দখিনা দর্পণ রপ্তানি আয় কমে অর্ধেক: সংকটে হিমায়িত চিংড়ি – দখিনা দর্পণ
Image

শুক্রবার  •  ৮ বৈশাখ ১৪২৮ • ২১ জানুয়ারী ২০২২

Add 1

রপ্তানি আয় কমে অর্ধেক: সংকটে হিমায়িত চিংড়ি

প্রকাশিতঃ ২২ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার, ১০:৪৫ অপরাহ্ন । পঠিত হয়েছে ৬২ বার।

রপ্তানি আয় কমে অর্ধেক: সংকটে হিমায়িত চিংড়ি

সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার সাদাসোনা খ্যাত অন্যতম রপ্তানি পণ্য হিমায়িত চিংড়ি শিল্প এখন মহাসংকটে। পোশাক শিল্পের পরেই ছিল এই খাতটির অবস্থান। কিন্তু করোনার ধাক্কা, নানা কারণে উৎপাদন কমে যাওয়া, একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশে উৎপাদিত চিংড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি। গত ৭ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে রপ্তানি। ফলে বিগত দিনে খাতটি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বর্তমানে সপ্তম স্থানে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার দখল করে নিয়েছে ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি। এতে দেশে উৎপাদিত বাগদা ও গলদা চিংড়ির বাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ২০২১ পর্যন্ত এই ৭ বছরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির দখল ৪ শতাংশ কমে গিয়ে ২ শতাংশে নেমেছে। এই সময়ে ধারাবাহিকভাবে চিংড়ি রপ্তানি ৩৩ শতাংশ কমে যায়।

একই সময়ে চিংড়ির উৎপাদনও ২৮.৩৫ শতাংশ কমে যায়। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) তথ্যমতে, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ৬০ হাজার টন চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল। গত অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৩০ হাজার ৮০০ টন। অন্যদিকে, মৎস্য অধিদপ্তর এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ৪৭ হাজার ৬৩৫ টন হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এতে আয় হয় ৫৫০ মিলিয়ন ডলার। তবে এরপর থেকেই ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে রপ্তানি। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৩৬ টন চিংড়ি রপ্তানি করে আয় হয় ৩৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার। আর গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৮০০ টন চিংড়ি রপ্তানি থেকে আয় হয় ৩৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১.১৫ শতাংশ কম। ইপিবি’র সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আয় ধরা হয়েছিল ৩৩ কোটি ডলার। যদিও এবার রপ্তানি এবং বিশ্ববাজারে চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে বলে দাবি রপ্তানিকারকদের। গত বছরের তুলনায় এবার ৮ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে বলে দাবি করছে চিংড়ি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিএফএফইএ। তবে তুলনামূলক এ বছরও চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানিতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ; এমনটাও বলছেন তারা।

এদিকে ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি অল্প পরিশ্রম ও কম খরচে বেশি উৎপাদন করা যায়। এর জন্ম ভিয়েতনামে হলেও বিচরণ এশিয়ার সব দেশেই। বিশ্বের চিংড়ির বাজার এখন ভেনামির দখলে। উৎপাদন খরচ কম, তাই দামও একটু কম। ফলে অল্পদিনেই এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিশ্ববাজারে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৬২টি দেশ বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষ করে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে রপ্তানি করছে। আর এশিয়ার ১৫টি চিংড়ি উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বাদে বাকি ১৪টি দেশই ভেনামি চিংড়ি চাষ করে রপ্তানি করছে।

এদিকে উচ্চ ফলনশীল ভেনামি চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভাইরাসের ভয়ে যথাসময়ে অনুমোদন না দেয়ায় চিংড়ি রপ্তানিতে পতন ঘটেছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা। এ ছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা চিংড়ির ভেতরে তারকাঁটা, শ্যাওলা, সাগু ঢুকিয়ে বাজারজাতের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলেই দেশের সম্ভাবনাময় খাতটি ধীরে ধীরে পতনের মুখে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে চিংড়ি শিল্পকে পুনরুদ্ধারে ভেনামি চাষের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন চিংড়ি উৎপাদক ও রপ্তানিকারকরা। তাদের দাবি, ভেনামিই চাষে ঘুরে দাঁড়াবে চিংড়ি শিল্প। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম হুমায়ুন কবির জানান, দেশে ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি চাষে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এই চিংড়ি উৎপাদন খরচ কম। ইতিমধ্যেই এটির পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই ভেনামি চাষের আবেদন করে আসছি। তবে ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষামূলক চাষের অনুমোদন দিলেও করোনার কারণে এটি আর শুরু করা যায়নি। তবে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ব্যাংকক থেকে ১০ লাখ ভেনামির পোনা এনে সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে লোনা পানি কেন্দ্রে ৬টি পুকুরে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়। পরীক্ষামূলক চাষে ফলাফল অনেক ভালো বলে জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, দেখা যায় প্রতি হেক্টরে ১০ টন ভেনামি উৎপাদন হয়েছে। যেখানে সোনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয় ৩৫০ কেজি, সেমি ইন্টেন্সি সিস্টেম (আধুনিক পদ্ধতি) ব্যবহার করে বাগদায় পাওয়া যায় ২-৩ টন, সেখানে ভেনামি চাষ করে পেয়েছি ১০ টন। তাই এটি আর পরীক্ষামূলক না রেখে যারা ভেনামি চাষ করতে চায় এবং করার সামর্থ্য রাখে তাদেরকে অনুমোদন দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি। ইতিমধ্যেই ৫ জনকে অনুমোদন দিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

বিএফএফএ’র সাবেক সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন বলেন, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ চিংড়ি পাওয়া গেছে। ওই বছর চিংড়ি রপ্তানি থেকে সর্বোচ্চ ৫৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। কিন্তু ভেনামি বাজার দখল করায় আর দেশের ভেনামি চাষে অনুমতি না দেয়ায় তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি আয় দুটোই কমতে থাকে। এ বছরও একই অবস্থা। ক্রমেই আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে শিল্পটি। এখনই সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেনামি চাষ না করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে আরো তৎপর হোন ’

প্রকাশিতঃ ২০ জানুয়ারী ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:০২ অপরাহ্ন

সিআইপি সম্মাননা পেলেন ১৭৬ জন

প্রকাশিতঃ ২০ জানুয়ারী ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৫৮ অপরাহ্ন

ঢাকার রাস্তায় পুলিশকে বিদেশি নাগরিকের টাকা ছুঁড়ে মারার ভিডিও...

প্রকাশিতঃ ২০ জানুয়ারী ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৪৫ অপরাহ্ন

জনপ্রতিনিধিদের ‘সম্মানের’ বিষয়ে ডিসিদের সচেতন থাকতে বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ২০ জানুয়ারী ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:০৩ অপরাহ্ন

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশ কি হার্ড ইমিউনিটির দিকে যাচ্ছে?

প্রকাশিতঃ ১৯ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১১:০৭ অপরাহ্ন

এ বছরই টেনিসকে বিদায় জানাবেন সানিয়া

প্রকাশিতঃ ১৯ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ৯:৪০ অপরাহ্ন

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর হত্যা রহস্য উদঘাটন প্লাস্টিকের সুতোর...

প্রকাশিতঃ ১৮ জানুয়ারী ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:০৮ অপরাহ্ন