সোনা চোরাচালাননিরাপদ রুট বাংলাদেশ! সোনা চোরাচালাননিরাপদ রুট বাংলাদেশ! – দখিন দর্পণ
Image
Sorry, no posts Have .......

মঙ্গলবার  •  ২৮ zzz ১৪২৮ • ১১ মে ২০২১

সোনা চোরাচালাননিরাপদ রুট বাংলাদেশ!

প্রকাশিতঃ ১৯ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন । পঠিত হয়েছে ১০১ বার।

সোনা চোরাচালাননিরাপদ রুট বাংলাদেশ!

সোনা চোরাচালান থামছেই না। সোনা পাচারের সব চেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ট্রানজিট রুট এখন বাংলাদেশ। আর পাচারের নিরাপদ পথ বিমানবন্দর। প্রায় প্রতিদিনই পাচার হয়ে আসা সোনা ধরা পড়ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে। তবে বাস ও ট্রেনে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা, বেনাপোল, কুষ্টিয়া, যশোর, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী দিয়েও পাচার হয়ে দেশে আসছে সোনা। সোনা পাচারে ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে দুই বাংলায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সক্রিয় এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলোর সোনা ভারতে পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নিরাপদ ও প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে গোল্ড স্মাগলাররা।
শুল্ক গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, গত ৮ বছরে (আগস্ট ২০১২ থেকে আগস্ট ২০২০) আড়াই টন চোরা সোনা জব্দ করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ১১শ’ কোটি টাকা। পাঁচ বছরে সোনা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিদেশিও রয়েছেন। এ সময় বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাসহ ৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে আসামিদের প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে গেছেন। অনেকে জামিন পাওয়ার পর পলাতক থেকে আবারও সোনা চোরাচালানে যুক্ত হয়েছেন।

২০১৩ থেকে জুলাই’২০ পর্যন্ত শুল্ক গোয়েন্দারা সোনা জব্দের ঘটনায় ৩৩৪টি মামলা করেছেন। এসব মামলায় ৪১৫ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ২০৯টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আলোচিত মামলাগুলো তদন্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
এদিকে এই অবৈধ পাচার প্রতিরোধে বা ঠেকাতে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে সোনার ওপর আমদানি শুল্ক ২০ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তারপরও কোনোভাবেই যেন পাচার চক্রের সোনা পাচার থামানো যাচ্ছে না। বিমানবন্দরে নিñিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার পরও সোনা আসছে দেদার। প্রায় প্রতিদিন না হলেও প্রতি সপ্তাহে ধরা পড়ছেই ছোট-বড় চালান। কাস্টমস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, যত সোনা ধরা পড়ছে, তার কয়েক গুণ বেশি সোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তবে পাচার আগের চেয়ে কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
সোনা চোরাচালানের মামলা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, চোরাচালানে জড়িত ২৬টি চক্রকে পুলিশ ইতিমধ্যেই শনাক্ত করেছে। এই দলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য, মানি এক্সচেঞ্জ ও হুন্ডি ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। তারা সবাই বাংলাদেশি। তবে তাদের সঙ্গে দুবাই ও ভারতের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত। আর চালান আসে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে। বাংলাদেশি চক্রের সদস্যরা মূলত চোরাই সোনা প্রাপকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করেন। আবার কেউ কেউ বিনিয়োগও করেন।
শাহজালালে ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার সোনা আটক: গতকাল বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে  প্রায় ৭ কেজি (যার মূল্যমান ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা) স্বর্ণসহ দুবাইফেরত যাত্রী আটক করা হয়েছে। সকালে বিমানবন্দরের বোর্ডিংব্রিজ এলাকা থেকে মোহাব্বত আলী নামের ওই যাত্রীকে আটক করা হয়। ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার ডেপুটি কমিশনার মো. মারুফুর রহমান সমকালকে জানান, দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটটি সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরের বোর্ডিংব্রিজ এলাকায় ওই ফ্লাইটের যাত্রী মোহাব্বত আলীকে তল্লাশি করে তার কোমরে লুকানো অবস্থায় ৬০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। তিনি জানান, স্বর্ণের বারগুলোর মোট ওজন ৬ কেজি ৯০০ গ্রাম। দাম প্রায় ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। মারুফুর রহমান আরও জানান, আটক মোহাব্বত আলীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তিনি স্বর্ণপাচার চক্রের একজন ক্যারিয়ার। তার পাসপোর্ট যাচাই করে প্রতিমাসেই বিদেশ যাতায়াতের তথ্য মিলেছে। বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভারতের সিন্ডিকেট সক্রিয়: পুলিশের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সোনা চোরাচালানের শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে ভারতে। তারা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সোনা চোরা কারবারিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে। বাংলাদেশে যারা সোনা নিয়ে আসে তারা ক্যারিয়ার মাত্র। মূল হোতারা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এর আগে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে কলকাতার বাহাদুর রোডের নাগরিক দীপক কুমার আচারিয়া, ভারতের মুম্বাইয়ের লালবাগের দিনেশ মঙ্গিলাল জেন, মুম্বাইয়ের খাদাক রোডের জিগনেস কুমার সুরেশ কুমার, নেপালের কাঠমান্ডুর গাওয়াপুরের গৌরাঙ্গ রোসান ও ভারতের জেমস প্রিন্স রয়েছেন। ধরা পড়ার পর তারা জানিয়েছেন, সে দেশের বড় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সোনা আনতে লগ্নি করেন।
সোনা চোরাচালান মামলার তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ নাজমুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সোনা চোরাচালান চক্রের প্রধানদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। কিন্তু গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে আবার সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছেন। এ কারণে সোনা চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, হুন্ডি ব্যবসায়ী সালেহ আহম্মেদ ও সোনা চোরাচালানি নজরুল ইসলামকে তিনি গ্রেফতার করেছিলেন। কিন্তু তারা জামিনে বেরিয়ে দুবাই চলে যান, সেখানে আবার সোনা চোরাচালানে যুক্ত হয়েছেন।
সোনা চোরাচালানে ২৬ চক্র: শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সব সোনা বাংলাদেশে আমদানি করা হয় এসব আসলে ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশে পাচার করা হয়। আকাশপথে সোনার খণ্ডাংশগুলো বাংলাদেশে আনা হলেও সড়কপথে সেগুলো ভারতে পাচার হয়ে যায়। সোনা বৈধভাবে হোক আর অবৈধভাবে হোক যেভাবেই বাংলাদেশে আসুক না কেন এগুলোর প্রায় সবই ভারতে পাচার করা হয়। সৌখিন ও দামি এই পণ্যটি বাংলাদেশে আনা অনেকটাই সস্তা ও সহজসাধ্য ছিল বিধায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের পাচারচক্র ঢাকা তথা হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরকে নিরাপদ পাচার রুট হিসেবে বেছে নেয়। প্রশ্ন উঠেছে বিমানবন্দরে কাজ করে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তাদের সাথে সক্রিয় থাকে এপিবিএন, থানা পুলিশ, র‌্যাব ও সিভিল এ্যাভিয়েশনের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী। তারপরও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যদিয়ে সোনাপাচাকারীরা তাদের পাচার কাজ চালিয়েই যাচ্ছে। যার ফলে বিমানবন্দরে সোনা জব্দের ঘটনা অনেকটা নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র মতে জানা গেছে, এ যাবত বিমানবন্দরে আটক করা সোনার কোনো মামলার বিচারসম্পন্ন হওয়ার নজির দিতে পারেনি আদালত ও পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা শুধু মামলা দায়ের করেই খালাস। এর অধিকাংশই চার্জশীট হলেও আদালতে বিচার প্রক্রিয়াসম্পন্ন হওয়ার নজির নেই। যারা ধরা পড়েছেন তাদের বেশিরভাগই জামিনে বের হয়ে ফের পাচার কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। বিমানবন্দরে যে পরিমাণ সোনা ধরা পড়েছে ; তা চোরাচালানের দশ ভাগের এক ভাগ।

সোনা আসে কীভাবে : স্ক্যানার এড়াতে ব্যবহার হয় অভিনব নানা পদ্ধতি। পায়ুদ্বারে লুকিয়ে সোনাপাচার। পাচার ব্যাগ-সুটকেসের হাতলে লুকিয়ে। এলইডি টিভির স্পিকারের নীচে লুকিয়ে পাচার। বিমানের সিটের সাইড প্যানেলে লুকিয়ে স্মাগলিং। শৌচালয়ের ডাস্টবিন দিয়ে পাচার। তদন্তকারীরা বলছেন, বিমানবন্দরের সংস্থার কেউ না কেউ এই চোরাচালান কাজের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এভাবে সোনা পাচার সম্ভব নয়। অপরাধের পরিসংখ্যানও সেই তত্ত্বই সমর্থন করছে। এদিকে প্রতিবেশি দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নীল নকশায়, ভারতের প্রবেশদ্বার কলকাতা। তার ভৌগলিক গুরুত্ব দিল্লির থেকেও বেশি। বাংলাদেশ ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ রয়েছে কলকাতার। গত কয়েক বছর ধরে কলকাতা দিয়ে সোনা ঢুকেছে সবচেয়ে বেশি। ২০১৩-১৪ সালে দমদমে ধরা পড়ে ১শ’ ১৩ কেজি সোনা। ২০১৫ সালে উদ্ধার হয়েছে ১শ’ ৪৭ সোনা কেজি। গত তিন বছরে কলকাতার নেতাজী সুভাষ বিমান বন্দরে মোট ৭শ ৩৯ কেজি সোনা ধরা পড়েছে। ভারতের অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কোনোভাবে এই পাচার ঠেকানো যাবে না। এর শেষ নেই। কারণ, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, ব্যাঙ্কিংয়ের যুগেও, ভারতবাসীর সঞ্চয়ের মৌলিক পদ্ধতি এখনও সোনা। যা প্রতিদিন বাড়াচ্ছে চাহিদা। যেই চাহিদা জোগাচ্ছে সোনা পাচারকারীরা।


সোনা পাচারে কারা জড়িত বা কারা এসব চালান আনছে: এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল হোতা বা ক্যারিয়ার ধরা পড়ছে না। যে কজন ধরা পড়ছে তারাও সোনার মালিক নয়। ওরা পেশাদার ক্যারিয়ার বা বহনকারী। ওরা শুধু স্টেশন টু স্টেশন ক্যারিয়ার। এ ব্যবসা করে তারা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেয়ে যায়। দুবাই থেকে সোনা কেনার টাকাও পাচার করা হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। এদিকে খোদ গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, বিমানের টয়লেট বা দেয়াল কেটে ভেতরে সোনা লুকানোর সাথে বিমানের লোকজন জড়িত। কোনো সাধারণ যাত্রীর পক্ষে এই টেকনিক্যাল কাজ করা সম্ভব নয়। উড়োজাহাজ যখন হ্যাঙ্গারে নেয়া হয় তখনই এ সোনা বের করে নেয়া হয় বড় চালানগুলো। যা আমাদের চোখ এড়িয়ে যেতেই পারে। বিমানের হ্যাঙ্গারে কর্মরত এক শ্রেণীর মেকানিক ও ক্লিনার ফ্লাইটের ভেতরে যাতায়াতে সুযোগ পায়। তারা যে কোনো অজুহাতে ফ্লাইটে প্রবেশের দরুন টয়লেটের ভেতর থেকে সোনা সরানোর সুযোগ পায়। তাদের সাথে কেবিন ক্রুরা থাকতে পারে। এছাড়াও রয়েছে সিভিল অ্যাভিয়েশনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যারা বড় ধরনের সোনাপাচারের জড়িয়ে পড়ে। তবে, সোনাপাচারের এ অবৈধ চক্র বা সিন্ডিকেটকে রুখে দিতে কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়ে বিমানবন্দরে সক্রিয় রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, কাউকেই কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।


সোনা কেন পাচার হয়: ঢাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের সোনার দোকানগুলোতে যেসব সোনা দেখা যায়, তার প্রায় সবই চোরাই পথে আসা। তবে বাংলাদেশে সোনার বাজার খুব ছোট। সেই তুলনায় প্রতিবেশী ভারতে সোনার বাজার অনেক বড়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য বলছে, ভারতের বার্ষিক সোনার চাহিদা প্রায় দেড় শ টন। ভারতের চাহিদার সোনার একটি বড় অংশই যায় চোরাই পথে। ভারতে প্রতি এক ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) সোনা আমদানির শুল্ক চার হাজার রুপি (৪ হাজার ৮০০ টাকা। বাংলাদেশে শুল্ক ভরিতে তিন হাজার টাকা। এই শুল্ক কর ফাঁকি দিতেই সোনা চোরাচালান হয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা গণমাধ্যমকে বলেন, সোনা চোরাচালানিরা নিরাপদ রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করছেন। সমিতির তথ্যমতে, দেশে ১৫ হাজার জুয়েলার্সের দোকান আছে। এতে বছরে ৭ হাজার কেজির মতো সোনার চাহিদা রয়েছে। প্রবাসীদের ব্যাগেজে আনা সোনা ও পুরোনো সোনা দিয়ে বাংলাদেশের বাজার চলে।


কীভাবে সোনা আসে: একাধিক শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে সোনার বড় চালান নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যায়। এ কাজে সহায়তা করেন শুল্ক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও বিমানের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ১০ তোলা ওজনের একেকটি সোনার বার বিমানবন্দর থেকে বাইরে এনে দিলে চোরাচালানিদের কাছ থেকে এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পান তারা। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার সময় বিমানের কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সোনা পরিবহনে সহায়তা করেন। বাহকদের হাতে সোনা ধরিয়ে দেন দুবাইয়ে অবস্থানরত চক্রের প্রধানেরা। বাহক সেই সোনা বিমানের আসনের নিচে, শৌচাগারে বা অন্য কোনো স্থানে লুকিয়ে রেখে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত লোকজন নিজ দায়িত্বে সেই সোনা বের করে বাইরে নিয়ে আসেন। মানি এক্সচেঞ্জের মালিকেরা সোনা হাতবদলে মধ্যস্থতা করে কমিশন পান, আবার তারা কখনো কখনো টাকা বিনিয়োগও করেন।


কারা সোনা আনেন: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সোনা চোরাচালানের আটটি মামলা তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় পুলিশের তদন্তে যাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যের নামও আছে। পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শৌচাগার থেকে সাড়ে ১৩ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার করা আসামি দেব কুমার দাসের জবানবন্দিতে সোনা চোরাচালানে আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যেও নাম নাম উঠে আসে। সোনা চোরাচালানের একাধিক মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত দ্য ঢাকা মানি এক্সচেঞ্জারের মালিক নবী নেওয়াজ খান সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নবী নেওয়াজ খানের খোঁজে তার প্রতিষ্ঠান পুরানা পল্টনের সাব্বির টাওয়ারে গেলে মানি এক্সচেঞ্জারটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাশের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন বলেন, নবী নেওয়াজ এখন আর আসেন না।
সোনা চোরাচালানে রাজধানীর ভাই ভাই মানি এক্সচেঞ্জের মিজানুর রহমান ও প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের মালিক জাহাঙ্গীর দুটি চক্রের প্রধান বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। দিলকুশায় ভাই ভাই মানি এক্সচেঞ্জে গেলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বলেন, মিজান একসময় মুদ্রা লেনদেনে দালালি (ব্রোকারি) করতেন। পরে তাকে মানি এক্সচেঞ্জের পরিচালক করা হয়। তিনি আর এখন এই প্রতিষ্ঠানে নেই। 
মিরপুর ১০ নম্বরের প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন সোনা চোরাচালানে জড়িত বলে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেনের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করে। ওই ঘটনার পর প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বিদেশে পালিয়ে যান। একটি চক্রের প্রধান সোনা ব্যবসায়ী দেব কুমার দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দেব কুমার দাস নিউমার্কেট-সংলগ্ন চাঁদনি চকে তার রুপার দোকান রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে চাঁদনি চকে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অন্য একটি চক্রের প্রধান এস কে মোহাম্মদ আলী সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করতেন বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে। তার খোঁজে পুরানা পল্টনের বহুতল আবাসিক ভবনের ‘ঠিকানা’য় গেলে নিরাপত্তাকর্মী সবুজ মিয়া বলেন, মোহাম্মদ আলীর পরিবার এখন আর এই বাসায় থাকে না।
সোনা চোরাচালানের দুটি চক্রের প্রধান উত্তরার ফারহান মানি এক্সচেঞ্জের মালিক হারুন অর রশীদ সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করতেন। উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের কুশল টাওয়ারের নিচতলায় ফারহান মানি এক্সচেঞ্জের নাম পরিবর্তন করে ফারহান ট্রেডার্স রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, সোনা চোরাচালানিতে গ্রেফতার হওয়ার কিছুদিন পর তিনি জামিনে বেরিয়ে এসে বিমানের টিকিট বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। অবশ্য হারুন অর রশীদ দাবি করেন, ‘আমি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নই। আমি মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতাম, এ কারণে বিমানের কর্মকর্তাসহ অনেকেই বিদেশি মুদ্রা কিনতে আসতেন।’
ডিবি পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, একটি চক্রের প্রধান মাসুদ করিম দুবাইয়ে থাকার সময় সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। পরে দেশে ফিরে তার অপর দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে সোনা চোরাচালান চক্র গড়ে তোলেন। গত ২২ অক্টোবর ৪৫টি ও ২১ অক্টোবর ৬০টি সোনার বার নিয়ে এসেছেন তারা। দুবাই ছাড়াও মাসকট, জেদ্দা ও কুয়ালালামপুর থেকে তিনি সোনা আনতেন।

সোনা চোরাচালান কেন বন্ধ হচ্ছে না, জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, গত চার বছরে মণের পর মণ সোনা আটক করে বাজেয়াপ্ত করায় চোরাচালানিরা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে সোনা চোরাচালান মামলায় সাজার পরিমাণ কম। এ কারণে মামলায় কেউ ভয় পান না, চোরাচালানও বন্ধ হয় না। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি এম এ হান্নান আজাদ বলেন, ভারতীয় সোনা ব্যবসায়ীরা সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করেন। সরকার সহনীয় মাত্রায় কর নিয়ে সোনার আমদানি নীতিমালা করলে সোনা চোরাচালান অনেকটা বন্ধ হবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা বলেন, সোনা চোরাচালান মামলাগুলোর দ্রুত অভিযোগপত্র দিতে হবে। এসব মামলার বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হলে সোনা চোরাচালান কমে আসবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পহেলা বৈশাখে  হবে ভার্চুয়ালি উদযাপন

পহেলা বৈশাখে হবে ভার্চুয়ালি উদযাপন

প্রকাশিতঃ ৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ ২৮ মার্চ ২০২১, রবিবার, ১১:৪২ অপরাহ্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিও আগামী ২২ মে পর্যন্ত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিও আগামী ২২ মে পর্যন্ত

প্রকাশিতঃ ২৮ মার্চ ২০২১, রবিবার, ১১:৪১ অপরাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত, আহত শতাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত, আহত শতাধিক

প্রকাশিতঃ ২৮ মার্চ ২০২১, রবিবার, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তার চাঁদর ঢাকা হয়েছে গোটা সাতক্ষীরা, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তার চাঁদর ঢাকা হয়েছে গোটা...

প্রকাশিতঃ ২৬ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
বিকৃত ঘটনায় তোলপাড়, নারীদের খাঁচায় আটকে মেটানো হত লালসা!

বিকৃত ঘটনায় তোলপাড়, নারীদের খাঁচায় আটকে মেটানো হত লালসা!

প্রকাশিতঃ ১৯ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ১০:০৬ অপরাহ্ন

আলজাজিরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন