও এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি গত ১৪০ বছরে কখনও দেখেনি ক্রোয়েশিয়া। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬.২। এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কমপক্ষে ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। স্থানীয় মিডিয়া বলছে, পেট্রিনজা শহর একেবারে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভূমিকম্প। গৃহহীন অসংখ্য মানুষ। ৫০০টি টেন্ট তৈরি করে তাদের ত্রাণ শিবিরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০ হাজারের মতো বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্রোয়েশিয়ায়। ১৮৮০ সালের পর এই ধরনের বড় কোনও ভূমিকম্প হল ক্রোয়েশিয়ায় এমনই মনে করা হচ্ছে। সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া।

বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়া কমেছে ৭০ ভাগ, প্রভাব পড়বে রেমিটেন্সে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ৯:১৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়া কমেছে ৭০ ভাগ, প্রভাব পড়বে রেমিটেন্সে

খুলনার মরিয়ম বেগম লেবানন থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন গত মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে।করোনাভাইরাসের লকডাউন শেষে বিমান চলাচল শুরু হওয়ার পর, গত কয়েকমাস ধরে তিনি আবার বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখনো কোন উপায় খুঁজে পাননি।

তিনি বলছিলেন, ”বিদেশ যাতি পারছি না, কোন কাজকর্ম করতে পারছি না। সমস্যায় তো আছি ভাই। নতুন করে চালু হওয়ার পর থেকেই চেষ্টায় আছি, কিন্তু কিছু হয় নাই। আমারে বলেছে, ১৫ তারিখের মধ্যে কিছু জানাবে। নয়-দশ মাস ধরি বসি আছি, জমানো টাকা ভাঙ্গি খাতি হইতাছে।”

তিনি বলছেন, গত চারমাস ধরেই তিনি বিদেশে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন। কিন্তু কবে যেতে পারবেন, বুঝতে পারছেন না।

অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে, এমন একটি সংস্থা রামরু মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদনে বলেছে, করোনাভাইরাস সংকট শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের যে অভিবাসী শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার হার ৭০ ভাগ কমে গেছে।

বিশেষ করে যারা এই সময়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন, তারা আর ফেরত যেতে পারেননি। এই অভিবাসী ও তাদের পরিবারের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।এই বছর বিদেশ থেকে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার নারী শ্রমিক

সংস্থাটি বলছে, এর প্রভাব পড়তে পারে সামনের বছরের রেমিটেন্সের ওপরেও।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পহেলা এপ্রিল থেকে ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ফেরত এসেছেন ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ জন কর্মী। এদের মধ্যে ৩৯ হাজার ২৭৪ জন নারী।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সাত লাখের বেশি মানুষ বিদেশে কাজের জন্য গেলেও এই বছর গেছে, দুই লাখের কম শ্রমিক। মার্চ মাস থেকেই আটকে গেছে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ লাখ ভাগ্যান্বেষী মানুষের বিদেশ যাত্রা।

বেসরকারি সংস্থা রামরুর চেয়ারপার্সন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলছেন, যদিও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক তাদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে দেশে ফিরে আসায় রেমিটেন্স বেড়েছে, কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সামনের বছর।

”বিদেশে বাংলাদেশে শ্রমবাজার বন্ধ হবে না। কারণ যেসব খাতে আমাদের দেশের অদক্ষ শ্রমিকরা যায়, গৃহকর্মী, নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, ইত্যাদি খাতে শ্রমিকদের চাহিদা সবসময়েই থাকবে।”

”কিন্তু এই বছর অনেক বেশি শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে। তারা জমানো টাকা নিয়ে এসেছেন, অনেকে আবার বিপদের আশঙ্কায় বেশি করে টাকা পাঠিয়েছেন, ফলে রেমিট্যান্স বেড়েছে। কিন্তু অনেক শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়ায় আর মার্চের পর থেকে নতুন শ্রমিক যেতে না পারায় সামনের বছর রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।” আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী।

অক্টোবরের পর থেকে যারা শুধুমাত্র ছুটিতে এসেছিলেন, তারাই আবার কাজে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

কিন্তু দেশে ফেরত আসাদের অনেকেই চাকরি হারিয়ে, কেউ কেউ অবৈধ শ্রমিক থেকে দেশে আসতে বাধ্য হয়েছে।

কিন্তু কবে তারা আবার বিদেশে কাজের জন্য যেতে পারবেন, সেই সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।

মরিয়ম বেগমের মতো এই অভিবাসীদের বেশিরভাগের এখন সঞ্চয়ের ওপর হাত পড়েছে।

আবার বিদেশে যাওয়ার আশায় দেশেও তারা কিছু শুরু করতে পারছেন না।

সব মিলিয়ে বিদেশি আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও পড়েছে সংকটে।

বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ খাতেই বেশি শ্রমিক যায়
ছবির ক্যাপশান,বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ খাতেই বেশি শ্রমিক যায়

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলছেন, এই ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনের বিষয়ে এখনি গুরুত্ব দেয়া দরকার।

”কোভিডের মধ্যে যারা ফেরত এসেছেন, তারা যে আবার যাবেন, সেটা শুরু হয়নি, তেমন সম্ভাবনাও এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ বৈদেশিক কর্মসংস্থান স্বাভাবিক করা আর কাজ হারিয়ে ফেরত আশা শ্রমিকদের দেশের ভেতর পুনর্বাসন করতে পারা।” বলছেন শরিফুল হাসান।

তিনি বলছেন, এক্ষেত্রে ঋণ দিয়ে, প্রকল্প নিয়ে বা প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য শুধু সরকারের একার নয়, বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশের সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকদের এই সংকটের বিষয়ে তারা সচেতন।

বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে যেমন তারা যোগাযোগ রাখছেন, তেমনি দেশে ফেরত আসা শ্রমিকদের কল্যাণেও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

সৌদিতে শপথ নিয়ে মন্ত্রীরা ইয়েমেনে ঢুকতেই বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, নিহত ৫

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ৯:০১ অপরাহ্ন

সৌদিতে শপথ নিয়ে মন্ত্রীরা ইয়েমেনে ঢুকতেই বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, নিহত ৫

সৌদি আরবে শপথ নিয়ে ইয়েমেনে ফিরেই হামলার শিকার হয়েছে কথিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সম্প্রতি পলাতক প্রেসিডেন্ট হিসেবে খ্যাত মানসুর হাদি নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করেছেন।আজ মন্ত্রিসভার সদস্যরা এডেন বিমানবন্দরে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের সদস্যদের বহনকারী একটি বিমান অবতরণের সময় এই বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হয়েছে। মর্টার শেলের হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের কোনও মন্ত্রী হতাহত হননি। রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক জানিয়েছে, বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচ জন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছে।

বিস্ফোরণের আগে এয়ারপোর্টে ড্রোন ওড়ার শব্দ শোনা যায় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির পর কথিত প্রধানমন্ত্রী মঈন আব্দুলমালিকসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিরাপদে আডেন শহরে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা এবং বিভিন্ন সৌদি সংবাদমাধ্যম।

কথিত মন্ত্রীসভার সদস্য মুয়াম্মার আর রিয়ানি আজকের হামলার জন্য জনপ্রিয় সংগঠন হুথি আনসারুল্লাহকে দায়ী করেছেন। কিন্তু আনসারুল্লাহর প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মাদ আল বাখিতি বলেছেন, আজকের বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে আনসারুল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগেও আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে এ ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো। সূত্র: পার্সটুডে

ঢাকার একটি বাসা থেকে ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের ইউরেনিয়াম উদ্ধার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ৮:৫৯ অপরাহ্ন

ঢাকার একটি বাসা থেকে ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের ইউরেনিয়াম উদ্ধার

বাংলাদেশের ঢাকার রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে আনুমানিক ৫৫ কোটি টাকা মূল্যমানের ইউরেনিয়াম উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)।

র‍্যাবের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্ব রামপুরার একটি বাসায় তারা অভিযান চালায়। সেই সময় ওই বাসা থেকে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সময় তিনজন ইউরেনিয়াম ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা র‍্যাবকে জানিয়েছেন যে, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে ইউরেনিয়াম ক্রয় করে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা ইউরেনিয়াম ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছিলেন।

র‍্যাব-১০ এর উপ-অধিনায়ক মেজর শাহরিয়ার জিয়াউর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, এখনো এই মামলাটির তদন্ত চলছে। তারা কোথা থেকে ইউরেনিয়াম কিনেছে, কাদের কাছে বিক্রি করতো, সেই পুরো চক্রটিকেই আমরা আটক করার চেষ্টা করছি।

তদন্তাধীন বিষয় বলে তিনি আর বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

চামড়ার যে বাক্সে ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে, সেটির গায়ে লেখা রয়েছে, ইউরেনিয়াম অ্যাটমিক এনার্জি মেটালিক এলিমেন্ট, অ্যাটমিক ওয়েট ২২২.০৭ (এ) ২ এলবি ল্যাবপ্রস। সেই সঙ্গে রিমোট কন্ট্রোল, ম্যানুয়াল বই, গ্যাস মাস্ক, ইলেকট্রিক মিটার, রাবারের ড্রপার, ইত্যাদি পাওয়া গেছে।

এর আগেও বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম বিক্রির অভিযোগে আটকের ঘটনা ঘটেছে।

২০১৪ সালের অগাস্টে ঢাকায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়াম বেচা-কেনার সাথে জড়িত এমন ১১ ব্যক্তিকে তারা গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুই পাউন্ড ওজনের কথিত ইউরেনিয়ামও জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

ইউরেনিয়াম কী কাজে লাগে

ইউরেনিয়াম একপ্রকার খনিজ পদার্থ। কাজাখিস্তান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিজার, নামিবিয়া এবং রাশিয়ায় ইউরেনিয়াম বাণিজ্যিক ভিত্তিকে উত্তোলিত হয়।

অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোহাম্মদ আহসান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”সাধারণত নির্দিষ্ট মানের ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগে। তবে সেজন্য অনেক অবকাঠামোর দরকার হয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই কালোবাজারে ইউরেনিয়াম কেনাবেচার চেষ্টা করা হয়।”

তবে ইউরেনিয়ামের বিভিন্ন মান রয়েছে। সেই মান অনুযায়ী ইউরেনিয়াম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র অথবা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কিছু শিল্পেও ব্যবহৃত হয়।

তিনি জানান, র‍্যাব যে উদ্ধারের কথা বলছে, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কী ইউরেনিয়াম, কোন মানের, কার্যকরি কিছু কিনা, সেটা বলা সম্ভব নয়।

যা খুশি তা বলা সোজা কাজ করা কঠিন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:০১ অপরাহ্ন

যা খুশি তা বলা সোজা কাজ করা কঠিন

দেখতে দেখতে বিজয়ের মাস এবং বছর শেষ হয়ে গেল। পুরনো পচা জরাজীর্ণ, করোনার আক্রমণে সাধারণ মানুষ দিশাহারা। দিন এনে দিন খাওয়াদের কষ্টের শেষ নেই। তার ওপর আবার তীব্র শীতে মানুষের একেবারে মরণদশা। দেশের মালিক জনগণ, সেই দেশের ওপর জনগণের তেমন প্রভাব না থাকায় প্রায় সবার মুখ মলিন। একটা স্বাধীন দেশের আনন্দিত উৎফুল্ল জনগণকে দেখে যেমন লাগার কথা তার লেশমাত্র নেই। চারদিকে আবহাওয়া কেমন যেন গুমোটবাঁধা অস্বস্তিকর। হাসিমুখ খুব একটা দেখা যায় না। মানুষ কী নিয়ে হাসবে? হাসির জন্য যে সামান্য উপকরণ দরকার, যে অস্তিত্ববোধ দরকার তার তেমন কিছুই নেই। তাই সাধারণ মানুষ কেমন যেন মূক ও বধির হয়ে আছে। চারদিকে কত বড় বড় কাজ হচ্ছে, সে জন্য কারও তেমন গর্ববোধ নেই। মানুষের আনন্দের, শাশ্বত গৌরবের প্রায় সব দ্বার কেমন যেন রুদ্ধ হতে চলেছে। আজ আমাদের যে বয়স, স্বাধীনতার পরপর এমন বয়সের মানুষের মুখের দিকে তাকালে বুক ভরে যেত, ভালো লাগত। ইদানীং মানুষের স্বাস্থ্যেও যেমন টান পড়েছে, মুখেও কেমন যেন বিস্বাদের ছাপ। কোথাও তেমন স্পষ্ট উজ্জ্বল আভা বিকীর্ণ হয় না। আজ ২০২০ সাল। ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, আমাদের অনন্য প্রেরণা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তানের জেলখানায়। তবু তাঁকে ফিরে পাওয়ার, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তোলার যে উদ্দীপনা ছোট-বড়-ধনী-নির্ধন সবার মধ্যে ছিল তেমন কিছুই নেই। তাই চেষ্টা করেও ভালো থাকতে পারি না।

গত সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছিলাম- সত্যিই তিনি যদি ভুল করতেন তাহলে আমাদের পরিণতি কী হতো? জিয়াউর রহমান একসময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, কত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি, কত হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক- এসবের কী হতো? এটা তো জোর গলায় বলতে পারি, বাংলাদেশ না হলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমারও ফাঁসি হতো, জিয়াউর রহমানেরও হতো, খালেদ মোশাররফ, শাফায়েত জামিল, কর্নেল অলি কারও মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে আকাশ থেকে বোমা ফেলা হতো। এমনকি জনাব এ কে খন্দকার যিনি ত্রুটি ধরেছেন, তাঁকে আদেশ করা হলে তিনিও বোমা ফেলতেন। ভদ্রলোক ২৫ মার্চ বা ২৬ মার্চ অথবা এপ্রিলে মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেননি। তিনি যুদ্ধবিমান চালাতে জানতেন, তিনি নাকি পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান আজগর খাঁকে ঝড়-তুফানে বিমান চালনার কৌশল শিখিয়ে ছিলেন। কিন্তু এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেননি। তিনি নিজেই বলেছেন, মার্চের শেষ দিন অথবা এপ্রিলের ১-২ তারিখ আরিচা হয়ে পালাতে চেষ্টা করেছিলেন। রাস্তায় মিলিটারি দেখে ফিরে এসে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৫ মে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। তিনি নিজেই আফসোস করেছেন, সীমান্ত পার হতে এক রাত যাদের বাড়ি ছিলেন তাদের একজন কলকাতায় তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু তাকেও তিনি এক রাত আশ্রয় দেননি বা দিতে পারেননি। এই মানুষকে কেন মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাব দেওয়ার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল জানি না। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী এবং যুদ্ধবিশারদরা যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য সাহসিকতা পদকের প্রস্তাব করেছিলেন। নীতিমালা ছিল, ‘যারা যুদ্ধক্ষেত্রে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেবে তাদের তৎক্ষণাৎ পদক দিয়ে প্রশংসা করা হবে যাতে অন্যদেরও সাহসী হতে উৎসাহিত করা যায়।’ প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেওয়া ছাড়া কাউকে সাহসিকতা পদক বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতীকে ভূষিত করা হয়নি। প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা যদি না থাকত তাহলে প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীকে নিশ্চয়ই বীরত্বসূচক পদক দেওয়া হতো। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে যাননি বলে তাঁকে কোনো পদক দেওয়া হয়নি। উপ-প্রধান মেজর জেনারেল রব তিনিও যুদ্ধক্ষেত্রে যাননি বলে তাঁকেও পদক দেওয়া হয়নি। তাহলে এ কে খন্দকার, তিনিও তো যুদ্ধক্ষেত্রে যাননি। ১৫ মে বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরার সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন। এর মাঝে তিনি কখনো সীমান্ত পার হননি। তাহলে তিনি নিজের খেতাব নিজেই নিলেন কী করে? পায়ে হেঁটে বাংলাদেশের সীমানায় যেমন আসেননি, তেমনি আকাশপথেও না। তাহলে তিনি বীরউত্তম খেতাব কী করে নিলেন? এ তো গেল খেতাবের কথা।বঙ্গবন্ধু যদি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করতেন তাহলে তাঁকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করে ফাঁসি দিতে আর কোনো কোর্ট-কাচারি লাগত না। রাস্তায় সৈন্যরা অতর্কিত গুলি চালিয়ে জাতির পিতাকে হত্যা করতে পারত। যুদ্ধের সময় সারা বিশ্বে কূটনীতির ক্ষেত্রে পাকিস্তানি কূটনীতিকরা কোথাও কোনো কথা বলতে পারেননি। সব সময় তাদের জবাব দিতে হয়েছে। অবাধ নির্বাচনে নির্বাচিত একটি দলকে তারা ক্ষমতা দেয়নি, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অন্যায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ বঙ্গবন্ধু সে সময় সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে এই একই রকম অভিযোগের তলে পড়তাম আমরা। দু-চার জন বলার চেষ্টা করেছেন, তাজউদ্দীন সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে নিয়ে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু নাকি তাতে স্বাক্ষর করেননি। যদি অমন কোনো স্বাক্ষরিত কাগজ পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারত তাহলে বঙ্গবন্ধুকে ন্যায়ত ফাঁসি দিতে তাদের বাধত না। ’৭৭-এ ভারতে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের পতনের পর যখন শাহ কমিশন গঠিত হয়, শাহ কমিশনে নানা দুর্নীতির প্রায় ৫ হাজার ফাইল জমা পড়েছিল। কিন্তু তার একটিতেও শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর স্বাক্ষর ছিল না। শাহ কমিশন প্রায় দুই বছর সর্বতোভাবে চেষ্টা করেও কোনো প্রমাণ জোগাতে পারেনি, দন্ড দেওয়া দূরের কথা। তাই যারা কাজ করে বুদ্ধিমানের মতোই করে। কয়েকজন উচ্চপদস্থ অফিসার ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি ফাইল বগলদাবা করে মোরারজি দেশাইয়ের কাছে গিয়েছিল। ফাইলটি দিতেই মহান ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোরারজি দেশাই ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। অফিসারদের বলেছিলেন, ‘আজ ইন্দিরাজির বিরুদ্ধে ফাইল বানিয়ে আমার কাছে এসেছ। আমার পরে যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসবেন তার কাছেও আমার নামে এ রকম ফাইল নিয়ে যাবে। তোমাদের ফাইল আমার লাগবে না। আমি ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করব।’

আজ ভাবতে অবাক লাগে সেই মূল্যবোধগুলো কোথায় গেল। এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল অন্য দলের প্রশংসা করে না। এক নেতা আরেক নেতাকে বন্ধু নয়, শত্রু ভাবেন। বিষয়টা সামাজিকভাবেও ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষে মানুষে সেই আগের মেলবন্ধন নেই, নেই কোনো দরদ। যে অন্যের প্রশংসা করতে না পারে, যে অন্যের হাসি-কান্নায় শরিক হতে না পারে সে আবার মানুষ কীসের? মানুষ হবে সেই যে নিজের চাইতে অন্যকে নিয়ে, অন্যের আনন্দ-বেদনা নিয়ে, পরের কষ্ট নিয়ে বেশি ভাবে সে-ই হলো প্রকৃত মানুষ। যে মনুষ্যত্বে, যে ভালোবাসা-ত্যাগ তিতিক্ষায় আমরা সারা পৃথিবীকে জয় করেছিলাম, যে কারণে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের চাইতে হাজার গুণ শক্তিশালী একটি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলাম। সেসব গুণের কিছুই আজ অবশিষ্ট নেই। তবু আমরা অনেকেই ভাবী, আমরা ভালো আছি, আমরা বড় নীতিমান-ন্যায়পরায়ণ। আমাদের কী পরিমাণ অধঃপতন হয়েছে কী পরিমাণ পতন হয়েছে এ থেকেই বোঝা যায়। নিজের ত্রুটি নিজের ভুল আমরা নিজেরা ধরতে পারি না। অথচ একসময় পারতাম। একসময় চোরের কষ্ট আমরা বুঝতে চেষ্টা করতাম। আমরা চুরি করতাম না। নিজে চুরি না করে চোরকে বারণ করতাম। এখন সেসবের লেশমাত্র নেই। অন্যকে চোর বলি অথচ নিজে চুরিতে ডুবে থাকি- এ আর যাই হোক সভ্যতা হতে পারে না।

আমরা অনেক সময় অনেক কিছু খুব একটা তলিয়ে দেখি না। বঙ্গবন্ধু ভারতে আশ্রয় নিলে আমরা স্বাধীন হতে পারতাম না- কথাটা একেবারে ফেল না নয়। যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়জুড়ে সারা দুনিয়ায় পাকিস্তান বলে বেরিয়েছে বাংলাদেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ নয়, সেখানে ভারত গোলমাল করছে, সীমান্তে গুলি ছুড়ছে। এমন একটি ঘটনা নিয়ে ’৭১-এর আগস্টের শেষ সপ্তাহে আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে বলেছিলেন, ‘আমাদের বীর সন্তান কাদের সিদ্দিকী যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। ভারত সীমান্ত থেকে দেড়-দুই শ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভিতরে যমুনায় পাকিস্তানিদের অস্ত্রবোঝাই জাহাজ দখল করে নিয়েছে- এট কি ভারতের কারসাজি?’ হাউস অব কমন্স আবু সাঈদ চৌধুরীর যুক্তি মেনে নিয়েছিল। তাই মুক্তিযুদ্ধটাও অত সহজ ছিল না। শুধু রণাঙ্গনেই নয়, বিশ্বদরবারে কূটনীতিতেও আমাদের লড়াই করতে হয়েছে। সেখানে সমানভাবে আমরা জয়ী হতে না পারলে আমেরিকার সপ্তম নৌবহরকে রাশিয়া বাধা না দিলে আমরাই যে সব করে ফেলেছি এক বাঁশির ফুঁতেই স্বাধীন হয়ে গেছি- এটা সত্য নয়।

সমালোচনা করাই যায়, বঙ্গবন্ধু ধরা দিয়েছিলেন। এ রকম কঠিন সময়ে পাকিস্তানিদের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর সাহস আমার মনে হয় আর কোনো বাঙালির ছিল না। ব্যাপারটা খেলা খেলা নয়, ব্যাপারটা স্থির মস্তিষ্কের অবিচল আস্থা ও সাহসের। এ কাজটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে করতে পেরেছিলেন বলেই তিনি মহান নেতা, তিনি জাতির পিতা। যে যেভাবেই বলুন, বঙ্গবন্ধু ভারতে আশ্রয় নিলে রণাঙ্গনে যেমন আমাদের অস্ত্র ভোঁতা হয়ে যেত, বহির্বিশ্বেও কূটনৈতিক আন্দোলনে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়তাম। আমাদের বীরত্ব আমাদের রক্ত হতো খেলার বস্তু। এসব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা ’৭১-এ বিজয়ের লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলাম।

করোনা আক্রান্ত জরাজীর্ণ ২০২০ আমরা অতিক্রম করছি। নিশ্চয়ই আশা করব, স্বাধীনতার অর্ধশত বছর শুরু হবে ঝলমলে নিরাপদ নিশ্চিত বাধামুক্ত, গণতন্ত্রের ভিত হবে ইস্পাতকঠিন শক্তিতে বলীয়ান। ভোটাধিকার হবে সরকারি প্রশাসনের সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত।

লেখক :বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, রাজনীতিক।

শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা থাকাকালে কলারোয়ায় তার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় জামিনে থাকা তিনজন আসামীর সময়ের আবেদন না’মঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একইসাথে আসামীদের ৩৪২ ধারায় মতামত গ্রহণ শেষে ১৪জন সাফাই সাক্ষী দেওয়ার আবেদন করলে মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. হুমায়ুন কবীর ১১জনের আবেদন মঞ্জুর করে বুধবার সাক্ষীর দিন ধার্য করেছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আসামীরা হলেন, সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চু, মফিজুল ইসলাম ও মো. আলাউদ্দিন। এছাড়া এ মামলায় আরো ১৩ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানীতে অংশ নেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জী, সহকারি এটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা ও সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি এড. আব্দুল লতিফ, সাবেক পিপি এড. তপন কুমার দাস, সাবেক পিপি এড. ওসমান গনি, এড. ইউনুস আলী, অতিরিক্ত পিপি এড. ফাহিমুল হক কিসলু, এড. সাবেক অতিরিক্ত পিপি এড. আজাহার হোসেন এড. শহীদুল ইসলাম পিন্টু, এড. ওকালত আলী প্রমুখ।
আসামীপক্ষে শুনানীতে অংশ নেন বাংলাদেশ হাইকোর্টের এড. শাহানারা আক্তার বকুল, এড. আব্দুল মজিদ (২), এড. মিজানুর রহমান পিন্টু, এড. কামরুজ্জামান ভুট্টো প্রমুখ।

মামলার কার্যক্রম শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে বাংলাদেশেরে অতিরিক্ত এটর্ণি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল সুজিত কুমার চ্যাটার্জী বলেন, তিনজন আসামী অসুস্থতার কথা উল্লে¬খ করে তাদের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেছেন। আবেদনে ওইসব আসামী কোথায় চিকিৎসাধীন, কি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই তাদের সময়ের আবেদন না’মঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। বিচারক তা মঞ্জুর করেন। এছাড়া আসামীপক্ষের আইনজীবী এড. আব্দুল মজিদ (২) সাক্ষী শহীদুল ইসলাম, আনছার আলী ও জোবায়দুল হক রাসেলকে জেরা করার জন্য আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষ আইনি ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাতে আপত্তি জানালে আসামীপক্ষের আবেদন না’মঞ্জুর করা হয়। একপর্যায়ে ৩৪২ ধারা মোতাবেক কাঠগোড়ায় উপস্থিত ৩৪জন আসামী নিজেদের নির্দোষ দাবি করলে তাদের সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এড. আব্দুস সাত্তার ও অ্যাড. আব্দুস সামাদসহ কয়েকজনের পক্ষ থেকে ঢাকার এড. রুহুল কবীর রিজভি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, ঢাকা সিআউডি’র অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম, একই উপজেলার বরণডালি গ্রামের কাজী রফিকুল ইসলাম, মেহেরপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ মোড়ল, জেলার শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের বুলবুল ম-ল, একই উপজেলার সামটা গ্রামের কুতুবউদ্দিন, কলারোয়া উপজেলার ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের সরেজিৎ ভট্টাচার্য, গদখালি গ্রামের মোবারক আলী মোড়ল, একই গ্রামের মোস্তফা ফারুকুজ্জামান, জেলার তালা উপজেলার মহল¬াপাড়ার শেখ শফিকুল ইসলাম, যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার বড়খলসী গ্রামের শরিফুল ইসলাম, সাতক্ষীরা শহরের মাষ্টারপাড়ার মনিরুজ্জামান মনি সাফাই সাক্ষী দেওয়ার আবেদন জানালে বিচারক সাবেক শিক্ষামন্ত্রি এহসানুল হক মিলন, ঢাকা সিআউডি’র অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম ও সরোজিৎ ভট্টাচার্যকে বাদ দিয়ে বাকী ১১জন সাক্ষীর শুনানীর জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। আসামী পক্ষ সাফাই সাক্ষী দেওয়ার আবেদন জানানোয় আইনগত কারণে মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা যায়নি।

অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর বলেন, জামিনে থাকা তিনজন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসাথে তিনজন সাক্ষীকে জেরা করার আসামীপক্ষের আবেদন না’ মঞ্জুর করেছে আদালত। একইসাথে ১১জনের সাফাই সাক্ষীর জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সাফাই সাক্ষী শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হতে পারে।

আসামীপক্ষের আইনজীবী এড. আব্দুল মজিদ বলেন, তিনজন সাক্ষীকে জেরা করার জন্য তারা আবেদন করলেও আদালত তা না’মঞ্জুর করে। এছাড়া জামিনে থেকে নিয়মিত হাজিরা দিলেও মঙ্গলবার অসুস্থতার কারণে তিনজন আসামীর জামিন না’মঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসাথে ১৪ জন সাফাই সাক্ষীর মধ্যে ১১জনের আবেদন মঞ্জুর করে বুধবার শুনানীর জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত।

প্রসঙ্গত: ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখে মাগুরায় ফিরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার উপর জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও তৎকালিন সাংসদ হাবিবুল ইসলামের হাবিবের নির্দেশে বিএনপি ও যুবদলের নেতা কর্মীরা দলীয় অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহি বাস রাস্তার উপরে আড় করে দিয়ে তার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। হামলায় তৎকালিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে এক ডজন দলীয় নেতা কর্মী আহত হয়।

এ ঘটনায় থানা মামলা না নেওয়ায় ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমা-ার মোসলেমউদ্দিন বাদি হয়ে যুবদল নেতা আশরাফ হোসেন, আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ ২৭জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০/৭৫ জনকে আসামী করে সাতক্ষীরা নালিশী আদালত ‘ক’ অঞ্চলে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিভিন্ন আদালত ঘুরে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শফিকুর রহমান ৫০ জনের নাম উল্লে¬খ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে এসটিসি ২০৭/১৫, এসটিসি ২০৮/১৫ দু’টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২য় আদালতে বিচারাধীন।

২০১৭ সালের ৯ ও ২৩ আগস্ট আসামীপক্ষ মামলা তিনটির কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত করেন। দীর্ঘ তিন বছর পর আসামী পক্ষের মিসকেস খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট পেনালকোর্ডের মামলাটি(টিআর-১৫১/১৫) ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেন। বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন ও অস্ত্র আইনের মামলা দু’টি গত ১৭ডিসেম্বর বিচারপতি মোস্তফাজামান ইসলাম ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম মোল¬ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আসামীপক্ষের স্থগিতাদেশ ও আপিল খারিজ করে দেয়। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ৫০জন আসামীর মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া তিনজনের মঙ্গলবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও নিজস্ব অর্থায়নে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও নিজস্ব অর্থায়নে

কারিগরি সহায়তা দেবে চীন, আগামী বাজেটের আগেই জরিপ শেষ করে ডিজাইনের কাজে হাত দিতে চায় সরকার

প্রথম পদ্মা সেতুর মতো দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও নিজস্ব অর্থায়নেই বাস্তবায়নের বিকল্প পরিকল্পনা করছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বাজেটের আগেই এ সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের চূড়ান্ত জরিপ করা হবে। একই সঙ্গে প্রথম পদ্মা সেতুর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ডিজাইন করা হবে।

এদিকে বহুল আলোচিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে। এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল সেতুর কাজের ভৌত অগগ্রতি হয়েছে ৯১ শতাংশ। বসানো হয়েছে সবকটি স্প্যান। যা উন্নয়নের একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এরই মধ্যে সামনে চলে এসেছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর আলোচনা। যদিও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনাও করা হয়েছিল প্রায় ১১ বছর আগে। এবার ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের আগেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের চূড়ান্ত জরিপ প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নিয়ে কাজ করছে সেতুবিভাগ। মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে সরকার একক বা যৌথ অর্থায়নকারী হিসেবে কোন সংস্থাকে বেছে নেবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সঙ্গে সরকারের একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, প্রথম পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক তাদের অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলে সেতুর বাস্তবায়ন কাজ পিছিয়ে যায়। একই সঙ্গে সরকার আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের সেই অপবাদ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ওই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে আমলে নিয়ে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে কিছুটা ধীরেই চলছে সরকার। নতুন করে আর কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না সরকার। এমনকি কোনো অর্থায়নকারী স্বেচ্ছায় এগিয়ে না এলে নিজস্ব অর্থায়নেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও বাস্তবায়নের এক রকম পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রয়োজনে রিজার্ভের অর্থও এখানে কাজে লাগানো হতে পারে। আবার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতেও এগোতে পারে সরকার। একাধিক সম্ভাব্য বিকল্প রেখেই এগোচ্ছে সরকার। সূত্র জানায়, প্রথম পদ্মা সেতুর মতো দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে পাশে থাকতে চায় চীন। এ নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এর আগে পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে জাইকা তাদের বিস্তারিত সমীক্ষায় চারটি স্থানকে সুবিধাজনক হিসেবে চিহ্নিত করে। এগুলো হলো-পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ, দোহার-চরভদ্রাসন, মাওয়া-জাজিরা ও চাঁদপুর-ভেদরগঞ্জ। এর মধ্যে মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে দেশের বৃহত্তম পদ্মা বহুমুখী সেতু বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে পাটুরিয়া- গোয়ালন্দ পয়েন্টে হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। এ সেতু নির্মাণ হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ীর সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব কমে আসবে।  গোপালগঞ্জ, যশোর ও মাদারীপুর  জেলার অংশবিশেষের দূরত্বও কমবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রথম পদ্মা সেতু জনসাধারণ ও সরকারের বিরাট স্বপ্ন। সেটা এখন প্রায় শতভাগ বাস্তব রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ব্যাপারেও সরকার পরিকল্পনা করছে অনেক দিন আগে থেকেই। এটাও হবে একটি নতুন স্বাপ্নিক প্রকল্প। জানা গেছে, প্রস্তাবিত এ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রস্তাব ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম দিকে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার  কোটি টাকার কিছু বেশি। সে সময় অবশ্য দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৫ কিলোমিটার। পরে এর দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তবে এই ব্যয় আরও বাড়বে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা।https://www.facebook.com/v2.8/plugins/like.php?action=like&app_id=&channel=https%3A%2F%2Fstaticxx.facebook.com%2Fx%2Fconnect%2Fxd_arbiter%2F%3Fversion%3D46%23cb%3Df3586765c1b8ebc%26domain%3Dwww.bd-pratidin.com%26origin%3Dhttps%253A%252F%252Fwww.bd-pratidin.com%252Ff3a31ea4c2e545%26relation%3Dparent.parent&container_width=0&href=https%3A%2F%2Fwww.bd-pratidin.com%2Ffirst-page%2F2020%2F12%2F29%2F602161&layout=button&locale=en_US&sdk=joey&share=false&show_faces=false&size=smallhttps://www.facebook.com/v2.8/plugins/share_button.php?app_id=&channel=https%3A%2F%2Fstaticxx.facebook.com%2Fx%2Fconnect%2Fxd_arbiter%2F%3Fversion%3D46%23cb%3Df132c01492dd2e8%26domain%3Dwww.bd-pratidin.com%26origin%3Dhttps%253A%252F%252Fwww.bd-pratidin.com%252Ff3a31ea4c2e545%26relation%3Dparent.parent&container_width=42&href=https%3A%2F%2Fwww.bd-pratidin.com%2Ffirst-page%2F2020%2F12%2F29%2F602161&layout=button_count&locale=en_US&mobile_iframe=true&sdk=joeyhttps://platform.twitter.com/widgets/tweet_button.96fd96193cc66c3e11d4c5e4c7c7ec97.en.html#dnt=false&id=twitter-widget-0&lang=en&original_referer=https%3A%2F%2Fwww.bd-pratidin.com%2Ffirst-page%2F2020%2F12%2F29%2F602161&size=m&text=%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%93%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87%20%7C%20602161%7C%7C%20Bangladesh%20Pratidin&time=1609310181252&type=share&url=https%3A%2F%2Fwww.bd-pratidin.com%2Ffirst-page%2F2020%2F12%2F29%2F602161https://apis.google.com/u/0/se/0/_/+1/sharebutton?plusShare=true&usegapi=1&action=share&width=171&origin=https%3A%2F%2Fwww.bd-pratidin.com&url=https%3A%2F%2Fwww.bd-pratidin.com%2Ffirst-page%2F2020%2F12%2F29%2F602161&gsrc=3p&ic=1&jsh=m%3B%2F_%2Fscs%2Fapps-static%2F_%2Fjs%2Fk%3Doz.gapi.en.xwJu9mnmcMg.O%2Fam%3DwQE%2Fd%3D1%2Fct%3Dzgms%2Frs%3DAGLTcCPhziFv0ZUgwIM1cgUEDP9FSX8uzg%2Fm%3D__features__#_methods=onPlusOne%2C_ready%2C_close%2C_open%2C_resizeMe%2C_renderstart%2Concircled%2Cdrefresh%2Cerefresh%2Conload&id=I0_1609310172724&_gfid=I0_1609310172724&parent=https%3A%2F%2Fwww.bd-pratidin.com&pfname=&rpctoken=13016619https://d7f943a85f15aac7db742e3111b21c8b.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-37/html/container.html

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানাতেন : জাফরুল্লাহ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানাতেন : জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতেন, তুমি করোনা মহামারীর এই দুর্যোগের সময় প্রথম অ্যান্টিবডি কিট আবিষ্কার করেছ। এ জন্য তোমাকে অভিনন্দন। এটাই সত্য যে, বিশ্বে প্রথম আমরা অ্যান্টিবডি কিট আবিষ্কার করেছি। কিন্তু বর্তমান সরকার আমাদের পদে পদে কাঁটা বিছিয়ে রেখেছে। এ কারণে করোনার মহামারীতে আমাদের অ্যান্টিবডি কিটকে আলোর মুখ দেখাতে পারিনি। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমরা অ্যান্টিবডি কিট আবিষ্কারের পর সরকার আমাদের কন্ডিশন দিল, এ কিট আমেরিকা থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হবে। এতে ৩ কোটি টাকার প্রয়োজন ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হবে। এরপর এটা আর হলো না।’ গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে শীতকালে করোনা প্রতিরোধ ও করণীয় এবং শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গণস্বাস্থ্যের গণমাধ্যম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মঞ্জুর কাদির আহমেদ ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘ভ্যাকসিন ইস্যুতে সরকারের উচিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্পৃক্ত করা। ড. ইউনূস অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যাকসিন ফ্রি আনার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু সরকার তা করছে না। সরকার ভ্যাকসিন ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করছে। আমরাও ইচ্ছা করলে ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারি। তাহলে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন তৈরি হতো। দেশের প্রতিটা লোক ভ্যাকসিন পেত। এখন মনে হয়, বড়লোকরাই ভ্যাকসিন পাবে। গরিবরা ভ্যাকসিন নাও পেতে পারে।’ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘অক্সফোর্ডে পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হয়েছিল। কিন্তু তারা কখনই এটাকে প্যাটেন্ট করেনি। সাংবাদিক বন্ধুদের বলতে চাই, যতই আপনাদের বিপদ হোক, যেই নির্ভীক সাহসিকতার সঙ্গে আপনারা কাজ করছেন, তা অব্যাহত রাখুন। সবাই মিলিতভাবে কাজ করলে দেশে দারিদ্র্য অনেক কমবে। সবাই মিলে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।’

ফের লড়াইয়ে নৌকা ধানের শীষ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ৯:৩৪ অপরাহ্ন

ফের লড়াইয়ে নৌকা ধানের শীষ

প্রথম ধাপে আজ ২৪ পৌরসভায় নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীরা। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ ভোট নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে। নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছেন বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। এ ধাপে সব পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ    

হবে। গতকাল সব ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইসি। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। করোনাকালে এ নির্বাচনে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনাও দিয়েছে কমিশন। ভোট দেওয়ার আগে-পরে ভোট কেন্দ্রে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখছে কমিশন। প্রথম ধাপে ২৪ পৌরসভায় ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে তৃণমূলে এ ভোট উৎসব। চার ধাপে এ নির্বাচন শেষ করবে কমিশন।এবার দ্বিতীয়বারের মতো পৌরসভায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। এবারও তৃণমূলের এ নির্বাচনে মূল লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে। তবে ভোটের মাঠে ছয় রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থী থাকলেও বেশ কিছু পৌরসভায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীরা। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীকে একযোগে দেশব্যাপী ২৩৪ পৌরসভায় নির্বাচন হলেও এবার চার ধাপে এ নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে ২০ দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছিল। ভোট পড়েছিল ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

প্রথম ধাপে ২৪ পৌরসভায় ৬ লাখ ২৪ হাজার ৮০৭ জন ভোটার জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেবেন। তারা ২৪ জন মেয়র, ৭২ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ২১৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন। এ নির্বাচনে তিন পদে মোট ১১৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে মেয়র পদে ৯৪ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৬৬ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮০১ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

ইসি জানিয়েছে, প্রথম ধাপে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিসহ ছয় দলের মেয়র প্রার্থীরা। পাশাপাশি মেয়র পদে লড়ছেন বেশ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটদানে প্রস্তুত ভোটাররা। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে গত শনিবার মধ্যরাতে ভোটের প্রচার শেষ হয়েছে। প্রচারের শেষ মুহূর্তের কিছু ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কুষ্টিয়ায় নির্বাচনী হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার ধামরাই পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য এই দুই পৌরসভায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। 

ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে। ইসির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। কুষ্টিয়া ও ধামরাইয়ে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো শঙ্কা করছি না। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনে একটু ভিন্ন পরিবেশ থাকেই। আমরা ভালো নির্বাচন আশা করি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে ভোটের দিন যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সব নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গতকাল মধ্যরাত থেকে আজ রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনের গাড়ি এবং হাইওয়েগুলো নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৪ পৌরসভার ৩১৯টি কেন্দ্রে ভোট হবে। এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন পুলিশের ১২৭৬ জন, আনসার ২৮৭১ জন, র‌্যাবের ৭২ টিম ও ৫০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। এ ছাড়া ৭২টি মোবাইল ফোর্স ও ২৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নির্বাচনী কাজে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল শুরু করেছে গত শনিবার থেকেই। চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে ভোটের পরের দিন পর্যন্ত। সঙ্গে রয়েছেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে মাঠপর্যায়ে ২৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

যে ২৪ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ আজ : পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, রংপুরের বদরগঞ্জ, কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রাম সদর, রাজশাহীর পুঠিয়া ও কাটাখালী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, কুষ্টিয়ার খোকসা, চুয়াডাঙ্গার চুয়াডাঙ্গা সদর, খুলনার চালনা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, বরিশালের উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, নেত্রকোনার মদন, মানিকগঞ্জের মানিকগঞ্জ সদর, ঢাকার ধামরাই, সুনামগঞ্জের দিরাই, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের সীতাকু-। গত ২২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। কিন্তু গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার একজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে ওই নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপের সঙ্গে করার সিদ্ধান্ত দেয় ইসি।

দেশে পৌরসভা রয়েছে মোট ৩২৯টি। ইতিমধ্যে তিন ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৬ জানুয়ারি ৬১ পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ধাপের ৬৪ পৌরসভায় ভোট হবে ৩০ জানুয়ারি। চতুর্থ ধাপের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।

জাগপা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা! নেতৃত্বে ফারুকী-শ্যামল-আমু

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ৯:০৮ অপরাহ্ন

জাগপা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা! নেতৃত্বে ফারুকী-শ্যামল-আমু

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা’র ছাত্র সংগঠন “জাগপা ছাত্রলীগের” কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুর রহমান ফারুকী, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র সরকার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মীর আমির হোসেন আমু।

জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেনের সুপারিশে কমিটি অনুমোদন দেন জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। এ সময় জাগপা সভাপতি বলেন, জাগপা ছাত্রলীগের ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকার ইতিহাস। “জাতীয়তাবাদের নতুন দিক – জাগপা ছাত্রলীগ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত জাগপা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

১৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ সভাপতি  – শাহাদাত হোসেন সেলিম, আশফাকুর রহমান মিঠুন, জীবন আহমেদ অভি, মোঃ আল-আমিন ইসলাম শুভ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক – মোঃ নূর-ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আবু জাফর, বাবুল হক, এম.আর আকাশ বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক – আহমাদ শফি, দপ্তর সম্পদক – সাহেদুল ইসলাম সাহেদ এবং সম্মানিত সদস্য – রাশেদ প্রধান।

আগামী ৪ মাস (এপ্রিল ২০২১) এর মধ্যে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেন জাগপা’র দপ্তর সম্পাদক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম রাতুল।

বিশ্বসেরা ১০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার, ১১:২৫ অপরাহ্ন

বিশ্বসেরা ১০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি

কৃষ্ণগহ্বরের নিখুঁত ছবি আঁকলেন তনিমা

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের জয়জয়কার চলছেই। এবার এ তালিকায় যোগ হলো তনিমা তাসনিম অনন্যা। তাঁর জন্ম বাংলাদেশের নরসিংদী জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে তাঁর শৈশব কেটেছে রাজধানী ঢাকায়। মা গৃহিণী। কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বের সেরা ১০ বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি এই তরুণী। তনিমা তাসনিম নামের এই বিস্ময়কর তরুণী বর্তমানে ডার্টমাউথ কলেজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কৃষ্ণগহ্বরগুলো কীভাবে বেড়ে ওঠে এবং পরিবেশে কী প্রভাব রাখে তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এঁকে দেখিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক সায়েন্স নিউজ নামের একটি গণমাধ্যম সম্প্রতি তনিমা তাসনিমের এ সফলতার কথা জানায়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘এসএন টেন : সায়েন্টিস্ট টু ওয়াচ’ নামের একটি তালিকা প্রকাশ করে তারা। যেখানে তাসনিমের কাজকে ‘অসাধারণ গবেষণা’ বলে অভিহিত করা হয়। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো এমন বিজ্ঞানীর তালিকা প্রকাশ করল সায়েন্স নিউজ। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের মাধ্যমে মহাকাশের প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয় তাসনিমের। ওই আগ্রহ থেকেই পরে এ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৯ সালে পিএইচডিও সম্পন্ন করেন তাসনিম। এর আগে নাসা ও সার্নে ইন্টার্নশিপ করেছেন। এ ছাড়া ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু দিন পড়াশোনা করেছেন তিনি। সায়েন্স নিউজ মূলত বিজ্ঞান, ওষুধ ও প্রযুক্তির হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করা নিয়ে কাজ করে। ছয় বছর আগ থেকে তরুণ ও ক্যারিয়ারের মাঝামাঝি থাকা বিজ্ঞানীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এ তালিকায় ৪০ বছর বা তাঁর কম বয়সী বিজ্ঞানীরা স্থান পেয়ে থাকেন। এবার সে তালিকায়ই বাংলাদেশি তনিমা তাসনিম অনন্যা জায়গা করে নিলেন। তনিমা তাসনিম অনন্যার ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে অধিকাংশ সময় কাটত রান্নাঘরে। তখন পাঁচ বছর বয়সী তনিমাকে গল্পের ছলে মঙ্গলগ্রহে মহাকাশযান অবতরণ সম্পর্কে বলেছিলেন তাঁর মা। মায়ের মুখে শোনা গল্পে মহাকাশ নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন অনন্যা। জ্যোতির্বিদ্যায় পড়াশোনার চিন্তা ভর করে তাঁর মাথায়। ঠিক দুই যুগ পর রহস্যে ঘেরা ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের বেড়ে ওঠা এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র এঁকে বাজিমাত করলেন তানিমা। ২৯ বছর বয়সী অনন্যা এখন সম্ভাবনামনায় জ্যোতির্পদার্থবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক সায়েন্স নিউজ তনিমা তাসনিম অনন্যার এ সাফল্যে তালিকার শুরুতেই তাঁকে স্থান দিয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যমটি। যেখানে অনন্যার কাজকে ‘অসাধারণ গবেষণা’ বলে উল্লেখ করা হয়। চলতি বছর এ তালিকায় স্থান পাওয়া প্রত্যেকেই ৪০ বা এর চেয়েও কম বয়সী। তাঁরা প্রত্যেকেই নোবেল বিজয়ীদের দ্বারা মনোনীত হয়েছেন। সায়েন্স নিউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি অনন্যা সবচেয়ে ভারি কৃষ্ণগহ্বর আঁকতে সক্ষম হয়েছেন। সচিত্র গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন, মহাবিশ্বে কোথায় কীভাবে কৃষ্ণগহ্বর বেড়ে উঠছে এবং কীভাবে তারা পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এটি সম্পন্ন করেছেন।

অনন্যা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে আগ্রহের কারণে মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে বাংলাদেশে এ বিষয়ে তেমন পড়াশোনার সুযোগ না থাকায় তিনি বিদেশে যেতে আগ্রহের কথা পরিবারকে জানান। প্রথমে কোনোভাবেই বিদেশে পড়তে যেতে দিতে রাজি ছিল না তাঁর পরিবার। তবে অনন্যার আগ্রহের কাছে হার মেনেছে তাঁর বাবা-মা। ২০০৬ সালে অনন্যার বয়স যখন ১৫ ছুঁই ছুঁই, তখনই ইন্টারন্যাশনাল জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন কোর্স শুরু করেন তিনি। লক্ষ্য ছিল ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে পাড়ি জমানোর।  সে মিশনেও বাজিমাত করে এখন দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন অনন্যা।

মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা: ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দীন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার, ১১:২১ অপরাহ্ন

মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা: ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দীন

ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা বলেও হুশিয়ারি করেন তিনি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার দুপুরে দেবহাটার সখিপুর খানবাহাদুর আহছানউল্লা কলেজ মাঠে আয়োজিত মাদক বিরোধী র‌্যালী ও আট দলীয় লক্ষ টাকার ফুটবল টূর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দীন এসব কথা বলেন।

সখিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার আমজাদ হোসেনের পরিবার আয়োজিত উক্ত ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ঢাকাস্থ ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম মাজহারুল আনোয়ারের পরিচালনায় সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাংসদ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাহউদ্দীন, দেবহাটা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শেখ ইয়াছিন আলী, দেবহাটা উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রব লিটু, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাওন, জেলা পরিষদের সদস্য আল ফেরদাউস আলফাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি খেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল সখিপুর মিতালী সংঘ ও উদয়ণ সংঘ। উদ্বোধনী ম্যাচে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে ইশ্বরীপুর ফুটবল একাদশকে হারিয়ে গোপালগঞ্জ ফ্রেন্ডস ক্লাব জয়লাভ করে।

ওমরাহ পালনে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হননি কেউ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার, ১১:১২ অপরাহ্ন

ওমরাহ পালনে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হননি কেউ

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সৌদি আরবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পবিত্র ওমরাহ পালন। দীর্ঘদিন পর মক্কার দুয়ার মুসলমানদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। এরপর এখন পর্যন্ত ৫০ লাখ ওমরাহ পালনকারী এবং মুসল্লি গ্র্যান্ড মসজিদে ইবাদত করেছেন। 

তবে ওমরাহ ও ইবাদত করতে গিয়ে কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি।  এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম গালফ বিজনেস। সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বেনতেনের বরাতে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে গালফ বিজনেস। 

করোনার বিস্তার রোধে গত মার্চে ওমরাহ স্থগিত করে সৌদি আরব। পরে সেপ্টেম্বরে দেশটি জানায়, তারা ধাপে ধাপে ওমরাহ চালু করবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর থেকে আবারও ওমরাহ চালু করে দেশটি। 

সূত্র: গালফ বিজনেস

অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশ কনস্টেবল আটক

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার, ১১:০৮ অপরাহ্ন

অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশ কনস্টেবল আটক

অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে অস্ত্রসহ (রিভলবার) ধরা পড়েছে এক পুলিশ সদস্য। চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশে এই কসস্টেবলের নাম সৌরভ বড়ুয়া। 

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে থেকে তাকে আটক করা হলেও শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়। আটকের পর কনস্টেবল সৌরভ বড়ুয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন। পরে আসামি পুলিশ সদস্য সৌরভ বড়ুয়াকে আদালতের মাধ্যমে শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল সৌরভ বড়ুয়া পাঁচ দিন আগে থেকে ছুটিতে রয়েছেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ সৌরভ বড়ুয়াকে আটক করে। পরে তার কাছ থেকে একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়। কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সৌরভকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে রাখা হয়। পরে এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, অস্ত্রসহ এক পুলিশ সদস্যকে আটকের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানোর ঘটনায় করা মামলায় সীতাকুণ্ড থানার দুই পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়। তারা হলেন, এসআই সাইফুল ইসলাম ও কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম।  

বড়দিন: শান্তিরাজ মহাপ্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন

বড়দিন: শান্তিরাজ মহাপ্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন

আজ ২৫ ডিসেম্বর, প্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন। শুভ বড়দিন। বিশ্বের শত কোটি মানুষ আজ মহানন্দে যীশুর জন্মতিথি উৎসবটি উদ্যাপন করছে। বাংলাদেশের খ্রীষ্ট ভক্তগণও এ উৎসবমুখর দিনটি অতি আনন্দের সাথে উদ্যাপন করছে।
পবিত্র বাইবেলে পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর মানুষের মুক্তির জন্য বার বার পৃথিবীতে ভাববাদীদের পাঠিয়েছেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে মুক্তি কারও দ্বারা সম্ভব হয়নি। তাই ইশ্বর প্রতিশ্রুতি দেন তার পুত্রকে পাঠাবেন বলে। ফলে মানুষ তার মুক্তিদাতাকে দেখার জন্য বিভিন্নভাবে খুঁজে বেড়াতে থাকে। এই ত্রাণকর্তা মুক্তিদাতার আগমন প্রতীক্ষায় বহু বছর ধরে প্রবক্তাগণ ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন ভাবী ত্রাণকর্তা যে একজন কুমারীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করবেন। সে সম্বন্ধে প্রবক্তা ইসাইয়া বলেছিলেন, ‘কোন একটি যুবতী (কুমারী) এখন সন্তান সম্ভাব্য। সে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিবে। সে তার নাম রাখবে ইম্মানুয়েল অর্থাৎ আমাদের সহিত ঈশ্বর।’ (ইসাইয় ৭; ১৪ পদ) ভাবী ত্রাণকর্তা সম্বন্ধে ইসাইয়া আরো বলেছিলেন তার নাম: অনন্য মন্ত্রণাদাতা, শক্তিমান ঈশ্বর, শাশ্বত পিতা, শান্তিরাজ। (ইসাইয়া ৯;৬ পদ)
আজ থেকে প্রায় দুই হাজার ২০ বছর পূর্বে প্যালেস্টাইন দেশের এক মফ:স্বল শহর বেথলেহেমের পান্থশালায় স্থান না পেয়ে যোসেফ তার অন্ত:স্বত্ত্বা স্ত্রী মারিয়াকে নিয়ে এক গোয়াল ঘরে আশ্রয় নেয়। এই গোয়ার ঘরেই কুমারী মারিয়ার গর্ভে জন্ম নিলেণ এক নবজাতক। তিনি হলেন ত্রাণকর্তা, কালজয়ী যীশুখ্রীষ্ট।
তখন স্বর্গের এক দূত এই সংবাদ দিয়ে রাখালদের বললেন, আমি এক মহা আনন্দের সংবাদ তোমাদের জানাতে এসেছি। আর এই আনন্দে সমগ্র জাতির মানুষ আনন্দিত হবে। আজ দায়ুদ নগরীতে তোমাদের ত্রাণকর্তা জন্মেছেন। তিনিই সে খ্রীষ্ট, স্বয়ং প্রভু (লুক ২; ১০, ২১ পদ)। পবিত্র বাইবেল অনুসারে এই তো বড়দিনের আসল ঘটনা। আমরা খ্রীষ্ট বিশ্বাসীগণ প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর মানব মুক্তিদাতা যীশুখ্রীষ্ট্রের জন্মেৎসব বা বড়দিন উৎসব পালন করে থাকি। মানুষের প্রতি ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠতম অবদানের, মানুষের প্রতি ঈশ্বরের প্রগাঢ় ভালবাসার অনন্য এবং অনবদ্য স্বাক্ষর, পৃথবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা, মানুষের আনন্দের সর্বোৎকৃষ্ট উপলক্ষ এই বড়দি। খ্রীষ্ট বিশ্বাসী রূপে আমরা জানি ও বিশ্বাস করি প্রভু যীশুখ্রীষ্ট হলেন মানুষের জন্য ঈশ্বরের অঙ্গীকৃত মুক্তিদাতা। যীশুখ্রীষ্টের জন্ম গোটা মানব জাতির ইতিহাসকে দু’ভাগ করে দিয়েছে। খ্রীষ্টপূর্ব ও খ্রীষ্টাব্দ অর্থাৎ যীশুখ্রীষ্ট জন্মের পূর্বে ও পরের ইতিহাস। যারা খ্রীষ্ট বিশ্বাসী নন তারাও মানব ইতিহাসের এই বিভাগকে মেনে নিয়েছেন। এখানেই খ্রীষ্ট জন্মেরক গুরুত্ব ও বিশেষত্ব। যীশুর জন্মের আগে ঈশ্বর, স্বর্গ, নরক, বিচার, মুক্তি ইত্যাদি সম্বন্ধে মানুষের ধারণা ছিল অস্পষ্ট ও জটিল। যীশু জন্মগ্রহণ করে মানুষের নতুন ধারণা দিলেন যে, তিনি প্রেমময়, ক্ষমাশীল ও দয়ালু পিতা। মুক্তিলাভ বা স্বর্গে প্রবেশাধিকার অসাধ্য কোন ব্যাপার নয়। এ জন্য প্রয়োজন পাপ থেকে মন ফিরানো এবং ঈশ্বর ও মানুষকে ভালবাসা। যীশুর জন্মের ফলে মুক্তির দ্বার উন্মুক্ত সকল মানুষের কাছে। যীশু সার্বজনীন মুক্তিদাতা, যারা তার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাঁর শিক্ষা মেনে চলে তিনি তাদের সবার জন্য।
মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খ্রীষ্টের জন্মের মূল অর্থ হচ্ছে যারা অসহায়, বিচলিত, যারা বেদনার্ত তাদের প্রতি প্রেম, প্রীতি ও ভালবাসা প্রকাশের এবং যারা পরিশ্রান্ত ও অন্ধকারে আছে তাদেরকে আলোর পথে আনার উদ্দেশ্যই খ্রীষ্টের আবির্ভাব। প্রভু যীশুখ্রীষ্টের প্রধান আদেশ হল প্রতিবেশিকে আপনার মতো প্রেম কর। তিনি এসেছিলেন প্রেম প্রদর্শন করতে। বিশ্রাম বারে ধর্মীয় নীতি ছিল সব কাজ থেকে বিরত থাকা, এমনকি অসুস্থকে সুস্থতা প্রদান আইনে দন্ডনীয় ছিল কিন্তু সেখানেও খ্রীষ্ট অসুস্থকে সুস্থতা প্রদান করে দেখিয়ে ছিলেন যে, নিয়মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য নিয়ম। তেমনিভাবে ধর্মীয় গোঁড়ামিতে ধর্মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য ধর্ম। যীশুখ্রীষ্ট চান প্রত্যেকে যেন ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রেখে খ্রীষ্টের মত মানুষ সেবায় জীবন বিলিয়ে দেয়।
যে প্রয়োজনে প্রভু যীশু এ পৃথিবীতে জন্ম নিলেন ও মানবীয় জীবন যাপন করলেন তাহল আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করে শাশ্বত জীবন দান করা। বড়দিনের মাহাত্মা, সার্থকতা ও সাফল্য এখানেই। খ্রীষ্ট চলার পথে অনেক উপদেশ দিয়েছেন। তোমরা আপনার জ্ঞানে বুদ্ধিমান হইও না। মন্দের প্রতিরোধে কাহারও মন্দ করিও না। সকল মানুষের দৃষ্টিতে যাহা উত্তম, ভাবিয়া চিন্তিয়া তাহাই কর। যদি সাধ্য হয়, তোমাদের যতদূর হাত থাকে মনুষ্য মাত্রের সহিত শান্তিতে থাক। এই জন্ম উৎসবের অন্তরালে একটি বিষয় হচ্ছে খ্রীষ্ট রাজাধিরাজ হয়েও দীনবেশে পৃথিবীতে নেমে এলেন। মানবীয় দূরদর্শিতায় ও পৃথিবীর বন্ধনে নিজেকে বাঁধলেন। খ্রীষ্ট ছিলেন জগতের জ্যোতি ও সত্যের আলো। খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য নিজেকে নত করলেন। তিনি নিজেকে মানবের সেবায় বিলিয়ে দেবার জন্য মাটির জীবন বেছে নিলেন।
আসলে এ দিনটি যে বড়দিনতার কারণ হল এ দিনে এমন ঘটনা ঘটেছিল যা সত্যিকার অর্থে পৃথিবীতে ছিল বড় ও বিস্ময়কর ঘটনা। এ ঘটনাটি পৃথিবীতে একবারই ঘটেছিল। আর কোন দিন ঘটেনি, আর ঘটবেও না। এই ঘটনাটি হল: ঈশ্বর আকারে প্রকারে মনুষ্যবৎ হলেন। তিনি মাংসে মূর্তিমান হলেন। পৃথিবীতে তিনি মনুষ্যদের মধ্যে বাস করিলেন। আর এটাই হল বড়দিন উৎসবের তাৎপর্য।
পরিশেষে বড়দিনের শুভেচ্ছা প্রত্যেকের কাছে, কিন্তু প্রশ্ন হল, বড়দিনের সার্থকতা কোথায়? যদি না ঈশ্বরীয় প্রেম, শান্তি ও সুখের স্পর্শ আমাদের হৃদয়ে না থাকে। তাই আসুন, যথাযথ মর্যাদায় প্রভু যীশুর এই জন্ম উৎসবকে পালন করি এবং ঈশ্বরীয় প্রেমে আবদ্ধ হয়ে একে অপরের প্রতি সহনশীল হই। বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করি। আজ এ বড়দিনে, শান্তির রাজপুত্রের জন্মদিনে, অশান্তির কালো ছায়া দূর করি। খ্রীষ্টের শান্তি আলো ছায়ায় অর্জন করি প্রেম, আনন্দ, মৃদুতা, আত্মসংযম। তবেই আমাদের বড়দিন হবে সার্থক, সুন্দর এবং শ্রেষ্ঠ বড়দিন।

সাতক্ষীরা সদরের গোদাঘাটায় দুটি তাজা বোমা উদ্ধার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২০ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার, ৯:২৯ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরা  সদরের গোদাঘাটায়   দুটি তাজা বোমা উদ্ধার

 সাতক্ষীরা  সদরের গোদাঘাটায় দুটি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।গতকাল ভোরে ৫নং শিবপুর ইউনিয়নের আবাদেরহাট টু পরানদাহ সড়কের চোরাই ডাংগি নামক স্থানে বোমা দুটি পাওয়া যায়

জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে উচ্ছুক জনতা ভীড় জামায়।জানতে পেরে এসআই হাজ্জাজ ও লালচাঁদ  এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পোঁছায়।দুর্ঘটনা এড়াতে  পুলিশ বোমা পড়ে থাকা স্থানটি ঘিরে রাখে। পরে সদর থানার ওসি মোঃ আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে যেয়ে বোমা দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

গতকাল ভোরে স্থানীয় মানুষ বোমা দুটি দেখতে পায়।স্থানীয় চৌকিদার আব্দুল লতিফ জেনে সদর থানায় জানালে পুলিশ বোমা দুটি উদ্ধার করে।

৫ নাম্বার  শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মজিদ জানান, ঘটনাস্থলে যেয়ে আমি বোমা দুটি দেখেছি। তবে,গত ১৭ ই ডিসেম্বর একই স্থানে গোদাঘাটা গ্রামের ইউনুস হোসেন ছোটন নামে এক কলেজ ছাত্র একটি তাজা বোমা পেয়ে কৌতূহলবশত দেখতে যেয়ে বিস্ফোরিত হয়ে তার বাম হাতের কব্জি উড়ে যায়। বর্তমানে সে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।ওই ঘটনায় একটি মামলাও  হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান,গত ১৭ই ডিসেম্বর একই স্থানে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। ওই ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়। গতকাল একই স্থান থেকে আরও দুটি বোমা উদ্ধার করে থানায় এনে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে।বোমা দুটি তাজা বলে মনে করা হচ্ছে।  তবে এখনো নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য,২০০৪ সাল থেকে গোদাঘাটা ও জগন্নাথপুর মধ্যবর্তী সড়কটিতে কয়েকটি ছিনতাই,ডাকাতির ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই সড়কটি দীর্ঘ দিন অবৈধ ভারতীয় পণ্য কারবারিদের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। গতকাল দুটি বোমা উদ্ধার ও ১৭ই ডিসেম্বর একটি বোমা  বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ভীতসন্ত্রস্ত করেছে।স্থানীয়দের  দাবী, প্রায়শই এলাকায় অপরিচিত লোকের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।প্রণের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না।এলাকাবাসী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী বাড়ানোর জোর দাবী জানান।

পাচার টাকায় বিদেশে কাদের বাড়ি পরিচয় জানতে চায় হাই কোর্ট

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১০:২৭ অপরাহ্ন

পাচার টাকায় বিদেশে কাদের বাড়ি পরিচয় জানতে চায় হাই কোর্ট

কানাডার কথিত বেগমপাড়াসহ বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা তালিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাই কোর্ট। পরে নতুন করে তালিকা দিতে দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ফের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এ সময় দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলে, পুরাতন কাহিনি বলে লাভ নেই। আমাদের আদেশের পর কী করেছেন তা দেখতে চাই। তার একটা ফিরিস্তি দেন। যারা অবৈধভাবে দেশের টাকা পাচার করে বিদেশে গাড়ি-বাড়ি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন সেটি জানতে চাই। নতুন কী করেছেন সেটা বলেন।আদালত আরও বলে, যেসব সংস্থা আছে, তারা যদি সরকারকে সহায়তা করে তাহলে কেন অর্থ পাচারকারীদের নাম-ঠিকানা জানা যাবে না?  কোর্টের কাজ হলো সরকার ও জনগণকে সহযোগিতা করা। আদালত বলে, আমরা দেশ ও দেশের মানুষকে সহযোগিতা করতে চাই। অর্থ পাচার নিয়ে গণমাধ্যমে যে রিপোর্ট হয়েছে তা অশনিসংকেত বলেও উল্লেখ করে হাই কোর্ট। গত ১৮ নভেম্বর বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বক্তব্যের সূত্র ধরে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ নভেম্বর হাই কোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চায়। তারই আলোকে গতকাল হাই কোর্টে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লিখিত তালিকায় সন্তুষ্ট না হয়ে ফের নতুন করে তালিকা দিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয় আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছে। তারা বলেছে, বিদেশি মিশনগুলোর কাছ থেকে নির্দেশনা পেলে অর্থ পাচারের প্রতিবেদন জমা  দেবে। তিনি বলেন, ‘বিএফআইইউ জানিয়েছে বাইরের দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটগুলোর সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে। এ চুক্তির কারণে তারা অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ করতে পারবে না। তথ্য  চেয়ে বিএফআইইউয়ের অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জুতার দাম ১ কোটি ৬ লাখ টাকা!

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ৯:৫৩ অপরাহ্ন

জুতার দাম ১ কোটি ৬ লাখ টাকা!

নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত সোথেবি’স হাউজের নিলামে এক জোড়া বর্ণিল অ্যাডিডাস স্নিকার্সের মূল্য উঠেছে এক লাখ ২৬ হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এক কোটি ৬ লাখ ৬৮ হাজার। তবে এই জুতা জোড়া যিনি কিনেছেন তিনি পরিচয় গোপন রেখেছেন। আর ওই অর্থ দান করা হবে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন জাদুঘরে।  

বিশ্ব রেকর্ড করা দামের এই জুতা চামড়ার তৈরি। জুতা জোড়ার ওপর মাইসেন চীনামাটি দিয়ে হাতে আঁকা সুন্দর ডিজাইন। উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো এই জুতা জোড়ায় যে নিখুঁত ডিজাইন আঁকা হয়েছে, তা সম্পন্ন করতে কারখানার কর্মীদের এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। তুলির আঁচড় দিতে লেগেছে আরও ৬ মাস।বিশ্ব খ্যাত নিলাম হাউজ সোথেবির মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েনে দেজিসি গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন।  

সাতক্ষীরায় সীমিত পরিসরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ১১:৪২ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় সীমিত পরিসরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় মহামারি করোনা পরিস্থিতিতেও সাতক্ষীরায় সীমিত পরিসরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বুধবার প্রত্যুষে ৩১ বার তোপরধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়।
এরপর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টায় শহরের খুলনা রোড মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে সার্কিট হাউজ চত্বরে গার্ড অব অনার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার সরবরাহসহ অনলাইনের মাধ্যমে নানা কর্মসূচির আয়োাজন করা হয়েছে।
এদিকে,মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্রে থেকে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক শহীদ নাজমুল সরণী অতিক্রম করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক এর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করে এবং শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
শোভাযাত্রা উপস্থিত ছিলেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন মশু, সাবেক উপজেলা ইউনিট কমান্ডার হাসানুল ইসলাম, বদরুল ইসলাম খান, বিএম আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ জালালউদ্দীন, আবু মূসা, জিল্লুর করিম, রফিকুজ্জামান খোকন, মাহবুব, মিজানুর রহমান খোকন, এড, মোস্তফা নুরুল আলম, শেখ তবিবুর রহমান শান্ত প্রমুখ।

দুর্বৃত্তদের লুকিয়ে রাখা বোমার আঘাতে হাতের কব্জি উড়ে গেল কলেজছাত্রের

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ১১:০১ অপরাহ্ন

দুর্বৃত্তদের লুকিয়ে রাখা বোমার আঘাতে হাতের কব্জি উড়ে গেল কলেজছাত্রের

নিজস্ব প্রতিনিধি : দুর্বৃত্তদের লুকিয়ে রাখা বোমার আঘাতে ইউনুস হোসেন ছোটন (২২) নামে এক কলেজছাত্রের হাতের কব্জি উড়ে  গিয়েছে। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গদাঘাটা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে।  গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে গদাঘাটা চোরাডাঙ্গীতে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত অবস্থায় ছোটনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছোটন ঝাউডাঙ্গা কলেজের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র।

প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা যায়, ছোটন গতকাল সকাল থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলিতে করে খেঁজুর গাছের ডালের আটি (স্থানীয় ভাষায় ঝোড়) বহন করছিল। খেজুর গাছের ডালের ঝোড়ের  ভিতর লাল টেপ পেঁচানো একটি গোলাকার বস্তু দেখতে পায়। কৌতুহলবশত সেটা খুলে দেখতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত  হয়। এসময় তার বাঁ হাতের কব্জির মাংসপেশি  উড়ে ছিন্নভিন্ন  হয়ে যায়।আহত অবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

৫ নং শিবপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মজিদ জানান,ছোটন খুবই ভদ্র এবং মেধাবী ছাত্র। সবার সাথে সদাচরণ করে। সংসারে তার বাবার কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে। ওইদিনও তার বাবার কাজে সহযোগিতা করতে যায়।টেপ মোড়ানো বোমা সাদৃশ্য একটি লাল বস্তু দেখে কৌতূহলবশত খুলতে যায়। এ সময় বিকট শব্দে ফেটে যায়। এ সময় তার বাঁ হাতের কব্জি উড়ে যায়।

উল্লেখ্য,গদাঘাটা ও জগন্নাথপুর মধ্যবর্তী সড়কটিতে সাম্প্রতি কয়েকটি ছিনতাই,ডাকাতির ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই সড়কটি দীর্ঘ দিন অবৈধ ভারতীয় পণ্য কারবারিদের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। গতকাল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ভীতসন্ত্রস্ত করেছে।স্থানীয়দের  দাবী, প্রায়শই এলাকায় অপরিচিত লোকের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।প্রণের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না।এলাকাবাসী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী বাড়ানোর জোর দাবী জানান।

মহান বিজয় দিবস ও সেবা সংসদের ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ৫:২৫ অপরাহ্ন

মহান বিজয় দিবস ও সেবা সংসদের ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান বিজয় দিবস ও সেচ্ছাসেবি সংগঠন “সেবা সংসদ ”এর ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।কর্মসূচির মধ্যে গতকাল বেলা সাড়ে ১১ টায় সদর উপজেলার বাবুলিয়া বাজারে ২৯৭ জনকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়।এ সময় বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজনীতা সম্পর্কে সম্মূখ ধারণা দেওয়া হয়।বেলা ১২টায় ফ্রি বøাড গ্রæপিং ক্যাম্প করা হয়। এ সময় সহকারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফিরোজা খানম ১৫৭ জনকে বড গ্রæপিং করে কার্ড প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সেবা সংসদের সভাপতি মো: কাওছার আলী,সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো: রজব আলী,সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মহিবুল্লাহ,আরো উপস্থিত ছিলেন ডা: ইসরাইল হোসেন,মাস্টার রমেশ চন্দ্র ঘোষ,আগরদাঁড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শামছুর রহমান, মাস্টার জুলফিক্কার আলী ভ‚ট্ট,সাংবাদিক মিনাল,ডা: শাহিনুজ্জামান,শাহিনুর রহমান,রায়হান হোসেন,শামীম হোসেন প্রমূখ।

বদিকে পিতা দাবি ২৬ বছরের যুবকের

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

বদিকে পিতা দাবি ২৬ বছরের যুবকের

উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। এর কারণ, রবিবার তাকে পিতা দাবি করে আদালতে আবেদন করেছেন মোহাম্মদ ইসহাক (২৬) নামের এক যুবক। টেকনাফের সহকারী জজ আদালত যুবকের অভিযোগ আমলে নিয়ে আবদুর রহমান বদির নামে সমন জারি করেছে। ইসহাক তার পিতৃ পরিচয় নিশ্চিতের জন্য আদালতকে প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করারও আবেদন জানান। বিষয়টি জানাজারি হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, ইসহাকের মায়ের নাম সুফিয়া খাতুন। ১৯৯২ সালে ৫ এপ্রিল তার মাকে বিয়ে করেন আবদুর রহমান বদি। বিয়ে পড়ান মৌলভি আবদুস সালাম; ইনি সে সময় বদিদের পারিবারিক আবাসিক হোটেল নিরিবিলিতে চাকরি করতেন। বিয়ের সাক্ষী ছিলেন হোটেলের দারোয়ান এখলাছ। ইসহাক তার মায়ের কাছেই শোনেন, তার বাবা আবদুর রহমান বদি। মায়ের হাত ধরে বহুবার তিনি বাবার কাছে গিয়েছেন। বাদী ইসহাক আরও বলেন, দেখা করার সময় আবদুর রহমান বদি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দোয়া করেন। লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আবদুর রহমান বদি তার রাজনৈতিক শত্রু ও সামাজিক অবস্থানসহ নানা সমীকরণ দেখিয়ে মায়ের কাছে সময় নেন। মা-ও স্বামীর (আবদুর রহমান বদি) কথার অবাধ্য হননি। তাই তার মা সুফিয়া খাতুন এতদিন চুপ ছিলেন। ইসহাক জানান, তার বয়স বাড়ার কারণে পুত্র হিসেবে পিতার স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। বিষয়টি নিয়ে মা-ছেলে আবদুর রহমান বদির ছোটবোন শামসুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা ঘরোয়াভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। আবদুর রহমান বদি কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ইসহাক বলেন, বাবা এখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই অনন্যোপায় হয়ে পিতৃত্বের দাবিতে আদালতের আশ্রয় নিলাম।

বিয়েতে আসা হবে না, ৭০০ জনের খাবার হোম ডেলিভারি করলেন বরের বাবা!

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

বিয়েতে আসা হবে না, ৭০০ জনের খাবার হোম ডেলিভারি করলেন বরের বাবা!

বিয়েবাড়ি মানেই খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অনেকেই বিয়ে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ আবার আমন্ত্রিতদের তালিকায় কাটছাঁটও করেছেন। কিন্তু শুনেছেন কি ছেলের বিয়ের জন্য ৭০০ জন আমন্ত্রিতের বাড়িতে হোম ডেলিভারির মাধ্যমেই বিয়ের খাবার পাঠিয়েছেন কেউ?‌‌ 

শুনতে অবাক লাগলেও এমনই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ভারতের চেন্নাইয়ের এক ব্যক্তি। ‘‌শাদি কা খানা’-হ্যাঁ, আক্ষরিক অর্থেই এটাকে তাই বলা যায়। জানা গেছে, করোনার কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে বিয়ের আয়োজন করতে গেলে অনেককেই বলা হত না। কারণ বিয়ে বাড়ি থেকেও ছড়াতে পারে  করোনাভাইরাস। এদিকে, ছেলের বিয়ে বলে কথা। ধুমধাম করে আয়োজন করতেই হবে। তাই চেন্নাইয়ের ওই ব্যক্তি‌ অভিনব এই উপায় বের করলেন। যেখানে ৭০০ জন অতিথির বাড়িতেই পৌঁছে যাবে বিয়ের কার্ড এবং খাবার-যা কিনা অনুষ্ঠানের দিন পরিবেশন করা হত।

আরাসুভাই আরাসু ক্যাটারার নামে একটি ক্যাটারিং সংস্থা ১২ রকমের পদ রান্না করে। যাতে ছিল সাম্বার, রসম, পুলি সাধামসহ আরও অনেক কিছু। তারপর সুদৃশ্য ব্যাগ এবং টিফিনবক্সে ওই খাবার ভরা হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় কলপাতা। এরপর বরেরই এক বন্ধু লজিস্টিকস সংস্থা উনানু টেকনোলজিসের সাহায্যে ৭০০ জন অতিথির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় ওই খাবার। সঙ্গে একটি নিমন্ত্রণ পত্র। যাতে লেখা নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করে সবাই যেন ওই খাবার গ্রহণ করেন।

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর সামনে আসতেই এই কাজের প্রশংসা করেছেন অনেক নেটিজেন। অনেকেই বিষয়টিতে অভিনবত্ব খুঁজে পেয়েছেন।কেউ কেউ আবার মজাও করছেন। 

বিডি-প্রতিদিন

ভোমরা স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রমের উদ্বোধন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:২৯ অপরাহ্ন

ভোমরা স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রমের উদ্বোধন

ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং ভোমরা স্থলবন্দর সাতক্ষীরার আয়োজনে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ভোমরা স্থলবন্দর প্রশাসনিক ভবন চত্ত্বরে উক্ত কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন,অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ’র চেয়ারম্যান কে.এম তারিকুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বদিউজ্জামান, বিজিবি ৩৩ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ’র চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব কবির খান, ভোমরা শুল্কষ্টেশনের সহকারি কমিশনার আমীর মাহমুদ, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভোমরা স্থলবন্দর উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম।
ভোমরা স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রমের প্রথম দিনে সুন্দরবন ব্লাড ডোনেশন সোসাইটির সেচ্ছাসেবী দল প্রায় ২০০ জন শ্রমিকের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি রবি বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর বন্দরের শ্রমিকরাই বন্দরের প্রাণ। বন্দরের ভাল মন্দসহ সকল বিষয়ে শ্রমিকদের সহযোগিতা থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভোমরা স্থলবন্দরের সকল সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এ সময় ভোমরা বন্দরের উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

কৃষকের ছেলের বিমান উড়ছে আকাশে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৩ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার, ৯:৩৬ অপরাহ্ন

কৃষকের ছেলের বিমান উড়ছে আকাশে

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের ছেলের বিমান উড়ছে আকাশে। তার এই আবিষ্কার এলাকায় সৃষ্টি করেছে চাঞ্চল্য। রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান সালাউদ্দিনের স্বপ্ন পাইলট হওয়া। তার তৈরি বিমান পাঁচ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ রেখায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ফুট উচ্চতায় এবং ১০০ কিলোমিটার গতিতে ২০ মিনিট উড্ডয়ন করতে পারে। জানা গেছে, সালাউদ্দিন গ্রামের কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে দূরপাল্লার চালকবিহীন বিমান তৈরির কাজ শুরু করেন। চার বছরের চেষ্টায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বিমান উড্ডয়নে সক্ষম হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে অধ্যয়ন করলেও দৃষ্টিটা ছিল বিজ্ঞানের দিকে। বন্ধুদের নিয়ে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বশেমুরবিপ্রবি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) বিজ্ঞান ক্লাব। শুরু করেন ড্রোন বানানোর কাজ। পরে বাঁশ, কাঠ, ককশিট, ফোমশিট ব্যবহার করে ছোট আকারের ড্রোন তৈরিতে সফল হন। যার ওজন এক কেজি। পরীক্ষামূলক এই বিমানটি পাঁচ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ রেখার ভিতরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ফুট উচ্চতায় এবং ১০০ কিলোমিটার গতিতে ২০ মিনিট উড্ডয়ন করতে পারে। বিমান উড্ডয়ন দেখতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে এবং ঠাকুরগাঁও জেলা মাঠে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সালাউদ্দিনের তৈরি করা বিমান আকাশে উড়ছে দেখে আমরা মুগ্ধ। সালাউদ্দিন বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিজ্ঞান প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তার উদ্ভাবন অসাধারণ। সে চেষ্টা করে সফল হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব তার পাশে থেকে সহযোগিতা করার।

সরকারের দ্বিমুখী আচরণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হুমকিগ্রস্ত করেছে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১১:৫১ অপরাহ্ন

সরকারের দ্বিমুখী আচরণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হুমকিগ্রস্ত করেছে

সরকারের দ্বিমুখী আচরণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হুমকিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান। তিনি বলেন, ভাস্কর্য-বিরোধিতার আড়ালে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করতে চায়, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

জনগণকে সব  ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ শক্তিকে প্রতিরোধ ও পরাজিত করার লড়াই এবং ভাত-ভোট ও গণতন্ত্রের লড়াই জোরদার করতে দেশপ্রেমিক, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সিপিবি সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান। প্রবীণ এই কমিউনিস্ট নেতা বলেন, ক্ষমতায় এসে এই সরকার উগ্র-সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী শক্তিকে কিছুটা দমন করতে পেরেছিল। তারপরও মাথাচাড়া দিচ্ছে মৌলবাদী অপশক্তি। জনগণ এই অপশক্তিকে কখনই গ্রহণ করেনি। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা পাকিস্তান আমলেও জয়ী হয়েছি, এখনো জয়ী হব। ধর্মান্ধ মৌলবাদী অপশক্তিকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করতে জনগণকেই রাজপথে নামতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এই অপশক্তির ভাস্কর্যবিরোধী অবস্থান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করব। একাত্তরের এই গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আওয়ামী লীগ ভোটারবিহীন নির্বাচন করে বোকামি করেছে। সাধারণভাবে নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ জয়ী হতো। এর বিরুদ্ধে বিএনপি যে সন্ত্রাসের পথ বেঁছে নিয়েছে, তা মানুষ গ্রহণ করেনি। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দেশের বামপন্থিদের কিছুটা সাফল্য থাকলেও, জনগণকে একত্রিত করতে পারছে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আওয়ামী লীগের বিকল্প হতে পারে বাম-গণতান্ত্রিক শক্তি। মনজুরুল আহসান খান মনে করেন, দুর্নীতি আর লুটপাটে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেছে। তবে এখনো তাদের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় যায়নি। যদিও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। এটা ফিরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু এর সুবিধা যাতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি না পায় সে দিকেও নজর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এখন ডিসেম্বর মাস, বাঙালির বিজয়ের মাস। ২০২০ সাল মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির বছর। ৩০ লাখ মানুষের আত্মাহুতি ও দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশ হানাদার মুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের মূল নীতি হিসেবে ঘোষিত হয়। কিন্তু গণ মানুষের সেই বিজয় ছিনতাই হয়ে যায়। কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক এই সভাপতি বলেন, ১৯৭৫ এর নির্মম রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরাজিত পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ধারা পুনরায় পুনর্বাসিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ একই ধারায় দেশ পরিচালনা করছে। দেশে ধন বৈষম্য, শ্রেণি বৈষম্য পর্বত প্রমাণ। ২২ পরিবারের জায়গায় হাজার হাজার কোটিপতির জন্ম হয়েছে। খুন, দুর্নীতি, মাদক, ধর্ষণ ও সন্ত্রাস মহামারী রূপ নিয়েছে। বেকার, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা সীমাহীন। মানুষের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও খাদ্যের নিরাপত্তা নাই। ভোট ও গণতন্ত্র নির্বাসনে। এর মধ্যেই সাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ধর্মান্ধ শক্তির হুমকি ও আস্ফালন অব্যাহত আছে। তাদের সঙ্গে সরকারের আপস ও তোষণ নীতির কারণে এদের সাহস ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিড়ালের বাচ্চা নিয়ে দুই শিশুর ঝগড়ায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

বিড়ালের বাচ্চা নিয়ে দুই শিশুর ঝগড়ায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের

পটুয়াখালীতে একটি বিড়ালের বাচ্চা নিয়ে দুই শিশুর ঝগড়ার জের ধরে তাদের অভিভাবকদের সংঘর্ষে আহত এক বৃদ্ধ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে আলতাফ খান (৬০) নামে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। আলতাফ খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার হাজিখালী গ্রামের মৃত হরমুজ খানের ছেলে। তার স্বজনরা জানান, আলতাফ খানের ভাইয়ের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ঘরে গত সোমবার প্রতিবেশী এক পরিবারের একটি বিড়ালের বাচ্চা আসে। ওই বাচ্চাটি প্রথমে মরিয়মের সাত বছর বয়সের শিশুপুত্র তার কাছে রাখতে চায়। আবার আলতাফের ৮ বছর বয়সী ছেলেও বিড়ালের বাচ্চাটি তাদের ঘরে নিয়ে যেতে চায়। এ নিয়ে দুই শিশুর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আলতাফ খানের শিশুপুত্র মরিয়মের শিশুপুত্রকে থাপ্পর মারে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মরিয়মও আলতাফ খানের ছেলেকে মারধর করে। 

এ নিয়ে পরদিন মঙ্গলবার সকালে মরিয়ম ও আলতাফ খানের মধ্যে ঝগড়া এবং এক পর্যায়ে মারামারি হয়। এ সময় মরিয়ম মাটিকাটা কোদাল দিয়ে আলতাফের মাথায় আঘাত করে। এতে রক্তাক্ত জখম হয় আলতাফ। আলতাফ সম্পর্কে মরিয়মের ভাসুর। হামলায় গুরুতর আহত আলতাফকে প্রথমে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন বিকেলে তাকে ভর্তি করা হয় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে আলতাফ খান মারা যান। 

শুক্রবার দুপুরে হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন মেডিকেলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি আক্তার মোর্শেদ জানান, ঘটনা জানার পর তিনি নিহত আলতাফের বাড়িতে গিয়েছিলেন। মরিয়ম বেগম আত্মগোপন করেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন ওসি। 

ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার সংগঠনের উত্থান: বিপাকে পেশাদার সাংবাদিক

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার সংগঠনের উত্থান: বিপাকে পেশাদার সাংবাদিক

ভূয়া মানবাধিকার কর্মি আর ভূয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে চরমে পৌঁছেছে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায়। সাংবাদিক পরিচয়ে এরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, দোকানপাট দখল, থানায় দালালী, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়ছে।

ভুয়া সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ পেতে এবং কথিত মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য-সমর্থকরা নিজেদেরকে ’মানবাধিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিরীহ লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দামি বেশভূষা, হাতে ক্যামেরা, বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার, কোমরে/গলায় কিংবা পকেটে ঝোলানো যেনতেন পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচয়পত্র, দেখে বোঝার উপায় নেই এরা প্রতারক বা চাঁদাবাজ। এরা সরাসরি প্রবেশ করছে সরকারি দপ্তরে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে পড়ছে। থানায় যাচ্ছে, দালালি করছে। ব্যবসায়ী মহলকে বিপাকে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

কিছু ভুঁইফোড় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের মালিক ও সম্পাদক নামধারী সুবিধাভোগীদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে এসকল নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের পরিচয় পত্র (সাংবাদিক কার্ড) বাগিয়ে নিয়ে চষে বেড়াচ্ছে যত্রতত্র। এতে করে পেশাদার সাংবাদিকরা আজ নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন। ভূয়া সাংবাদিকদের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে খোদ পুলিশেরও অনেকটা ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে।
কারণ, পুলিশের সঙ্গেই ওইসব ভূয়া ও নামধারী সাংবাদিকদের বেশি সখ্যতা দেখা যায়। এরা প্রায়ই থানার ভিতরে দারোগাদের সাথে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডাবাজিতে মত্ত থাকেন। দালাল হিসেবে ঘুষ বাণিজ্যে সরাসরি এরা সহায়তা করে, পুলিশের ’সোর্স’ হিসেবেও তারা বিশ্বস্ত। ফলে অলিতে গলিতে গজিয়ে উঠেছে নাম সর্বস্ব ভূয়া মানবাধিকার সংগঠন। যার মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি তালা উপজেলায় ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’ নামের একটি সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন গড়ে উঠেছে। এদের সংগঠনে আনুপাতিক হারে পেশাদার সাংবাদিক না থাকলেও তারাই এখন তালা উপজেলায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের নূন্যতম শিক্ষাগত জ্ঞানও নেই, তাদের হাতে মাত্র এক হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হচ্ছে মানবাধিকার কর্মীর আইডি কার্ড। এরা আবার তথাকথিত কেন্দ্রীয় কমিটি হতে ৫হাজার টাকা নিয়ে থানা কমিটি এবং ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলা কমিটি গঠনের অনুমোদনও নিয়ে আসছে। মানবাধিকার নামক সংস্থায় কাজ করে মুরগী আর পান ব্যবসায়ী, মোটরসাইকেল ড্রাইভার, চা বিক্রেতাও নামের আগে পিছে বসাচ্ছে ‘সাংবাদিক’। নিজের নাম লিখতে কলম ভাঙে, যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডিও পার হয়নি। সাংবাদিক বলতে গেলে উচ্চারণ করে বসে ‘সামবাদিক’, নিজের সংগঠনটির নাম পর্যন্ত বলতে পারে না-তারাই রাতারাতি মানবাধিকার-সাংবাদিক সংগঠনের নেতা বনে গেছেন। তাদের ভাবসাব দেখলে মনে হবে তারা যেন কোন বিশ্ব বিদ্যালয়ের জার্নালিজিয়ামের উপর ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। ‘ভুয়া সাংবাদিকদের প্রতারণার জাল’ কোন এক ছড়াকার টিটকারির সুরেই ছন্দ মিলিয়ে লিখেছেন-‘হঠাৎ করে এলো যে এক সাংবাদিক, কথায় কথায় তোলে ছবি ভাবখানা তার সাংঘাতিক। তিলকে সে বানায় তাল-তালকে আবার তিল, চড়–ইকে সে পেঁচা বানায় কাককে বানায় চিল।’

এরা সাংবাদিকদের মতো বেশভুষায় সেজেগুজে অলিগলিসহ হাট-বাজার চষে বেড়াচ্ছেন। এরা পান থেকে চুন খসলেই রীতিমত বাহিনী নিয়ে হামলে পড়ছেন সেখানে। প্রকৃত ঘটনা কী-সে ঘটনার আদৌ কোনো নিউজ ভ্যালু আছে কী না, সেসব ভেবে দেখার ফুসরৎ তাদের নেই।
এদিকে বেশ কিছুদিন আগে তালায় একজন ভূয়া সাংবাদিক সময় টিভির লোগোসহ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আটক হন। সেখানে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান তিনি। তখন তার কাছ হতে ২টি টিভির লোগো কয়েকটি পত্রিকার আইডি কার্ড জব্দ হয়। সে তালায় স্টিকার সাইদ নামে পরিচিত হলেও থেমে থাকেনি তার দোরত্ব। সে কখনও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিশেষ দূত, কখনও উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা কখনও সময় টিভির দক্ষিণাঞ্চল প্রতিনিধি আবার কখনও পুলিশের সোর্স। করেছেন নতুন বাড়ি ও গাড়িও।

একজন মানবাধিকার কর্মী জানান, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট এন্ড কালচারাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নামের মানবাধিকার সংগঠন সম্প্রতি গড়ে উঠেছে। এই সংগঠনের আইডি কার্ডের উপরে বড় করে লেখা রয়েছে ‘গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা’। একইভাবে মানবাধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি নামেও আরেকটি সংগঠন সদস্যদের ‘মানবাধিকার সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয়পত্র দেওয়ার নাম করে এক হাজার টাকা এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠন করে আঞ্চলিক পরিচালক, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৩ হাজার টাকা করে আদায় করছে। তিনি আরও জানান, এদের নানারকম দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু নামধামের এসব মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকান্ড মনিটরিং না করায় বাঁধাহীনভাবে তাদের অপকর্ম বেড়েই চলেছে।

এবিষয়ে দুই থানার কর্মকর্তারা বলেন, শুধু তালা উপজেলায় নয় সারা বাংলাদেশে এমন ভূয়া মানবাধিকার সংগঠন গড়ে উঠেছে। আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে এদেরকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পৃষ্টপোষকতায় আবার তারা প্রভাব খাটিয়ে বিস্তার লাভ করেন। পুলিশের সাথে সখ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমরা অতি দ্রুত ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।
উপজেলার দুই থানার প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাব এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধুমাত্র ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার দের বিরেুদ্ধে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করলে হবে না। এদের বিরুদ্ধে আমাদের এক হয়ে উৎখাত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে পেশাদার সাংবাদিক ভাইয়েরা তাদের পেশাগত কাজ করতে বাঁধাগ্রস্ত হবেন।

মা-বাবার বিচ্ছেদ, আদালত পাড়ায় দুই শিশুর কান্নায় বদলে গেল দৃশ্য

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৮ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:৩০ অপরাহ্ন

মা-বাবার বিচ্ছেদ, আদালত পাড়ায় দুই শিশুর কান্নায় বদলে গেল দৃশ্য

মা-বাবার বিচ্ছেদ হল। দুই সন্তানের ভরণপোষণের জন্য দাদা বাড়ি থাকার নির্দেশ এলো। দাদা তার দুই নাতী-নাতনীকে নিয়ে যাওয়ার সময় মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পরে শিশু দুটি। এক মুহূর্তেই বদলে যায় চিত্র। আজ কুমিল্লার আদালতের গেইটে এই দৃশ্য অনেকের চোখে জল এনে দেয়। 

পুলিশ ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার এই দম্পতির বিয়ে হয় ১৪ বছর আগে। তাদের আট বছরের একটি মেয়ে ও ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সম্প্রতি পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে প্রবাস থেকে তালাক দেয় স্বামী। কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২নং আদালতের স্পেশাল পিপি মিজানুর রহমান বলেন, তালাকের পর কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২নং আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই নারী। আদালত তার কাবিনের টাকা পরিশোধ ও শিশুদের পিতার পরিবারে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। আজ আদালত গেইটে দাদা শিশুদের নিয়ে যেতে চাইলে শিশুরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে। এরপর কোর্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর সালাউদ্দিন আল-মাহমুদ পুনরায় তাদেরকে আমাদের নিকট নিয়ে আসেন। আমরা দুই পক্ষ বুঝিয়ে বলি। শিশুদের আপাতত মায়ের নিকট হস্তান্তর করি।

গ্রামের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, অপবাদ দিয়ে মেয়েটির সংসার ভেঙেছে। মেয়েটির শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের মায়ের নিকট রাখা উচিত।

শিশুদের মা তার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা এনে স্বামীর পরিবারকে দিয়েছি। মিথ্যা অভিযোগে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। আমি সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে চাই।

কোর্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর সালাউদ্দিন আল-মাহমুদ বলেন, শিশুর দাদা তাদের সিএনজি অটোরিকশা যোগে নেয়ার সময় কান্না করছিলো। এনিয়ে পথচারীরা তাদের আটক করে। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে আদালতে নিয়ে যাই।

সাংবাদিক কনক সরওয়ারের ইউটিউব কনটেন্ট বন্ধের নির্দেশ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৮ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:৪৭ অপরাহ্ন

সাংবাদিক কনক সরওয়ারের ইউটিউব কনটেন্ট বন্ধের নির্দেশ

বিদেশে থাকা সাংবাদিক কনক সরওয়ারের ইউটিউব কনটেন্ট বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের এক সাক্ষাৎকার প্রচারের ঘটনায় এই নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট।

ওই সাক্ষাৎকারে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএসএফ’র গুলিতে ‍দুই বাংলাদেশি নিহত

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৮ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৩:১৩ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএসএফ’র গুলিতে ‍দুই বাংলাদেশি নিহত

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার সময় হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তের ২৬৭নং পিলারের নিকট এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম।নিহতরা হলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের আবদুল মজিদের ছেলে রবিউল ইসলাম (২১) ও হরিপুর উপজেলার বকুয়া ইউনিয়নের মৃত ভাকু মোহাম্মদের ছেলে নাজির উদ্দিন (৩০)।

চেয়ারম্যান জানান, ভোরবেলা রবিউলসহ কয়েকজন বেতনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গরু আনতে গেলে বিএসএফের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে আহত হন তারা। পরে আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফেরত আসে। পরিবারের সদস্যরা আহতদের নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে দু’জনেই মারা যান। 

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

চাচী ভাতিজার পরকীয়ায় বলি আব্দুল আজিজ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৮ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

চাচী ভাতিজার পরকীয়ায় বলি আব্দুল আজিজ

সাতক্ষীরার দহাকুলায় দিনমজুর আব্দুল আজিজ মোল্যা হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন ও ভাইপো নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরকীয়ার জেরে তারা তাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর্জা সালাহউদ্দীন জানান, দিনমজুর আব্দুল আজিজ মোল্যা হত্যাকান্ডের পর স্থানীয় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরমধ্যে নিহতের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন ও ভাইপো নজরুল ইসলামের আচরণ সন্দেহজনক হলে তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে, পরকীয়ার জেরে তারা গত শনিবার রাতে আব্দুল আজিজকে বাড়ির পিছনে বাঁশ বাগানে নিয়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। একই সাথে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সেই দা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই জনকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদারতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ইউনিফর্মটা নেমে গেলে বুঝবেন জীবন কতটা কঠিন: ডিএমপি কমিশনার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ৯:২১ অপরাহ্ন

ইউনিফর্মটা নেমে গেলে বুঝবেন জীবন কতটা কঠিন: ডিএমপি কমিশনার

মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় ইতোমধ্যে অনেকের চাকরি চলে গেছে। জীবন কতটা কঠিন শরীর থেকে ইউনিফর্ম নেমে গেলে বোঝা যাবে। মাদককে না বলুন, এর থেকে সব সময় দূরে থাকুন।’

সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক বিশেষ কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডিএমপি কমিশনার এ কথা বলেন।ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশের সব ফোর্সের অসুবিধা ও নানা বিষয়ে তাদের পরামর্শ শুনতে এবং গৃহীত কল্যাণসমূহ অবহিত করতে এ বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিএমপির তিন হাজারেরও বেশি সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ২৪ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে দেশের সর্বোচ্চ ভালো চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ফোর্সের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শের (আইজিপি) উদ্যোগে একটি বেসরকারি হাসপাতাল সম্পূর্ণ ভাড়া নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ফোর্সের সব সদস্যের কল্যাণ দেখাই আমাদের কাজ। আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে পুলিশের সব সদস্যের পাশে আছি।

কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানালেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ৯:০২ পূর্বাহ্ন

কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানালেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

টানা ১১ দিন ধরে ভারতের দিল্লি সীমান্তে প্রতিবাদ করছেন দেশটির কৃষকরা। তাদের দাবি, কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। শীতের এই ঠান্ডা উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন তারা। একে একে বিদেশি রাজনীতিকরা সমর্থন জানিয়েছেন তাদের। 

অনেক তারকাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাঞ্জাবি অভিনেতা দিলজিৎ সিং দোসাঞ্জ নিজে কৃষকদের অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। আবার অনেক তারকাই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কৃষকদের জন্য একটি শব্দও খরচ করেননি। এবার নীরবতা ভাঙলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এই মুহূর্তে দেশে নেই। আমেরিকায় বসেই টুইটারে সমর্থন জানালেন কৃষকদের। তিনি লিখলেন, আমাদের কৃষকরা হলেন ভারতের খাদ্য সৈনিক। আশঙ্কা দূর করা উচিত। তাদের আশা পূরণ করা উচিত। সমৃদ্ধশালী গণতন্ত্রে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
‌ 
প্রিয়াঙ্কা দিলজিতের দিকেও সমর্থনের হাত বাড়িয়েছেন। পাঞ্জাবি তারকার টুইট কোট করেছেন। গতকাল রবিবার (৬ ডিসেম্বর) পাঞ্জাবি বক্সার বিজেন্দ্র সিংও দিল্লির সিংঘু সীমান্তে কৃষকদের পাশে বিক্ষোভে বসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কৃষকদের দাবি না মেটানো হলে তিনি ‘রাজীব খেলরত্ন’ সম্মান ফেরাবেন।  

শ্যামনগরে বৃদ্ধা শ্বাশুড়িকে মারপিটের ঘটনায় দুই পুত্রবধূ ও ছেলে আটক

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ৮:৩১ পূর্বাহ্ন

শ্যামনগরে বৃদ্ধা শ্বাশুড়িকে মারপিটের ঘটনায় দুই পুত্রবধূ ও ছেলে আটক

শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোপালপুরে বৃদ্ধা শ্বাশুড়িকে পুত্রবধূ কর্তৃক বেধড়ক মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটার পর রবিবার (০৬ ডিসেম্বর) দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরার ফেসবুক পেইজে ভিডিওটি ভাইরাল হলে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বৃদ্ধার ছোট পুত্রবধূ খাদিজা খাতুনসহ বৃদ্ধার ছোট ছেলে বেলাল হোসেন, বড় ছেলে সহিলউদ্দীন ও বড় ছেলের স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, ‘বৃদ্ধার দুই ছেলে থাকা স্বত্তে¡ও সে ভিক্ষাবৃত্তি করে অতি কষ্টে জীবন ধারন করে আসছিল। কয়েকবছর ধরে ছেলে ও ছেলেদের স্ত্রীরা জমি লিখে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। প্রায় সময় বৃদ্ধার প্রতি অত্যাচার নির্যাতন চালায়’।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, ‘পারিবারিক জায়গাজমির বিষয়কে কেন্দ্র করে এ মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। বৃদ্ধাকে মারপিটের ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগী বৃদ্ধার দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূকে আটক করা হয়েছে’। তিনি আরও জানান, ‘পুত্রবধূর মারপিটে আহত বৃদ্ধাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি’।

স্বাদ ও আভিজাত্যের সমাহার নিয়ে ‘রসনা বিলাস’

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৭ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ৮:২১ পূর্বাহ্ন

স্বাদ ও আভিজাত্যের সমাহার নিয়ে ‘রসনা বিলাস’

স্বাদ ও আভিজাত্যের সমাহার নিয়ে ‘রসনা বিলাস চাইনিজ এন্ড ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট’উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে চাইনিজ এন্ড ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট ‘রসনা বিলাস’ এর উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনকালে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা কালেক্টর জামে মসজিদের খতিব মাও. আব্দুল্লাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এতিম ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অতিথিদের দুপুরে চাইনিজ খাবার সরবরাহ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জি. মিজানুর রহমান, ডা. আব্দুল্লাহ আল নাঈম, আল-আকসা হসপিটালের পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম, হাফেজ আব্দুল ওয়াদুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনকালে ‘রসনা বিলাস ” Gর পরিচালক মাসুদ রানা ও আক্তারুল ইসলাম উপস্থিত অতিথিবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, রসনা বিলাস রেস্টুরেন্ট এ থাই-চাইনিজ, ফাস্টফুড, কেক-পেস্টি, বেকারী সামগ্রী ও সেট মেন্যুসহ ২০৮ ধরনের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া যে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন, রুচিশীল এবং মানসম্মত খাদ্য পরিবেশনের অঙ্গিকার নিয়ে সাতক্ষীরা জজকোর্টের সামনে এসএস প্লাজার ২য় তলায় ‘রসনা বিলাস’র উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকার শেফ দ্বারা আপনার পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন খাবার অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে।

ক্ষমতা ছাড়ছেন খোমেনি! কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৬ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার, ১০:৩২ অপরাহ্ন

ক্ষমতা ছাড়ছেন খোমেনি! কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা

শারীরিক অসুস্থতার জেরে ক্ষমতা ছাড়ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি। সম্প্রতি এমনই খবর প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে যে নিজের জায়গায় ছেলে মোজতাবা খামেনিকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসাচ্ছেন তিনি। জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায়।

শনিবার রাতে এই বিষয়ে একটি টুইট করেন ইরানের এক সাংবাদিক মোমাবাদ আওয়াজে। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির বর্তমানে ৮১ বছর বয়স। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। গত শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রৌহানির আয়াতোল্লা আলি খামেনির সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু, আচমকা সর্বোচ্চ নেতার শরীর খারাপ হওয়ায় সেই বৈঠক বাতিল করা হয়। খামেনির স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় রয়েছে গোটা ইরান। এ কারণেই তার ছেলে ৫১ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে অন্ত্রের ক্যান্সার হওয়ার কারণে একটি অপারেশন হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতার। তারপর থেকেই তার বিষয়ে খুব একটা খোঁজ-খবর পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ সময়ই লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকেন তিনি। ফলে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহর গুপ্তহত্যার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে যুদ্ধও লাগার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই কারণেই মোজতাবা খামেনিকে খুব দ্রুত ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছে। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।

মিম-ট্রোল তুচ্ছ করে মুফতি স্বামীকে নিয়ে কোথায় হারাল সানা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৬ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার, ১০:২৮ অপরাহ্ন

মিম-ট্রোল তুচ্ছ করে মুফতি স্বামীকে নিয়ে কোথায় হারাল সানা

ডিসেম্বরের শীতেই সানা খানের জীবনে প্রেমের বসন্ত! শহুরে ব্যস্ত কোলাহল থেকে দূরে স্বামী মুফতি আনাসের সঙ্গে হারিয়ে গেলেন তিনি। কিন্তু কোথায়? আপাতত তার গন্তব্য ভূস্বর্গ কাশ্মীর। একসময় মডেল-অভিনেত্রী সানা খান সেখানে গিয়েছেন মধুচন্দ্রিমায়।

বিয়ের পর থেকেই উচ্ছ্বাস যেন সামলাতে পারছেন না সানা। সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে বিয়ে সারলেও, তারপর থেকে যে কোনও বিশেষ মুহূর্তের আপডেট মেলে তার ইনস্টার দেওয়ালে। স্বামীর সঙ্গে লং ড্রাইভে যাওয়া থেকে শাশুড়ি মায়ের বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়ানো, ছোট ছোট খুশির মুহূর্তগুলো অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নেন সানা।মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার আগেও তার অন্যথা হল না। প্লেনে ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তে স্বামীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। তার পরেই প্লেনে উঠে আরেকটা সেলফি। তবে তারা কোথায় চলেছেন, সেই ব্যাপারে তখনও ধোঁয়াশা। উত্তর পাওয়া গেল কিছুক্ষণ পর।  ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে সানা জানান, কাশ্মীরে ঘুরতে গেছেন তারা।

ছুটি কাটাতে কাশ্মীর উড়ে গেলেন সানা এবং মুফতি আনাস। সানার মতোই তার স্বামীও সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পিডিএ গোলস’ দিতে পিছপা হচ্ছেন না। স্ত্রীর হাতে হাত রেখে, প্লেনের জানলা দিয়ে ঠিকরে আসা রোদ গায়ে মেখে রোম্যান্টিক একটি সেলফি ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে পোস্ট করেছেন আনাসও। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

খুলনায় হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:১৩ অপরাহ্ন

খুলনায় হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি

খুলনায় শ্রী এগ্রো লিমিটেডের কর্মী গোবিন্দ সানা হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই পলাতক রয়েছে। আসামিরা হচ্ছে- বিবেক মণ্ডল, সৌগত রায় ও অরুনাভ রায়।

আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মো. ছায়েদুল হক শাহিন জানান, ৩০২/২০১/৩৪ ধারার অপরাধের বিচার শেষে বিচারক ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধে আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর প্রাইভেট কোম্পানির কর্মী গৌতম গোবিন্দাকে হত্যা করা হয়। এর পর তার মরদেহের গলায় ও কোমরে ইট বেঁধে ঢাকি নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

২২ নভেম্বর সকালে বাকি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় গোবিন্দর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই কৃষ্ণপদ সানা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক কাজী মোস্তাক আহমেদ ২০১৬ সালের ১৯ জুন আদালতে তিনজনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন।

২০১৮ সালের ৫ জুলাই আদালতে এই মামলার শুনানির মধ্য দিয়ে চার্জ গঠন ও বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত এ মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

সবশেষে বৃহস্পতিবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরিফ মাহমুদ লিটন ও আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. মোরশেদ মামলাটি পরিচালনা করেন।

ভাস্কর্য থাকবে নাকি থাকবে না?

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন

ভাস্কর্য থাকবে নাকি থাকবে না?

তসলিমা নাসরিন

বাংলাদেশে হঠাৎ ভাস্কর্য পতনের আন্দোলন হচ্ছে কেন? আসলেই কি এ আন্দোলন ভাস্কর্য পতনের আন্দোলন নাকি সরকার পতনের আন্দোলন? দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলে একদিন সেই কালসাপ তোমাকে ছোবল দেবে- সেটির চমৎকার প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি।

সব মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য আছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার ভাস্কর্য নিয়ে কোনো মুসলিমের সমস্যা হচ্ছে না। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ ভারতের মুসলিমদেরও কোনো ভাস্কর্য নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ইত্যাদি কট্টর মুসলিম দেশেও ভাস্কর্য নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। মিসরে প্রাক-ইসলাম যুগের মূর্তিপূজকদের স্ফিংস আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এ নিয়েও মিসরের কোনো মুসলিমের সমস্যা হচ্ছে না। শুধু বাংলাদেশের মুসলিমদের সমস্যা হচ্ছে। ভাস্কর্য নিয়ে কিন্তু জিহাদি জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিসদের সমস্যা হতো, তাহলে কি বাংলাদেশে যারা ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার দাবি করছে, তারা আইসিস-মানসিকতার? তালিবানি মানসিকতার? তালিবানরা আফগানিস্তানের বিখ্যাত বামিয়ান বুদ্ধকে উপড়ে ফেলেছে। মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন ভাস্কর্যগুলো হাজার বছর ধরে ছিল, আইসিসরা গুঁড়ো করে দেওয়ার আগ পর্যন্ত। বাংলাদেশের মোল্লারা হুমকি দিয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়বে, রক্তে ভেসে যাবে রাজপথ যদি কোনো ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। তারা যে ব্যানারেই আজ বাংলাদেশে হুমকি দিক না কেন, তাদের হুমকি পক্ষান্তরে জঙ্গি-আইসিসের হুমকি ছাড়া অন্য কিছু নয়। গুলশানে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর শেখ হাসিনা-সরকার যেভাবে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি নির্মূলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেভাবে ফের জঙ্গি নির্মূলের, সেই কালসাপ নিধনের সময় এসেছে। এদের আস্ফালন না কমাতে পারলে দেশকে আসলেই এরা রক্তে ভাসিয়ে দেবে, লাশের পর লাশ ফেলবে, গুলশান হোলি আর্টিজানের চিত্র হয়ে উঠবে গোটা বাংলাদেশের চিত্র।

একের পর এক এদের অন্যায় দাবি মেনে নিয়ে এদের মাথায় চড়িয়েছে সরকার, আর সেই ফল আজ ভোগ করছে গোটা বাংলাদেশ। আমি নিশ্চিত, সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে থেমেসের ভাস্কর্যটি যদি সেদিন মোল্লাদের দাবির কারণে না সরাতো, তাহলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে আজ কোনো সমস্যা হতো না। দুষ্ট লোকের দাবি, বিশেষ করে গণতন্ত্রবিরোধীদের দাবি কখনও মেনে নিতে হয় না। এই মোল্লাগুলো এমন ভাব করছে যেন ইসলাম ধর্মটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যেন তাদের ইসলামের দূত বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। দিনরাত এই লোকগুলো শের্ক করছে। এক ওয়াজ ব্যবসায়ী তো বলে বসল, ‘অমুক মার্কায় ভোট দেওয়া মানে আল্লাহ আর আল্লাহর নবীকে ভোট দেওয়া’! আরেকজন বলল, ‘মামুনুল হককে অপমান করা মানে আল্লাহকে অপমান করা, আল্লাহর নবীকে অপমান করা’! এদের ওয়াজে এদের ভাষণে এদের কীর্তিকলাপে এরাই কিন্তু আসলে নিরবধি ইসলামের অবমাননা করে চলেছে। এই কালসাপদের ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই, এই অপশক্তিকে নির্মূল করাই দেশ বাঁচানোর, এমনকি ইসলাম বাঁচানোর একমাত্র উপায়। এদের হাতে দেশ বা ইসলাম কোনোটি গেলে দুটোরই সর্বনাশ এরা করে ছাড়বে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। হিন্দু হলেও সব হিন্দুর বিশ্বাস এক রকম নয়। একই রকম মুসলমান হলেও সব মুসলমানের চিন্তা এক রকম নয়। কেউ উদার, কেউ কট্টর, কেউ আরবের পোশাক পরে, কেউ দেশি পোশাক পরে, কেউ বোরখা পরে, কেউ হিজাব পরে, কেউ আবার বোরখা হিজাব কিছুই পরে না, কেউ পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে, কেউ আবার নিয়মিত নামাজ পড়ে না, – কিন্তু তারা সবাই মুসলমান। কট্টর বা উগ্রবাদীদের ইসলামই সত্যিকারের ইসলাম, সেটিই সবাইকে পালন করতে হবে, এই ধারণা ভুল। কট্টরপন্থিরাই বেহেস্তে যাবে, অন্যরা সবাই দোযখে যাবে, এই ধারণাও ভুল। শেষ বিচারের দিনে, যদি সেরকম কোনো অলৌকিক বিচার ব্যবস্থা থেকে থাকে, তবে শেষ বিচারের মালিকই বিচার করবেন। বিচারে তিনি নামাজ রোজা আর জিহাদকে মূল্য দেবেন বেশি, নাকি সততা এবং উদারতাকে মূল্য দেবেন, তা তিনিই জানেন। বাংলাদেশের মুসলমানরা অন্যের ক্ষতি না ক’রে, অন্যের অধিকার লংঘন না করে, যে যার বিশ্বাস নিয়ে থাকলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এক সময় কত মানুষের কত বিশ্বাস নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে, গোপনে গোপনে সেই বিশ্বাসকে তাদের জিইয়ে রাখতে হয়েছে! পরিস্থিতির ভিত্তিতে পৃথিবীর সব ধর্ম-পালনে পরিবর্তন এসেছে। বহুঈশ্বরবাদী ধর্মের রমরমা অবস্থার মধ্যে একদা একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রবর্তন হয়েছিল। ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বাইবেলেও বহুঈশ্বরবাদী মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে। ধর্ম প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রতিকূল পরিবেশে ধর্ম প্রচারকরা মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীকালে অনুকূল অবস্থায় সেই ধর্মের অনুসারীরা ধর্ম প্রচারকদের সেই আদি প্রস্তাব মানেনি। এতে ধর্মের কোনো অপমান হয়নি, বরং অপমান থেকে ধর্ম রক্ষা পেয়েছে। আজ তো কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান মূর্তি ভেঙে দিতে হাতুড়ি শাবল হাতে নেবে না। তবে মুসলিমদের মধ্যে কেন এই প্রবণতা? সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে নয়, কট্টরদের মধ্যেই সাধারণত এই প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু কট্টররাই বা কেন হাতুড়ি শাবল নেয় বা নিতে চায়? এর উত্তর খুব সহজ। তারা ধর্মকে আর ধর্ম হিসেবে দেখতে চায় না, তারা একে রাজনীতি হিসেবে দেখে। তারা দেশ নয় শুধু, তারা ধর্ম দিয়ে বিশ্ব শাসন করতে চায়। তাদের এই লেলিহান বাসনা অনেক সময় তাদেরই পুড়িয়ে ছাই করে।

মক্কার মূর্তিপূজকদের মূর্তি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসলামের নবী। ইসলামের প্রতিষ্ঠার জন্য তা তখন তিনি জরুরি মনে করেছিলেন। কিন্তু ইসলাম আজ প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম আজ ইসলাম। যে অবস্থায় মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, সেই অবস্থাটি বর্তমান বিশ্বে নেই। তাই কোনো মুসলিম দেশেই মূর্তিপূজা নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রয়োজনে ইসলামের এই উপদেশটিই মেনে চলতে হয় ‘যার যার ধর্ম তার তার কাছে, ইসলামে কোনো জবরদস্তি নেই’।

বাংলাদেশের মাদ্রাসা-পাস মোল্লারা ঘোষণা দিয়েছে তাদের দৌড় আর মসজিদ পর্যন্ত নয়, তাদের দৌড় পার্লামেন্ট পর্যন্ত। এ বিরাট হুমকি বটে। তারা আজ দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখছে। কী যোগ্যতা তাদের আছে দেশ শাসন করার? গণতন্ত্র সম্পর্কে যাদের কোনো ধারণাই নেই, তারা কী করে দেশ শাসন করবে। মোল্লাতন্ত্র বা জিহাদি আদর্শ দিয়ে দেশ শাসন এই একবিংশ শতাব্দীতে চলবে না। সে কারণেই আইসিসকে সারা বিশ্ব মিলে নির্মূল করেছে। পৃথিবীটা বাংলাদেশ নয়। পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্র অংশ বাংলাদেশ। এই পৃথিবীকে চলমান রাখার পেছনে, সভ্য এবং শিক্ষিত করার পেছনে সব দেশের সব ধর্মের সব সংস্কৃতির সব রকম বিশ্বাসের মানুষের অবদান আছে। সবাইকে অস্বীকার করে শুধু নিজের ধর্ম এবং সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ মনে করে, আমিই বেহেস্তে যাব, বাকিরা নরকে যাবে, এই মানসিকতা নিয়ে বেশি দূর এগোনো যায় না। সবার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, সবার অধিকারকে, এমনকি বিধর্মী ও নাস্তিকের অধিকারকে মর্যাদা দেওয়া গণতন্ত্রের আদর্শ। এই আদর্শকে অস্বীকার করলে বিশ্বে কোনো স্থান নেই।

কাবার কালো পাথরকে মুসলমানরা চুমু খেয়ে বা একটু স্পর্শ করে ধন্য হয়, বিশ্বাস করে এতে তাদের মঙ্গল হয়, পাথরই শুষে নেয় তাদের পাপ, তারা পাপমুক্ত হয়। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাব সেই কালো পাথরকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আমি জানি তুমি একটা পাথর, তুমি মানুষের অপকারও করতে পার না, উপকারও করতে পার না, যদি আমি নবীকে না দেখতাম তোমাকে চুম্বন করতে, তাহলে আমিও তোমাকে চুম্বন করতাম না।’ তাহলে জিনিসটা ভাস্কর্য, বা মূর্তি বা পাথর সেটা বিষয় নয়, বিষয় হলো মুসলমানের মনন। তাহলে যাদের কাছে এখন ভাস্কর্য, মূর্তি বা পাথর বিষয় হয়ে উঠছে, তাদের কাছে নিশ্চিতই মননের মূল্য নষ্ট হচ্ছে।

ইসলাম ধর্মটিকে ধর্ম হিসেবে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মেলালে, বা ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি মেলালে তার পরিণাম কখনও শুভ হয় না। কারণ এর ফলে মন্ত্রী হয়ে যায় মোল্লা, আর মোল্লা হয়ে যায় মন্ত্রী।

বাংলাদেশে আদিকাল থেকে ভাস্কর্য আর মূর্তি দুই-ই ছিল। আইসিস-মানসিকতার ঠাঁই বাংলাদেশে হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশেরই অকল্যাণ। আমি প্রচলিত ধর্মে নয়, মানববাদে বিশ্বাস করা মানুষ। আমি পুজো করি না, কারও পায়ে মাথাও ঠেকাই না। কিন্তু আমি বাংলাদেশের লালনের পাদদেশে ফুল দেবে, কারণ লালনের জাতপাতের বিরুদ্ধে লেখা মানবতার পক্ষে লেখা গানগুলোকে আমি মহান বলে মনে করি। এর মানে এই নয় তাঁকে আমি পুজো করছি, এর মানে এই – তাঁকে আমি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি। আমি শহিদ বেদিতে, স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দেব। যুগে যুগে আমরা ফুল অর্পণ করেই শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছি। উপমহাদেশের সুফি-সাধকদের মাজারে মোমবাতি দিয়েও মানুষ যুগে যুগে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছে। যুগে যুগে নমস্যদের পায়ের ধুলো মাথায় নিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছে। ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামন্ডপালন আর আরব দেশের ইসলামন্ডপালনে ভিন্নতা তো থাকবেই। এই ভিন্নতা যারা বোঝে না, তারা ইতিহাস বোঝে না।

শেষ কথা, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য শেখ হাসিনাকে স্থাপন করতেই হবে, এতেই যদি এতদিন কালসাপ পোষার দায়মুক্তি ঘটে তাঁর।

ধেয়ে আসছে সাইক্লোন ‘বুরেভি’

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১:১৫ পূর্বাহ্ন

ধেয়ে আসছে সাইক্লোন ‘বুরেভি’

কয়েকদিন আগেই তাণ্ডব চালিয়েছে সাইক্লোন ‘নিভার’। এবার ফের আরও এক সাইক্লোন। বঙ্গোপসাগরে ধেয়ে আসছে সাইক্লোন ‘বুরেভি’। প্রবল ঘূর্ণিঝড় নিভারের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ভারতের তামিলনাড়ু, পুদুচেরি। এখনও বৃষ্টি চলছে সমানে। সাইক্লোন থেমে যাওয়ার পরও নতুন করে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। জলমগ্ন হয়েছে বহু এলাকা।

এরপরেই নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহওয়া বিভাগ। আর সেই সাইক্লোন বুরেভি ক্রমশ শক্তি পাকিয়ে ধেয়ে আসছে। আইএমডি সূত্রে খবর বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীলঙ্কার উপকূলে ট্রিঙ্কোমালিতে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তারপর মান্নার উপকূলে তা ধেয়ে আসবে আসবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।যদিও প্রতি মুহূর্তে সাইক্লোনের দিকে নজর রাখছে ভারত। দেশটির আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন যে, তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী ও পম্বনের মধ্যে দিয়ে বয়ে যেতে পারে এই সাইক্লোন। ঘণ্টায় এর গতিবেগ হবে ১২০ এরও বেশি। অন্যদিকে, সাইক্লোনের প্রভাবে কেরলে আগামী দুদিন প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে না করা হয়েছে। সাইক্লোনের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে। ইতিমধ্যে কেরল সহ একাধিক এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতীয় আবহওয়া বিভাগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সূত্র : কলকাতা টোয়েন্টিফোর।

স্ত্রী‌র বায়না মেটাতে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি!

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ১০:০০ অপরাহ্ন

স্ত্রী‌র বায়না মেটাতে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি!

মাঝেমধ্যেই স্ত্রী‌র বায়না। স্বামীর কাছে নিত্যনতুন জিনিস কিনে দেওয়ার আবদার। এদিকে, লকডাউনে কাজ চলে যাওয়ায় হাতে টাকাপয়সা নেই। শেষপর্যন্ত নিরুপায় হয়ে মোটরসাইকেল চুরির পথই বেছে নেয় ভারতের সুরাটের এক ব্যবসায়ী। আর এ কাজের জন্য শেষপর্যন্ত অবশ্য তাকে যেতে হলো জেলে। সম্প্রতি সুরাটের উতরণ থেকে বাইকচোর ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরই সামনে এসেছে এই কাহিনি, যা জানতে পেরে অনেকেই অবাক।

ওই ব্যক্তির নাম বলবন্ত চৌহান। তিনি ভারতীয় রাজ্য গুজরাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী সুরাটের উতরানের বাসিন্দা। আগে হিরের কারিগর ছিলেন। কিন্তু করোনা আবহে  কাজ চলে যায়। এর আগে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা রোজগার করলেও, তা বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, স্বামীর রোজগার না থাকলে কী হবে, স্ত্রী‌র চাহিদা দিনদিন বাড়তে থাকে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু কিনে দেওয়ার বায়নাও করতে থাকেন। শেষপর্যন্ত নিরুপায় হয়ে টাকা জোগাড় করতে চুরির পথই বেছে নেয় বলবন্ত। চুরি করতে থাকেন একটার পর একটা বাইক। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। জেরায় নিজের দোষ স্বীকারও করেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, কাপোদারা, ভারাচা, আমরোলি ও কাটাগ্রাম থেকে ৩০টিরও বেশি বাইক চুরি করেছিলেন বলবন্ত। বেশিরভাগই উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাইকগুলো মূলত হিরের দোকান বা শপিং মলের সামনে থেকে চুরি করতের ওই ব্যক্তি। নিজে হিরের কারিগর হওয়ায় কোন সময় কর্মীরা কাজে আসেন, ভিড় বেশি হয় –  সবই তার নখদর্পণে ছিল। সেই মতো পরিকল্পনা করেই চুরি করতেন বলবন্ত। 

তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, এর আগেও বাইক চুরি করেন তিনি। আদতে ভাবনগর জেলার জালিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলবন্ত ২০১৭ সাল থেকেই টুকটাক বাইক চুরিতে হাত পাকিয়েছিল। ২০১৯ সালেও চারটি বাইক চুরি করেছিল। কিন্তু ২০২০ সালে কাজ চলে যাওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২০টিরও বেশি বাইক চুরি করেন তিনি।

আশাশুনির পল্লীতে আবারও প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৮ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ১০:১৭ অপরাহ্ন

আশাশুনির পল্লীতে আবারও প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তার

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির পল্লীতে আবারও প্রতিবন্ধী শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।জঘন্য এ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নে মাদারবাড়িয়া গ্রামে। জানা গেছে, ওই গ্রামের সরদার বাড়ীর শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু কন্যা (১৭) ঘটনার দিন বিকালে বাড়িতে একা ছিল। পরিবারের সকলে পাশে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। এ সুযোগে পার্শ্ববর্তী হাসান সরদারের পুত্র নাজমুল হোসেন (২০) বিকাল ৫টার দিকে অনুষ্ঠানের কিছু ভাত নিয়ে ওই বাড়িতে হাজির হয়। ভাত মেয়েটির কাছে দিতে গিয়ে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিবন্ধী শিশু মেয়েটিকে জোর করে ঘরের মধ্যে নিয়ে নাজমুল ধর্ষণ করে। স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে না পারা মেয়েটি চিৎকারের চেষ্টা করলেও কারো কান পর্যন্ত পৌছায়নি। ধর্ষণের পর মেয়েটিকে ফেলে ধর্ষক নাজমুল দ্রুত বাড়িতে চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে ধর্ষিতার মা বাড়িতে পৌছলে মেয়ের অবস্থা বেগতিক দেখে জিজ্ঞাসা করলে ভীত সন্ত্রস্ত ধর্ষিতা ধর্ষণের ঘটনা ও ধর্ষকের নাম বলে দেয়। এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে ধর্ষককে আটক করে ওই বাড়িতে হাজির করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। সাথে সাথে থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে ধর্ষককে সোপর্দ করা হয়। এব্যাপারে ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে থানায় আশাশুনি থানায় মামলা দায়ের করেছে। ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী কন্যাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ধর্ষককে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিখোঁজের ৩৬ঘণ্টা পর নবজাতক এর মরদেহ উদ্ধার, বাবার পর মাও গ্রেপ্তার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৮ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ১০:০৮ অপরাহ্ন

নিখোঁজের ৩৬ঘণ্টা পর নবজাতক এর মরদেহ উদ্ধার, বাবার পর মাও গ্রেপ্তার

নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর সাতক্ষীরার নবজাতক শিশুপুত্র সোহানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১ টার দিকে সদর উপজেলার হাওয়ালখালি গ্রামের তাদের বাড়ির সামনের সেফটি ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেন ও মা ফাতেমা খাতুনকে।

পুলিশ জানায়, দু’বছর আগে নানির বাড়িতে আশ্রিতা ফাতেমা কলারোয়া উপজেলার সাহাপুর গ্রামের সোহাগ হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। শ^শুর বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর পারিবারিক কলহের কারণে আবারও স্বামীকে নিয়ে তাকে আশ্রয় নিতে হয় নানির বাড়ি সদর উপজেলার হাওয়ালখালিতে। গত ১১ নভেম্বর সাতক্ষীরা শহরের আনোয়ারা ক্লিনিকে জন্ম নেয় তাদের একটি পুত্র সন্তান। শিশুটির নাম রাখা হয় সোহান হোসেন।

এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যেতে হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৫ নভেম্বর বুধবার তারা সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির বারান্দায় ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে শিশুটি হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবার সোহাগ হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর্জা সালাহ উদ্দীন জানান, পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেভাজন শিশুটির মা ও বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, যে শিশুটি খুবই অসুস্থ ছিল। সে জন্ডিস, রিকেট ও নিউমোনিয়া, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিল। তিনি জানান, এ সমস্ত কারনে ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনের যোগসাজশে শিশু হত্যা এবং মরদেহ গুমের ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

তিনি আরো জানান, শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেন শিশুটিকে মেরে তাদের বাড়ির সামনের সেফটি ট্যাংকির ভিতরে মরদেহটি ফেলে দেয়। আর এ কাজে সহযোগিতা করে তার মা ফাতেমা খাতুন। পুলিশ বিষয়টি জানার পর শনিবার ভোর রাতে মরদেহটি উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিস্তারিত পরে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে জানাবেন বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান।

সাতক্ষীরায় পৃথক দুই খুনের রহস্য উন্মোচন: পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৮ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ১০:০৩ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় পৃথক দুই খুনের রহস্য উন্মোচন: পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরার কলারোয়ার দেয়াড়ায় বৃদ্ধ কৃষক মোসলেম উদ্দীন (৬৫) কে গলাকেটে হত্যা ও সদর উপজেলার হাওয়ালখালিতে ১৫দিন বয়সী শিশু সোহান হোসেনকে হত্যার পর মরদেহ সেফটি ট্যাঙ্কিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর ২:৩০মিনিটে তার দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এ কথা জানান তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, দুটি পৃথক হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে ও ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের সময় লেগেছে ৪০-৪৮ঘন্টা। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশ ঘাতকদের শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সুপার মোস্কাফিজুর রহমান বলেন, ২৪ নভেম্বর রাতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে শ্বশুর মোসলেম উদ্দীন (৬৫)কে গলাকেটে হত্যা করে জামাই মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ (৩৯)। হত্যার পর ঘাতক জামাই আবুল কালাম ও তার সহযোগি হাবিব ইসলাম (১৯) চোরাই পথে প্রতিবেশি দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২৭ নভেম্বর বিকেলে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি সীমান্ত থেকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়।

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ ৪৮ঘন্টার মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, হ্যান্ডগ্লাভস, জ্যাকেট ও কাদামাখা প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারী আবুল কালাম নিহত মোসলেম উদ্দীন বিশ্বাসের ছোট জামাতা। তিনি দেয়াড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এবং একই গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে। তার দেওয়া তথ্য মতে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিকালে নিহত মোসলেম উদ্দিনের বাড়ির ৫০০ গজ দূরের একটি পুকুর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও হ্যান্ড গ্লোভস উদ্ধার করা হয়।

পরে দেয়াড়া খানপাড়া থেকে আবুল কালাম আজাদের ভাইপো হাবিবুরের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত জ্যাকেট ও কাদামাখা প্যান্ট। পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ২৬ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালি গ্রামের সোহাগ হোসেন
ও তার স্ত্রী ফতেমা খাতুন পরিকল্পিতভাবে হত্যা ১৫দিন আগে জন্ম নেওয়া তাদেরই সন্তান শিশু সোহানকে।

জন্মের পর শিশুটি হার্ট, ব্রেন ও অ্যাজমা সমস্যায় ভুগতে থাকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে স্বামী-স্ত্রী মিলে হত্যা করে লাশ বাড়ির সামনে সেফটি ট্যাঙ্কিতে ফেলে মায়ের পাশ থেকে শিশু চুরি হয়েছে বলে প্রচার দেয়। শিশু সোহান চুরি হয়েছে বলে শুক্রবার দুপুরে সোহাগ হোসেন সাতক্ষীরা সদর থানায় ডায়েরি করেন। পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দীনের নেতৃত্বে সদর থানার পুলিশ যৌথভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে ৪০ঘন্টার মধ্যে শিশু হত্যার রহস্য উন্মোচন পূর্বক ঘাতকদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

দারিদ্র্য ও শিশুটির অসুস্থতাকে হত্যার কারণ বলে আটক সোহাগ ও ফতেমার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান পুলিশ সুপার। প্রসঙ্গতঃ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালি গ্রামের সোহাগ হোসেনের বাড়ির বারান্দায় মশারির ভিতরে ঘুমন্ত অবস্থায় ১৫দিন বয়সী শিশু চুরি হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ তদন্তে মাঠে নামে। শিশুটির পিতা সোহাগ হোসেন ও মাতা ফতেমা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার মোটিভ। পুলিশ শুক্রবার মধ্যরাতে সেফটি ট্যাঙ্ক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এঘটনায় পুলিশ শিশুটির মা-বাবা দুজনকেই আটক করেছে।

বিয়ের আসরে জামাইকে শাশুড়ির চমক, উপহার দিলেন একে-৪৭

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৮ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ৯:৫৭ অপরাহ্ন

বিয়ের আসরে জামাইকে শাশুড়ির চমক, উপহার দিলেন একে-৪৭

বিয়েতে নতুন বরবধূকে বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে বিশ্বব্যাপী।। স্বর্ণালঙ্কার, হীরের গয়না, দামি গাড়ি বা ফ্ল্যাট ইত্যাদি কত উপহারই না দেওয়া হয় নতুন বরকে। কিন্তু কখনও কি শুনেছেন বিয়ের আসরে নতুন জামাইকে শাশুড়ি একে ৪৭ উপহার দিয়েছেন?

হ্যাঁ, এমনটাই ঘটেছে পাকিস্তানে। সম্প্রতি ট্যুইটারে এ নিয়ে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি পাকিস্তানের।ভিডিওতে দেখা যায়, যুবক-যুবতীর বিয়ে হচ্ছে। বিয়ের পর জামাইকে নতুন উপহার দিতে এসে একে-৪৭ হাতে তুলে দিলেন শাশুড়ি। এই ঘটনায় জামাই নিজেও কিছুটা অবাক। তবে বন্দুকটি হাতে পেয়ে বেজায় খুশিও হয়েছেন তিনি। সূত্র: প্রোপাকিস্তানিডেইলি স্টার ইউকে, জিনিউজ আসাম

স্বপ্নের দুয়ারের হাতছানি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৮ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ৯:৩৬ অপরাহ্ন

স্বপ্নের দুয়ারের হাতছানি

উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেলে হবে দুটি টিউব। এর মধ্যে একটি টিউবের কাজ শেষ। দ্বিতীয় ও শেষ টিউবের কাজ শুরু হবে আসছে ডিসেম্বরে। এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের প্রথম ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ নির্মাণের কাজ। বঙ্গবন্ধু টানেলের দুটি টিউব নির্মাণের মাধ্যমে স্বপ্নের দুয়ার খুলতে শুরু করেছে। বাস্তবে রূপ নিচ্ছে এই স্বপ্নের প্রকল্পের। ইতিমধ্যে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬০ শতাংশ। এর আগে প্রথম টিউব নির্মাণ (বোরিং) কাজ হয়েছিল প্রায় ৪ মাস আগে। প্রথম টিউব নির্মাণ শেষ করে এখন সংযোগ সড়ক তৈরির কাজ চলছে। টানেল নির্মাণ ঘিরে কর্ণফুলীর দুই তীরে উন্নয়নযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে।

জানা গেছে, চীনের সাংহাই শহরের আদলে বন্দরনগর চট্টগ্রাম শহরকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ মডেলে গড়ে তুলতে নগরীর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার  দৈর্ঘ্যরে মূল টানেল ছাড়াও পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এ প্রকল্প। প্রকল্পের ৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউব নির্মাণের কাজ শুরু হবে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আনোয়ারা প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম প্রান্তে এই নির্মাণকাজ শুরু হবে। চট্টগ্রাম প্রান্ত থেকে আনোয়ারা প্রান্তে নির্মিত প্রথম টিউব থেকে ১২ মিটার দূরে নির্মাণ করা হবে দ্বিতীয় টিউব। প্রথম টিউবের মতো দ্বিতীয় টিউবও স্থলভাগ থেকে নদীর দিকে যাওয়ার সময় ধীরে ধীরে মাটির গভীরে যাবে। নদী থেকে উপকূলে ওঠার সময় ধীরে ধীরে উঠে আসবে। মাটির ১৮ মিটার থেকে ৪৩ মিটার নিচ দিয়ে যাবে টিউব। ফলে নদীর প্রবাহে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণকাজ শেষ করতে চান বলে জানান তিনি। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বঙ্গবন্ধু টানেলের চট্টগ্রাম প্রান্ত থেকে আনোয়ারা প্রান্তে ১২ মিটার ব্যাসের একটি টিউব স্থাপনের কাজ শেষ করার পাশাপাশি টানেলের দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টিউবের কাজ শেষ হলে এই টানেলের চার লেন দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলাচল করতে পারবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে সিটি আউটার রিং রোড দিয়ে পতেঙ্গা প্রান্তে টানেলে প্রবেশ করে আনোয়ারা প্রান্তে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের চাতরী চৌমুহনী পয়েন্টে ওঠা যাবে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে সাধিত হবে যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গে উন্নত ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপিত হবে। এতে ভ্রমণ সময় ও খরচ হ্রাস পাবে এবং পূর্ব প্রান্তের শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, প্রস্তুতকৃত মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দর ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের সঙ্গে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপনের ফলে পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর এই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেলের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪.৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এই প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৯১৩.১৯ কোটি টাকা দেবে চায়নিজ এক্সিম ব্যাংক।

ম্যানেজ করেই সম্পদের পাহাড়

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:০২ অপরাহ্ন

ম্যানেজ করেই সম্পদের পাহাড়

অপরাধ জগতের সম্রাট গোল্ড মনিরের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯৩০ কোটি টাকা লেনদেনের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চার ব্যাংকের ২৫টি অ্যাকাউন্টে এসব টাকার খোঁজ মিলেছে। ওইসব অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটি টাকা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বিএনপি-জামায়াতে অর্থায়নের বিষয়টিও। এ ছাড়া তিনি কিনেছেন বড় হাউজিং কোম্পানির শেয়ার। মালয়েশিয়ায় তার বিরুদ্ধে টাকা পাচারেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুদিন আগে গোল্ড মনির বিএনপি নেতা, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মালয়েশিয়ায় পলাতক কাইয়ুমের মালিকানাধীন একটি হাউজিং কোম্পানির শেয়ার কিনে নেন। এরপর মানি লন্ডারিং করে কয়েক শ কোটি টাকা মালয়েশিয়ায় পাচার করে কাইয়ুমের কাছে পাঠিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিএনপি-জামায়াতে অর্থায়ন ছাড়াও বাস পোড়ানোসহ বিভিন্ন নাশকতায় গোল্ড মনিরের সংশ্লিষ্টতার খবর রয়েছে। পাশাপাশি বড় একটি হাউজিংয়ের পরিচালক পদ নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে প্লট ও বাড়ি রয়েছে তার। বিএনপির হয়েও তিনি ক্ষমতাসীন নেতাদের ম্যানেজ করে জমি দখল, জাল জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং এবং সোনা চোরাচালানে লিপ্ত ছিলেন।তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, অল্প দিনে গোল্ড মনিরের এত সম্পদের মালিক হওয়ায় তারা হতবাক। এ যেন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো, শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়ার কাহিনি। তারা বলছেন, অবৈধ প্রভাব আর অনৈতিক কাজের মাধ্যমে একজন দোকান কর্মচারী কীভাবে হয়ে ওঠেন হাজার কোটি টাকার মালিক, তা গোল্ড মনির গ্রেফতার হওয়ার পর বের হয়ে আসছে একে একে। সূত্র জানান, গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত গোল্ড মনিরের চার ব্যাংকের ২৫টি অ্যাকাউন্টে ৯৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা ঋণও নিয়েছেন তিনি। যদিও গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) আয়কর রিটার্নে তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে মাত্র ২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ ছাড়া গত অর্থবছরে গোল্ড মনিরের বার্ষিক আয় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা দেখানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, গোল্ড মনিরের বাবা ছিলেন বাড়ির কেয়ারটেকার, আর মা কাজ করতেন অন্যের বাসায়। তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট মনির। অভাবের সংসারে লেখাপড়া করা হয়নি বেশি দূর। ছোটবেলা থেকেই কাজ করতেন মানুষের দোকানে। চুরির অভিযোগে চাকরিও চলে যায় বেশ কয়েকবার। সোনা চোরাকারবারের সঙ্গে জমি দখল হয়ে ওঠে তার নেশা। মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টেই কয়েক শ প্লট রয়েছে তার। এ ছাড়া দখল করেছেন বেশ কয়েকটি বাজারও। অবৈধ জায়গা বৈধ করার জন্য গড়ে তুলেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।সূত্র জানান, অপরাধ জগতের এই সম্রাটের বিস্ময়কর উত্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তার এমন উত্থানের পেছনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১০-১২ জন কর্মকর্তার নামও বেরিয়ে আসছে তদন্তে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে রাজউক ভবনে তার কলকাঠি নাড়া শুরু হলেও পরে সব সময়ই সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টিতে থেকেছেন। এ সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে তিনি রাজধানীর বাড্ডা, বনশ্রী, বারিধারা, বনানী, গুলশান, উত্তরা, কেরানীগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশ এলাকায় গড়েছেন হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। রাজউক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে গোল্ড মনির ২০০-এর বেশি প্লট নিজের দখলে নিয়েছেন বলে তাকে গ্রেফতারের পর র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী গতকাল নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণির কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে রাজউকের বিভিন্ন প্লট বাগিয়ে নিয়েছেন গোল্ড মনির। তদন্তে ডিআইটি প্রজেক্টে ৩০টিসহ পূর্বাচল, নিকুঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, উত্তরায় রাজউকের প্রকল্পে তার আরও প্লট পাওয়া গেছে। এসব অবৈধ প্লটের উৎস এবং কারা কীভাবে সহায়তা করেছেন তদন্ত হচ্ছে। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন উপায়ে কোটি কোটি টাকা মূল্যের সোনার অলঙ্কার চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে নিয়ে আসেন। তার বাসায় যেসব সম্পদ পাওয়া গেছে তা বৈধ কিনা যাচাই করা হচ্ছে এবং এগুলোর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ প্রতারণার মাধ্যমে কিংবা কারও যোগসাজশে গড়া কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাড্ডার তৎকালীন কাউন্সিলর কাইয়ুমের সঙ্গে রাজউকে আসা-যাওয়া শুরু করেন গোল্ড মনির। অল্প দিনের ব্যবধানেই বাড্ডা পুনর্বাসন জোনের ৪৩০টি প্লটের মধ্যে প্রায় ১০০ হাতিয়ে নেন। এরপর বাকি সব প্লটের মালিকানা হস্তান্তর ও নকশা অনুমোদনসহ সব দাফতরিক কাজের দায়িত্ব নিজের কব্জায় নিয়ে আসেন। বাড্ডার বাইরেও ২০০৩ সালের ৩ ডিসেম্বর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা আয়তনের একটি প্লট নিজ নামে বাগিয়ে নেন। এরপর তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে বারিধারার জে ব্লকের ১০ নম্বর সড়কের ৯.৬৪ কাঠার ১০ নম্বর প্লটটি নিজ নামে বরাদ্দ নেন। ২০০৫ সালে পূর্বাচলের ৫ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বরের ১০ কাঠার একটি প্লটও তিনি নিজ নামে বরাদ্দ নেন। উত্তরায় গত বছরের ১৯ মার্চ প্রায় শত কোটি টাকা মূল্যের ৯০.২৫ কাঠা জমি কেনেন মনির। একটি বড় হাউজিং কোম্পানির অনুকূলে আমমোক্তারনামা থেকে মনির জমির মালিকানা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া মনিরের মালিকানাধীন উত্তরা গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার রাজউকের একটি দল ২৯ অক্টোবর পরিদর্শন করেন। সেখানে রাজউকের অথরাইজড অফিসার নির্মাণসংক্রান্ত তিনটি অনিয়ম তুলে ধরে মনিরকে চিঠি দেন। কিন্তু মনির এসবের তোয়াক্কা করেননি।

মনিরের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ ইয়াসীন গাজী এ প্রতিবেদককে জানান, রিমান্ডের প্রথম দিনে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। আর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেবেন। এ ছাড়া এনবিআরের কাছে তার ট্যাক্স ফাইলও চাওয়া হয়েছে।

সূত্র জানান, রাজউকের সবকিছু নিজের কব্জায় নেওয়ার পর গণপূর্ত অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন গোল্ড মনির। বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি সোচ্চার হন। এ ক্ষেত্রে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিককে সঙ্গে নিয়ে গণপূর্তে ঠিকাদারি কাজে নেমে পড়েন। প্রভাবশালী ওই ঠিকাদারকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের কিছু প্রভাবশালী মহলকে কাজে লাগিয়ে সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ে তার অনুসারী প্রকৌশলীদের বসানোর জোর তৎপরতা শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, গোল্ড মনিরের সেকেন্ড হোম রয়েছে মালয়েশিয়ায়। তিনি পলাতক বিএনপি নেতা বাড্ডার একসময়ের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাইয়ুমের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত। বিএনপি জোট আমলে নামে-বেনামে প্লট বরাদ্দ করিয়ে নেন। ২০০০ সালের শেষের দিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, জমির জাল দলিলসহ গোল্ড মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। অপহরণ, চোরাচালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে তার নামে একাধিক মামলা। ডিআইটি প্রজেক্টে অন্যের নামে থাকা একাধিক প্লট দখল করে নিয়েছেন তিনি। আমদানিনিষিদ্ধ পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যক্তিগত চলাচলে ব্যবহার করতেন গোল্ড মনির। গাউছিয়ায় থাকা তার একটি সোনার দোকানকে চোলাচালানের সোনা বিক্রির হটস্পট হিসেবে পরিণত করেন মনির।

এসব নিয়ে কখনো বলতে চাইনি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:৫৮ অপরাহ্ন

এসব নিয়ে কখনো বলতে চাইনি

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

বাংলাদেশ প্রতিদিনের শুরু থেকেই নিয়মিত লিখি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের খোলা কলামে লেখা কারও পক্ষে-বিপক্ষে, কাউকে ছোট-খাটো করা বা ভাবমূর্তি নষ্ট করা নয়। আমার বিবেক আমার অন্তরাত্মা যখন যা বলে তাই কলমের ডগায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমি একজন খুবই ছোট মুক্তিযোদ্ধা, কখনো কলমযোদ্ধা ছিলাম না। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক প্রিয় নঈম নিজামের চাপাচাপিতে একসময় বাধ্য হয়ে লিখতাম। লিখতে লিখতে পাঠকের ভালোবাসায় এখন লেখাটা একটা দায়িত্ববোধের পর্যায়ে চলে এসেছে। যাদের ভালোবাসি তাদের প্রতি কিছুটা দুর্বল, তাই বলে অন্ধ নই। সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা যেমন বলার চেষ্টা করি, নিজের ব্যাপারেও বলি। জ্ঞানের অভাবের কারণে হয়তো অনেক সময় অনেক কিছু বলতে পারি না বা বলি না। জীবনের বিরাট অংশ হেলাফেলাতেই চলে গেছে। ছেলেবেলায় লেখাপড়ায় মন বসেনি। লেখাপড়ায় আকর্ষণ সৃষ্টি করার মতো গুরু পাইনি। একজন আদর্শ শিক্ষক পেয়েছিলাম শ্রী দুখীরাম রাজবংশীকে। কিন্তু কী কারণে তখনই লেখাপড়া ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। তাই সেই গুরুর সান্নিধ্যও খুব একটা বেশিদিনের নয়। গুরু আমার একজনই, ভালোওবাসি একজনকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যৌবনে কোনো নারীর সঙ্গে প্রেম করিনি, কোনো নারী আমায় ভালোবেসে ছিল কিনা জানি না। আমার মা আমার কলিজা। আমার মা-ই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। বাবার শৌর্যবীর্য পেয়েছি, কিন্তু আদর-সোহাগ পেয়েছি মায়ের। মায়ের বাইরে বঙ্গবন্ধুই আমার প্রথম এবং শেষ প্রেম। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে দেশকে ভালোবাসতে শিখেছি। আর এ পথে এসেছিলাম বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে দেখে। তিনিও আমাকে হাতে কলমে তেমন কিছু শেখাননি, কিছু বলেননি। বঙ্গবন্ধুও ছিলেন অনেকটা সেই একই রকম। তাঁর দু-একটা কথা আমাকে শিক্ষা দিয়েছে, অনুপ্রাণিত করেছে। বড় ভাইও বলেননি। দু-একবার কোনো কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে বড়জোর বলতেন, ‘তুই পারবি’। আমি পারব তার এই বলাই ছিল আমার জন্য পরম আশীর্বাদ। মুক্তিযুদ্ধে আমার কোনো কৃতিত্ব ছিল বলে মনে হয় না। কৃতিত্বের যা কিছু তার প্রায় সবটুকুই ছিল দেশবাসী ও যোদ্ধাদের। বীর যোদ্ধারা সর্বস্ব দিয়ে আমায় মান্য করেছে, বিশ্বাস করেছে, আমার কথা শুনেছে। তাই আমি মুক্তিযুদ্ধের নেতা। হ্যাঁ, এটা সত্য, কাউকে আগে দিয়ে পেছনে পড়ে থাকিনি। সব সময় আগে থাকার চেষ্টা করেছি এবং পরম আন্তরিকতার সঙ্গে করেছি। স্বাধীন দেশে বেঁচে থাকব এমন প্রত্যাশা ছিল না কখনো। পরম আকুতি ছিল দেশ মুক্ত হবে, স্বাধীন হবে। দেশের মানুষের মানসম্মান আর জীবন নিরাপদ হবে। তাই সর্বস্ব ত্যাগ করে যুদ্ধ করেছি। কেন যেন সব সময় মন কাঁদত, জয়ী না হলে বঙ্গবন্ধুকে পাব না। পিতৃহীন এতিম সন্তানের কোনো মর্যাদা নেই, নিরাপত্তা নেই। তাই জয়ী আমাদের হতেই হবে। পরম করুণাময় আল্লাহ আমার কান্না শুনেছেন তাই জয়ী হয়েছি, এখনো বেঁচে আছি। মানুষের ছোট্ট জীবন। বেঁচে থাকা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তবু কেন যেন এখন আর বেঁচে থাকার তেমন সার্থকতা খুঁজে পাই না। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামের রবিবারের ‘পি কে হালদারের আড়ালের গুরু ও মাফিয়া পতন কাহন’ পড়ে বড় ভালো লেগেছে। আমিও আড়ালের গুরু খুঁজছি, দিন-রাত খুঁজছি। কিন্তু কোনো কিনারা করতে পারছি না। আমরা কুয়োর ব্যাঙ, জাহাজের খবর রাখি কী করে? মফস্বল শহরে বড় হয়েছি ঢাকার চুনোপুঁটিও আমার থেকে বড়। এখন যেমন খোলা কলাম, ঠিক তেমনি ‘বজ্রকথন’ নামেও কয়েক বছর আমার কলাম ছাপা হয়েছে। পত্রিকা যখন যেটা উপযোগী মনে করে, ভালো মনে করে তখন সেটাই করে। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে নিয়ে কখনো লিখতে হবে, পক্ষে-বিপক্ষে যেদিকেই হোক কখনো ভাবিনি। সেদিন যেটা লিখেছিলাম ‘হ্যায় আনোয়ারুল আলম শহীদ’ সেটাতেও আমার ইচ্ছা ছিল না। সত্যিই কাদেরিয়া বাহিনীর অসংখ্য যোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর অনুষ্ঠানে আনোয়ারুল আলম শহীদের কথাবার্তায় ভীষণ বিরক্ত ও কষ্ট পেয়েছে, অনেকে তার অস্তিত্ব হারানোর অসহায়ত্ববোধ করেছে। কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্য হয়ে তিনি কাদেরিয়া বাহিনীকেই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন- এটা সত্যিই এক গুরুতর অপরাধ। তার কথা বলতে গিয়ে অনুষ্ঠানের প্রাণপুরুষ নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সম্পর্কে দু-এক কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। তাঁর ১৩ নভেম্বরের ‘মুক্তিযোদ্ধারা একে অন্যকে খাটো করলে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়’ লেখাটির মধ্যে আমি খুব একটা আপত্তিকর কিছু দেখিনি। এ পৃৃথিবীতে নিজের ত্রুটি খুব বেশি মানুষ দেখে না, দেখতে পারে না। এটা মানবের ধর্ম। বুঝে না বুঝে নিজের অনেক ত্রুটিকেও মানুষ গুণ বলে মনে করে। এ পর্যন্ত যত বই পড়েছি, জীবনী পড়েছি মহাত্মা গান্ধী তাঁর সম্পর্কে কিছুটা বলতে চেষ্টা করেছেন। তাই আমরা ছাপোষা মানুষ কী বলতে পারি? তাঁর প্রচেষ্টা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তুলে ধরা, তাঁর সম্পর্কে দেশবাসীকে ধারণা দেওয়া, প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা। কিন্তু আমি যে কয়টা অনুষ্ঠান দেখেছি তাতে তেমন মনে হয়নি। বরং বিপরীতটাই মনে হয়েছে। তাঁর অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ মহিমান্বিত না হয়ে মুক্তিযুদ্ধ একটি খেলার বস্তুতে পরিণত হচ্ছে। যাদের স্বার্থ আছে তাদের অনেকেই হয়তো আমার সঙ্গে একমত হবেন না। আবার নিঃস্বার্থরা এক পা এগিয়ে বলবেন, আমি ঠিক বলেছি। হ্যাঁ এটা সত্য, ১০ নভেম্বরের লেখা কোনোমতেই নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে উদ্দেশ করে ছিল না। আলোচনার মধ্যে পারিপার্শ্বিক কারণে তাঁর নাম এবং কর্মকান্ড এসেছে। আমি তাঁকে নিয়ে দু-তিনটি কথা বলেছিলাম। তার মধ্যে একটি নাট্যকার সেলিম আল দীনের লাশের সামনে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর বক্তৃতা। সেলিম আল দীনের লাশের সামনে বক্তৃতার একসময় অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেছিলেন, আমরা সেলিম আল দীনের চিকিৎসার জন্য ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু আমরা তাঁর চিকিৎসার সুযোগ পেলাম না। আমি এইটুকুই জানতাম। পরেরটুকু জানতাম না।

১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১, স্বাধীন বাংলাদেশে পল্টনের প্রথম জনসভায় বাঁ থেকে আনোয়ারুল আলম শহীদ, অচেনা, প্রিন্সিপাল হুমায়ুন খালিদ এমএনএ, লতিফ সিদ্দিকী, হাতেম আলী তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম এবং বক্তৃতারত লেখক।

ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি, খুঁটার জোরে পাঁঠা কোঁদে। শহুরের উচ্চমার্গের মানুষ নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। তাঁর খুঁটা কোথায় জানি না। তবে বাংলাদেশ প্রতিদিনে ৪-এর পৃষ্ঠার লেখায় অমন অসাধারণ ওলটপালট আগে কখনো দেখিনি। সৃষ্টি থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনে ৪-এর পৃষ্ঠার প্রথম ২ কলাম সম্পাদকীয় ১-২ করে নিচের দিকে অর্ধেক পর্যন্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি। তারপর খোলা কলাম ৫ কলাম। জায়গা থাকলে নিচের দিকেও কোনো উপসম্পাদকীয়। সব সময় ৮ কলামে জীবনধর্মী কথাবার্তা, ইসলামী অনেক কিছু। এভাবেই চলে এসেছে দীর্ঘদিন। কিন্তু নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর লেখাতেই শুধু দেখলাম ৮ কলামে কোনো লেখা নেই, পুরোটাই তার। যাক, যার যেমন খুঁটার জোর- এ নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ কী? সেলিম আল দীনের লাশের সামনে আমি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর মুখে ৬০ লাখ শুনেছিলাম, ৬০ লাখ লিখেছি। আরও কত কী করেছেন সেসব আমার জানার কথা নয়, দরকারও নেই। তাঁর স্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট করেছেন ভালো কথা। এসব নিয়েও আমি চিন্তা করি না। সেদিন সেলিম আল দীনের লাশ যারা বহন করেছেন তাদের মধ্যেও কোনো কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়েছে। সেলিম আল দীনের চিকিৎসার জন্য তোলা টাকায় কল্যাণ ট্রাস্ট করার পর পাঁচতারা হোটেলে ভোজসভা করা হয়েছে- সে কথাও কেউ কেউ বলেছেন। তাদের মধ্যে দু-এক জন এমনও বলেছেন, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুরা শুধু জিয়াউর রহমানকে সমর্থনই করেননি, তার কাছ থেকে কয়েকজন মিলে দেদার মোটর গাড়ির ব্যবসা-বাণিজ্য বাগিয়ে নিয়েছিলেন। দেখি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু আবার কী লিখেন। তারপর নিশ্চয়ই এ সম্পর্কে দু-চার কথা লিখব। তিনি আর অগ্রসর না হলে এদিকে সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই।

ভদ্রলোক এও লিখেছেন, জনাব আনোয়ারুল আলম শহীদ এখন জ্ঞানহীন হাসপাতালে- এ দিয়ে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন আমার ঠিক বোধগম্য হলো না। কারও গিল্লা গাওয়া আমার স্বভাব নয়। দুর্বলেরা ওসব করে। আমি তেমন সবল না হলেও অমন দুর্বল নই। আর মানুষের ভালোটা ছাড়া খারাপ আমার খুব একটা চোখে পড়ে না। আনোয়ারুল আলম শহীদকে নিয়ে লিখতে না গেলে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নাম হয়তো আমার কলমে আসত না। আনোয়ারুল আলম শহীদ মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন, কাদেরিয়া বাহিনীতে ছিলেন এটা স্বতঃসিদ্ধ।

জীবন চলার পথে সব সময়ই অনেকের চোখের বালি, পথের কাঁটা হয়েছি। কিন্তু ভালোবাসার মানুষেরও অভাব হয়নি। দুই হাত তুলে দোয়া করার মানুষও পেয়েছি বেশুমার। তাই যতক্ষণ চোখ ঝাপসা হয়ে না আসছে ততক্ষণ যা দেখব যা সত্য বলে মনে হবে তাই বলতে বা লিখতে চেষ্টা করব। কারও ভ্রুকুটিকে পরোয়া করব না।

ইয়াবার বিকল্প যখন ‘ট্যাপেন্টাডল’

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:৫০ অপরাহ্ন

ইয়াবার বিকল্প যখন ‘ট্যাপেন্টাডল’

ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ব্যথানাশক ট্যাবলেট ট্যাপেন্টাডল। আগে দেশে পাওয়া গেলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তদারকির কারণে বর্তমানে এর উৎপাদন বন্ধ। তবে সীমান্ত গলিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসছে এই ট্যাবলেট। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। দেশজুড়ে যখন ইয়াবার বিরুদ্ধে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তখন মাদকসেবীদের কাছে এর বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ব্যথানাশক ট্যাবলেট ট্যাপেন্টাডল। মাদক হিসেবে নতুন ব্যবহৃত এই ট্যাবলেট সম্পর্কে আগে থেকে তেমন ধারণা ছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাফরুল্ল্যাহ কাজল জানান, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট দেশে মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে- তা প্রথম জানা যায় গত জানুয়ারিতে। বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁর বেশ কয়েকটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মাদকাসক্তদের সঙ্গে কথা বলে এই ধারণা পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এরপর তিনি বিষয়টি জানিয়ে মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ট্যাপেন্টাডল গ্রুপের ট্যাবলেটকে ‘খ’ তফসিলভুক্ত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।ভারত থেকে অবাধে এই ট্যাবলেট পাচার হয়ে আসছে দেশে। সম্প্রতি রাজশাহী মহানগর পুলিশ এই ট্যাবলেটের বড় একটি চালান উদ্ধার করেছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, ট্যাপেন্টাডলের একটি বড় চালান পুলিশ উদ্ধার করেছে। তারা মাদকসেবীদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছেন এই ট্যাবলেট এখন ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেবন কৌশলও ইয়াবার মতো।

আরএমপি কমিশনার আরও জানান, নতুন মাদক ট্যাপেন্টাডল দেখতে ইয়াবার মতো। কিন্তু ইয়াবা নয়। এটি মূলত ব্যথানাশক ওষুধ। ইয়াবা আর হেরোইনের বিকল্প হিসেবে এ ট্যাবলেটই বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্যাবলেট গুঁড়ো করে ইয়াবা আর হেরোইনের মতো করেই সেবন করছেন মাদকসেবীরা। রাজশাহীতে এ ধরনের মাদক উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিন আরা জানান, তীব্র ব্যথায় মরফিনের বিকল্প হিসেবে ট্যাপেন্টাডল রোগীদের দেওয়া হতো। তবে মাদক হিসেবে এটি ব্যবহার করায় এখন আর রোগীদের এ ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে না। ট্যাপেন্টাডলের অতিরিক্ত ব্যবহার মাদকসাক্তদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।

বিবিসির প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় বাংলাদেশি দুজন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:৩১ অপরাহ্ন

বিবিসির প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় বাংলাদেশি দুজন

এ বছর বিশ্বের অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি। করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভিন্নধর্মী অবদানের জন্য তাঁদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের দুই নারী। তাঁরা হলেন রিনা আক্তার ও রিমা সুলতানা।

রিনা আক্তার।

তালিকায় ৬ নম্বরে রয়েছেন রিনা আক্তার। ৮ বছর বয়সে রিনাকে তাঁর এক স্বজন যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেন। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন। যৌনকর্মী রিনা অন্য যৌনকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করেছেন। করোনা মহামারির সময় রিনা ও তাঁর সহায়তাকারীরা কাজ হারানো যৌনকর্মীদের খাবারের বন্দোবস্ত করেন। সপ্তাহে তিনি ৪০০ জনের খাবার সরবরাহ করেন। এসব খাবারের মধ্যে ছিল ভাত, সবজি, ডিম ও মাংস।

বিবিসির খবরে জানা যায়, রিনা বলেন, ‘যৌনকর্মীরা যাতে ক্ষুধার্ত না থাকেন, আমি সেই চেষ্টা করেছি। তাঁদের সন্তানেরাও যেন এ কাজ করতে বাধ্য না হয়, সেই চেষ্টা করেছি।’
রিনা আক্তার যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্জয় নারী সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক। আর যৌনকর্মী সংগঠনগুলোর জোট সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশের সদস্য।বিজ্ঞাপন

প্রভাবশালী নারীর তালিকায় আরেক বাংলাদেশি নারী হলেন রিমা সুলতানা। তিনি কক্সবাজারে ইয়ং উইমেন লিডারস ফর পিসের সদস্য। এটা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নারী অধিকার সংগঠন গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব উইমেন পিসবিল্ডার্সের কর্মসূচির অংশ। সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নারীদের উন্নয়নে কাজ করছে এই সংস্থা।

রিমা সুলতানা ।
রিমা সুলতানা । 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক উন্নয়নে কাজ করছেন রিমা। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী বিশেষ করে নারী ও মেয়েশিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন।

রিমা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমি অধিকার আদায়ে নারী ও মেয়েশিশুদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। আমরা উন্নতি করব।’

করোনায় আক্রান্ত এ বিশ্ব এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে আছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন নারী লড়াই করে যাচ্ছেন পরিবর্তিত এ পরিস্থিতির সঙ্গে। বিবিসির তালিকায় অগণিত নারীকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তালিকার প্রথম স্থানটি রাখা হয়েছে তাঁদের স্বীকৃতি দিতে। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘আনসাং হিরো’।

যৌনকর্মীরা যাতে ক্ষুধার্ত না থাকেন, আমি সেই চেষ্টা করেছি। তাঁদের সন্তানেরাও যেন এ কাজ করতে বাধ্য না হয়, সেই চেষ্টা করেছি।

রিনা আক্তার

১০০ নারীর তালিকায় আরও রয়েছেন ইথিওপিয়ার ফুটবলার লোজা আবেরা জেইনোরে, মরক্কোর র‌্যাপার হুদা আবুজ। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের চারজন, পাকিস্তানের দুজন, আফগানিস্তানের দুজন এবং নেপালের একজন নারী রয়েছেন।

ভারতের বিলকিস বানু (৮২) বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন। আছেন আফগানিস্তানের রোবোটিকস টিমের নেতা সোমা ফারুকি। তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসায় কম খরচে ভেন্টিলেটর তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। তালিকায় আছেন ভারতের সংগীতশিল্পী ইসাইবানি। আছেন ভারতের অ্যাথলেট মানসি যোশি।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী সারাহ গিলবার্টও রয়েছেন প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায়। করোনাভাইরাসের টিকা তৈরিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন সারাহ ও তাঁর দল।

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিনও রয়েছেন ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায়। রয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান। যৌনসহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার মাহিরা।

লেবাননের নারী আন্দোলনকর্মী, সাংবাদিক হায়াত মিরশাদও রয়েছেন এই ১০০ নারীর তালিকায়।

বিবিসির বিভিন্ন ভাষার নেটওয়ার্ক টিমের সমন্বয়ে নামের এই তালিকা করা হয়। সেখানে যেসব নারীদের কাজ নিয়ে বছরের আলোচিত খবর হয়েছে সেগুলো প্রাধান্য পায়। খবরে না আসা নারীদেরও তুলে ধরা হয়।

মায়ের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে ৯ মাস ধরে বসবাস

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:২৩ অপরাহ্ন

মায়ের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে ৯ মাস ধরে বসবাস

কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া বান্দ্রায় মায়ের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস এক ঘরে কাটিয়েছেন মেয়ে। শনিবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলে বান্দ্রার চুইম গ্রামে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, লকডাউন চলাকালে গত মার্চেই ওই নারীর বৃদ্ধা মা মারা যান। কিন্তু তিনি মায়ের মরদেহ আগলে রেখে এক ঘরেই বাস করছিলেন।

এক প্রতিবেশী জানান, প্রায়ই ওই নারীকে জানালা দিয়ে আবর্জনা ফেলতে দেখা যেত। আবর্জনা ফেলার জন্য বাড়ির ওই জানালাটাই শুধু খুলতেন তিনি। অন্য দরজা-জানালা বন্ধ থাকত বলে দাবি ওই প্রতিবেশীর।পুলিশ জানিয়েছে, কেন দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখা হত, তা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। শনিবার এক প্রতিবেশী বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ এসে ওই নারীর বাড়িতে ঢুকতেই দেখতে পান বিছানার ওপর পড়ে রয়েছে অস্থিচর্ম গলে যাওয়া এক বৃদ্ধার দেহ।

প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাড়িতে ওই নারী তার মাকে নিয়েই থাকতেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। তাছাড়া ওই নারীর মানসিক কিছু সমস্যা থাকায় প্রতিবেশীরাও তাকে এড়িয়ে চলতেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, মানসিক অসুস্থতার জন্যই হয়তো কাউকে মায়ের মৃত্যু সম্পর্কে জানাতে সাহস পাননি তিনি। তাই মায়ের মরদেহ ঘরে রেখেই তার সঙ্গে বাস করছিলেন ওই নারী।

প্রতিবেশীরা পুলিশকে আরও জানিয়েছে, কয়েক বছর আগে ওই পরিবারের একটি পোষ্য কুকুর মারা গিয়েছিল। তার শেষকৃত্য না করে দীর্ঘদিন ধরে ঘরেই রেখে দিয়েছিলেন ওই নারী ও তার মা।

স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে, কীভাবে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হল এবং এ সংক্রান্ত বহু প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি ওই নারী। আপাতত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার

মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান ও লাঞ্ছিত সংবাদ সম্মেলনে আত্মহত্যার ঘোষণা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৩ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ১১:১২ অপরাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান ও লাঞ্ছিত সংবাদ সম্মেলনে আত্মহত্যার ঘোষণা

আশাশুনিতে পুলিশের বিরুদ্ধে দুই মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আত্মহত্যার ঘোষণাও দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা দীনেশ চন্দ্র সরকার।

সোমবার দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের মৃত মানিক চন্দ্র মন্ডলের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা দীনেশ চন্দ্র মন্ডল লিখিত ও মৌখিকভাবে জানান, রোববার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় আমি আমার ডায়াং চায়না মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে আশাশুনিতে আসার সময় আশাশুনি বাইপাস হাইওয়ে ৩ রাস্তার পাশের্^ (দক্ষিণে) এসআই জুয়েল আমাকে গাড়ী থামাতে বলে। তার নির্দেশমত গাড়ী থামাই। পরে এক কনস্টেবল সোহাগ আমাকে বলে এই গাড়ী রাস্তার পাশের্^ আন। আমি বলি কাকা কি হয়েছে বলেন ? তিনি বলেন, রাস্তার উপরে কথা বলবো না। গাড়ী রাস্তার পাশে আন। এরপর তিনি রুক্ষ মেজাজে বলেন-এই … (অশ্রাব্য শব্দ) লাইট লাগাইছ কেন ? তখন আমি বলি কাকা আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাছাড়া আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। আমার ছেলে পুলিশে চাকরি করে। ভদ্রভাবে কথা বলেন! তখন সে বলে ওই…(অশ্রাব্য) পরিচয় বাদ দে! বুকের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার মনোগ্রাম দেখে বলেন ওইসব (প্রকাশ উপযোগী নয় শব্দ) গালাইছ কেন। ওসব খুলে ফেল।

এই বলে গাড়ীর লাইটটা প্লাস দিয়ে কেটে নেয়। পরে হর্ন কাটার জন্য প্লাস বের করে একটি হর্ন কাটতে যায়। আমি তখন বাঁধা দেই। সে বলে দুটি হর্ন রাখা যাবে না। আমি বলি ৮০ সিসি চায়না গাড়ীতে কোম্পানী ২টি হর্ন লাগিয়ে দিয়েছে। এটা আপনি কাটবেন কেন ? সে বাঁধা না মানলে, আমি বলি ঘটনাটি আমি এসপিকে বলব। সে তার পরিহিত পান্টের চেইন খুলে দিয়ে আমাকে বলে আমার …(প্রকাশ উপযোগী নয় এমন শব্দ) ছিড়ে নিস। এ সময় সেখানে শতাধিক পথচারী উপস্থিত ছিল। আশেপাশের দোকানদারও আমার সঙ্গে কি ব্যবহার হয়েছে, তা দেখেছে। ঘটনাটি শুধু আমার সঙ্গে ঘটেনি। আমার আগে অপর এক মুক্তিযোদ্ধা আফসার গাজীকেও একইভাবে অপমান করা হয়েছে বলে ওই সময় জেনেছি। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা আফসার গাজীর গাড়ীর সামনে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত স্টিকার ছিড়ে ফেলে দিতে উদ্যত হয় ওই পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ। তিনি বক্তব্যের এক পর্যয়ে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বিষের বোতল এক হাতে নিয়ে বলেন, এহেন অপমান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের জন্যে অতীব দু:খজনক এবং আত্মহত্যার শামিল। ওই পুলিশ কনস্টেবল কোন পরিবার থেকে এসেছে, কার ইন্ধনে এ সব কথা বলেছে, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য এবং ন্যায় বিচার পাবার জন্য প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সঠিক বিচার যদি না পাই তাহলে আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবো। এ ঘটনায় তিনিসহ মুক্তিযোদ্ধা আফছার গাজী বিষয়টি লিখিতভাবে ওই দিন সন্ধ্যায় লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মৌখিকভাবে থানা অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফছার আলী গাজী, আব্দুর করিম, কার্ত্তিক চন্দ্র মন্ডল, মাষ্টার আকবর আলীসহ প্রায় ডজনাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

সাতক্ষীরায় গাড়িতে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে প্রতারণা: ৭ জন গ্রেপ্তার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৩ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ১১:০৪ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় গাড়িতে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে প্রতারণা: ৭ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় প্রাইভেটকারে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে টাকা আদায়কালে ৫ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এছাড়া পৃথক অভিযানে ভেজাল কোমল পানীয় তৈরী করে বাজারঘাটে বিক্রির অভিযোগে আরও দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ নভেম্বর) সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, খুলনার পাইকগাছার কাটিপাড়া গ্রামের আশরাফুল গাজী ওরফে রাজু ওরফে এডি পাশা, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আবু সাঈদ, গোপালপুরের নির্মল সরকার, পাইকগাছার গদাইপুর ইউপি সদস্য হাকিম গাজী ও চরমুলই গ্রামের আজিবর রহমান। এদের মধ্যে এডি পাশা নিজেকে ভারতের মুকেশ আম্বানীর কোম্পানির লোক বলে পরিচয় দিয়ে আসছিল। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ভেজাল কোমল পানীয় বিক্রেতারা হল আজিজুল হক রাজু ও আল ইমরান।

সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইয়াসিন আলম চৌধুরী জানান, ১০ লাখ টাকা দিলে তার বিনিময়ে ৭ কোটি টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে এমন কথা বলে কয়েক দফায় প্রতারক চক্রটি আবুল ফয়েজ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করে। তাদের কাছে মূল্যবান সীমানা পিলার ও তক্ষক সাপ রয়েছে। এডি পাশাকে বস হিসেবে দেখিয়ে তারা ফয়েজের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা আদায় করে আসছিল। সোমবার সকালে শহরের পলাশপোল এলাকার ‘কোলকাতা শপিং কমপ্লেক্স’ এর ৩য় তলায় এই ধরনের প্রতারণা করে আরও টাকা লেনদেনের সময় হাতেনাতে পাঁচ প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় যায় মো. আলাউদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর, আসলাম সরদার ও মো. শাহীন আরও চারজন পালিয়ে যায়। তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকার, কয়েকটি ভুয়া ভিজিটিং কার্ড এবং অন্যান্য জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে। অপরদিকে, ভেজাল কয়েক বস্তা পানীয়সহ আজিজুল হক রাজু ও আল ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৪৩তম বিসিএসে ১৮১৪ জন নিয়োগের উদ্যোগ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৩ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

৪৩তম বিসিএসে ১৮১৪ জন নিয়োগের উদ্যোগ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৩তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৮১৪ জনকে নিয়োগ দিতে সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) চাহিদা পাঠিয়েছে। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, ৪৩তম সাধারণ বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ৮৪৩ জন, প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১০০ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫ জন, অডিটে ৩৫ জন, ট্যাক্সে ১৯ জন, কাস্টমসে ১৪ জন, সমবায়ে ২০ জন, ডেন্টাল সার্জন পদে ৭৫ জন এবং অন্যান্য ক্যাডারে ৩৮৩ জনকে নিয়োগের জন্য পিএসসিতে চাহিদা পাঠানো হয়।

সাকিবকে ক্ষমা চাইতে হলো কেন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৯ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

সাকিবকে ক্ষমা চাইতে হলো কেন

আমি প্রথম সাকিব আল হাসানের ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওটি দেখেছি, কয়েক ঘণ্টা পর পেলাম সাকিবকে খুন করার হুমকি দেওয়া ভিডিও। এই দুটো ভিডিও দেখে দেশের পরিস্থিতি অনুমান করা যায়। কেন লোকেরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগা কিছুতেই সহ্য করতে পারে না, একেবারে খুন করার পরিকল্পনা করে ফেলে। আর কেনই বা এদের কাছে নমস্যদের ক্ষমা চাইতে হয়।। সাকিব নাস্তিক নন, রীতিমতো আস্তিক। সাকিব হিন্দু নন, বৌদ্ধ নন, খ্রিস্টান নন, ইহুদি নন, তিনি একজন গর্বিত মুসলমান, হজ পর্যন্ত করে এসেছেন। তা হলে তাঁকে কেন টার্গেট করা হলো? এ সময় আমার মনে পড়ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটে যাওয়ার পর নাৎসিদের অত্যাচার এবং বুদ্ধিজীবীদের স্বার্থপরতা নিয়ে জার্মান প্যাস্টর মার্টিন নিমোলারের সেই বিখ্যাত স্বীকারোক্তি- ‘’প্রথমে ওরা কম্যুনিস্টদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি কম্যুনিস্ট নই।

তারপর ওরা সোশ্যালিস্টদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি সোশ্যালিস্ট নই।তারপর ওরা ট্রেড ইউনিওনিস্টদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি ট্রেড ইউনিওনিস্ট নই।

তারপর ওরা ইহুদিদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি ইহুদি নই।

তারপর ওরা আমার জন্য এলো, তখন কেউ আর ছিল না প্রতিবাদ করার।‘’

ঠিক এরকম করে বলা যায়,

‘’প্রথমে ওরা হিন্দুদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি হিন্দু নই।

তারপর ওরা বৌদ্ধদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি বৌদ্ধ নই।

তারপর ওরা খ্রিস্টানদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি খ্রিস্টান নই।

তারপর ওরা নাস্তিকদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি নাস্তিক নই।

তারপর ওরা মুক্তচিন্তকদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি মুক্তচিন্তক নই।

তারপর ওরা সমকামীদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি সমকামী নই।

তারপর ওরা নামাজ-রোজা-না-করা-মুসলমানদের জন্য এলো, আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ আমি নামাজ-রোজা-না-করা-মুসলমান নই।

তারপর ওরা যখন আমার জন্য অর্থাৎ সাচ্চা মুসলমানদের জন্য এলো, তখন মাথা নুইয়ে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আমার আর কোনও উপায় ছিল না।‘’

যদি আজকে কেউ ওরকম লম্বা রাম’দা দেখিয়ে বলতো, সাকিবকে ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিতে হবে, তা না হলে তাঁকে কুচি কুচি করে কেটে ফেলবো। তাহলে কি সাকিব খেলা ছেড়ে দেবেন? দেবেন না। কেউ যদি কোনও মন্ত্রীকে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, কাউকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বা কাউকে চাকরি বাকরি ব্যবসাপাতি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, তাহলে কি কেউ কিছু ছেড়ে দেবেন? দেবেন না। কিন্তু কেউ যদি বলে আমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছিস, তোর আর রক্ষে নেই, তখন সবাই পড়ি কী মরি করে ক্ষমা চাওয়া, যাবতীয় কিছু ত্যাগ করা, দেশান্তরি হওয়া- সব করতে রাজি। কেন? কারণ দিনে দিনে বাংলাদেশে পঙ্গপালের মতো বেড়েছে অনুভূতি নিয়ে রাজনীতি করা বা ব্যবসা করার লোকদের সংখ্যা। এরা অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত এই অজুহাতে যে কাউকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে। আমরা গত কয়েক বছরে এই নৃশংস হত্যাকা-গুলো দেখেছি। কত প্রতিভাবান মুক্তচিন্তকদের রক্তে লাল হয়েছে বাংলাদেশের রাজপথ! সমাজের মাথারা, রাষ্ট্রের সেবকরা, দেশের শাসকেরা তখন অনুভূতিওয়ালাদের দোষ না দিয়ে দোষ দিয়েছেন মুক্তচিন্তকদের, কেন তারা মুক্তচিন্তা করতে গেল, কেন অন্যের অনুভূতিতে আঘাত দিল। তখন তো অনুভূতি-ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো।

তারা দিনরাত যুবসমাজকে হিংসে, ঘৃণা আর কুবুদ্ধি দিয়ে মগজধোলাই করছে। মগজধোলাইয়ের কাজ প্রকাশ্য দিবালোকেই করে, লুকিয়ে চুরিয়ে কিছু করতে হয় না। মগজধোলাই করার লাইসেন্স তারা বৈধভাবেই পেয়েছে।

কোথায় আজ উদারনৈতিক ইসলাম? ধীরে ধীরে সেটি বিলুপ্ত হচ্ছে বাংলাদশে। সে কারণে সুফি মতবাদের ওপর, বাউল ফকিরদের ওপর হুমকি আসে। উদারনৈতিক ইসলামকে হটিয়ে দিয়ে আনা হয়েছে সালাফিদের কট্টরপন্থি ইসলামকে, যে ইসলামে বিশ্বাস আইসিস, আল কায়দা, আল শাবাব, বোকো হারামের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর।

মহসিন তালুকদারকে কে বা কারা জিহাদি বানিয়েছে তা তার ভয়াবহ কুৎসিত বীভৎস বিবৃতিতেই স্পষ্ট। দুজন ওয়াজ-ব্যবসায়ীর নাম সে উল্লেখ করেছে। ওয়াজ-ব্যবসায়ীরা তো সরকারের দেওয়া ছাড়পত্র নিয়েই শহরে নগরে গ্রামেগঞ্জে যুবসমাজকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করছে।

তাহলে মহসিন তালুকদারকে কারা তৈরি করেছে, এ ব্যাপারে আমাদের নিশ্চয়ই ধারণা জন্মেছে। সাকিবের মতো সাচ্চা মুসলমানকে আজ জিহাদিদের আদেশ অনুযায়ী ক্ষমা ভিক্ষে চেয়ে বাংলাদেশে বাস করতে হয়। এই বাংলাদেশকে দেখলে বিশ্বাস হয় না যে লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ বুকে নিয়ে একদিন এর জন্ম হয়েছিল। মহসিন বলেছে, সে মরে যাবে এতে তার আপত্তি নেই, কিন্তু তার অনুভূতিতে যে আঘাত করেছে, তাকে মেরে মরবে। ধর্মের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করলে যে পরকালে জান্নাত মিলবে, এও তাদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ কারণে অনুভূতিতে আঘাত লাগার ছুতোয় তারা রাম’দা, চাপাতি, তলোয়ার, বোমা কিছুই হাতে নিতে দ্বিধা করে না।

প্রকৃত শিক্ষা থেকে শিশু-কিশোর আর যুবসমাজকে বঞ্চিত করছে বাংলাদেশ। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাক-স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনও ধারণা না নিয়ে বড় হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। সাকিব আল হাসানকে আজ মাথা নোয়াতে হতো না যদি আজ দেশের মানুষ গণতন্ত্রে, ধর্মনিরপেক্ষতায়, অসাম্প্রদায়িকতায়, বাক-স্বাধীনতায়, মত প্রকাশের অধিকারে বিশ্বাস করতো। সাকিবের পরাজয় উদারপন্থার পরাজয়। এই দেশের মানুষকে অসহিষ্ণু, সাম্প্রদায়িক, উগ্র, মূর্খ বানাবার দায় বিভিন্ন সরকারের, এবং সেই সাথে বুদ্ধিজীবী নামক লোকদের নীরবতার। সাকিবকে আজ জবাবদিহি করতে হয় কেন তিনি ম-পে গিয়েছিলেন, কেন তিনি পূজা উদ্বোধন করেছেন। সাকিব আজ বলতে পারেননি তিনি কী করবেন, কী খাবেন, কী পরবেন, কোথায় যাবেন, কী উদ্বোধন করবেন, কী বিশ্বাস করবেন, কতটুকু বিশ্বাস করবেন… সব তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই ব্যক্তি-স্বাধীনতা যদি না থাকে, তবে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকে না। সভ্য হওয়ার জন্য গণতন্ত্র প্রথম পদক্ষেপ।

উগ্রবাদকে আশ্রয় দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাংলাদেশ নিরবধি খুঁড়ে চলেছে সহনশীলতার কবর। সে কি আর আজ থেকে! এর সমাধান কী, তা ভাবতে হবে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সরকারকে। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার স্থূল স্বার্থে যারা উগ্রবাদীদের মদদ দিয়েছেন, তাদেরই দূরদৃষ্টিহীন সিদ্ধান্তে দেশ আজ উগ্রবাদীদের খপ্পরে। এই ভয়ঙ্কর অপশক্তিই আজ সমাজের নিয়ন্ত্রক। সে কারণে মহসিন তালুকদারকে বন্দী করা যায়, কিন্তু দেশের সর্বত্র বিরাজমান অসংখ্য অজস্র মহসিনি-মানসিকতাকে বন্দী করা যায় না। এক একটি মহসিনি-মানসিকতা থেকে লক্ষ মহসিন জন্ম নেবে। যেটুকু গণতন্ত্র অবশিষ্ট আছে, সেটুকু উড়ে যেতে বেশি দিন নেই। সাকিবের মতো সবাইকে তখন নাকে খত দিয়ে, করজোড়ে ক্ষমা ভিক্ষে চেয়ে, কী করেছে, কী খেয়েছে, কী পরেছে, কোথায় গিয়েছে, কী ছুঁয়েছে, কী বিশ্বাস করেছে, তার ফিরিস্তি দিয়ে, তলোয়ারের তলায় গর্দান রেখে বাঁচতে হবে। যাদের তলোয়ার, তাদের বিশ্বাসের চেয়ে তোমার বিশ্বাস কিছু অন্যরকম হয়েছে তো সর্বনাশ, তাদের আদেশের সামান্য অমান্য হলো তো সর্বনাশ, গর্দান কাটা পড়বে।

বাংলাদেশের এই পরিণতি কেন? কারা এর জন্য দায়ী? যারা দায়ী তাদের ভুল সংশোধন করতে হবে। উগ্রবাদের বীজ যাদের সবুজ সংকেত পেয়ে মগজে মগজে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদেরই এখন মগজে মগজে গিয়ে বীজ সরিয়ে ফেলতে হবে। সাকিবের মতো আর কাউকে, কোনও হিন্দুকে বা কোনও মুসলমানকে, কোনও বিখ্যাতকে বা অখ্যাতকে যেন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাদের কোনও অসাম্প্রদায়িক কাজের জন্য, সুস্থ সমাজের স্বপ্ন দেখার জন্য, সৌহার্দ আর সমমর্মিতা, সমতা আর সমানাধিকারকে সম্মান জানানোর জন্য ক্ষমা চাইতে না হয়। আর যেন কাউকে কোনও অসহিষ্ণু শক্তির সামনে মাথা নত করতে না হয়।

এত হতাশা চারদিকে, তারপরও শুভদিনের আশায় বসে থাকি।

                লেখক : নির্বাসিত লেখিকা।

একজন সমেস ডাক্তার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৯ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

একজন সমেস ডাক্তার

কথায় আছে- ‘মনের সাথে মিললে মন-তেঁতুল পাতায় দশজন’। তেঁতুল পাতা না হলেও মনের মিল থাকলে একই ছাদের নিচে অনেকেই একসঙ্গে থাকতে পারেন। তার প্রমাণ ‘সরেরহাট কল্যাণী শিশুসদন’। যেখানে এক ছাদের নিচে একই পরিবারের মতো মিলেমিশে থাকেন ২৩৫ জন মানুষ। এ শিশুসদনটি সম্পর্কে ‘ইত্যাদি’র গত পর্বে আমরা একটি সচিত্র প্রতিবেদন দেখিয়েছিলাম। যেটি ধারণ করা হয়েছিল রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে, প্রচারিত হয়েছিল ২৯ অক্টোবর। প্রতিবেদনটি দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। অনেকেই বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তাদের এ মহৎ কাজ। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর প্রশংসায় ধন্য হয়েছেন এ শিশুসদনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. সামসুদ্দিন সরকার ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা। আমরা প্রতিবারই ইত্যাদি অনুষ্ঠানটি ধারণ করার আগে স্থান নির্বাচন করি। তারপর সে স্থানটিকে ঘিরেই অনুষ্ঠানটি সাজাই, নির্বাচন করতে চেষ্টা করি আমাদের প্রধান প্রতিবেদনগুলো।

আমরা আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্থান, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ইত্যাদি ধারণ করি। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এবারের পর্ব ধারণ করেছিলাম পদ্মাপলি-বিধৌত বরেন্দ্রভূমি ও ইতিহাসখ্যাত পরিচ্ছন্ন নগরী রাজশাহী জেলায়। আর আমাদের ধারণস্থান ছিল এ জেলারই সারদায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি। একসময় এ স্থানটি ছিল মুঘল সম্রাটের সেনানিবাস। প্রাচীন নিদর্শনসমৃদ্ধ অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অভ্যন্তরে ছোটকুঠির সামনে ধারণ করা হয়েছিল ইত্যাদির এ পর্বটি। উল্লেখ্য, গ্রিক-রোমান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ২৫০ বছরের প্রাচীন নিদর্শন এ ছোটকুঠি। একসময় এ ছোটকুঠি বিভিন্ন ব্রিটিশ লর্ড, গভর্নর এবং বিভিন্ন সময়ের শাসকের খন্ডকালীন অস্থায়ী নিবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। দায়িত্বের মাহাত্ম্যকে মহিমান্বিত করতে সেবার প্রথম পাঠ পুলিশ এ একাডেমিতেই শেখে। সাধারণত যেসব স্থানে ইত্যাদি ধারণ করা হয় সেসব স্থানে ইত্যাদি দেখার জন্য উপচে পড়া দর্শকের কারণে আমন্ত্রিত দর্শক ছাড়াও এর আশপাশে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে এবং কোথাও কোথাও দর্শকসংখ্যা লক্ষাধিক হয়। তবে এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। বর্তমানে বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনার কারণে দূরত্বকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতসংখ্যক দর্শক নিয়ে ধারণ করা হয় এবারের ইত্যাদি। অত্যাবশ্যকীয়ভাবে নিশ্চিত করা হয় সব দর্শকের মাস্ক ব্যবহার। আর এখানে ইত্যাদি ধারণের আর একটি বিশেষ কারণ হলো পুলিশ একাডেমি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা।

আমরা যখন যেখানে যাই সে স্থান থেকে প্রচারবিমুখ, জনকল্যাণে নিয়োজিত মানুষদের খুঁজে এনে যেমন তুলে ধরার চেষ্টা করি তেমনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অচেনা-অজানা অনেক বিষয়ও প্রচার করি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা রাজশাহী গিয়েও খুঁজে বেড়িয়েছি মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম কিংবা জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। ডা. সামসুদ্দিন সরকার আমাদের সে চেষ্টারই ফসল।

ডা. সামসুদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যতিক্রমী এ শিশুসদনটি রাজশাহী থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মার তীরে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের সরেরহাট গ্রামে অবস্থিত। শিশুসদন নাম হলেও বর্তমানে এখানে ১৮২ জন অনাথ এতিম শিশুসহ ৪৫ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাও থাকেন। তাই এক অর্থে এটি একটি বৃদ্ধাশ্রমও। প্রথমে এটি শুধু শিশুসদনই ছিল, পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একজন দানশীল ব্যক্তি ফখরুল কবির রিপনের সহযোগিতায় ৪৫ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারও দায়িত্ব নেন তিনি। অন্যান্য এতিমখানার সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানটির পার্থক্য হলো- এখানে এসব শিশু ও আশ্রয়হীন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সঙ্গে সপরিবার থাকেন এর প্রতিষ্ঠাতা। শুধু একসঙ্গে থাকেনই না, খান একই সঙ্গে এক পাকে রান্না করা খাবার। নিজের স্ত্রী-সন্তানসহ ২৩৫ জন সদস্যের এ বিশাল পরিবারকে যিনি এক ছাদের নিচে রেখে লালনপালনের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনিই ডা. সামসুদ্দিন সরকার। স্থানীয়দের কাছে যিনি সমেস ডাক্তার হিসেবে বেশি পরিচিত।

১৯৭১ সালে রণাঙ্গন থেকে ফিরে যুদ্ধে নিহত সতীর্থ যোদ্ধা বন্ধুদের এতিম শিশু সন্তানদের অনাদরে-অবহেলায় ঘুরে বেড়াতে দেখে তাঁর মনটা ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এ শিশুদের নেই কোনো আশ্রয়। স্নেহ-আদর বঞ্চিত হয়ে দিনের পর দিন অনাহারে অবহেলায় বড় হচ্ছে ওরা। কীভাবে ওদের জীবন চলবে, কে ওদের লালনপালন করবে, কে খেতে দেবে দুই বেলা দুই মুঠো খাবার? এসব চিন্তায় সামসুদ্দিনের মনটা ছটফট করতে থাকে। তখন থেকেই অনাথ এ শিশুদের জন্য কিছু একটা করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। আর তাঁর এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে ১৯৮৪ সালে, স্বাধীনতার ১৩ বছর পরে। ১৯৮৪ সালে তিনি স্ত্রী মেহেরুন্নেসাকে বুঝিয়ে দেওয়া মোহরানার টাকা দিয়ে বাঘা উপজেলার সরেরহাট গ্রামে ১২ শতাংশ জমি কিনে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন এ এতিমখানা। এটিই ছিল এ এতিমখানার প্রথম স্থাপনা। সে সময় এখানে ৫৬টি শিশু আশ্রয় পায়।

জগতে মানুষ এতিম হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। প্রতিটি শিশুরই পিতা-মাতা থাকে। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অল্প বয়সেই এ শিশুরা তাদের মা-বাবা অথবা উভয়কেই হারিয়েছে। এ হারানোর পেছনে তাদের কোনো হাত না থাকলেও তারাই হয়েছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমাদের সমাজে এসব শিশুকে আশ্রয় দেওয়ার মানুষের সংখ্যা খুবই কম। অথচ নিজের অভাব-অনটন থাকা সত্ত্বেও এ এতিমদের পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন মহৎ মনের মহান মানুষ সমেস ডাক্তার। পল্লী চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে একসময় তিনি গ্রাম্য ডাক্তারি পেশা শুরু করেন এবং সেখান থেকে যে আয় হতো তা খরচ করতেন এই শিশুদের জন্য। কিন্তু ডাক্তারির স্বল্প আয়ে দীর্ঘদিন এতগুলো মানুষের ভরণপোষণ চালানো ছিল তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই এ শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে একসময় তিনি এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুষ্টি চাল সংগ্রহ শুরু করেন। ’৮৪ সাল থেকে শুরু করে টানা ১০ বছর এ বৃহৎ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে একসময় তাকে বিক্রি করে দিতে হয় নিজের গৃহস্থালির ১৭ বিঘা জমিসহ শেষ সম্বল মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটাও। আশ্রয়হীন শিশুদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেরাই হয়ে পড়েন আশ্রয়হীন। আর এ কঠিন সময়ে তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন স্ত্রী মেহেরুন্নেসা। বসতভিটা হারিয়ে অবশেষে ২০০১ সালের ২২ মে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি উঠে আসেন অসহায় শিশুদের জন্য গড়ে তোলা এতিমখানায়। সমেস ডাক্তার অনেক দুঃখ করে বলেন, ‘আমি সারা দিন ডাক্তারি করে যে পয়সা পাই সেটাও এতিম ছেলেদের পেছনে ব্যয় করি। আমার স্ত্রী তার নিজ নামে ১৭-১৮ বিঘা সম্পত্তি সব বিক্রি করে এতিমদের পেছনে ব্যয় করেন। শেষে আমরা অনেক টাকা ঋণী হয়ে পড়ি। আমার বাবা-মায়ের ভিটেমাটি যেখানে যা ছিল সেগুলোও বিক্রি করি। পরে আমরা গত ২০ বছর ধরে এতিমখানায় বসবাস করছি।’ এর পরও থেমে থাকেনি জীবনযুদ্ধ। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে এতিমখানার আয়তন ও অবকাঠামো বৃদ্ধি করেছেন সমেস ডাক্তার।

এ এতিমখানায় যারা বসবাস করে এরা সবাই এতিম। এদের কারও বাবা নেই, কারও মা নেই, কেউবা অকালেই হারিয়েছে দুজনকেই। আর এখানে যে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা আছেন তাদেরও পরিবারের কোনো খোঁজ নেই। তাদের মধ্যে কেউ পরিত্যক্ত, কেউবা দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবারবিচ্ছিন্ন মানুষ। একেকজনের জীবনের গল্প একেক রকম। এ এতিমখানাই তাদের আসল ঠিকানা। আর এসব মানুষের জন্যই অনেক ত্যাগের বিনিময়ে সমেস ডাক্তার গড়ে তুলেছেন এ শিশুসদন। আমরা যখন এ এতিমখানায় পৌঁছি তখন বেলা ১১টা। ভিতরে ঢুকেই বাড়ির পরিবেশ দেখে মনটা ভরে ওঠে। বাড়ির বারান্দায় বসে বৃদ্ধরা কেউ লুডু খেলছেন, কেউ গল্প করছেন, কেউবা সূর্যের আলোয় নিজেকে ভিজিয়ে নিচ্ছেন, কেউবা স্মৃতির পাতায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন হারিয়ে যাওয়া অতীত। শিশুদের মধ্যে কয়েকজন দলবেঁধে গোল্লাছুট খেলছে। কেউ গোল হয়ে বসে গল্প করছে। কেউবা সমেস ডাক্তারকে ঘিরে খেলছে। কারও মধ্যেই কোনো ক্লান্তি নেই, আছে অনাবিল আনন্দ। সমেস ডাক্তার একরাশ প্রশান্তি নিয়ে তাকিয়ে থাকেন এ নাতি-নাতনিদের দিকে। ২৩৫ সদস্যের এ বাড়িটি সব সময় শিশু-কিশোর-বৃদ্ধদের কোলাহলে মুখরিত থাকে। শত কোলাহলেও সমেস ডাক্তার বা তাঁর স্ত্রী বিরক্ত হন না। সব সময় মুখে হাসি লেগেই থাকে। কেউ বাইরে কাজ করলে ছুটি নিয়ে বেড়াতে আসে এখানে। কারণ এটাই তাদের বাড়ি, স্থায়ী ঠিকানা। সমেস ডাক্তার আর মেহেরুন্নেসাই যেন তাদের আসল বাবা-মা। এ শিশু সদনে দুই/এক বছরের এতিম শিশুও রয়েছে। সবার কোলে কোলে ঘুরে বেড়ায় ওরা। ওরা জানে না কে ওর বাবা, কে মা। এখানে কেউ ওর নানা, কেউ নানি, কেউবা দাদা, কেউ দাদি।

প্রতিদিন তিন বেলা রান্না চলে এখানে। যেন একটি ব্যস্ত হোটেল, সব সময়ই চলে রান্নার মহাযজ্ঞ। বাড়ির উঠোনের পাশেই উন্মুক্ত রান্নাঘর। বাড়ির বৃদ্ধারা সবাই মেহেরুন্নেসাকে রান্নায় সহায়তা করছেন। সাত-আট জন বসে কুমড়া শাক কাটছেন, কেউবা পিঁয়াজ-রসুনের খোসা ছাড়াচ্ছেন। এদের মধ্যে আবার বেতনভুক কয়েকজন পরিচারিকাও রয়েছেন, যারা মেহেরুন্নেসাকে সহযোগিতা করেন। মেহেরুন্নেসার দিন শুরু হয় উনুন জ্বেলে। একসময় সব কাজ একাই করতেন। এখন বার্ধক্যের কারণে ইচ্ছা থাকলেও পারেন না। সবাই সহযোগিতা করেন তাঁকে। তবে মূল রান্নার কাজটি এখনো তিনিই করেন। এখানে সবকিছুই চলে যন্ত্রের মতো। ভোরের আলো ফোটার আগেই তৈরি করে ফেলতে হবে এতগুলো ছেলেমেয়ের সকালের খাবার। সকালের রান্না শেষ হতে না হতেই শুরু হয় দুপুরের খাবারের আয়োজন। এরপর বিকাল থেকেই রাতের খাবারের প্রস্তুতি। এভাবেই চলে আসছে বছরের পর বছর। তা ছাড়া সবকিছু তদারকি করতে করতেই সারা দিন ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় মেহেরুন্নেসাকে। রান্না শেষে সবাই একসঙ্গে বসে খান। বর্তমানে স্ত্রী, দুই পুত্র, পুত্রবধূ, তিন নাতনিকে নিয়ে এ এতিমখানায় থাকেন সমেস ডাক্তার।

প্রতি বেলা খাবারের সময় হলে এক অভিনব দৃশ্য দেখা যায় এখানে। দুটি বিশাল বড় বারান্দায় এবং উঠোনে সবাই একসঙ্গে বসে খাচ্ছেন। মেহেরুন্নেসা এবং তাঁর দুই সন্তানসহ আরও কিছু মানুষ মিলে সবাইকে থালায় খাবার তুলে দিচ্ছেন। একদিকে শিশুরা, একদিকে বৃদ্ধরা- তাদের সঙ্গে সমেস ডাক্তার। আবার অন্যদিকে বৃদ্ধারা আর তাদের পাশেই বসেছে সমেস ডাক্তারের পরিবারের সদস্যরা। নাতি-নাতনি, পুত্রবধূ, কন্যাসহ সবাই। জিজ্ঞেস করেছিলাম তাঁর কন্যা সাবিনা ইয়াসমিনকে, ‘সবার সঙ্গে একসঙ্গে খেতে কেমন লাগছে?’ হেসে বললেন, ‘খুবই ভালো লাগছে, আসলে ছোটবেলা থেকে এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি, এখন বরং একসঙ্গে না খেলেই খারাপ লাগে।’ জিজ্ঞেস করেছিলাম ছোট পুত্রবধূ রুমানা আখতারকে, ‘এইপরিবেশ কেমন লাগে?’ বললেন, ‘আমার গর্ববোধ হয় যে আমি এ বাড়ির বউ হয়ে আসতে পেরেছি।’ পরিবারের প্রতিটি সদস্যেরই সেবার মানসিকতা। যা সহজে দেখা যায় না। সবাই যেন সমেস ডাক্তার এবং তাঁর স্ত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত।

আজকাল অনেকেই নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্যও রান্না করেন না, গৃহপরিচারিকা কিংবা বাবুর্চির ওপর নির্ভরশীল। সেখানে মেহেরুন্নেসা বছরের পর বছর এতগুলো মানুষের জন্য রান্না করে যাচ্ছেন। জানতে চেয়েছিলাম তাঁর কাছে, ‘এই বয়সে এত কাজ করতে কষ্ট হয় না?’ মৃদু হেসে উত্তর দিলেন, ‘না, কষ্ট হয় না। বরং নিজের হাতে রান্না করে আমার সন্তানদের মতো ওদের মুখেও যখন খাবার তুলে দিতে পারি তখন অনেক আনন্দ হয়। কারণ আমার নিজের ব্যাটাবেটিই শুধু আমার নয়, ওরাও আমার নিজের ব্যাটাবেটির মতো’। ধরা গলায় বললেন, ‘আমি চার বছর এই এতিমখানা নিয়ে খুব কষ্ট করেছি বাবা। মধ্যে এক বছর আমি মানুষের কাছে ভিক্ষেও করেছি। মানুষ যাতে কিছু জানতে না পারে সেজন্য আমি অন্য গ্রামে গিয়ে ভিক্ষে করতাম।’ বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে মেহেরুন্নেসার। আসলে মানবতার সেবায় যাদের মন কাঁদে তারাই তো প্রকৃত মানুষ। মেহেরুন্নেসা আর সমেস ডাক্তার তেমনি দুজন মানুষ। যতই তাঁদের দেখেছি অবাক হয়েছি।

শিশুসদনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার শিশু এসেছে এখানে এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বদান্যতায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দিয়ে পাস করে বেরও হয়ে গেছে।

সমেস ডাক্তারের এ শিশুসদনের মধ্যে লুকিয়ে আছে তাঁর অনেক শ্রম ও কীর্তিগাথা। কিন্তু তাঁর অবর্তমানে কে এ প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরবে? জিজ্ঞেস করেছিলাম সমেস ডাক্তারকে। বললেন তাঁর সন্তানরাই এর হাল ধরবে।

বর্তমানে সরকারিভাবে ৫০ জন শিশুর জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে পান, আর বাকিটা নির্ভর করতে হয় বিভিন্নজনের দানের ওপর। তবু এখানে কারও কোনো কষ্ট নেই, আছে একসঙ্গে এক পরিবারে বসবাসের অবিরাম আনন্দ। সমেস ডাক্তার আর মেহেরুন্নেসা দম্পতির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সেবার ব্রত নিয়ে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন- এ প্রত্যাশা থাকল।

-হানিফ সংকেত

লেখক : গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়ন কর্মী।

নিখোঁজ হওয়ার সপ্তাহখানেক পর স্বামী ফিরলেন শাড়ি-ব্লাউজ পরে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৯ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

নিখোঁজ হওয়ার সপ্তাহখানেক পর স্বামী ফিরলেন শাড়ি-ব্লাউজ পরে

সপ্তাহখানেক আগে নিখোঁজ হন জাকির হোসেন। হঠাৎ মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে শাড়ি-ব্লাউজ পরে বাড়িতে ফেরেন। আর স্বামীকে এমন পোষাকে দেখে হতভম্ব হন স্ত্রী।
শাড়ি-ব্লাউজ পরার কারণ জানতে চাইলে স্ত্রীকে জাকির হোসেন বলেন, আমাকে আর আগের মতো পাবা না। আমি এখন অন্য পথের মানুষ। সপ্তাহে দুদিন এক হাজার টাকা করে কমিশন পাব।
জাকির হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়ি ইউনিয়নের শ্রীফলতলা গ্রামে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি একটি মুদি দোকানও চালাতেন। তার ছোট তিন সন্তান রয়েছে।
সম্প্রতি কমিশনের আশায় পুরুষাঙ্গ কেটে জাকির হোসেন হয়েছেন হিজড়া। স্বামীর এমন কাণ্ডে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন স্ত্রী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি লোকলজ্জা ও মান-সম্মানের ভয়ে কাউকে কিছুই বলতে পারছি না। আমার স্বামী নিজের লিঙ্গ কেটে হয়েছেন হিজড়া। কমিশনের প্রলোভনে কথিত হিজড়ারা গত এক সপ্তাহের মধ্যে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিবাদ করায় দা উঁচিয়ে চুলের মুঠি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন স্বামী। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগও করেছি।
জাকিরের স্ত্রী বলেন, নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর আমার স্বামী মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। এ সময় ব্যতিক্রম পোশাক পরা দেখে কারণ জানতে চাইলে তিনি হিজড়া হওয়ার বিষয়টি জানান।
এ কথা শুনে হতভম্ব হয়ে এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে চলে যান জাকির। পরদিন সকালে ফের বাড়িতে এসে শাড়ি পরেন, কান ও নাক ফোঁড়ানো। তখন পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে দা নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। কর্মক্ষম ও সুস্থ সবল ব্যক্তিটি প্রলোভনে পড়ে এমন হওয়ায় পরিবারে হতাশা দেখা দিয়েছে বলেও জানান জাকিরের স্ত্রী।
জাকিরের ছোট ভাই বলেন, নেত্রকোনার হিজড়া সরদারনি সাগরিকা আমার ভাইকে হিজড়া বানিয়েছেন। এছাড়া কেন্দুয়া ও স্থানীয় আঠারোবাড়ি এলাকার অনেকে হিজড়া হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িত হিজড়াদের বিচার চাই।
স্বামীর এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্ত্রী বলেন, আমি ব্লাউজ-পেটিকোট ও শাড়ি পরি, কানে-নাকে অলংকার দেই। আমার স্বামীও তাই করছেন। এ কাণ্ড দেখে আত্মহত্যার ইচ্ছা হয়। কিন্তু সন্তানদের দিকে তাকিয়ে করতে পারছি না।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছেন জাকির। ভাব-সাব অনেকটা মেয়েদের মতো। পরিচিত মানুষের এমন অপরিচিত ও উদ্ভট কর্মকাণ্ড দেখে রীতিমতো হতবাক এলাকাবাসীও। যারা প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের হিজড়ায় পরিণত করার চেষ্টা করছে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সচেতন মহলের।
এ ব্যাপারে নান্দাইল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাফি জানান, এভাবে কোনো পুরুষকে নারীতে পরিণত করা যায় না। এতে রক্তক্ষরণে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।

সোনা চোরাচালাননিরাপদ রুট বাংলাদেশ!

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৯ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

সোনা চোরাচালাননিরাপদ রুট বাংলাদেশ!

সোনা চোরাচালান থামছেই না। সোনা পাচারের সব চেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ট্রানজিট রুট এখন বাংলাদেশ। আর পাচারের নিরাপদ পথ বিমানবন্দর। প্রায় প্রতিদিনই পাচার হয়ে আসা সোনা ধরা পড়ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে। তবে বাস ও ট্রেনে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা, বেনাপোল, কুষ্টিয়া, যশোর, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী দিয়েও পাচার হয়ে দেশে আসছে সোনা। সোনা পাচারে ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে দুই বাংলায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সক্রিয় এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলোর সোনা ভারতে পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নিরাপদ ও প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে গোল্ড স্মাগলাররা।
শুল্ক গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, গত ৮ বছরে (আগস্ট ২০১২ থেকে আগস্ট ২০২০) আড়াই টন চোরা সোনা জব্দ করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ১১শ’ কোটি টাকা। পাঁচ বছরে সোনা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিদেশিও রয়েছেন। এ সময় বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাসহ ৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে আসামিদের প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে গেছেন। অনেকে জামিন পাওয়ার পর পলাতক থেকে আবারও সোনা চোরাচালানে যুক্ত হয়েছেন।

২০১৩ থেকে জুলাই’২০ পর্যন্ত শুল্ক গোয়েন্দারা সোনা জব্দের ঘটনায় ৩৩৪টি মামলা করেছেন। এসব মামলায় ৪১৫ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ২০৯টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আলোচিত মামলাগুলো তদন্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
এদিকে এই অবৈধ পাচার প্রতিরোধে বা ঠেকাতে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে সোনার ওপর আমদানি শুল্ক ২০ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তারপরও কোনোভাবেই যেন পাচার চক্রের সোনা পাচার থামানো যাচ্ছে না। বিমানবন্দরে নিñিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার পরও সোনা আসছে দেদার। প্রায় প্রতিদিন না হলেও প্রতি সপ্তাহে ধরা পড়ছেই ছোট-বড় চালান। কাস্টমস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, যত সোনা ধরা পড়ছে, তার কয়েক গুণ বেশি সোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তবে পাচার আগের চেয়ে কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
সোনা চোরাচালানের মামলা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, চোরাচালানে জড়িত ২৬টি চক্রকে পুলিশ ইতিমধ্যেই শনাক্ত করেছে। এই দলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য, মানি এক্সচেঞ্জ ও হুন্ডি ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। তারা সবাই বাংলাদেশি। তবে তাদের সঙ্গে দুবাই ও ভারতের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত। আর চালান আসে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে। বাংলাদেশি চক্রের সদস্যরা মূলত চোরাই সোনা প্রাপকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করেন। আবার কেউ কেউ বিনিয়োগও করেন।
শাহজালালে ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার সোনা আটক: গতকাল বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে  প্রায় ৭ কেজি (যার মূল্যমান ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা) স্বর্ণসহ দুবাইফেরত যাত্রী আটক করা হয়েছে। সকালে বিমানবন্দরের বোর্ডিংব্রিজ এলাকা থেকে মোহাব্বত আলী নামের ওই যাত্রীকে আটক করা হয়। ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার ডেপুটি কমিশনার মো. মারুফুর রহমান সমকালকে জানান, দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটটি সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরের বোর্ডিংব্রিজ এলাকায় ওই ফ্লাইটের যাত্রী মোহাব্বত আলীকে তল্লাশি করে তার কোমরে লুকানো অবস্থায় ৬০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। তিনি জানান, স্বর্ণের বারগুলোর মোট ওজন ৬ কেজি ৯০০ গ্রাম। দাম প্রায় ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। মারুফুর রহমান আরও জানান, আটক মোহাব্বত আলীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তিনি স্বর্ণপাচার চক্রের একজন ক্যারিয়ার। তার পাসপোর্ট যাচাই করে প্রতিমাসেই বিদেশ যাতায়াতের তথ্য মিলেছে। বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভারতের সিন্ডিকেট সক্রিয়: পুলিশের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সোনা চোরাচালানের শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে ভারতে। তারা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সোনা চোরা কারবারিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে। বাংলাদেশে যারা সোনা নিয়ে আসে তারা ক্যারিয়ার মাত্র। মূল হোতারা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এর আগে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে কলকাতার বাহাদুর রোডের নাগরিক দীপক কুমার আচারিয়া, ভারতের মুম্বাইয়ের লালবাগের দিনেশ মঙ্গিলাল জেন, মুম্বাইয়ের খাদাক রোডের জিগনেস কুমার সুরেশ কুমার, নেপালের কাঠমান্ডুর গাওয়াপুরের গৌরাঙ্গ রোসান ও ভারতের জেমস প্রিন্স রয়েছেন। ধরা পড়ার পর তারা জানিয়েছেন, সে দেশের বড় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সোনা আনতে লগ্নি করেন।
সোনা চোরাচালান মামলার তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ নাজমুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সোনা চোরাচালান চক্রের প্রধানদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। কিন্তু গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে আবার সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছেন। এ কারণে সোনা চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, হুন্ডি ব্যবসায়ী সালেহ আহম্মেদ ও সোনা চোরাচালানি নজরুল ইসলামকে তিনি গ্রেফতার করেছিলেন। কিন্তু তারা জামিনে বেরিয়ে দুবাই চলে যান, সেখানে আবার সোনা চোরাচালানে যুক্ত হয়েছেন।
সোনা চোরাচালানে ২৬ চক্র: শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সব সোনা বাংলাদেশে আমদানি করা হয় এসব আসলে ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশে পাচার করা হয়। আকাশপথে সোনার খণ্ডাংশগুলো বাংলাদেশে আনা হলেও সড়কপথে সেগুলো ভারতে পাচার হয়ে যায়। সোনা বৈধভাবে হোক আর অবৈধভাবে হোক যেভাবেই বাংলাদেশে আসুক না কেন এগুলোর প্রায় সবই ভারতে পাচার করা হয়। সৌখিন ও দামি এই পণ্যটি বাংলাদেশে আনা অনেকটাই সস্তা ও সহজসাধ্য ছিল বিধায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের পাচারচক্র ঢাকা তথা হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরকে নিরাপদ পাচার রুট হিসেবে বেছে নেয়। প্রশ্ন উঠেছে বিমানবন্দরে কাজ করে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তাদের সাথে সক্রিয় থাকে এপিবিএন, থানা পুলিশ, র‌্যাব ও সিভিল এ্যাভিয়েশনের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী। তারপরও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যদিয়ে সোনাপাচাকারীরা তাদের পাচার কাজ চালিয়েই যাচ্ছে। যার ফলে বিমানবন্দরে সোনা জব্দের ঘটনা অনেকটা নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র মতে জানা গেছে, এ যাবত বিমানবন্দরে আটক করা সোনার কোনো মামলার বিচারসম্পন্ন হওয়ার নজির দিতে পারেনি আদালত ও পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা শুধু মামলা দায়ের করেই খালাস। এর অধিকাংশই চার্জশীট হলেও আদালতে বিচার প্রক্রিয়াসম্পন্ন হওয়ার নজির নেই। যারা ধরা পড়েছেন তাদের বেশিরভাগই জামিনে বের হয়ে ফের পাচার কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। বিমানবন্দরে যে পরিমাণ সোনা ধরা পড়েছে ; তা চোরাচালানের দশ ভাগের এক ভাগ।

সোনা আসে কীভাবে : স্ক্যানার এড়াতে ব্যবহার হয় অভিনব নানা পদ্ধতি। পায়ুদ্বারে লুকিয়ে সোনাপাচার। পাচার ব্যাগ-সুটকেসের হাতলে লুকিয়ে। এলইডি টিভির স্পিকারের নীচে লুকিয়ে পাচার। বিমানের সিটের সাইড প্যানেলে লুকিয়ে স্মাগলিং। শৌচালয়ের ডাস্টবিন দিয়ে পাচার। তদন্তকারীরা বলছেন, বিমানবন্দরের সংস্থার কেউ না কেউ এই চোরাচালান কাজের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এভাবে সোনা পাচার সম্ভব নয়। অপরাধের পরিসংখ্যানও সেই তত্ত্বই সমর্থন করছে। এদিকে প্রতিবেশি দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নীল নকশায়, ভারতের প্রবেশদ্বার কলকাতা। তার ভৌগলিক গুরুত্ব দিল্লির থেকেও বেশি। বাংলাদেশ ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ রয়েছে কলকাতার। গত কয়েক বছর ধরে কলকাতা দিয়ে সোনা ঢুকেছে সবচেয়ে বেশি। ২০১৩-১৪ সালে দমদমে ধরা পড়ে ১শ’ ১৩ কেজি সোনা। ২০১৫ সালে উদ্ধার হয়েছে ১শ’ ৪৭ সোনা কেজি। গত তিন বছরে কলকাতার নেতাজী সুভাষ বিমান বন্দরে মোট ৭শ ৩৯ কেজি সোনা ধরা পড়েছে। ভারতের অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কোনোভাবে এই পাচার ঠেকানো যাবে না। এর শেষ নেই। কারণ, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, ব্যাঙ্কিংয়ের যুগেও, ভারতবাসীর সঞ্চয়ের মৌলিক পদ্ধতি এখনও সোনা। যা প্রতিদিন বাড়াচ্ছে চাহিদা। যেই চাহিদা জোগাচ্ছে সোনা পাচারকারীরা।


সোনা পাচারে কারা জড়িত বা কারা এসব চালান আনছে: এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল হোতা বা ক্যারিয়ার ধরা পড়ছে না। যে কজন ধরা পড়ছে তারাও সোনার মালিক নয়। ওরা পেশাদার ক্যারিয়ার বা বহনকারী। ওরা শুধু স্টেশন টু স্টেশন ক্যারিয়ার। এ ব্যবসা করে তারা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেয়ে যায়। দুবাই থেকে সোনা কেনার টাকাও পাচার করা হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। এদিকে খোদ গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, বিমানের টয়লেট বা দেয়াল কেটে ভেতরে সোনা লুকানোর সাথে বিমানের লোকজন জড়িত। কোনো সাধারণ যাত্রীর পক্ষে এই টেকনিক্যাল কাজ করা সম্ভব নয়। উড়োজাহাজ যখন হ্যাঙ্গারে নেয়া হয় তখনই এ সোনা বের করে নেয়া হয় বড় চালানগুলো। যা আমাদের চোখ এড়িয়ে যেতেই পারে। বিমানের হ্যাঙ্গারে কর্মরত এক শ্রেণীর মেকানিক ও ক্লিনার ফ্লাইটের ভেতরে যাতায়াতে সুযোগ পায়। তারা যে কোনো অজুহাতে ফ্লাইটে প্রবেশের দরুন টয়লেটের ভেতর থেকে সোনা সরানোর সুযোগ পায়। তাদের সাথে কেবিন ক্রুরা থাকতে পারে। এছাড়াও রয়েছে সিভিল অ্যাভিয়েশনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যারা বড় ধরনের সোনাপাচারের জড়িয়ে পড়ে। তবে, সোনাপাচারের এ অবৈধ চক্র বা সিন্ডিকেটকে রুখে দিতে কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়ে বিমানবন্দরে সক্রিয় রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, কাউকেই কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।


সোনা কেন পাচার হয়: ঢাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের সোনার দোকানগুলোতে যেসব সোনা দেখা যায়, তার প্রায় সবই চোরাই পথে আসা। তবে বাংলাদেশে সোনার বাজার খুব ছোট। সেই তুলনায় প্রতিবেশী ভারতে সোনার বাজার অনেক বড়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য বলছে, ভারতের বার্ষিক সোনার চাহিদা প্রায় দেড় শ টন। ভারতের চাহিদার সোনার একটি বড় অংশই যায় চোরাই পথে। ভারতে প্রতি এক ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) সোনা আমদানির শুল্ক চার হাজার রুপি (৪ হাজার ৮০০ টাকা। বাংলাদেশে শুল্ক ভরিতে তিন হাজার টাকা। এই শুল্ক কর ফাঁকি দিতেই সোনা চোরাচালান হয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা গণমাধ্যমকে বলেন, সোনা চোরাচালানিরা নিরাপদ রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করছেন। সমিতির তথ্যমতে, দেশে ১৫ হাজার জুয়েলার্সের দোকান আছে। এতে বছরে ৭ হাজার কেজির মতো সোনার চাহিদা রয়েছে। প্রবাসীদের ব্যাগেজে আনা সোনা ও পুরোনো সোনা দিয়ে বাংলাদেশের বাজার চলে।


কীভাবে সোনা আসে: একাধিক শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে সোনার বড় চালান নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যায়। এ কাজে সহায়তা করেন শুল্ক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও বিমানের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ১০ তোলা ওজনের একেকটি সোনার বার বিমানবন্দর থেকে বাইরে এনে দিলে চোরাচালানিদের কাছ থেকে এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পান তারা। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার সময় বিমানের কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সোনা পরিবহনে সহায়তা করেন। বাহকদের হাতে সোনা ধরিয়ে দেন দুবাইয়ে অবস্থানরত চক্রের প্রধানেরা। বাহক সেই সোনা বিমানের আসনের নিচে, শৌচাগারে বা অন্য কোনো স্থানে লুকিয়ে রেখে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত লোকজন নিজ দায়িত্বে সেই সোনা বের করে বাইরে নিয়ে আসেন। মানি এক্সচেঞ্জের মালিকেরা সোনা হাতবদলে মধ্যস্থতা করে কমিশন পান, আবার তারা কখনো কখনো টাকা বিনিয়োগও করেন।


কারা সোনা আনেন: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সোনা চোরাচালানের আটটি মামলা তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় পুলিশের তদন্তে যাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যের নামও আছে। পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শৌচাগার থেকে সাড়ে ১৩ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার করা আসামি দেব কুমার দাসের জবানবন্দিতে সোনা চোরাচালানে আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যেও নাম নাম উঠে আসে। সোনা চোরাচালানের একাধিক মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত দ্য ঢাকা মানি এক্সচেঞ্জারের মালিক নবী নেওয়াজ খান সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নবী নেওয়াজ খানের খোঁজে তার প্রতিষ্ঠান পুরানা পল্টনের সাব্বির টাওয়ারে গেলে মানি এক্সচেঞ্জারটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাশের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন বলেন, নবী নেওয়াজ এখন আর আসেন না।
সোনা চোরাচালানে রাজধানীর ভাই ভাই মানি এক্সচেঞ্জের মিজানুর রহমান ও প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের মালিক জাহাঙ্গীর দুটি চক্রের প্রধান বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। দিলকুশায় ভাই ভাই মানি এক্সচেঞ্জে গেলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বলেন, মিজান একসময় মুদ্রা লেনদেনে দালালি (ব্রোকারি) করতেন। পরে তাকে মানি এক্সচেঞ্জের পরিচালক করা হয়। তিনি আর এখন এই প্রতিষ্ঠানে নেই। 
মিরপুর ১০ নম্বরের প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন সোনা চোরাচালানে জড়িত বলে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেনের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করে। ওই ঘটনার পর প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বিদেশে পালিয়ে যান। একটি চক্রের প্রধান সোনা ব্যবসায়ী দেব কুমার দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দেব কুমার দাস নিউমার্কেট-সংলগ্ন চাঁদনি চকে তার রুপার দোকান রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে চাঁদনি চকে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অন্য একটি চক্রের প্রধান এস কে মোহাম্মদ আলী সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করতেন বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে। তার খোঁজে পুরানা পল্টনের বহুতল আবাসিক ভবনের ‘ঠিকানা’য় গেলে নিরাপত্তাকর্মী সবুজ মিয়া বলেন, মোহাম্মদ আলীর পরিবার এখন আর এই বাসায় থাকে না।
সোনা চোরাচালানের দুটি চক্রের প্রধান উত্তরার ফারহান মানি এক্সচেঞ্জের মালিক হারুন অর রশীদ সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করতেন। উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের কুশল টাওয়ারের নিচতলায় ফারহান মানি এক্সচেঞ্জের নাম পরিবর্তন করে ফারহান ট্রেডার্স রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, সোনা চোরাচালানিতে গ্রেফতার হওয়ার কিছুদিন পর তিনি জামিনে বেরিয়ে এসে বিমানের টিকিট বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। অবশ্য হারুন অর রশীদ দাবি করেন, ‘আমি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নই। আমি মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতাম, এ কারণে বিমানের কর্মকর্তাসহ অনেকেই বিদেশি মুদ্রা কিনতে আসতেন।’
ডিবি পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, একটি চক্রের প্রধান মাসুদ করিম দুবাইয়ে থাকার সময় সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। পরে দেশে ফিরে তার অপর দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে সোনা চোরাচালান চক্র গড়ে তোলেন। গত ২২ অক্টোবর ৪৫টি ও ২১ অক্টোবর ৬০টি সোনার বার নিয়ে এসেছেন তারা। দুবাই ছাড়াও মাসকট, জেদ্দা ও কুয়ালালামপুর থেকে তিনি সোনা আনতেন।

সোনা চোরাচালান কেন বন্ধ হচ্ছে না, জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, গত চার বছরে মণের পর মণ সোনা আটক করে বাজেয়াপ্ত করায় চোরাচালানিরা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে সোনা চোরাচালান মামলায় সাজার পরিমাণ কম। এ কারণে মামলায় কেউ ভয় পান না, চোরাচালানও বন্ধ হয় না। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি এম এ হান্নান আজাদ বলেন, ভারতীয় সোনা ব্যবসায়ীরা সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করেন। সরকার সহনীয় মাত্রায় কর নিয়ে সোনার আমদানি নীতিমালা করলে সোনা চোরাচালান অনেকটা বন্ধ হবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা বলেন, সোনা চোরাচালান মামলাগুলোর দ্রুত অভিযোগপত্র দিতে হবে। এসব মামলার বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হলে সোনা চোরাচালান কমে আসবে।

গর্ভেশ্বরী নদী এখন চাষাবাদের ক্ষেত!

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৮ নভেম্বর ২০২০, বুধবার, ৫:০৯ অপরাহ্ন

গর্ভেশ্বরী নদী এখন চাষাবাদের ক্ষেত!

দিনাজপুর সদরের পাশ দিয়ে বহমান গর্ভেশ্বরী নদী এখন চাষাবাদের জমি। এখন যে কেউ দেখলে এটা নদী তা বিশ্বাস করতে চায় না। কারণ নদীতে পানি না থাকলেও নদীর বুকজুড়ে রয়েছে সবুজের ক্ষেতে বিভিন্ন ফসলের চাষ। তবে মাঝে মাঝে সেতুগুলো দেখলে বোঝা যায় নদী আছে।

নদীতে বর্ষার ভরা মৌসুম ছাড়া সেখানে পানি থাকে না। তাই বছরের প্রায় সময় নদীতেই চলে আলু, রসুনসহ শীতকালীন বিভিন্ন চাষাবাদ।দিনাজপুরের সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের দিঘন, ভাটিনা ও শিবপুরসহ কয়েক এলাকায় দেখা যায় নদীটি এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। 

বহমান নদীটি বর্ষা ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় শুকনো আর চাষাবাদের উপযুক্ত অবস্থায় পরিণত হয়ে থাকে। তাই এ নদীতে প্রায় সময় চলে চাষাবাদ। নদীটিতে পানি না থাকার কারণে হারিয়ে গেছে স্থানীয় জেলেদের জীবনযাত্রা, দেখা দিয়েছে দেশী মাছের অভাব। ভুলে গেছে সবাই এক সময় এ নদীটি ছিল মানুষের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম।

এই নদীর পানি দিয়ে কৃষকরা তাদের চাষাবাদ করতো আর মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো জেলে পরিবার। নদীটির জায়গায় জায়গায় খালে কিছু পানি থাকলেও এখন নদীর বেশিরভাগ অংশই সমতল কৃষি জমি হয়েছে। তাই বর্ষার সময় অল্প পানি নদী ধারণ করতে না পারলে পাশের জমিগুলোও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়।

দিঘন গ্রামের এসএম রকিসহ কয়েকজন জানান, গর্ভেশ্বরী নদীতে এখন পানি না থাকায় জেলেরা তাদের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। আবার কেউ অন্যত্র চলে গেছে। নদীর পানি না থাকায় শুকনো মৌসুমে সেচও দিতে পারেন না কৃষক। 

ভাটিনা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমসহ কয়েকজন জানান, দিন দিন নদীর চেহারা হারিয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে এ নদীর দেশী প্রজাতির মাছ হারানোর পাশাপাশি জেলেরা বেকার হয়েছে। নদীটি খনন করা হলে এই এলাকার কৃষিকাজের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছকে রক্ষা করা যাবে। 

আবারও ধাত্রী বেশে ভোমরা মহিলা মেম্বর ভূল সিদ্ধান্তে নবজাতকের মৃত্যু

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৮ নভেম্বর ২০২০, বুধবার, ২:০৫ পূর্বাহ্ন

আবারও ধাত্রী বেশে ভোমরা মহিলা মেম্বর ভূল সিদ্ধান্তে নবজাতকের মৃত্যু

স্টাফ রির্পোটার ঃ কথিত ধাত্রীর ভূল সিদ্ধান্তে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কথিত ধাত্রী ভোমরা ইউনিয়নের ৪,৫,৬ সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বর মোছা: আম্বিয়া খাতুন । সোমবার সকালে সদরের ভোমরা গ্রামে নবজাতকের নানা জাহাঙ্গীরে বাড়ীতে এই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নবজাতকের মা জেসমিন ও বাবা সাতক্ষীরা সদর মাহমুদ পুর গ্রামের মো: সেলিম।
জানা যায়, গত রবিবার সন্ধ্যায় জেসমিনের সমান্য প্রসব বেদনা শুরু হয়। ওই সময় জাহাঙ্গীর কথিত ধাত্রী মোছাঃ আম্বিয়া খাতুনের ফোন দিয়ে ডাকে। মহিলা মেম্বর আম্বিয়া খাতুন জেসমিনকে দেখে বলে কোন ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগবে না।বাচ্চা লাইনে আছে। নরমালে ডেলিভারি করার কঠিন সিদ্ধান্তটি নিজে দয়িত্বে বুঝে নেয় । কাজ সম্পন্ন হলে তাকে খুশি করার কথাও বলে। সন্ধ্যা থেকে রাত ৪ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। যখন কোন ফলাফল না আসে তখন স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার আব্দুল হামিদকে ডাকে। ডাক্তার প্রসূতি দুর্বল থাকায়একটি গ্লুকোজ স্যালাইন দেন। পরে কথিত ধাত্রীর পরামর্শে প্রসূতির শরীরে ব্যাথা প্রবলকারী ইনজেকশন পুশ করা হয়।
ডাক্তার আব্দুল হামিদ জানান, সকাল ৯ টা ৩৩ মিনিটে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরে সকাল ৯ টা ৫৪ মিনিটে দুর্বলতার কারণে শিশুটি মারা যায়। তবে ওই ধাত্রীর এমন রোগীর ঝুকির দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ হয়নি ।
জেসমিনের বাবা জাহাঙ্গীর জানান,ভোরে আমি বার বার ধাত্রীকে জিজ্ঞেস করেছি না পারলে বলেন আমরা সাতক্ষীরায় নিয়ে যাবো। কথিত ধাত্রী মহিলা মেম্বর মোছা: আম্বিয়া খাতুন জানায় বাচ্চা লাইনে আছে।সাতক্ষীরায় নিয়ে যাওয়া লাগবে না। আমি পারবান।একটু পরে বাচ্চা হয়ে যাব্যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধাত্রী মহিলা মেম্বর মোছা: আম্বিয়া খাতুন জানায়, ‘এ রকম কাজ আমি প্রায় করি। আর আল্লাহর মাল আল্লাহ উঠাই নেছে আমি কি করব। এর জন্নি আপনার কিছু করা লাগবে না। ওদের সাথে আমি বিষয়টা সমাধাণ করে নিবান’।
ধাত্রী মহিলা মেম্বর মোছা: আম্বিয়া খাতুন তার নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সেচ্ছায় প্রসূতির বাড়ীতে পৌঁছে যায়। নিজে দায়িত্বে ধাত্রীর কাজটি বুঝে নেয়।এলাকাবাসী জানায়, মহিলা মেম্বর পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার জন্য এসব কৌশল প্রয়োগ করে।
মহিলা মেম্বর মোছা: আম্বিয়া খাতুন এর ধাত্রী বিদ্যার উপর কোন প্রশিক্ষণ নাই।সে সরকারী ধাত্রী বলে পরিচয় দেয়।তবে,তার একটা জাল প্রশিক্ষণ সনদ রয়েছে।এটাকে পূঁজি করে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এমন ঝুকির কাজ সে করেই চলেছে।গত ১৮/০২/২০২০ তারিখে তারই ভূল সিদ্ধান্তে ভামরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাঁড়ী গ্রামের আব্দুল হমিদের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী প্রসূতি মোছাঃ নারগিস খাতুন (৩২) মৃত্যু হয়।তার বিরুদ্ধে অবৈধ গর্ভপাত,নবজাতক ও প্রসূতি মৃত্যুর অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তবে,সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নাকের ডগায় মা ও শিশুর এমন ঝুকির কাজটি করলেও তার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নবযাতক ও গর্ভবতীর ওই ধরণের মৃত্য থেকে রেহায় পেতে কথিত ধাত্রী মেম্বরের শাস্তির আওতায় আনার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বহু মেয়ের সর্বনাশে রাতুল

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৮ নভেম্বর ২০২০, বুধবার, ১:১৪ পূর্বাহ্ন

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বহু মেয়ের সর্বনাশে রাতুল

ফেসবুক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে যুবক ইয়াসির রাতুল। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় দেখা করত। মাঝে মাঝে দূরে ঘুরতেও যেত। দেখা করার সময় ও ঘুরতে গিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত রাতুল। যৌন সম্পর্কের সময় মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করত। তাও প্রেমিকার মোবাইলে। পরে ঘুরে এসে বিদায় দেওয়ার শেষ মুহূর্তে কৌশলে প্রেমিকার মোবাইল নিয়ে সটকে পড়ত রাতুল। প্রেমিকার মোবাইলে থাকা একান্ত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হতো। এভাবে বার বার যৌন সম্পর্ক স্থাপনে এবং টাকা পাঠাতে বাধ্য করত। অবশেষে এক তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটর থেকে রাতুলকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এ সময় তার কাছ থেকে ১০টি সিম, চারটি ফেইক ফেসবুক আইডি এবং ৯টি জিমেইল একাউন্ট জব্দ করা হয়। গতকাল সিআইডির সাইবার ক্রাইম শাখার এসপি রেজাউল মাসুদ জানান, গ্রেফতার রাতুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে। সে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। সে প্রথমে মিরপুরে এক রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে ‘টি-বয়’ হিসেবে কাজ করত। পরে মোহাম্মদপুর রিংরোডে এক শো-রুমে সেলসম্যানের চাকরি নেয়। কিন্তু চাকরি ছেড়ে দিয়ে ‘যৌন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো’ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। গত ৬ মাস ধরে রাতুলের সঙ্গে এক ভুক্তভোগীর পরিচয়। সেই সুবাদে তারা ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় দেখা করত। এক দিন ওই ভুক্তভোগীকে চাঁদপুর যাওয়ার প্রস্তাব দেয় রাতুল। পরে সেখানে ঘুরতে গিয়ে লঞ্চে দুজন যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়। একান্ত মুহূর্তের সেই দৃশ্য ওই তরুণীর মোবাইল দিয়েই ধারণ করা হয়। পরে তারা সদরঘাটে এসে নামার সময় রাতুল তার প্রেমিকাকে বলে, তার ফোনে টাকা নাই, একজনকে কল দিতে হবে। এই বলে প্রেমিকার মোবাইল নিয়ে ছটকে পড়ে রাতুল। পরে প্রেমিকার ফেসবুক আইডি দখলে নিয়ে এবং ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে প্রেমিকাকে ও তার বাবা-মাকে কল করে টাকা চায়। রাতুলের কাছ থেকে ১০ ভুক্তভোগীর ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

টেনিস ছেড়ে অভিনয়! ওয়েব সিরিজে দেখা যাবে সানিয়া মির্জাকে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৮ নভেম্বর ২০২০, বুধবার, ১:১০ পূর্বাহ্ন

টেনিস ছেড়ে অভিনয়! ওয়েব সিরিজে দেখা যাবে সানিয়া মির্জাকে

ভারতের টেনিস সেনসেশন সানিয়া মির্জা এবার অভিনয় জগতে পা রাখতে যাচ্ছেন। তবে বড় পর্দায় নয়, ছোট পর্দায়। প্রথম ভারতীয় টেনিস তারকা হিসাবে সানিয়াকে দেখা যাবে ‘নিষেধ এলোন টুগেদার’ নামের একটি ওয়েব সিরিজে। এর আগে একাধিকবার সিনেমার নামার প্রস্তাব পেয়েছিলেন সানিয়া। তবে খেলা ছেড়ে বড় পর্দায় মুখ দেখাতে রাজি হননি। তবে এবার অনুরোধের ঢেঁকি গিললেন সানিয়া।

ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বলছে, সানিয়া একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করবেন। এমটিভিতে গত জানুয়ারিতে সম্প্রচারিত হয়েছিল ‘নিষেধ’ শো। তার উপর ভিত্তি করেই এই ওয়েব সিরিজ হতে যাচ্ছে। এই ওয়েব সিরিজে সানিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। লকডাউনে তরুণ দম্পতিরা কী সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, সেই নিয়েই আলোচনা করবেন সানিয়া। এই ওয়েব সিরিজে তরুণ কাপলদের ভূমিকায় অভিনয় করছেন সৈয়দ রাজা আহমেদ এবং প্রিয়া চৌহান। সানিয়া নিজের ভূমিকাতেই অভিনয় করবেন।জানা গেছে, এই ওয়েব সিরিজে টিউবারকিউলসিস (টিবি রোগ) নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হবে। সানিয়া নিজেই জানিয়েছেন, ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে টিবি ছড়িয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ এর সময়ে এই রোগে আক্রান্তদের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এমটিভি ইন্ডিয়া এবং এমটিভি নিষেধ-এর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পাঁচ পর্বের এই ওয়েব সিরিজ সম্প্রচার করা হবে। 

পৃথিবীর সব থেকে দামি যে ফসল!

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৬ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ৯:২৩ অপরাহ্ন

পৃথিবীর সব থেকে দামি যে ফসল!

চারপাশে নীলের আভা। অদ্ভতু সুন্দর হয়ে উঠেছে ভূস্বর্গ। উপত্যকার এই সৌন্দর্য যেন দেশের সমস্ত সমস্যার কথা ভুলিয়ে দেয়। করোনার এই আবহেও কাশ্মীরের চাষীরা কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।

২৭ অক্টোবর কেশর দিবস। ওই দিন থেকেই কাশ্মীরের হাজার হাজার একর জমি থেকে কেশরের ফুল তুলতে শুরু করেন চাষীরা। অক্টোবর মাসে কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কেশর ফুলের আভায় নীলিয়ে ওঠে।১ লাখ ৬০ হাজার থেকে তিন লাখ রুপি প্রতি কেজি দরে বিক্রি হয় এই কেশর। তাই এই ফসলকে পৃথিবীর সব থেকে দামি ফসল বলা হয়। ভারতে কেশরের চাষ শুধুমাত্র কাশ্মীরেই হয়।

দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পাম্পোর শহর কেশর শহর হিসাবে পরিচিত। শ্রীনগর থেকে ২০ কিমি দূরে জম্মু-কাশ্মীর মহাসড়কের ধারে অবস্থিত এই শহর। এই শহরের চাষীরা এখন ফুল থেকে কেশর আলাদা করতে ব্যস্ত।

সেপ্টেম্বর মাস থেকে কেশরের কন্দ লাগানো হয়। অক্টোবরের মধ্যে তা থেকে ফুল হয়। বেগুনি রঙের হয় সেই ফুল। তা থেকে স্টিগমা বের করা হয়। পাম্পোর ছাড়াও কিস্তবাড় জেলাতেও কেশরের চাষ হয়। এই বছর ৩ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে কেশরের চাষ হয়েছে। সূত্র: জিনিউজ

শ্যামনগরে কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম গুলিবিদ্ধ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৫ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ৮:৪৮ অপরাহ্ন

শ্যামনগরে কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম গুলিবিদ্ধ

শ্যামনগর সদর প্রতিনিধি : শ্যামনগর উপজেলার ৫নং কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) শেখ আব্দুর রহিম সন্ত্রাসী হামলায় গুরত্বর আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইউপি চত্তরে সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিকরে পালিয়ে যায়। তিনি জয়াখালী গ্রামের শেখ আবু দাউদ মাস্টারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী তার চাচাতো ভাই মামুন জানায়, সন্ধ্যার দিকে পরিষদ চত্তরে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে কথা বলার সময় ৭/৮ টি মোটর সাইকেল যোগে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী বোরখা পরে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে উঠার আগেই সন্ত্রাসীরা চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এ সময় গুলি চেয়ারম্যানের মাথার একপাশে বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা গুলি করে ক্ষ্যান্ত হয়নি।

তাকে চাপাতি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। স্থানীয় জনগণের ডাকচিৎকারে সন্ত্রাসীরা মটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দ্রুত উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সামেক) প্রেরণ করেন।

শত তরুণের স্লোগনে সাতক্ষীরায় মাদক বিরোধী ১৬০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল র‌্যালি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৪ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

শত তরুণের স্লোগনে সাতক্ষীরায় মাদক বিরোধী ১৬০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল র‌্যালি

সাতক্ষীরা : মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় ১৬০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‌্যালির স্লোগান ছিল-‘আর নয় মাদক। মাদক গ্রহণ নয়, বেচাকেনাও নয়’। শত তরুণের স্লোগানে সাতক্ষীরায় শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদরের বাবুলিয়া থেকে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত ওই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পথে যেতে এ সময় বিভিন্ন এলাকায় জনসচেতনামূলক সমাবেশও করা হয়। সেবা সংসদ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় ওই র‌্যালি বের করে। এতে ১৫০টি মোটরসাইকেল অংশ নেন। র‌্যালিটি সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া, সখীপুর, কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা, কাটুনিয়া রাজবাড়ি, শ্যামনগরের খানপুর, নূরনগর, পরানপুর, নকিপুর শাহী মসজিদ, বংশীপুর, ঈশ্বরীপুর শাহী মসজিদ, মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, কলবাড়ি, নোয়াবেকি, কালিগঞ্জের বালিয়াডাঙা বাজার, বিষ্ণুপুর বাজারসহ বিভিন্ন দর্শনীয় পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে। একই সাথে মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সকলকে জেগে ওঠার আহ্বান জানানো হয়। পথে পথে করা হয় সমাবেশ। তুলে ধরা হয় মাদকের কুফল ও নেতিবাচক প্রভাব।

সর্বশেষ সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ করা হয়। এরপর বিকল্প পথে র‌্যালিটি আবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ফিরে আসে। বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য দেন সেবা সংসদের সভাপতি কওসার আলী, সেক্রেটারি রজব আলী, মো. মহিবুল্লা,সাংবাদিক মিনাল, জুলফিকার আলি ও মো. ইসরাইল হোসেন। বক্তারা বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে সর্বনাশা মাদকের বিষবাষ্প। মরণ নেশার নীল দংশিত হচ্ছে যুবসমাজ। নেশা সর্বনাশা জেনেও যুব সমাজ এ মরণ নেশায় আসক্ত হচ্ছে। ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা হওয়ার কারণে মাদকের সদর দরজায় পরিণত হয়েছে। সুন্দরবনসহ ডাঙা, নদী সীমান্ত ও চোরাইপথ দিয়ে প্রতিদিন আসছে ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও চরসসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। গ্রামবাসীর সচেতনতার অভাবে এই দীর্ঘ সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার রোধ করতে পারছে না আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। যুব সমাজকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বক্তারা, মাদকাসক্তদের এই অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

শ্যামনগরে দীপাবলির আগুনে পুড়ল ঘর

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৪ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ১১:২৯ অপরাহ্ন

শ্যামনগরে দীপাবলির আগুনে পুড়ল ঘর

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে দীপাবলির আগুনে শ্যামলচন্দ্র মন্ডল নামে এক ব্যক্তির কাঠের ঘরসহ ধানের গোলা পুড়ে ভষ্মীভূত হয়েছে। শনিবার রাত ৮.৩০ ঘটিকার দিকে মানিকখালী গ্রামে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে কালিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কালিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (এসও) মো. নাসিম উদ্দীন জানান, সন্ধার সময় অসাবধানবশত দীপাবলির আগুনে ধানের গোলায় আগুন লেগে ভষœীভূত হয়। পরবর্তীতে পাশের কাঠের ঘরটি আগুনে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ সময়ে ১০বস্তা ধানসহ ৬০ হাজার টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনি জানান।

মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমছে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১২ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমছে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমিয়ে বাজারমূল্যের ১০ শতাংশের নিচে নামানোর একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পেশ করেছে। গত সোমবার (৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সে অনুযায়ী সড়ক কর, পরিদর্শন ফি এবং নম্বর প্লেট, ডিআরসি, সম্পূরক কর কমিয়ে ১০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল ৭ হাজার ৫২৯ টাকা এবং ১০০ সিসির বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের জন্য নিবন্ধন ফি ৯ হাজার ৮৫২ টাকা করার প্রস্তাব করেছে বিআরটিএ। সে হিসাবে ১০০ সিসির মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ১০০ সিসির ওপরে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ কমছে।বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি বাজারমূল্যের ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা যায় কিনা সে বিষয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সেখানে অনুমোদনের পর তা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।’

নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, আশেপাশের দেশের তুলনায় আমাদের দেশে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি বেশি। নিবন্ধন ফি কমাতে বাংলাদেশ মোটরসাইকেল ম্যানুফেকচারার্স এসোসিয়েশন দাবি জানিয়ে আসছিল। এছাড়া জাপান দূতাবাস থেকেও এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ১৬ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশ-জাপান যৌথ সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি বাজারমূল্যের ১০ শতাংশের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটিএকে মতামত দিতে বলা হয়।

সাতক্ষীরার আদালতের একটি ব্যাতিক্রমধর্মী রায়

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১২ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরার আদালতের একটি  ব্যাতিক্রমধর্মী রায়

আসামীর নাম হাসান আলী সরদার, বয়স পঁচিশ বছর। অপরাধ, তিন কেজি গাঁজা নিজ দখলে রাখা। অত:পর মামলা। তারপর রায়। তবে মঙ্গলবার রায়টি ঘোষণার পর কেবলমাত্র আসামী ও তার পরিবারের মধ্যে নয়, সাতক্ষীরার আদালত পাড়ায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে আলোচনা হতে থাকে। প্রচলিত নিয়মে কোন মামলার রায়ে আসামী পক্ষ খালাস বা সাজা পেয়ে থাকে, কিন্তু ব্যাতিক্রমধর্মী ওই রায়ে আসামীকে এ বছরের সাজা দেয়া হলেও তাকে জেলে যেতে হয়নি। বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহার আসামীকে কিছু সামাজিক দায়িত্ব পালনের শর্তে দিয়ে নিজ বাড়িতে প্রবেশনে থেকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে হ্যাঁ, শর্ত না মানলে হাসান আলীকে অবশ্যই জেলে যেতে হবে। আর সেটি নিশ্চিত করবেন জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার সুমনা শারমিন। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্্েরট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ইয়াসমিন নাহার ব্যাতিক্রমধর্মী এ রায় ঘোষণা করেন। প্রবেশনে যাওয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাসান আলী সরদার সদর উপজেলার ভাদড়া গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে।

আসামী পক্ষের আইনজীবী এড. এ.টি.এম ফখরুল আলম জানান, মঙ্গলবার জি আর ৪৩/১৫ (টিআর ২৯/১৬) নম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের মামলার রায়ে (৩ কেজি গাজা রাখার অপরাধ প্রমানিত হয়) আসামী হাসান আলী সরদারকে এক বছরের সাজা দিয়ে জেলে না পাঠিয়ে প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এ সময় আসামীকে পাঁচটি শর্ত মানতে হবে। শর্তগুলো হলো-কোনরুপ মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করা যাবে না, কোন খারাপ সঙ্গীর সাথে মিশবে না, প্রবেশনকালীন সময়ে ১০টি গাছ রোপণ করতে হবে, পিতা-মাতার সেবা করতে হবে, সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন মাদকের বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় প্রচারণা চালাতে হবে। তবে, প্রচারণার সময় কী কী উল্লেখ করতে হবে তাও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। শর্তগুলো ভঙ্গ করলে তাকে আবারও কারাগারে যেতে হবে বলে আদেশ দেন আদালত। আসামী পক্ষের আইনজীবী আরো বলেন, সাতক্ষীরার আদালতের এটি একটি উল্লেখযোগ্য এবং ব্যাতিক্রমধর্মী রায়।

এদিকে, সাজাপ্রাপ্ত আসামী শর্তগুলো মানছে কী-না তা তদারকি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাতক্ষীরা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার সুমনা শারমিনকে। তিন মাস পর পর প্রবেশন অফিসারকে আসামীর আচরণ সম্পর্কে আদালতে রিপোর্ট জমা দেয়ার আদেশও দেয়া হয়েছে আলোচিত এই রায়ে।

আদালতের রায়ের বিষয়ে সাতক্ষীরা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার সুমনা শারমিন জানান, রায়ের কপি হাতে পেলে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে, তিনি আরও জানান, প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে হাসান আলী যাতে নিজ বাড়ীতে মাদকমুক্ত পরিবেশে থেকে আদালতের দেয়া শর্তগুলো মেনে চলেন সে ব্যাপারে দেখভাল করা হবে। মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এড. এ.টি.এম ফখরুল আলম বাবু এবং রাষ্ট্্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) ছিলেন এড. শামছুল বারী।

ধাপে ধাপে ইউপি ভোট শুরু মার্চ-এপ্রিলে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১০ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

ধাপে ধাপে ইউপি ভোট শুরু মার্চ-এপ্রিলে

২১ মার্চের মধ্যে নির্বাচন শুরু করার আইনি বাধ্যবাধকতা

আগামী মার্চ-এপ্রিলে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। ধাপে ধাপে এ ভোট করার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। ভোট গ্রহণের জন্য ৪০/৩৭ দিন হাতে রেখেই এ নির্র্বাচনের তফসিল দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ছোট পরিসরে হলেও ২১ মার্চের মধ্যে এ নির্বাচন শুরু করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২১ মার্চের মধ্যে ৭৫২ ইউপি, ৩০ মার্চের মধ্যে ৭১০, ২২ এপ্রিলের মধ্যে ৭১১, ৬ মের মধ্যে ৭২৮, ২৭ মের মধ্যে ৭১৪ এবং ৩ জুনের মধ্যে ৬৬০টি ইউপির মেয়াদ শেষ হবে। তবে মামলা ও সীমানা জটিলতার কারণে এই সংখ্যা কিছুটা বাড়তে-কমতে পারে। ইসি চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে যে কোনো দিন এ নির্বাচন করতে পারবে। এক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারিতে পৌরসভা নির্বাচন থাকায় ইসি মার্চের প্রথম দিকেই এ নির্বাচন শুরু করবে। আবার পৌরসভা নির্বাচনের পাশাপাশিও চলতে পারে ইউপি নির্বাচন। তবে চলতি মাসেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, যখন যে ইউপির মেয়াদ শেষ হবে, তখন সেই ইউপিতে ভোট হবে। প্রথম ধাপের ভোট মার্চের শুরুতে বা মাঝামাঝিতে, দ্বিতীয় ধাপের ভোট মার্চের শেষ এবং এপ্রিলে তৃতীয় ধাপের ভোট হতে পারে। এজন্য জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। তবে এবারে দলীয় প্রতীকে ব্যালট পেপারের পাশাপাশি উপজেলা সদরের ইউপিগুলোতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আইন অনুযায়ী আগামী বছরের ২১ মার্চের মধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে হবে কমিশনকে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে পরিষদের মেয়াদের বিষয়ে বলা হয়েছে- ‘কোন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, …সংশ্লিষ্ট পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠানের তারিখ হতে পাঁচ বছর সময়ের জন্য উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।’ পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে- ‘পরিষদ গঠনের জন্য কোন সাধারণ নির্বাচন ঐ পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ হতে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।’ আইনে উল্লেখ রয়েছে- ‘দৈব-দুর্বিপাকজনিত বা অন্যবিধ কোন কারণে নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত, যা আগে ঘটবে, সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দিতে পারে।’   এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পৌরসভাসহ যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানে সময়মতো ভোট হবে। সিইসি বলেন, পৌরসভায় ভোট নেওয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। তবে ইউনিয়ন বা উপজেলা পরিষদের সব নির্বাচন ইভিএমে করা সম্ভব হবে না। কিছু সংখ্যক নির্বাচন হয়তো ইভিএমে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে যখন যে নির্বাচন আসবে তা যথাসময়ে করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মোট ৬ ধাপে ৪ হাজার ২৭৯ ইউনিয়নে ভোট আয়োজন করে কমিশন। প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউপির ভোট হয় ২২ মার্চ। এরপর ৩১ মার্চ ৭১০টি ইউপি, ২৩ এপ্রিল ৭১১, ৭ মে ৭২৮, ২৮ মে ৭১৪ এবং ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে ভোট হয়। তবে এবারে ইউপি সংখ্যাও কিছু বেড়েছে। ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। তবে ২০০ ইউপিতে মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচন আটকে আছে। এ ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ও কিছু ইউপিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ায় ৪ হাজার ১০০ ইউপিতে ধাপে ধাপে করতে হবে।  ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। এবারে ৪ হাজার ১০০ ইউপির নির্বাচন হবে ধাপে ধাপে। আগামী বছরের জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল দেওয়া শুরু হবে। নির্বাচন চলবে বছরজুড়েই। জানা গেছে, গতবারের মতো আসন্ন ইউপির ভোটও হবে দলীয় প্রতীকে। চেয়ারম্যান বা মেম্বার প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

জেলে যাওয়ার ভয়ে হোয়াইট হাউস ছাড়তে নারাজ ট্রাম্প?

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১০ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

জেলে যাওয়ার ভয়ে হোয়াইট হাউস ছাড়তে নারাজ ট্রাম্প?

জেলে যাওয়ার ভয়ে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাই হোয়াইট হাউস না ছাড়ার ব্যাপারে এতটা মরিয়া হতে দেখা গেছে তাকে। সম্প্রতি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ‘ডেইলি মেইল’-এর এক প্রতিবেদনকে ঘিরে দানা বাঁধছে এমনই জল্পনা। টানটান উত্তেজনার শেষে আমেরিকার ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জো বাইডেন।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর ট্রাম্প গ্রেফতার হতে পারেন। সৌদি নিউজ চ্যানেল আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের সাবেক মুখপাত্র অ্যাডাম এরলি এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার মতো বহু অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ভোট হওয়ার পর ফলাফল জানতে অপেক্ষা করতে হয়েছে চার দিন। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাতে পেনসিলভানিয়ার ফলাফল সামনে আসতেই স্পষ্ট হয় হিসাবটা। যদিও হার স্বীকার করতে চরম অনীহা বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। এর পেছনে অন্যতম কারণ, তার কারাবন্দী হওয়ার আশঙ্কা। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।এবারের নির্বাচনের আগে থেকেই এমন জল্পনার কথা শোনা গেছে। আসলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। আইনি বিচার প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়া, সংবিধানের ধারা লঙ্ঘন, কর ফাঁকি ছাড়াও আরও অনেক ধরনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যার অন্যতম কয়েকটি ধর্ষণের মামলাও। ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এ ধরনের মামলাগুলোর মুখোমুখি হওয়ার ভয় রয়েছে ট্রাম্পের। এমনকি প্রবল আশঙ্কা রয়েছে জেলে যাওয়ারও। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর হ্যারি স্যান্ডিকের মত, প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর প্রসিকিউটর ও সাক্ষীদের পক্ষে মামলা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

ক্ষমতায় থাকাকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের বড়সড় সাহায্য পেয়েছিলেন ট্রাম্প। দেশের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে তিনি কার্যত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীই হয়ে উঠেছিলেন। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর সেই দুঁদে আইনজীবীর মূল্যবান পরামর্শও হারাবেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। এসব নানা কারণেই গদি ছাড়তে চূড়ান্ত নারাজ ছিলেন তিনি।

এরই পাশাপাশি আরও একটি আশঙ্কা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদে মেয়াদ শেষ হলেই তাকে নাকি ডিভোর্স দেবেন স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প! নিজেদের ১৫ বছরের সম্পর্কে দাঁড়ি টানবেন তিনি। আপাতত তিনি অপেক্ষা করছেন মেয়াদ শেষ হওয়ার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সময়টা ভালো যাচ্ছে না ডো

নতুন শুরুর অপেক্ষায় আশরাফুল

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১০ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

নতুন শুরুর অপেক্ষায় আশরাফুল

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৯ মাস খেলায় নেই ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তির বাইরে থাকা খেলোয়াড়রা। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে ফিটনেস টেস্ট দিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। 

নিজের ফিটনেস নিয়ে সোমবার মিরপুরে সাংবাদিকদের আশরাফুল বলেছেন, করোনাকালীন সময়ে আমি বাসার সামনে স্কিল ট্রেনিং করেছি। ঢাকার যেকোনো জায়গাতেই সুযোগ করে ম্যাচ খেলার চেষ্টা করেছি। ফিটনেস টেস্টে ১১.৪ স্কোর হয়েছে। শেষ তিন-চারদিন ঠাণ্ডা লাগার কারণে যেটা আশা করেছিলাম সেটা হয়নি।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া আশরাফুল আরও বলেছেন, আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। নতুন করে আবার শুরু করতে চাই। ফিটনেস ও স্কিলে যে পর্যায়ে এসেছি তাতে অতীত ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগোতে চাই। আমার স্কিলও আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।

আগামী ২১ বা ২২ নভেম্বর শুরু হবে পাঁচ দলের বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। আসন্ন এই ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সোমবার শুরু হয় ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট। 

ফিটনেস টেস্ট নিয়ে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস বলেছেন, এখানে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই বিসিবির বেঁধে দেয়া স্কোর পার করেছেন। এতে একটি জিনিস প্রমাণিত হয় সবাই এখন ফিটনেস নিয়ে সচেতন।

ফিটনেস টেস্টে উতরে যাওয়া ক্রিকেটাররাই বৃহস্পতিবার প্লেয়ার্স ড্রাফটে জায়গা করে নেবেন।

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে বদলি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১০ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে বদলি

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমকে বদলি করেছে সরকার। বিসিএস ২৭ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বদলি করে সোমবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সারওয়ার প্রায় ৬ বছর ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে। এটি প্রশাসনের রুটিন কাজ বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র।সারওয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে র‌্যাবে যোগ দিয়ে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব পরিচালনা করে তিনি আলোচনায় আসেন। করোনাভাইরাসের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালেও অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত বছর ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযানেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

যেভাবে ধরা পড়লেন এসআই আকবর

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১০ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

যেভাবে ধরা পড়লেন এসআই আকবর

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যার নেপথ্যে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (বরখাস্তকৃত) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে। ২৮ দিনের মাথায় কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট পিবিআই’র পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান।  তিনি জানান, পিবিআই একটি দল কানাইঘাট এলাকায় যাচ্ছে।জানা গেছে, আকবর কানাইঘাটের ডনা সীমান্তের ওপারে খাসিয়া পল্লিতে বসবাস করছিলেন। ফেসবুকে আপলোডকৃত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে প্রথমে ধরা পড়েন আকবর। এসময় নিজেকে বাঁচাতে কেঁদে ফেলেন আকবর এবং তাকে ছেড়ে অনুনয় করতে থাকেন। এসময় জনতা তাকে রশি দিয়ে বাঁধেন এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

উল্লেখ্য, পুলিশ হেফাজতে ১১ অক্টোবর নগরীর আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদ মারা যাওয়ার ঘটনায় এসএমপির এসআই আকবরসহ ৪ জনকে সাময়িক বহিস্কার ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্তদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ ও টিটু দাস। প্রত্যাহার হওয়া তিনজন হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। তিনি জানান, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

ওরা চোর, যন্ত্রগুলো সব দুর্নীতিগ্রস্ত : ট্রাম্প

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৯ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ১:১১ পূর্বাহ্ন

ওরা চোর, যন্ত্রগুলো সব দুর্নীতিগ্রস্ত : ট্রাম্প

নির্বাচনে ভোটগণনার প্রবণতা জো বাইডেনের দিকে সামান্য ঝুঁকে পড়ার পর থেকেই ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে সরব ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি আদালতে পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছেন সেই অভিযোগ। আদালত হতাশ করলেও সুর আরও চড়ালেন ট্রাম্প।

পরপর টুইট করে রবিবার জো বাইডেন তথা ডেমোক্র্যাটদের ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করলেন ট্রাম্প। ভোট চুরির জন্যই তিনি হেরেছেন বলেও তোপ দেগেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প।ভোটগণনা পর্বে ট্রাম্প কখনও বলছেন, ভোট চুরি হচ্ছে। কখনও দেরিতে পৌঁছানো ব্যালটকে বৈধ ঘোষণার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। টুইটারে হুঙ্কার ছেড়েছেন, বন্ধ করুন ভোট গণনা। সেই সব অভিযোগে অন্তত তিনটি রাজ্যের গণনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত ফিরিয়ে দিয়েছে সেই অভিযোগ। তবে খুব সামান্য ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ায় পুনর্গণনা হয়েছে জর্জিয়ায়। কিন্তু এতো কিছুতেও দ্বিতীয় বারের জন্য হোয়াইট হাউসের দরজা খোলেনি ট্রাম্পের জন্য। বিষয়টি নিশ্চিত হতেই একের পর টুইটারে বোমা ফাটিয়ে চলেছেন ট্রাম্প। 

রবিবার তিনি টুইটারে লিখেন, ‘আমরা মনে করি এই লোকগুলো চোর। যন্ত্রগুলো সব দুর্নীতিগ্রস্ত। এটা চুরির নির্বাচন। ব্রিটেনের সেরা ভোট বিশেষজ্ঞ বলেছেন, যে এটা পরিষ্কার চুরির ভোট ছিল এই কারণে যে, কিছু রাজ্যে বারাক ওবামাকেও টপকে গিয়েছেন জো বাইডেন।’

টুইটে ট্রাম্পের আরও দাবি, ‘পার্থক্যটা সেখানেই গড়ে দিয়েছে যে, ওরা যা চুরি করতে চেয়েছিলেন সেটা করেছেন।’

কিন্তু প্রশ্ন হল, তার কথা শুনছেন কে? আদালতই যখন খারিজ করে দিয়েছে, তখন আর কোথায় যাবেন তিনি। উল্টো দিকে ট্রাম্পের এই রকম অনেক অভিযোগকে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ বাইডেনের ডেমোক্র্যাট শিবির। তারা বরং জয়ের আনন্দ উপভোগ করছেন। হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের এই সব মন্তব্য তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের মতো উপেক্ষা করছেন তারা। মন্তব্য করারও প্রয়োজন মনে করছেন না।

কমালা হ্যারিস: আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৯ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

কমালা হ্যারিস: আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, প্রথম এশিয়ান বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন কমলা হ্যারিস। ৫৫ বছর বয়সী এ রাজনীতিকই দেশটির প্রধান দুই দলের মধ্যে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করেই বাজিমাত করেছেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমেরিকার আড়াইশ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক এ সিনেটর। গড়লেন নতুন এক ইতিহাস।

আমেরিকার ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র দুজন নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়েছেন। ২০০৮ সালে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে সারা পলিন, ১৯৮৪ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জেরালডিন ফেরারো। তাদের কেউই নির্বাচিত হতে পারেননি। আবার বাইডেন তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিলে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পাবে যুক্তরাষ্ট্র।কমলা হ্যারিসের জন্ম ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ওকল্যান্ডে। পিতা ডোনাল্ড জে হ্যারিস জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত আর মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান। কমলা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন (২০১০) এবং দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুপরিচিত হয়ে উঠেছিলেন বিপক্ষের প্রতি কড়া প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার জন্য।

৭৭ বছর বয়সী বাইডেন হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে বয়সী রাজনীতিক। যে কারণে এক মেয়াদের বেশি তার হোয়াইট হাউসে থাকার সম্ভাবনা কম বলেও অনেকে মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কমলার সম্ভাবনাই সবচেয়ে উজ্জ্বল, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

যে পাঁচটি কারণে নির্বাচনে জিতেছেন জো বাইডেন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৯ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

যে পাঁচটি কারণে নির্বাচনে জিতেছেন জো বাইডেন

যে ধরনের প্রচারণা ও নির্বাচন এবার যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে গেল সেটি ছিল নজিরবিহীন। কয়েক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারি আর দেশজুড়ে দীর্ঘ সামাজিক সহিংসতার মতো অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই নির্বাচন।

যাতে এমনই একজন জো বাইডেনের প্রতিপক্ষ ছিলেন যিনি মার্কিন রাজনীতির প্রথাগত রীতির অনুসারী নন।

জো বাইডেন প্রায় ৫০ বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তার দীর্ঘদিনের।

অবশেষে তৃতীয়বারের চেষ্টায় সফল হলেন তিনি। পাঁচটি কারণ জয়ে সাহায্য করেছে।

১. কোভিড, কোভিড, কোভিড

জো বাইডেনের জয়ের পেছনে সম্ভবত সবচেয়ে বড় কারণ যা সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের বাইরে। করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ তিরিশ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

একইসাথে বদলে দিয়েছে মার্কিন মানুষের জীবন ও রাজনীতি। উইসকনসিনে নির্বাচনী র‍্যালিতে কোভিড-১৯ সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “ফেক নিউজে সবকিছুই কোভিড, কোভিড, কোভিড, কোভিড”।

মহামারি সম্পর্কে তার যে অবস্থান, যেভাবে তিনি বিষয়টি সামলেছেন সেটি শেষপর্যন্ত তার বিপক্ষেই গেছে।

অপরদিকে জো বাইডেন ক্যাম্প কোভিড ইস্যুতে যে অবস্থান নিয়েছিলেন সেটি তাকে এগিয়ে দিচ্ছে এমনটাই দেখা গিয়েছিল গত মাসে করা এক জনমত জরিপে।

যাতে জো বাইডেন ১৭ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি।

কিন্তু বৈশ্বিক মহামারিতে যে ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা কৌশলকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

মহামারি ও এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়শই যেভাবে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছেন, বিজ্ঞানকে প্রশ্ন করেছেন, একদম হুট করে এলোমেলোভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পক্ষপাতমূলক আচরণ এই বিষয়গুলো জো বাইডেন ক্যাম্প সফলভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে কাজে লাগিয়েছে।

গ্রীষ্মকালে করা আর এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেটিং ৩৮ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

২. হিসেব কষে ধীরগতির প্রচারণা

জো বাইডেন তার দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ভুল বক্তব্য ও অসমীচীন কাজের জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন।

যেসব ভুল তাকে প্রায়শই বিপদগ্রস্ত করেছে। ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে এমন ভুল তার হারের কারণ ছিল।

২০০৭ সালে আবার যখন তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন সেবার তার তেমন একটা সম্ভাবনাই ছিল না।

কিন্তু তৃতীয়বার যখন ওভাল অফিসের জন্য লড়েছেন তখন তিনি বক্তব্য দেবার সময় যথেষ্ট কম হোঁচট খেয়েছেন।

এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে তার লাগামহীন অসামঞ্জস্যপূর্ণ নানা বক্তব্যের কারণে নিয়মিত খবরের উৎস ছিলেন।

আর তাছাড়া বৈশ্বিক মহামারি, অর্থনৈতিক সংকট, জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময়ের সহিংস বিক্ষোভ এরকম জাতীয় পর্যায়ের বড় ঘটনার দিকে সমাজের মানুষের মনোযোগ বেশি ছিল।

এর বাইরে এবার বাইডেন ক্যাম্প খুব হিসেব কষে এগিয়েছে। বাইডেনকে যতটা সম্ভব কম জনসম্মুখে আসতে দেখা গেছে।

প্রচারণার গতি এমন ছিল যাতে প্রার্থী ক্লান্তি থেকে অসাবধানতাবশত কিছু না করে বসেন। বাইডেন ক্যাম্প বরং ট্রাম্পকে তার মুখ খোলার সুযোগ দিয়েছে যা শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে।

৩. আর যেই হোক ট্রাম্প নয়

নির্বাচনের দিনটির এক সপ্তাহ আগে জো বাইডেন ক্যাম্প তাদের সর্বশেষ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করে।

গত বছর জো বাইডেন প্রার্থী হিসেবে যখন মনোনীত হন এবং যেদিন তার প্রচারণা শুরু করেন সেসময়কার বক্তব্যের সাথে এই বিজ্ঞাপনের বক্তব্যে বেশ লক্ষণীয় সাদৃশ্য ছিল।

এই নির্বাচনকে উল্লেখ করা হয় “যুক্তরাষ্ট্রের আত্মা রক্ষার যুদ্ধ।” ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরকে বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলার সময়কাল বলে উল্লেখ করা হয়।

ট্রাম্পের সময় যে মেরুকরণ হয়েছে, যে ধরনের বিতর্কের জন্ম তিনি দিয়েছেন মার্কিন জনগণ তা থেকে মুক্তি চেয়েছে।

তারা শান্ত ও অবিচল একজন নেতা চেয়েছেন। ভোটারদের অনেকেই বলেছেন তারা ব্যক্তি হিসেবে ট্রাম্পের আচরণে রীতিমতো বীতশ্রদ্ধ।

বাইডেন ক্যাম্প ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যে এই নির্বাচন যেন দুই প্রার্থীর মধ্যে যোগ্য একজনকে বেছে নেবার নির্বাচন নয়।

এটি যেন ট্রাম্প সম্পর্কে একটি গণভোটের মত বিষয়, এমন কৌশল ছিল বাইডেনের প্রচারণায়। জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, এমন বার্তা দেয়া হয়েছে ভোটারদের।

৪. মধ্যপন্থী অবস্থান

প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হবার লড়াইয়ে জো বাইডেনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি বামপন্থী হিসেবে পরিচিত।

আর একজন ছিলেন এলিজাবেথ ওয়ারেন। যার ক্যাম্পেইনে বেশ ভাল অর্থের যোগান ছিল।

এই দুজনের যেকোনো সভায় রক গানের কনসার্টের মতো মানুষ জড়ো হতো। কিন্তু জো বাইডেন উদারপন্থীদের চাপের মুখেও মধ্যপন্থী অবস্থান বজার রেখেছেন।

তিনি সরকারি স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা, বিনামূল্যে কলেজ শিক্ষা ও ধনীদের জন্য বেশি কর আরোপ করার নীতিগুলোতে সমর্থন দেননি।

এর ফলে তিনি মধ্যপন্থী ও অসন্তুষ্ট রিপাবলিকানদের কাছে টানতে পেরেছেন। কমালা হ্যারিসকে রানিং মেট হিসেবে বেছে নেবার সিদ্ধান্তে এটি প্রকাশ পেয়েছে।

বার্নি স্যান্ডার্স ও এলিজাবেথ ওয়ারেনের সাথে শুধু একটি জায়গায় মতের মিল ছিল বাইডেনের। আর তা হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা।

এই ইস্যু দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করেছেন তিনি যাদের কাছে জলবায়ু পরিবর্তন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৫. বেশি অর্থ, কম সমস্যা

এই বছরের শুরুতে জো বাইডেনের প্রচারণা তহবিল প্রায় শূন্য ছিল বলা যায়। ট্রাম্পের বিপক্ষে তার সীমাবদ্ধতা ছিল এটি। ট্রাম্পের প্রচারণা ছিল শত কোটি ডলারের বিষয়।

কিন্তু এপ্রিল মাসে এসে তহবিল গঠনে জোরালোভাবে লেগে পড়ে বাইডেন ক্যাম্প। অন্যদিকে ট্রাম্পের পদ্ধতি হচ্ছে বাড়াবাড়ি অপচয়।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষের দিকে এসে ট্রাম্প ক্যাম্পের চেয়ে বড় তহবিল গড়েছিলেন বাইডেন।

অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের চেয়ে ১৪৪ মিলিয়ন ডলার বেশি ছিল বাইডেনের তহবিলে। যা ব্যাবহার করে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকানদের জর্জরিত করে ফেলা হয়।

কিন্তু শুধু অর্থ দিয়েই সব হয় না। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনও বড় তহবিল গড়েছিলেন।

কিন্তু এবার করোনাভাইরাস মহামারির কারণে একদম মানুষের কাছে গিয়ে প্রচারণা অনেক কমিয়ে দিতে হয়েছে।

মানুষজন অনেক বেশি সময় ঘরে কাটিয়েছে তাই গণমাধ্যমের প্রতি তাদের মনোযোগ অনেক বেশি ছিল।

ভোটার আকর্ষণ করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণমাধ্যমে বার্তা দিয়ে গেছেন জো বাইডেন।

গোপনে দেশের নাম বদল উত্তেজনা নেপালে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৮ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ১১:৫২ অপরাহ্ন

গোপনে দেশের নাম বদল উত্তেজনা নেপালে

গোপনে দেশের নাম বদলে ফেলেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দেশিটিতে। শাসক দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরেই শুরু হয়েছে বিবাদ। বেশির ভাগ নেতাই প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের তুমুল সমালোচনা করে অবিলম্বে এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
 
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় কয়েক দিন আগে। নেপালের সংসদীয় বিষয়ক, আইন ও বিচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেশের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এখন থেকে সব সরকারি সংস্থাকে দেশের নামের জায়গায় ‘ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব নেপাল (Federal Democratic Republic of Nepal)’- এর পরিবর্তে শুধু ‘নেপাল’ লিখতে হবে। কেন আচমকা দেশের নাম পরিবর্তন করা হলো তার কোনও ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি ওই নির্দেশিকায়। এর ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে নেপালের শাসক দলের মধ্যেই।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে দেশের সরকারি নাম আচমকা পালটে দেয়া যায় না। এর জন্য মন্ত্রিসভা ও সংসদে আইন পাস করাতে হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ওলি কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমনকী গত সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও কত তারিখে তা হয়েছে সেটা উল্লেখ করা হয়নি। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংবিধানে দেশের নাম ফেডারেল ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব নেপাল বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় এই তিনটি স্তরে প্রশাসনের পরিকাঠামো তৈরির কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু, সবার অন্তরালে সেই পরিকাঠামো পাল্টে ফেলে নিজের হাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা নিয়ে আসতে চাইছেন কেপি শর্মা ওলি। সেজন্যই এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন।এ প্রসঙ্গে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (Nepal Communist Party) স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সদস্য লীলামনি পোখারেল একটি বিবৃতি প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ওলি ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে বর্তমান ব্যবস্থাকে ভাঙতে চাইছেন। নিজেকে সর্বশক্তিমান করার জন্যই এই কাজ করছেন তিনি। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।

হিজড়াদের জন্য দেশে প্রথম মাদ্রাসা চালু

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৬ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ৯:০৭ অপরাহ্ন

হিজড়াদের জন্য দেশে প্রথম মাদ্রাসা চালু

তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া সম্প্রদায়) মানুষের জন্য রাজধানীতে দেশে প্রথমবারের মতো আলাদা একটি মাদ্রাসা চালু করা হয়েছে। নাম দেয়া হয়েছে ‘দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা’।

বেসরকারি উদ্যোগে মাদ্রাসাটি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের লোহার ব্রিজের ঢাল এলাকায় তিনতলা একটি ভাড়া বাড়িতে চালু করা হয়েছে।  মরহুম আহমেদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই মাদ্রাসাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  মাদ্রাসাটিতে পড়ালেখার জন্য হিজড়াদের কোনো খরচ লাগবে না।  ২০২০ সালে সরকার স্বীকৃত কওমি সিলেবাস অনুযায়ী মাদ্রাসাটি পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে ১০ জন শিক্ষকের সমন্বয়ে অনাবাসিক এই মাদ্রাসাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিন তলাবিশিষ্ট বাড়িটির ওপর তলায় ১২০০ বর্গফুট জায়গায় নিয়ে করা মাদ্রাসাটিতে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করতে পারবেন।  এতে যে কোনো বয়সী হিজড়া ভর্তি হতে পারবেন।

শুক্রবার দুই পর্বে মাদ্রাসাটির উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।  এরমধ্যে সকালে একটি এবং বিকালে অপরটি।  প্রথমটিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হিজড়া কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবিদা সুলতানা মিতু।  আর বিকালের অনুষ্ঠানে কামরাঙ্গীরচরের বাইতুল উলূম ঢালকানগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি জাফর আহমাদ প্রধান অতিথি ছিলেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত অর্ধশত হিজড়া অংশ নেন। 

মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ পরিচালক মুফতি আবদুর রহমান আজাদ নিজেও অন্যতম একজন উদ্যোক্তা।  তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এই মাদ্রাসায় প্রথমে হিজড়াদেরকে কুরআন শিক্ষা দেয়া হবে। এছাড়া কওমি শিক্ষা সিলেবাস অনুযায়ী নূরানী, নাজেরা, হিফজুল কুরআন ও কিতাব বিভাগ চালু হবে। শুক্রবার থেকেই ভর্তি শুরু হয়েছে।

পরবর্তিতে হিজড়াদেরকে কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আরেকটি আলাদা বিভাগ চালু করা হবে বলেও জানান মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে হিজড়াদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ পরিচয়কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। পরের বছর ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা প্রণয়নের সময়ই নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিবন্ধন ফরমে লিঙ্গ পরিচয় হিসেবে হিজড়া যুক্ত করে। এরপর থেকে হিজড়ারা বিভিন্ন নির্বাচনেও অংশ নেন।

ট্রাম্পের ২০১৪ সালের ছবিটি ভাইরাল!

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৬ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ৮:৪৩ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের ২০১৪ সালের ছবিটি ভাইরাল!

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার অপেক্ষায় মার্কিনিরা। পরিশেষে ক্ষমতার মসনদে কে বসবেন- তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা কাজ করছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবিরে। জো বাইডেন এগিয়ে থাকলেও ভোট গণনা বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক মামলায় এই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারপরও জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় থাকা বাইডেনের ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট ২৬৪–তে পৌঁছেছে।

এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জর্জিয়া রাজ্যে ভোট গণনায় জো বাইডেন এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ৯০০ ভোটে এগিয়ে গেছেন। আর মাত্র কয়েক হাজার ভোট গণনা বাকি আছে। এই রাজ্য বাইডেনের পক্ষে গেলে তার থলিতে ২৬৯টি ইলেকটোরাল ভোট আসবে, অর্থাৎ চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য মাত্র একটি বাকি থাকবে। জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট। এদিকে, ২১৪ ইলেক্টোরাল ভোট পাওয়া ট্রাম্প শিবিরে হতাশা বাড়ছে। কিন্তু ট্রাম্প বরাবরই আশাবাদী। ভোটে পিছিয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ছাপিয়ে দেশে দেশে নেটিজেনদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এই রিপাবলিকান প্রার্থী। এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে ট্রাম্পের মাথায় দুই নারীর পানি ঢালার একটি স্থিরচিত্র। রসিকতা ও ঠাট্টার ছলে এই ছবির অসংখ্য পোস্টে সয়লাব ফেসবুক।

ছবিটি শেয়ার করে ইসরাত জাহান নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মসনদ হারাতে বসে ট্রাম্প পাগল হয়ে গেছে, তার মাথায় পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হোক। পরাজয় ঠেকাতে শেষে আইনি পথ খুঁজছে, তবে শেষ রক্ষা হবে না।’ মাসুদুর রহমান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘২০০০ সালের নির্বাচনের মতো জর্জ ডব্লিউ বুশ হতে চেয়ে লাভ নাই। কাজ হবে না আদালতে গিয়ে; মাথা ঠাণ্ডা করো মি. প্রেসিডেন্ট।

সুইটি খানম নামে একজন লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের জন্য খারাপ লাগছে বেচারির দ্বিতীয়বারের প্রেসিডেন্ট হওয়া বুঝি আর হচ্ছে না। এসময় তাকে যেখানে তার বউ মাথায় পানি ঢালবে সেখানে এরা কারা। মানতে পারছি না।’ ভাইরাল হওয়া ছবিটি নিয়ে রজিবুল হাসান নামে আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আহারে ট্রাম্প, মাথা ঠাণ্ডা করো। এই সময় গরম হয়ে লাভ নাই। তোমার ক্ষমতার বাহাদুরি শেষ। অনেক করছেন- এবার অফ যান।’

মোশাররফ হোসেন নামে একজন লিখেছেন, ‘এই রকম দুঃসময়ে থাকা ট্রাম্পকে নিয়ে মজা করা ঠিক না। পুরনো ছবি নিয়ে তাকে ট্রল করা হচ্ছে। এইটাতো ২০১৪ সালের ছবি। তিনি যাইহোক বিশ্ব নেতা হিসেবে মাতিয়ে রাখতেন আমাদের।’ রবিন বাহার নামে আরেকজন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের অতি উৎসাহই তাকে পতনে ঠেলে দিয়েছে। তিনি করোনা নিয়ে যে রসিকতা মার্কিনিদের সাথে করেছেন, তা এখন ভোটে হেরে নিজেই টের পাচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে ফেসবুকে ট্রাম্পের মাথায় পানি ঢালার ভাইরাল হওয়া ছবিটি ২০১৪ সালের। এটা মূলত আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ, যা স্থিরচিত্র নয় একটি ভিডিও। যেখানে দুইজন নারী ট্রাম্পের সাথে এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। ২০১৪ সালের ২৯ আগস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার দুই বছর আগেই- এই চ্যালেঞ্জ ক্যাম্পেইন করেন। যা তিনি তার সোশ্যাল সাইটগুলোতে শেয়ার করেন। 

মজার বিষয় হচ্ছে, ২০১৪ সালে শুধু ট্রাম্পই নন; যুক্তরাষ্টের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পপ তারকা জাস্টিন বিবার ও টেইলর সুইফ্ট থেকে শুরু করে বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস, অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান, ফেসবুকের মার্ক সাকারবার্গসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকা ও সাধারণ নেটিজেনরা এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। ট্রাম্পের সেই ভিডিও’রই একটি স্থিরচিত্র ভাইরাল হয়েছে।

ওল চাষে সাফল্য পেয়েছে সাতক্ষীরার চাষীরা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ৯:৫৬ অপরাহ্ন

ওল চাষে সাফল্য পেয়েছে সাতক্ষীরার চাষীরা

অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে বৃষ্টির ভাগ অনেক বেশী।অতি বৃষ্টি কোন ফসলের জন্য ভাল ফলন আশা করা যায় না। এই প্রতিকল আবহাওয়ার মধ্যে সাতক্ষীরায় ওল চাষে সাফল্য পেয়েছে চাষীরা। জেলায় এবার বেড়েছে ওল চাষের আওতা। তবে ভাল দাম পাওয়ার কারণে অধিকাংশ চাষীরা লাভবান হয়েছে। বর্তমান বাজারে ওলের চাহিদাও রয়েছে অনেক।এখনো জেলার প্রতিটি বাজারে ওল পাওয়া যাচ্ছে।অল্প কিছু দিনের মধ্যে বাজারে ওল আর পাওয়া যাবে না।

জেলায় গতবছর  ৪৯০ হেক্টর জমিতে ওল চাষ হয়। ছলতি বছরে চাষের আওতা বেড়ে ৫৯৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।ওলের বাজার ভাল থাকায় আগামী বছর ওল চাষের আওতা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

ওল একটি সুস্বাদু সবজি। এটা মাটির নীচে হলেও এর ডাটা বা কা এমনকি কচি পাতাও ভেঁজে খাওয়া যায়।দেশের সব অঞ্চলে এর চাষ হয় না।সব  অঞ্চলে এর চাহিদাও নেই।দেশের দক্ষিণ পশ্চিম বা দক্ষিণাঞ্চলে ওল খাওয়া বা চাষ বেশী লক্ষ্য করা যায়।ওই অঞ্চলে এর কদরও রয়েছে।দামও বেশী।বতমানে বেশ লাভজনক ফসল।

প্রবাদে আছে, ওল খেলে গাল ধরে।সত্যিই তো গাল ধরে! মাটি আর রান্নার গুনে গাল ধরে না।বরঞ্চ স্বাদে অসাধারণ।তবে ভারতীয় জাত মাদ্রাজী বা ম্যাটরাজ ওলে গাল চুলকানো সম্ভাবনা খুবই কম। স্বাদে আর মানে দেশী ওলের মতো না হলেও দেখতে আবার অনেকটা একই রকম।

সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে বেলে দোআঁশ মাটি এলাকায় এর চাষ বেশী হয়।যেমন,সদরের আগরদাঁড়ী,বাবুলিয়া,বালিয়াডাঙ্গা,আবাদেরহাট,মাহমুদপুর,তালার মিঠাবাড়ী,কালিগঞ্জের চাঁচায় পারুলগাছা এলাকার ওল চাষে ও স্বাদে সুনাম রয়েছে।

ওল ফাল্গুন মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত রোপণ করা যায়।রোপণের পর ৮০ দিন বয়স থেকে বিক্রয়যোগ্য হয়।তবে,কর্তিক মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাজারে ওল পাওয়া যায়।

ওল সাধারণ তিন জাতের লক্ষ্য করা যায়।দেশী,মাদ্রাজী বা ম্যাটরাজ এবং “ল” ম্যাটরাজ।

দেশী ওল ফলনে কম হলেও চাহিদা অনেক বেশী। দামেও বেশী। দেশী জাতের ৪০০-৫০০ গ্রামেরর প্রতি পিচ ওলবীজ রোপন করলে ২-৫ কেজি পর্যন্ত ওল পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি ১৬০০ বীজ রোপন করা যায়।প্রতি বিঘায় ১৬০-১৮০ মণ ওল পাওয়া যায়।বাজারে দাম ভাল পেলে এক বিঘা ওল চাষে ২-৩ লক্ষ টাকা বিক্রি করা যায়।এক বিঘা ওল চাষে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশঘাটা গ্রামের দিলদার হোসেন ১৮ কাঠা জমিতে দেশী ওল চাষ করেন।তিনি জানান আমার ওই জমিতে ওল চাষে খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা।ক্ষেত বিক্রি করে দিয়েছি ২ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা।এবার তিনি ওল চাষে লাভবান হয়েছেন।চলতি বছরে বাজারে দেশী ওলের দাম কেজি প্রতি ৬০-৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

মাদ্রাজ ওল ফলনে বেশী।দামেও কম।বিক্রিও বেশী।এই ওল প্রতি বীজের ওজন ৫০০-৩ কেজি পর্যন্ত লাগানো হয়।বিঘা প্রতি ১৬০০ পিচ বীজ লাগনো যায়।এ ওল ৫-১২ কেজি পর্যন্ত ফলনে পাওয়া যায়।এ বছর ম্যাটরাজ জাতের ওল বাজারে ৪০-৬০ টাকা দরে প্রতি কেজি বাজারে বিক্রি হয়েছে।

সাতক্ষীরা কলিগঞ্জ উপজেলার চাঁচায় গ্রামের ওমর আলী।তিনি তিন বিঘা জমিতে ম্যাটরাজ ওল চাষ করেছেন।এবার আমার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি ওল ৫-১২ কেজি পর্যন্ত পেয়েছি।৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা তিন বিঘা ওল বিক্রি করে দিয়েছি।

সাতক্ষরা সদর উপজেলার বাবুলিয়া গ্রামের মো: মোস্তফিজুর রহমান।প্রায় নয় বছর ধরে ওলের ব্যবসা করে আসছে। এ বছর প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ওল কেনাবেচা করেছেন।তিনি জানান,আমরা শুধু ওল ক্ষেত ক্রয় করি।স্যাম্পল দেখে পুরা ওল ক্ষেত ক্রয় করি।ভাগ্য ভালো হলে বেশ ভাল লাভ হয়।জমি থেকে ওল উঠিয়ে বিভিন্ন্ বাজারে বিক্রি করি।

এবছর বাজারে ওলের দাম ভাল থাকার কারণে লাভবান হয়েছি।তবে কৃষকেরা অনেক লাভবান হয়েছে।অন্যান্যবার ওলে পঁচন ও জুইপোকা বা ভাইরাস লাগার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছিলেন।আমার অভি মতে আগামী বছর ওল চাষ আরো বাড়বে বলে মনে করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদßরের উপ পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান,সাতক্ষীরায় এবার ওলের চাষ আনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।কৃষকেরা ভাল দামও পেয়েছে।জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ওলের চাহিদাও রয়েছে।স্থানীয় বাজারে এখনো ওল পাওয়া যাচ্ছে।সাতক্ষীরার কয়েকটি স্থানের ওলের বেশ কদর রয়েছে।এ জেলার ওল পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় চলে যায়।ফলে চহিদা বৃদ্ধির কারণে চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।-মোতাহার নেওয়াজ (মিনাল)

বরগুনায় মুক্তা চাষে সফলতা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ৯:৪৪ অপরাহ্ন

বরগুনায় মুক্তা চাষে সফলতা

বরগুনায় ঝিনুকের মুক্তা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম। ইতোমধ্যে তার মুক্তা চাষের সফলতার গল্প ছড়িয়ে পড়েছে গোটা জেলা জুড়ে। প্রথমে মুক্তাচাষের প্রদর্শনী খামার গড়ে তুললেও এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহী তিনি। নুরুল ইসলামের সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই এখন মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে মুক্তা চাষে। তবে আগ্রহী চাষীরা বলছেন মুক্তা চাষ করতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার কে লতাবাড়িয়া গ্রামে ব্রাইট এগ্রো নামের একটি কৃষি খামার স্থাপন করেন অবসারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম। এতে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগীতা করেন তার আপন ছোট ভাই মো. কামরুল ইসলাম। এই এগ্রো ফার্মেই ২০১৯ সালে মাছের পাশাপাশি ঝিনুকের মুক্তা চাষের প্রকল্প হাতে নেয় নুরুল ইসলাম। গড়ে তোলে একটি প্রদর্শনী খামার। 
 
মুক্তা চাষে আগ্রহী আবদুস সোবাহান বলেন, আমাদের প্রচুর প্রাকৃতিক জলাধার রয়েছে যাতে ঝিনুক পাওয়া যায়। আমরা নুরুল ইসলাম ভাইয়ের প্রদর্শনী খামার দেখেছি আমরা নিজেরাও মুক্তা চাষ করতে আগ্রহী। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ সম্ভব। মুক্তা চাষের উদাক্তা মো. নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পুকুর বা জলাশয় একই সাথে মুক্তা এবং মাছ চাষ করে যেকোনো পরিবার অর্থনৈতক ভাবে লাভবান হতে পারে। ব্রাইট এগ্রোর মুক্তা চাষ প্রকল্প দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। ব্রাইট এগ্রোর পক্ষ থেকে হাতে কলমে আগ্রহীদের ধারণা দেয়া হচ্ছে ঝিনুকের মুক্তা চাষের পদ্ধতি কৌশল সম্পর্কে। 

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ঝিনুক থেকে উৎপাদিত হয় ৬টি মুক্তা। বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি মুক্তা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীসে অবস্থানরত বাঙালিরা মুক্তা সংগ্রহের ব্যাপারে যোগাযোগ করছেন। আগামী নভেম্বর মাসে গ্রীসে প্রবাসী বাঙালিদের চাহিদা মতো ১ হাজার পিস মুক্তা পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 


বরগুনার জেলা প্রাশাসক মোঃ মোস্তাইন বিল্লাহ ঝিনুকের মুক্তা চাষ প্রকল্প পরিদর্শন করে তার এই মুক্তা চাষের প্রশংসা করে এর প্রসারে সকল প্রকার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বরগুনার এই উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের উদ্যোক্তার প্রয়োজন। তার এই উদ্যোগ দেখে আমি খুবই আনন্দিত। এলাকার বেকার যুবকরা একটু উদ্যোগী হলে মুক্তা চাষ প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।

নজিরবিহীন সহিংসতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ৯:৩৭ অপরাহ্ন

নজিরবিহীন সহিংসতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী দিনগুলোয় দাঙ্গা-হাঙ্গামা-লুটপাটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে কখনো নির্বাচন ঘিরে  সহিংসতার এমন পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। ২৫ অক্টোবর ম্যানহাটনে ট্রাম্প সমর্থকদের সঙ্গে ট্রাম্পবিরোধীদের সহিংস সংঘর্ষ দেখে হতবাক হয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ট্রাম্প সমর্থক ও তার বিরোধীরা নির্বাচনের মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় উদ্বেগে নগরবাসী। সহিংসতার আগাম তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছেও। এরই মধ্যে নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া নগরী, শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি, মিনিয়াপোলিস ও সিয়াটলসহ বড় নগরীগুলোতে সহিংসতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে। বড় বড় নগরীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও নির্বাচনের পর বিভিন্ন গ্রুপের দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভ সমাবেশ হবে বলে আশঙ্কা করছেন। নিউইয়র্কে ব্যবসায়ীরা দোকানের কাচ ও দরজায় কাঠ লাগিয়ে দিচ্ছেন। লুটপাট ঠেকানোর প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে দামি ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে। ওয়ালমার্ট তার স্টোরগুলো থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে নিচ্ছে। ওয়ালমার্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে সহিংসতা হতে পারে, এই আশঙ্কায় তারা এটা করেছেন। গত সপ্তাহে আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন ও ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট এবং মিলিশিয়া ওয়াচের যৌথভাবে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেট পেনসিলভেনিয়া, জর্জিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিনে সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। হামলার আশঙ্কা রয়েছে ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে। টাইমস স্কয়ার সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ম্যানহাটন থেকে বেশ কিছু আবাসিক লোকজনকে নগরী ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। ৩ নভেম্বর নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বুঝে তারা শহরে ফিরবেন। শেষতক নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে কিনা এবং ফলাফল ব্যাপকভাবে গৃহীত হবে কিনা এ নিয়ে ভাবছেন ভোটাররা। ইউএসএ টুডে ও সাফোক বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, চারজন ভোটারের মধ্যে তিনজনেরই আশঙ্কা নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা চলবে। শুধু একজন ভোটারের দৃঢ় বিশ্বাস নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে, তাও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন যদি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে দিতে পারেন। ফ্লোরিডার পিটার্সবুর্গের এক রেজিস্টার্ড নার্স এ জরিপে অংশ নেন। ৭২ বছর বয়সী এ মার্কিন নাগরিক বলেন, ‘এ মুহূর্তে খুব চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমি আমার পুরো জীবনে এমন ভীতিকর পরিস্থিতি দেখেছি ১৯৬২ সালে জন এফ কেনেডির প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় এবং কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট মুহূর্তে।’ এ ছাড়া নির্বাচনের ভুয়া খবর ছড়িয়ে সহিংসতা হতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘ভোট নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে আছি। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণ হয়ে গেছে। চূড়ান্ত ফল বের হতে কয়েক দিন এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। এ অবস্থায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।’ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেসবুকের সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিয়ে কড়াকড়ি করা হয়েছে। সংস্থা লক্ষ্য রাখছে, কেউ যেন এমন কোনো বিজ্ঞাপন না দেয়, যাতে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকেই ছোট করা হয়। পাশাপাশি নাগরিকদের ভোটদানে নিরুৎসাহ করে, এমন প্রচার বা পোস্টের বিরুদ্ধেও তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন জুকারবার্গ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্য পাল্টে দিতে পারেন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষেরা। শেষ মুহূর্তে ভোটের জন্য দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে হাত পেতেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা দরিদ্র ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার চেষ্টা করছেন। এজন্য প্রায় ২০০ জাতীয় গ্রুপ তৈরি করেছেন তারা। মোবাইলে মেসেজ পাঠানো ছাড়াও প্লাকার্ড ও পোস্টারে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। দ্য গার্ডিয়ানের খবর, যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্র ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ও নিম্নআয়ের ভোটার রয়েছেন প্রায় ১৪ কোটি। প্রচারকর্মীরা বলছেন, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষগুলোর ভোট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ডেমোক্র্যাট শিবির তাদের প্রচারণায় ট্রাম্পকে ‘ধনীদের প্রেসিডেন্ট’ বলে প্রচার করেছে। নিম্নআয়ের মানুষদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা ও স্কিমের অঙ্গীকার নিয়ে জোরেশোরে প্রচার চালায় তারা। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে দরিদ্রদের ভোট পেতে মরিয়া রিপাবলিকানরাও। বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ১৫টি অঙ্গরাজ্যে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের ভোটারদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০১৬ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সে বছর ৩ কোটি ৪০ লাখ দরিদ্র ভোটার ভোট দেননি। এই ভোটগুলো না পড়ায় ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়ে হোয়াইট হাউসে জায়গা করে নেন। তাই এ বছর ডেমোক্র্যাটরা দরিদ্র ও নিম্নআয়ের ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ দেখাচ্ছে।

ওসি-ডিসি না শুনলে আমার কাছে আসুন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ৯:২৮ অপরাহ্ন

ওসি-ডিসি না শুনলে আমার কাছে আসুন

আপনার এলাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) যদি আপনাদের অভিযোগ না শুনতে চান, তাহলে আমার কাছে আসুন। আমার দুয়ার সবার জন্য সব সময় খোলা। প্রয়োজনে আমি নিজেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় যাব। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মোহা. শফিকুল ইসলাম       গতকাল রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বেশ কয়েকজনকে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের কিছু দোষত্রুটি থাকলেও সর্বত্রই নিরলসভাবে পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা থেকে করোনা মহামারীতে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা দিয়েছে।একই সঙ্গে মানুষের অভাব অভিযোগ শুনে করণীয় সব ধরনের ব্যবস্থা পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি তাহলে অবশ্যই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ আমরা বিনির্মাণ করতে পারব- যেখানে মাদক থাকবে না, আমার সন্তান ঘর থেকে বের হলে ভয়ে আমার বুক কাঁপবে না যে সন্তান আবার ঘরে ফিরে আসবে কি না? আমরা চাই, পুলিশের খারাপ কাজের প্রতিবাদী কণ্ঠটা আপনারই হোক। আপনিই ওই এলাকার কমিউনিটি পুলিশের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। মানুষের জন্য কাজ করবেন।

ডিএমপিপ্রধান বলেন, ঢাকা শহরে ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার পুলিশ সদস্য দিয়ে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু এই নিরাপত্তা যথেষ্ট বলে আমরাও মনে করি না। সুদৃঢ় নিরাপত্তার জন্য দরকার পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা। এ কারণেই গত পাঁচ বছর ধরে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেখানে এলাকার জনপ্রতিনিধি, সাধারণ জনগণ পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। এর ফলে যেটা হবে- আপনাদের থেকে অভিযোগগুলো সহজেই আমাদের কাছে আসবে। আর আমরা আপনাদের সঙ্গে নিয়েই সেগুলোর সমাধান করব। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মেলবন্ধনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশকে ভয় না পেয়ে যে কোনো সাহায্যের জন্য আসতে পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে। প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, পুলিশের উপস্থিতি নেই জীবনের ও সমাজের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই। পুলিশের প্রয়োজন সর্বত্র আছে। অগ্রণী হিসেবে তারা দায়িত্ব পালন করছে। শান্তি, কঠিন সংকটে, দুর্র্ধর্ষ, দুর্ঘটনার সময় পুলিশ সামনের সারিতে থেকে আমাদের জন্য কাজ করছে। পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শনে পরিবর্তন এসেছে। সে কারণে তাদের উৎসাহ দেওয়া ও ভালো কাজকে সামনে আনা আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

প্রসঙ্গত, গতকাল দেশব্যাপী উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে ২০২০’ উদ্যাপন করেছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের মূলমন্ত্র, কমিউনিটি পুলিশিং সর্বত্র’।

পদ্মা সেতুর ৫ হাজার ২৫০ মিটার এখন দৃশ্যমান

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

পদ্মা সেতুর ৫ হাজার ২৫০ মিটার এখন দৃশ্যমান

পদ্মা সেতুর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ৮ ও ৯ নম্বর পিয়ারের (খুঁটি) ওপর বসানো হয়েছে ৩৫তম স্প্যান। এর ফলে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৫ হাজার ২৫০ মিটার। শনিবার বেলা দুইটা ৪০ মিনিটের দিকে স্প্যানটি সফলভাবে বসানো হয়।

৩৪তম স্প্যানটি বসানোর ৭ দিনের মাথায় এই স্প্যান বসানো হলো। সেতুতে আর মাত্র ৬টি স্প্যান বসানো বাকি রইল। গত ২৫ অক্টোবর ৩৪তম স্প্যানটি বসানো হয়েছিল।

সেতু সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার টু-বি স্প্যানটি সেতুর ৮ ও ৯ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানোর কথা ছিল। পিলারের কাছে পানির গভীরতা কমে নাব্যতা সংকট তৈরি হওয়ায় স্প্যানটি ওই দিন বসানো যায়নি। শুক্রবার খননকাজ শেষ করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়।

সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের প্রথম আলোকে জানান, খননের মাধ্যমে পলি সরিয়ে নদীতে নাব্যতা বাড়ানো হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ভাসমান ক্রেন ‘তিয়ান-ই’ ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটিকে নিয়ে রওনা হয়। বেলা ২টা ৪০ মিনিটে স্প্যানটিকে সফলভাবে বসানো হয়। আগামী ৫ অথবা ৬ নভেম্বর পরবর্তী স্প্যান বসানো হবে। বাকি স্প্যানগুলো ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে বসানোর পরিকল্পনা আছে।বিজ্ঞাপন

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫ অথবা ৬ নভেম্বর ২ ও ৩ নম্বর খুঁটিতে ৩৬তম স্প্যান (স্প্যান ১-বি), ১১ নভেম্বর ৯ ও ১০ নম্বর খুঁটিতে ৩৭তম স্প্যান (স্প্যান ২-সি), ১৬ নভেম্বর ১ ও ২ নম্বর খুঁটিতে ৩৮তম স্প্যান (স্প্যান ১-এ), ২৩ নভেম্বর ১০ ও ১১ নম্বর খুঁটিতে ৩৯তম স্প্যান (স্প্যান ২-ডি), ২ ডিসেম্বর ১১ ও ১২ নম্বর খুঁটিতে ৪০তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) এবং আগামী ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর ৪১ নম্বর স্প্যানটি (স্প্যান ২-এফ) বসানোর কথা আছে। সবগুলো স্প্যান মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এর মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, ১ হাজার ৪১টির বেশি রোড স্ল্যাব বসানো হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি।বিজ্ঞাপন

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয়েছে ৩৪টি স্প্যান। ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫০ ভাগ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৭ দশমিক ৫৫ ভাগ। নদী শাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৫০ ভাগ। এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৭৯৬ দশমিক ২৪ কোটি টাকা।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানব জাতির জন্য অনুসরণীয়: রাষ্ট্রপতি

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানব জাতির জন্য অনুসরণীয়: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানব জাতির জন্য অনুসরণীয়। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববাসীসহ মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বিশ্ববাসী বিশেষত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। মহান আল্লাহ তা’আলা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন। দুনিয়ায় তার আগমন ঘটেছিল ‘সিরাজুম মূনিরা’ তথা আলোকোজ্জ্বল প্রদীপরূপে।

তিনি বলেন, তৎকালীন আরব সমাজের অন্যায়, অবিচার, অসত্য ও অন্ধকারের বিপরীতে তিনি মানুষকে আলোর পথ দেখান এবং প্রতিষ্ঠা করেন সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা। আল্লাহর প্রতি অতুলনীয় আনুগত্য, অগাধ প্রেম ও ভালোবাসা, অনুপম চারিত্রিক গুণাবলী, অপরিমেয় দয়া ও মহৎ গুণের জন্য তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে অভিষিক্ত। এ জন্য পবিত্র কুরআনে তার জীবনকে বলা হয়েছে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ্’ অর্থাৎ সুন্দরতম আদর্শ।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বশেষ মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ করে জগতে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অসীম ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে তিনি শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সারাবিশ্বে এ মহাগ্রন্থের মর্মার্থ ছড়িয়ে দেন।

তিনি আরো বলেন, মহানবী (সা.) সাম্য ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারীর মর্যাদা ও অধিকার, শ্রমের মর্যাদা, মনিবের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। বিদায় হজের ভাষণ মানবজাতির জন্য চিরকালীন দিশারি হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ ছিল মহানবী (সা.) এর বিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার প্রকৃষ্ট দলিল। এ দলিলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সার্বজনীন ঘোষণা রয়েছে। ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে তার শিক্ষা সমগ্র মানব জাতির জন্য অনুসরণীয়।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ আমাদের সবার জীবনকে আলোকিত করুক, আমাদের চলার পথের পাথেয় হোক, মহান আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দিন। বাসস।

যশোরে ৯টি বিদেশী পিস্তল, গোলাবারুদসহ একজনকে গ্রেপ্তার

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

যশোরে ৯টি বিদেশী পিস্তল,  গোলাবারুদসহ একজনকে গ্রেপ্তার

যশোরের বেনাপোলের পুটখালী এলাকা থেকে ৯টি বিদেশী পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ হাবিবুর রহমান বিশ্বাস (৩৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা।  গ্রেপ্তার হওয়া হাবিবুর রহমান বিশ্বাস (৩৯)পুটখালীর মৃত কোরবান আলী বিশ্বাসের ছেলে।

শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে র‌্যাব-৬ সদর দপ্তরে আয়োাজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রওশনুল ফিরোজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রওশনুল জানান, ২৯ অক্টোবর দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুটখালী থেকে হাবিবুরকে আটক করা হয়। এরপর তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর ভোর রাতে হাবিবুর এর পুটখালির নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার বাড়ির রান্না ঘরে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে ২টি প্যাকেটে রাখা ৯টি বিদেশি পিস্তল, ১৯টি ম্যাগজিন, ৪৯ রাউন্ড গুলি ও ১টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে এ অস্ত্রগুলো সন্ত্রাসীদের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে হাবিবুর মজুদ করেছিল বলে স্বীকার করেছে।

ভারতের সেরা যারা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

ভারতের সেরা যারা

দ্য ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান ব্র্যান্ডস একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এই জরিপে বিভিন্ন শাখায় ভারতের সেরাদের নাম উঠে এসেছে। এখানে ৯ শাখায় সেরাদের তালিকা তুলে ধরা হলো। 

‌১. সবচেয়ে সম্মানিত ও বিশ্বস্ত দম্পতিবিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা দম্পতি এই ক্যাটাগরিতে শীর্ষে আছেন।

২. শক্তিমান দম্পতি

দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং হলেন ‘পাওয়ার কাপল’ ক্যাটাগরিতে সেরা। 

৩. সেরা আকর্ষণীয় তারকা

‘মোস্ট অ্যাট্রাক্টিভ সেলেব্রিটি’ হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। 

৪. বহুমুখী প্রতিভা

অভিনেতা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী ভারতের সবচেয়ে ভার্সেটাইল তারকা হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন।

৫. সেরা সুন্দরী

বলিউডের শীর্ষ নায়িকা দীপিকা পাডুকোন সুন্দরী ক্যাটাগরিতে ৫৯.৯ স্কোর করে সেরা হয়েছেন। ৪৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ‘মোস্ট গ্ল্যামারাস’ শাখাতেও শীর্ষে দীপিকা।

৬. সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি

 বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন ৯০ স্কোর নিয়ে এই শাখায় শীর্ষে রয়েছেন। 

৭. সবচেয়ে আবেদনময়

‘মোস্ট অ্যাপিলিং’ বা সবচেয়ে আবেদনময় পুরুষ হয়েছেন অক্ষয় কুমার, তার স্কোর ৯৩.৫।

৮. সবচেয়ে যৌনাবেদনময়ী

‘মোস্ট সেক্সি’ বা সবচেয়ে যৌনাবেদনময়ী হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি হলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

৯. নারীদের হৃদয়হরণ

‘মোস্ট নাম্বার ওয়ান হার্টথ্রব’ বলিউড তারকা হয়েছেন রণবীর কাপুর। জরিপে আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুর হয়েছেন ‘মোস্ট কনট্রোভার্শিয়াল কাপল’।বিডি প্রতিদিন

২০২৪ সাল এর মধ্যে সাতক্ষীরায় ৯৯ কিলোমিটার রেলপথ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৮ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

২০২৪ সাল এর মধ্যে  সাতক্ষীরায় ৯৯ কিলোমিটার রেলপথ

রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জেলা সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। এ জেলা থেকে দেশের অন্য স্থানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। সুন্দরবন, চিংড়ি সম্পদ এবং ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি (ভোমরা স্থলবন্দর) বাণিজ্য অর্থনৈতিকভাবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব কারণে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে একমাত্র সড়কপথটি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বর্তমান সরকার সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে যশোরের শার্শার নাভারণ থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৬২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
কন্সট্রাকশন অব নিউ বিজি ট্র্যাক ফর্ম নাভারণ টু সাতক্ষীরা প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা চীনের কাছে থেকে ঋণ চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চলতি সময় থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

নাভারণ থেকে মুন্সীগঞ্জ গ্যারেজ পর্যন্ত রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ৯৮ দশমিক ৪২ কিলোমিটার। ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দবিহীন নতুন প্রকল্প তালিকায় এটা রাখা হচ্ছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ট্রেনে চড়ে যাওয়া যাবে মুন্সীগঞ্জ পয়েন্টে। সেখান থেকে নদী পার হলেই সুন্দরবন। সুন্দরবনের উদ্ভিদ ও প্রাণি বৈচিত্রের কথা ভেবেই সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার দূরত্বের আগেই ট্রেন স্টেশন শেষ হবে। নাভারণ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত থাকবে ৮টি স্টেশন। এগুলো হলো, নাভারণ, বাগআচড়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা, পারুলিয়া, কালীগঞ্জ, শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জ। একই সাথে রেলপথের সেতু নির্মিত হবে বাঁকাল, লাবণ্যবতী, সাপমারা খাল ও কাকশিয়ালী নদীর ওপর।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান আ ন ম আজিজুল হক বলেন, সুন্দরবনের সাথে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ প্রাথমিক অবস্থায় আছে। নাভারণ থেকে সাতক্ষীরা হয়ে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা গেলে অর্থনৈতিকভাবে এলাকাগুলো শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, নতুন রেলপথ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রেলপথটি নির্মাণে চীনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী খোঁজা হচ্ছে। শর্ত সাপেক্ষে যার সাথে মিলবে তাকেই এই প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে নেয়া হবে।

সেনাপ্রধান আহমেদের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি নিয়ে সতর্ক বার্তা

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ১১:০০ অপরাহ্ন

সেনাপ্রধান আহমেদের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি নিয়ে সতর্ক বার্তা

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি নিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছে আইএসপিআর।
বাংলাদেশের বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কোন ফেসবুক আইডি নেই বলে জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআর।
তার নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে -এমন তথ্যের ভিত্তিতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়।
সেখানে বলা হয় যে, “বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ কোন ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার অথবা পরিচালনা করছেন না।”
“কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অসৎ উদ্দেশ্যে সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ফেইসবুক একাউন্ট খুলে সেখানে বিভিন্ন তথ্য আপলোড করছে এবং ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা,” এমনটা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য সেখানে অনুরোধ জানানো হয়।আইএসপিআর

মণ্ডপে মিথিলা আইনি জটিলতায় সৃজিত?

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

মণ্ডপে মিথিলা আইনি জটিলতায় সৃজিত?

বাংলাদেশি অভিনেত্রী স্ত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলাকে নিয়ে শনিবার পূজা মণ্ডপে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

এদিন স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ কলকাতার সুরুচি সংঘের পূজামণ্ডপে মহাষ্টমীর অঞ্জলিও দেন তারা। মণ্ডপে তাদের ঢাকের তালে নাচতেও দেখা যায়। আর এতেই আইনি জটিলতায় পড়তে যাচ্ছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।জানা গেছে, পুজো মণ্ডপে ‘নো এন্ট্রি’-র নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে যেসব সেলিব্রিটি ক্লাব সদস্য না হয়েও অষ্টমীর সকালে মণ্ডপে প্রবেশ করে অঞ্জলি দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এবার আইনি ব্যবস্থা নিতে চলেছেন মামলাকারী অজয় কুমার দে’র আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়।

শুধু সৃজিত মুখোপাধ্যায় নয়, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও নুসরাত জাহানও রয়েছেন এই তালিকায়।

শনিবার অষ্টমীর সকালে অনেককেই মণ্ডপে প্রবেশ করে অঞ্জলি দিতে দেখা গিয়েছে। আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ সকলের মেনে চলা উচিত। তাছাড়া কেউ যদি জনপ্রতিনিধি হন, নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে তার দায়িত্বটা আরও বেড়ে যায়। আমরা সবটাই নজরে রাখছি। যারাই নির্দেশ অমান্য করবেন, তাদের ক্ষেত্রেই আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।”

এদিন সকালে সুরুচি সংঘের পূজামণ্ডপে অঞ্জলি দিতে দেখা যায় অভিনেত্রী তথা সাংসদ নুসরাত জাহান ও তার স্বামী নিখিল জৈনকে। এছাড়াও মণ্ডপে প্রবেশ করে অঞ্জলি দিয়েছেন আরেক সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। 

সব্যসাচীর মতে, “নুসরাত জাহান বা মহুয়া মৈত্র– যে কেউ অঞ্জলি দিতেই পারেন যদি তিনি পুজা উদ্যোক্তা হন বা সদস্য হন। কিন্তু আমরা যতদূর জানতে পেরেছি নুসরাত জাহান ওই এলাকার বাসিন্দা নন। বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানাব এবং আইনি নোটিশ পাঠাব। তাছাড়া মহুয়া মৈত্রর কাছ থেকে এটা আশা করা যায় না। তিনি একাধিক সাংবিধানিক মামলায় নিজে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আইন মানবেন, মানুষ এটাই আশা করে।”

যদিও নুসরাতের পক্ষ থেকে তার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে নুসরাত তিন বছর আগে থেকেই সুরুচি সংঘের সদস্য। সেক্ষেত্রে তিনি সেখানে অঞ্জলি দিতে গিয়ে কিছু ভুল করেননি। এক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘিত হয়নি। নুসরাতের মতোই চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও সুরুচি সংঘের সদস্য বলে জানা গেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে নুসরাতের স্বামী নিখিল জৈন ও সৃজিতের স্ত্রী মিথিলাকে নিয়ে। মিথিলা বাংলাদেশের নাগরিক। নিখিল জৈন সুরুচি সংঘের সদস্য কি না, সে ব্যাপারে অবশ্য কিছু জানাননি নুসরাতের মুখপাত্র।

সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা কার্যকরী করতে কলকাতা পুলিশ যথেষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সেভাবে ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছে। তিনি বলেন, “আমরা সবটা নজরে রাখছি। আদালত পুলিশকে নির্দেশ কার্যকর করতে বলেছিলেন। আমরা পুলিশকে বিষয়টা জানাচ্ছি।”

তবে কৃষ্ণনগরে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, মণ্ডপ বা নো এন্ট্রি জোনে পুজা উদ্যোক্তা, পুরোহিত ও ঢাকিরা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। পুজা উদ্যোক্তাদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সংখ্যা নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন আদালত। বড় পুজার ক্ষেত্রে একসঙ্গে ৪৫ এবং ছোট পুজার ক্ষেত্রে একসঙ্গে ১৫ জনের প্রবেশের অনুমতি ছিল। সেই সঙ্গে কারা, কতদিন প্রবেশ করবেন সেই সংক্রান্ত তালিকা সকাল ৮টার মধ্যে মণ্ডপে ঝোলানোর নির্দেশও দিয়েছিলেন আদালত। আদালতের নির্দেশ মানা হয়েছে কিনা লক্ষ্মীপুজার পর রাজ্য পুলিশের ডিজিকে রিপোর্ট দিয়ে তা জানাতে হবে। সূত্র: জি নিউজ, আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন ,বিডি প্রতিদিন

২০২১ সালের শুরুতে বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল ফোন

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ১০:১৯ অপরাহ্ন

২০২১ সালের শুরুতে বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল ফোন

দর্পণ ডেস্ক : অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন বন্ধে আগামী বছরের শুরু থেকে প্রযুক্তি বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটিআরসি। ২০১২ সালে উদ্যোগ নেওয়ার প্রায় ৮ বছর পর এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রযুক্তিটি চালু হলে গ্রাহকের হাতে থাকা এসব হ্যান্ডসেটে কোনো অপারেটরের সিমই চলবে না।  

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, “অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) প্রযুক্তি সরবরাহ ও পরিচালনার দরপত্র প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। আগামী বছর শুরু থেকে এ প্রযুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হবে।”বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালের আগস্ট নাগাদ মোট ১১ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার ৭৬৩টি আইএমইআই নম্বর ডেটাবেইজে যুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল ফোন আমদানিকারক, অপারেটর ও দেশে হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তথ্য নিয়ে এ ডেটাবেইজ তৈরি করা হয়েছে।

২০১৮ সালের আগে যেসব হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছে এবং আইএমইআই নম্বর ডেটাবেইজে যুক্ত হয়নি এনইআইআর চালু হলে সেগুলোর কী হবে জানতে চাইলে বিটিআরসি প্রধান বলেন, “২০১৯ সালের অগাস্টের আগে ক্রয়কৃত যেসব সেট মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে যুক্ত আছে সেসব হ্যান্ডসেটগুলোকে নির্ধারিত সময়ের জন্য নিবন্ধিত করার একটা সুযোগ দেওয়া হবে।”

বিদেশ থেকে হ্যান্ডসেট নিয়ে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, “সেক্ষেত্রে ক্রয়ের রশিদ ও আনুষঙ্গিক কাজগপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তীতে এনইআইর চালু হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সেসব আইএমইআই নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হবে।”

২০১৯ সালে প্রকাশিত মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (ইআইআর) নির্দেশনায় এনইআইআরের উল্লেখ রয়েছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া শুরু হলে অবৈধ হ্যান্ডসেটে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট একটি সিম ছাড়া অন্য কোনো সিম কাজ করবে না। নির্দিষ্ট সময় পরে কোনো সিমই কাজ করবে না। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়েই নকল বা অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধ করবেন।

খসড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, অপারেটররা তাদের লাইসেন্স নীতিমালা অনুযায়ী সব মোবাইল হ্যান্ডসেটের ইএমআই নম্বর দিয়ে এই ডেটাবেইজ তৈরি করবে।

ইএমআই নম্বর হল ১৫ ডিজিটের একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা, যা বৈধ মোবাইল ফোনে থাকে। একটি মোবাইল ফোনের কি-প্যাডে *#06# পরপর চাপলে ওই মোবাইল ফোনের বিশেষ এই শনাক্তকরণ নম্বরটি পর্দায় ভেসে উঠে।

অপারেটরদের ইআইআর তৈরির পর তা জাতীয় ইআইআর (এনইআইআর) এ সংযুক্ত হবে। এর ফলে সব অপারেটরদের ইআইআর খুব সহজেই নজরদারি করতে পারবে বিটিআরসি।

গ্রাহকের হাতে যেসব নকল বা অবৈধ হ্যান্ডসেট রয়েছে, এই প্রক্রিয়া শুরু করার ছয় মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট সিমে তা চালু রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অর্থাৎ যে সিমে মোবাইল চালু থাকবে সেই সিমের মাধ্যমেই তা নিবন্ধিত ধরে নেওয়া হবে। ছয় মাস পর কোনো নকল, অবৈধভাবে আমদানি করা বা ক্লোন হ্যান্ডসেটে সিম কাজ করবে না।

যেভাবে যাচাই করবেন হ্যান্ডসেট:
বিটিআরসি বার বার সতর্কতা জানিয়ে বলে আসছে, মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে আইএমইআইর মাধ্যমে সেটটির বৈধতা যাচাই করে নিতে হবে। বিক্রেতার কাছ থেকে হ্যান্ডসেট কেনার রশিদ নিতে হবে।

মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাইয়ের পদ্ধতি হল মোবাইল ফোনের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে KYD স্পেস ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে 16002 নম্বরে পাঠাতে হবে।

মোবাইল ফোনের প্যাকেটে প্রিন্টেড স্টিকার থেকে অথবা *#06# ডায়াল করার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডসেটের আইএমইআই জানা যাবে।
 
বিডি প্রতিদিন

দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নভেম্বরে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ১০:১১ অপরাহ্ন

দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নভেম্বরে

দর্পণ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রভাব কমেছে। আজ রবিবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। তবে আগামী মাসে (নভেম্বর) ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন অধিদফতরের উপপরিচালক কাওসার পারভীন।তিনি বলেন, আগামী দিন থেকেই আমরা স্বাভাবিক আবহাওয়া আশা করছি। এই মেঘ-বৃষ্টি কেটে গেলেই শীতের প্রকোপ চলে আসবে। অক্টোবর-নভেম্বর মাস ঘূর্ণিঝড়ের মাস। আগামী মাসে এ রকম দু-একটা ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।

সাতক্ষীরা ফোর মার্ডার মামলায় প্রেস ব্রিফিং সিআইডি ছোটভাই রায়হানুর ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে ভাই ভাবী ভাইপো ও ভাইজিকে খুন করেছে

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরা ফোর মার্ডার মামলায় প্রেস ব্রিফিং সিআইডি ছোটভাই রায়হানুর ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে ভাই ভাবী ভাইপো ও ভাইজিকে খুন করেছে

দর্পণ ডেস্ক :পারিবারিক দ্বন্দ্বে তরল পানীয়র সাথে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে ভাই ভাবী ভাইপো ও ভাইজিকে একাই খুন করে ছোটভাই রায়হানুর। প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি এই তথ্য দিয়েছেন। আজ বিকাল ৫টার দিকে সাতক্ষীরা সিআইডি অফিসে উক্ত প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
এরআগে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতি নিহতের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।
রাহানুরের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, রাহানুর বর্তমানে কোন কাজ করতো না। বিগত বেশ কিছুদিন তার কোন আয় ছিল না। একই সাথে গত ৯-১০ মাস আগে তার বউ চলে যায়। এজন্য সে বড় ভাইয়ের পরিবারের সাথে খাওয়া-দাওয়া করতো। কিন্তু খাওয়া-দাওয়া নিয়ে তার ভাবী সাবিনা খাতুন তাকে প্রায় গালমন্দ করতো। ঠিক মতো খেতে দিতো না। এতে তার মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ জন্ম নেয়। এক পর্যায়ে সে ভাবী সাবিনা খাতুনকে হত্যা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য সে ১৪ অক্টোবর রাতে পাশের ফার্মেসি থেকে ঘুুমের ঔষধ ডিসোপেন ও স্থানীয় মুদি দোকান থেকে স্পিড (কোমল পানীয়) কিনে তাতে মিশিয়ে তার ভাবী ও ভাইপো ভাতিজিকে খেতে দেয়। রাতে রাহানুর তার বড় ভাইয়ের ঘরে টিভিতে আইপিএল খেলা দেখছিল। রাত দেড়টার দিকে বড়ভাই ঘের থেকে বাড়ি এসে দেখে রাহানুর তার ঘরে বসে টিভি দেখছে। এসময় বড় ভাই শাহিনুর তাকে টিভি দেখার জন্য বকাঝকা করে বলে তুই বিদ্যুৎ বিল দিস নে, টিভি দেখছিস কেন। এসময় রাহানুর ভাইকে বলে এ মাসের বিদ্যুৎ বিল আমি দিয়ে দেব তুমি এই স্পিডটি খাও। বড়ভাই তখন তার দেওয়া স্পিডটি খায়।
এরপর রাতের কোন এক সময় সে ঘরের কার্নিস বেয়ে বড়ভাইয়ের ঘরের ছাদের উঠে চিলে কোঠার দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাইকে জবাই করে হত্যা করে। পরে পাশের ঘরে থাকা ভাবীকেও একইভাবে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের সময় ভাবী চিৎকার দিলে ভাইপো-ভাতিজিও উঠে যায়। তখন তাদেরও হত্যা করে রাহানুর। পরে সে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি বাড়ির পাশের বড় পুকুরে ফেলে দেয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক আরও বলেন, রাহানুরের দেওয়া তথ্য মতে তাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে বুধবার পুকুর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও তোয়ালেটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডি সাতক্ষীরা অফিসের বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে একই পরিবারের চার জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন খলসি গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমান, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি ও মেয়ে তাসনিম। পরে কলারোয়ার ব্রজবক্সা গ্রামে নানার বাড়িতে চার জনকে দাফন করা হয়। রাতে শাহিনুরের শাশুড়ি ময়না খাতুন বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা (নম্বর-১৪) দায়ের করেন। এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি পুলিশকে। এরপর নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ। রায়হানুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

সাতক্ষীরায় তৃতীয় শ্রেণি স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার ধর্ষক পলাতক

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরায় তৃতীয় শ্রেণি স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার ধর্ষক পলাতক

দর্পণ ডেস্ক :সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তরপাথরঘাটা গ্রামে তৃতীয় শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত শিশুটিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক আলী শেখ (১৭) বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
সে ওই গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে।
ধর্ষিতা ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। তিনি জানান, পাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া তার শিশু কন্যাকে আজ বেলা ১১ টার দিকে বাড়ির উঠানে খেলা করার সময় একই গ্রামের বিদেশ প্রবাসী বাবলু শেখের ছেলে আলী শেখ তাকে খাবার খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ঘরে মধ্যে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। তিনি জানান, ধর্ষনের পর তার মেয়ে খুবই অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর তার মা তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানোর পর তিনি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে আহত অবস্থায় তার কন্যাকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা আরো জানান, এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বোরহান উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ৩:৪৬ অপরাহ্ন

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুধবার এক সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় এ কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।এতে বলা হয়, মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে যা পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ (তিন) নম্বর পুনঃ ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ হয়ে ৬০০ কেজি অ্যামফিটামিন পাচার করেছে চোরাচালান চক্র

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:৩১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ হয়ে  ৬০০ কেজি অ্যামফিটামিন পাচার করেছে চোরাচালান চক্র

দর্পণ ডেস্ক :শুধু বাংলাদেশ হয়ে অন্তত ৬০০ কেজি অ্যামফিটামিন পাচার করেছে চোরাচালান চক্র। চক্রের সঙ্গে জড়িত পুরান ঢাকার মিটফোর্ডের ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই বেরিয়ে আসে চোরাচালানের পরিমাণ। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তিন ভারতীয় নাগরিক। সংস্থাটি বলছে, এটি একটি আন্তর্জাতিক চক্র। তদন্ত- সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন,

মিটফোর্ডের কেমিক্যাল ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বান্টি, জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিকী ও নজরুল ইসলাম ধরা পড়ার আগে অন্তত ৬০০ কেজি অ্যামফিটামিন মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছে। তাদের সর্বশেষ ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম ওজনের চালানটি ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়ে। এটি যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। চালানটির মূল্য ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অ্যামফিটামিন এ দেশে পাঠাতেন ভারতীয় নাগরিক সতীশ। তিনি এগুলো পাঠাতেন হাবিব মাস্টার ও রাজ খানের মাধ্যমে। এই তিন ভারতীয় নাগরিককে পেলে অ্যামফিটামিন চোরাচালানের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, এখনো বাংলাদেশকে ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক কন্ট্রোল বোর্ড (আইএনসিবি) মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে ঘোষণা করেনি। এটি যেন না হয় সে জন্য দ্রুত আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই নীতিমালা করা জরুরি। শুধু স্ক্যানার দিয়ে মাদক চোরাচালান ঠেকানো যাবে না। এর জন্য ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে ডগ স্কোয়াড দিয়েই মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সূত্র জানায়, অ্যামফিটামিন ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে ফেডেক্স, ইউনাইটেড এক্সপ্রেস ও নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেড নামে কুরিয়ারের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হতো। ৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনা তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জিন্স প্যান্ট ঘোষণা করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাতটি কার্টনের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অ্যামফিটামিন পাচার করা হচ্ছিল। অ্যামফিটামিনগুলো প্রতিবারই বেনাপোল হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এগুলো আমদানি করতেন আবুল কালাম আজাদ বান্টি। আমদানির পর বান্টি এসব জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিকী ও নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করতেন। ৭ অক্টোবর বান্টি গ্রেফতার হন। এর আগে অ্যামফিটামিন পাউডার জব্দের ঘটনায় বিভিন্ন সময় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকা থেকে চক্রের অন্য সদস্য মাজেদ, জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিকী, নজরুল ইসলাম, বাবলু মজুমদার ও বাপ্পীকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার; বেঁচে যাওয়া সেই ৪ মাসের শিশু কেমন আছে !

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:২১ অপরাহ্ন

চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার; বেঁচে যাওয়া সেই ৪ মাসের শিশু কেমন আছে !

দর্পণ ডেস্ক : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গলা কেটে স্বামী-স্ত্রীসহ চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের সময় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ৪ মাসের ফুট ফুটে কন্যা শিশু মারিয়া এখন কেমন আছে- সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অনেকের মনে। গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোরে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামের নিজ বাড়ীতে নিহত ৯ বছরের ভাই সিয়াম হোসেন মাহি, ৬ বছরের বোন তাসনিম ও মা সাবিনা খাতুনের গলা কাটা নিথর রক্তাক্ত দেহের পাশে রক্তের উপর শুয়ে দুধের তৃষ্ণায় কান্নায় ছটফট করতে থাকা শিশু মারিয়াকে উদ্ধার করেন প্রতিবেশি আনিছুর রহমান। এসময় পাশের রুমে পা বাঁধা বিছানার উপর গলা কাটা অবস্থায় পিতা হ্যাচারির মালিক মাছ ব্যবসায়ী শাহিনুরের মরদেহ পড়ে ছিল। পরে দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থলে এসে শিশু মারিয়াকে প্রতিবেশিদের নিকট থেকে তুলে নিয়ে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করে হেলাতলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের কাছে তুলে দেন। এরপর থেকে ইউপি মেম্বার মায়ের মমতা ও আদর দিয়ে লালন-পালন করছেন শিশুটিকে।গত ৫ দিন যাবত শিশুটি এখন ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের কাছে রয়েছে। তিনি এখন শিশুটির দেখভাল করছেন। প্রতিদিন মারিয়াকে দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন ইউপি সদস্যের বাড়িতে। বাড়ীতে কোন শাড়ি পরিহিত মহিলা দেখলেই শিশু মারিয়া তার গর্ভধারিনী মায়ের মুখের খোঁজে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছে। 

কখনো কখনো হাসছে আবার কখনো হঠাৎ করে আতঁকে কেঁদে উঠে। তখন কোন ভাবেই তাঁর সে কান্না থামানো যায় না। আবর কখনো কান পেতে অন্যদের কথা শুনছে। কিন্তু মায়ের কোল হারা শিশুটি এখনও সে সুস্থ আছে বলে জানালেন ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুন। 

মারিয়ার কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, মারিয়ার শেষ ঠিকানা কোথায় হবে জানিনা। আমার দুই ছেলে, কোনও মেয়ে সন্তান নেই। এখন থেকে মারিয়াই আমার কন্যা সন্তান। নিজ খরচে বাবা-মায়ের স্নেহ-ভালবাসা আর আদর সোহাগ দিয়ে আমি ওকে বড় করতে চাই। এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার। জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল মহদয় আইনগত ভাবে যদি শিশুটিকে লালন-পালন করার দ্বায়িত্ব দেন তাহলে আমি তার প্রতি এবং সরকারের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবো। আমার বড় ছেলের ৮ মাসের একটি বাচ্চা আছে। শিশু মারিয়াকে পরিবারে আনায় পরিবারের সবাই দারুন খুশি।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরিন কান্তা বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শিশুটিকে ইউপি সদস্যের হেফাজতে রেখে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি ও দেখভাল করছি। তার জন্য খাদ্য ও পোশাক কিনে দিয়েছি। তার স্বাস্থ্যসেবার খোঁজ নিয়েছি।

জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, বাবা-মা, ভাই-বোনসহ একই পরিবারের ৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় এই মুহূর্তে শিশু মারিয়ার কোনও অভিভাবক নেই। যাতে কন্যা শিশু মারিয়া ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, আমি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আপাতত তাকে কলারোয়ার হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের কাছে রাখা হয়েছে। তবে তার অভিভাবকরা নিতে চাইলে আইনুযায়ী তাদের কাছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর  বৃহস্পতিবার রাতে কলারোয়া উপজেলার খলসি গ্রামের একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার পর শিশু মারিয়াকে ঘাতকরা নিহত মা ও ভাইবোনের পাশে রেখে চলে যায়। শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক নিহত শাহিনুর রহমান ও তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি ও মেয়ে তাসনিমকে কলারোয়ার ব্রজবাকসা গ্রামে নানার বাড়িতে দাফন করা হয়। রাতে শাহিনুরের শাশুড়ি ময়না খাতুন বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা (নম্বর-১৪) দায়ের করেন। মামলায় তাৎক্ষনিক কলারোয়া থানা পুলিশ কুল কিনারা করতে না পারায় এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাতক্ষীরা সিআইডি পুলিশকে। এরপর নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে সাতক্ষীরা সিআইডি পুলিশ। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ১৮ অক্টোবর রবিবার গ্রেফতার নিহতের ভাই রায়হানুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে রবিবার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রায়হানুলকে সিআইডি পুলিশ জিজ্ঞাবাদ শুরু করেছে।

এ লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সাতক্ষীরা সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত। কোন ভাড়াটিয়া কিলার দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হতে পারে। এ জন্য একটু ধৈর্যধারন করতে হবে। অধিকতর তদন্ত চলছে। অচিরেই মামলার ক্লু বেরিয়ে আসবে। খুনিদের গ্রেফতার করতে সিআইডি পুলিশ অব্যশই সক্ষম হবে।

কেরালকাতা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে স.ম মোরশেদ আলী বিজয়ী

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:১৫ অপরাহ্ন

কেরালকাতা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে  স.ম মোরশেদ আলী  বিজয়ী

দর্পণ ডেস্ক : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৮নং কেরালকাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স.ম মোরশেদ আলী (ভি.পি মোরশেদ) বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৮০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের আব্দুর রউফ
পেয়েছেন ৫৭৭৭ ভোট। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের নিছার আলী পেয়েছেন ৭৬৪ভোট।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মনোরঞ্জন বিশ্বাস স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে মোরশেদ আলীকে নির্বাচিত ঘোষনা করা
হয়েছে।

মনোরঞ্জন বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোট ভোটার ছিলো ১৭৪৪৫। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১৩৫৮৯জন। বিভিন্ন কারণে ভোট বাতিল হয়েছে ২৪৩টি। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা ১৩৩৪৬টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭৮ভাগ।

২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিরতীহীন ভাবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ওই ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন চলে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরব
উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন সম মোরশেদ। তিনি উপজেলা
আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আব্দুর রউফ কেরালকাতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নিছার
আলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এ নির্বাচনে ওই তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এর আগে দিনভর ভোট কেন্দ্রে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে ভোটারদের ভিড় লক্ষ্যণীয় ছিলো, দুপুরের দিকে কিছুটা কম চোখে পড়লেও দুপুরের পর বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ভোটারদের সতস্ফুর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নির্দেশনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, আনসার, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে ছিল একাধিক টিম। শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করণের সকল ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রশাসন।

ভোটাররা জানিয়েছেন, তারা পছন্দের প্রার্থীকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরেছেন। এখানে কোন প্রার্থীর লোক বা অন্য কেউ বাধা দেয়নি।

কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় এ ভোটগ্রহণ। সন্ধ্যার পর ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

কেরালকাতা ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৭ হাজার ৪৪৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৭৬১ জন ও মহিলা ৮ হাজার ৬৮৪ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ৯টি আর ভোট গ্রহণ কক্ষের সংখ্যা ৪২টি।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কেরালকাতা
ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ সরদার।

শ্যামনগর শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলনকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:০৮ অপরাহ্ন

শ্যামনগর  শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলনকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ

শ্যামনগর প্রতিনিধি:শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আক্তারুজ্জামান মিলনকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক জরুরী বার্তায় বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাকে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বহুল সমালোচিত শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে শিক্ষা অধিদপ্তর কতৃক বরাদ্দকৃত অর্থ বিদ্যালয়সমুহের অনুকুলে ছাড়করণের ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধ্ব কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

এসময় হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাইসহ অসংখ্য প্রধান শিক্ষক সরাসরি শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ঘুষ আদায়ের বিষয়ে। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে স্লিপ খাতের বরাদ্দ থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন সরবরাহের অজুহাতে আলোচিত ঐ কর্মকর্তা ১৯১টি বিদ্যালয়ের তরফ থেকে সাতাশ লাখ টাকা অর্থ হাতিয়ে নেয়।

অভিযোগ রয়েছে শ্যামনগর উপজেলার সাবেক ও বর্তমান মুষ্টিমেয় শিক্ষক নেতার সহায়তা নিয়ে বিদায়ী শিক্ষা কর্মকর্তা গত তিন বছরে কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। এক ব্যবসায়ী শিক্ষক নেতার সাথে যোগসাযশে আক্তারুজ্জামান গত তিন বছরে শ্যামনগর উপজেলায় শিক্ষকদের বদলী বানিজ্যের সুযোগ নিয়ে আরও প্রায় অর্ধ্ব কোটি টাকা বানিজ্য করেছে বলেও অভিযোগ।

জানা যায় দুর্গম এলাকায় দুই থেকে তিন শত পর্যন্ত শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত বিদ্যালয়সমুহ থেকে শিক্ষকদের টাকার বিনিময়ে উপজেলা সদরসহ সুবিধাজনক স্থানে বদলীর সুযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এমনকি শ্যামনগর শিশু শিক্ষা নিকেতনসহ আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীর আনুপাতিক হার ১:৩০ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে নুতন নুতন শিক্ষককে যোগদানের সুযোগ দিলেও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুপাতিক হার ১:১০০ থাকা সত্ত্বেও তাতে তিনি কর্ণপাতই করতেন না।

জানা গেছে মুষ্টিমেয় শিক্ষক নেতাদের নিয়ে আলোচিত শিক্ষা কর্মকর্তা সিন্ডিকেট গড়ে গত কয়েক বছরে শ্যামনগর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বানিজ্যিক খাতে পরিনত করেছিলেন।

একইভাবে সম্প্রতি তার অর্থ কেলেংকারির বিষয় সামনে চলে আসায় কয়েক সাংবাদিক নেতাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলন। এমনকি কয়েক শিক্ষক নেতা এবং সংবাদকর্মীকে কাজে লাগিয়ে কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্যের বিষয়কে ধামাচাপা দেয়ার জোর তৎপরতাও শুরু করেছিলেন আলোচিত শিক্ষা কর্মকর্তা।

তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যাবশিত হয় মঙ্গলবার তার ষ্ট্যান্ড রিলিজ এর নির্দেশ আসার পরক্ষণে।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার তার মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

‘সবসময় বাবাকে হারানোর ভয়ে থাকতো রাসেল’

ক্যাটাগরি: তালা, প্রকাশিতঃ ১৯ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ১:৫০ পূর্বাহ্ন

‘সবসময় বাবাকে হারানোর ভয়ে থাকতো রাসেল’
facebook sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttonblogger sharing buttonpinterest sharing buttonemail sharing button
দর্পণ ডেস্ক :‘সবসময় বাবাকে হারানোর ভয়ে থাকতো রাসেল’ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নাম রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘রাসেল’ নামকরণটি তার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, ‘আব্বা বার্ট্রান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে, নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখলেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
রাসেলের জন্মের সময়টার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রাসেল যেদিন জন্ম নিয়েছে, সে দিনের কথাটা এখনো আমার মনে পড়ে। একটা ছোট্ট শিশু আসবে আমাদের পরিবারে, আমি, কামাল, জামাল, রেহানা-আমরা সবাই খুব উৎসাহিত এবং বেশ উত্তেজিত ছিলাম, কখন সেই শিশুটির কান্না আমরা শুনবো, কখন তার আওয়াজটা পাবো, কখন তাকে কোলে তুলে নেবো। আর সেই ক্ষণটা যখন এলো, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সময় ছিল। ছোট্ট শিশুটি আমাদের সবার চোখের মনি ছিল।
শিশু রাসেলের মানসপটের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছোট্ট রাসেল কিছু বুঝে