দখিনা দর্পণ রোহিঙ্গা শিবিরে বড় সমস্যা মাদক, খুনের পেছনেও মাদক – দখিনা দর্পণ
Image

মঙ্গলবার  •  ৫ বৈশাখ ১৪২৮ • ১৮ জানুয়ারী ২০২২

Add 1

রোহিঙ্গা শিবিরে বড় সমস্যা মাদক, খুনের পেছনেও মাদক

প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১:২৪ পূর্বাহ্ন । পঠিত হয়েছে ৬১ বার।

রোহিঙ্গা শিবিরে বড় সমস্যা মাদক, খুনের পেছনেও মাদক

কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপকসংখ্যক রোহিঙ্গার আগমনে অনিরাপদ বোধ করছেন। আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে, বিশেষ করে মাদক, অপহরণ ও অস্ত্র পাচারে জড়িয়ে পড়ছেন। এদিকে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বাসিন্দারাও মনে করেন, কিছু রোহিঙ্গা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁদের শাস্তি দিক। তবে কিছু স্থানীয় লোকও অপরাধে জড়িয়েছেন বলে মনে করেন তাঁরা।

‘রোল অব দ্য রোহিঙ্গা ইন বিল্ডিং আ হারমোনিয়াস রিলেশনশিপ উইথ দ্য হোস্ট কমিউনিটি ইন কক্সবাজার’ শীর্ষক এক নিবন্ধে মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন মনোভাব উঠে এসেছে।

দুই পক্ষের এমন মনোভাবের প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের আরও সহনশীল হওয়া প্রয়োজন।

‘জেনোসাইড অ্যান্ড ম্যাস ভায়োলেন্স ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’ শিরোনামে বুধবার পঞ্চম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ওই নিবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের প্রফেসরিয়াল ফেলো শহিদুল হক ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন। সম্মেলনটি ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক বড় সমস্যা। সেখানে খুনের পেছনেও রয়েছে মাদক। আর এই মাদকের উৎপাদন হয় মিয়ানমারে।

এদিকে শহিদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা শিবির ও মিয়ানমারে মাদক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। মিয়ানমারের নীতি মাদক ছড়িয়ে দিতে সহযোগিতা করছে। নিবন্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের কিছু মনোভাব তুলে ধরেছেন।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজন চান রোহিঙ্গারা অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যাক। এ জন্য প্রয়োজনে জাতিসংঘ বা শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুক। রোহিঙ্গারাও ফিরে যেতে চান, তবে মিয়ানমারে তাঁদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পর।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম ম্যানেজার রবার্ট স্টোয়েলম্যান বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক ব্যবসা অনেক সমস্যার মূলে। আপাতত রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আশাও খুব ক্ষীণ।

স্থানীয় লোকজন মনে করেন, ব্যাপকসংখ্যক রোহিঙ্গার আগমনে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গারাও তাই মনে করেন। তবে তাঁরা তাঁদের দুরবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বলেন। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন হতাশও। আর রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন বা এ বিষয়ে তাঁদের কণ্ঠ খুব ক্ষীণ।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অ্যান্ড লিগ্যাল এম্পাওয়ারমেন্টের পরিচালক শাহরিয়ার সাদাত বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সেখানে কাজ করে, তারাও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৭ বছরে ৪২ জন নিহত

সম্মেলনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাবিষয়ক সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফ্রেডরিক–এবার্ট–স্টিফটাঙ বাংলাদেশ অফিসের কো-অর্ডিনেটর সাধন কুমার দাশ।
বিপিওর (বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি) তথ্যের ভিত্তিতে সাধন কুমার দাশ প্রবন্ধে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ৬২৬টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১০০টি ঘটনা ছিল সহিংস। এসব ঘটনায় ৪২ জন নিহত, ৯৩৭ জন আহত ও ১ হাজার ৩৫৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এর মধ্যে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার কারণে ২৪৪টি, জমিসংক্রান্ত ৬৩টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া রাজনীতি, নির্বাচন, সাধারণ অপরাধ, ডাকাতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ ইত্যাদি কারণ হিসেবে সহিংসতার পেছনে রয়েছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

সম্মেলনে সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ফিলিপ গাইন বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে আমাদের ধর্মীয় নেতা, রাজনীতিবিদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তা ছাড়া আমাদের বহু জাতি, বহু ভাষা রয়েছে। মুসলিম, হিন্দুর পাশাপাশি সব ধর্মাবলম্বী মা–বাবার সন্তানদের বোঝানো উচিত যে এখানে বহু জাতি ও ভাষার মানুষের বাস।’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় দাসগুপ্ত বলেন, যখন সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, পুলিশ, প্রশাসন—সবাই ধরে নেয় ঘটনাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ ঘটিয়েছেন। পরে দেখা যায় ঘটনা উল্টো। তিনি আরও বলেন, এই সমাজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে পারছে না। সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় যাঁরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাঁরা অনেকেই জড়িত নন বলেও মনে করেন তিনি।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে ফেরত দিল বিএসএফ

প্রকাশিতঃ ১৭ জানুয়ারী ২০২২, সোমবার, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

আইভীর হ্যাটট্রিক

প্রকাশিতঃ ১৬ জানুয়ারী ২০২২, রবিবার, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

কেক কেটে স্বদেশ প্রতিদিনের ৯ম বর্ষ উদযাপন

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১০:৩১ অপরাহ্ন

ওয়ান ইলেভেনে কূটনীতিকরা যে ভূমিকা রাখেন

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি: পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল?

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

অমিক্রন: ১৩ই জানুয়রি থেকে উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান...

প্রকাশিতঃ ১০ জানুয়ারী ২০২২, সোমবার, ১০:৪২ অপরাহ্ন

সিসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

প্রকাশিতঃ ১০ জানুয়ারী ২০২২, সোমবার, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন