দখিনা দর্পণ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রান্নার বই লিখেছেন এই মা–মেয়ে – দখিনা দর্পণ
Image

মঙ্গলবার || ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ || ৯ আগস্ট ২০২২ || ১০ মহর্‌রম ১৪৪৪

Add 1

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রান্নার বই লিখেছেন এই মা–মেয়ে

প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহঃ, ১:১২ পূর্বাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ৩৫১ বার।

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রান্নার বই লিখেছেন এই মা–মেয়ে

প্রতিবছর একটা রেসিপির বইকে বিশ্বসেরা রান্নার বই ঘোষণা করে প্যারিসের ‘গোরম্যান্ড (পেটুক) ওয়ার্ল্ড কুকবুক অ্যাওয়ার্ড’ কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালে সেই পুরস্কার পেয়েছে ‘এনভুয়েলটোস’ (মোড়ানো)। বইটি লিখেছেন লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার মা–মেয়ে জোরাইদা চোরি আগামেজ ও হেইদি পিন্টো। এই বইয়ে কলম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী সেসব খাবারের কথা লেখা আছে, যেগুলো কলম্বিয়ায় জন্মানো নানান ধরনের পাতায় মুড়িয়ে রান্না করা হয়। ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রকৃতি আর স্বাদের সমন্বয় ঘটানো এ রকমের ১০০ রান্নার রেসিপি আছে বইটিতে। গত ১৪ নভেম্বর এই ‘এনভুয়েলটোস’কেই ২০২১ সালের বিশ্বসেরা রান্নার বই ঘোষণা করা হয়েছে।

এই বইয়ে আছে নানান স্বাদের খাবার। শস্য, ইয়ুকা (তলোয়ারের মতো পাতাবিশিষ্ট সাদা ফুলের দীর্ঘ গাছ), কলা, কলাগাছের কান্ড, মোচা, নানান পদের মাংস, বীজ, সবজিসহ আরও নানা খাবার। এগুলো আবার রান্না হয়েছে নানান পাতায় মুড়িয়ে। মজার ব্যাপার হলো, এগুলো সবই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। আর খেতেও মজাদার। তেল ছাড়া বা খুবই কম তেলে, মসলা ব্যবহার করে সেদ্ধ করে বা পুড়িয়ে রান্না করা।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মা জোরাইদা বলেন, ‘দুঃসময়ে, দুঃখের মুহূর্তে, মহামারিকালে—সব সংকটে রান্না সব সময় সমাধানের দিক নির্দেশ করে। রান্না সব দুঃখ, সংকট ভুলিয়ে রাখে। আর খাবারটা যখন ঘ্রাণ ছড়াতে থাকে, আর সেটা যখন হৃদয়ে গিয়ে পৌঁছায়, তখন মন ভালো হয়ে যেতে বাধ্য। আমরা তাই মহামারিকালে সব ভুলে এই বইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।’

মেয়ে হেইদি যোগ করেন, ‘আমরা আসলে মসলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি, স্বাদ আর পুষ্টিগুণের ওপর নজর রেখেছি। অন্যদিকে মানুষ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেছে খাবারের প্যাকেজিং। কেননা, এটা আমরাই এভাবে করেছি। বইটার জন্য আমরা এক বছর ধরে কলম্বিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরেছি। খাবার আর রান্নায় ব্যবহৃত পাতা নিয়ে গবেষণা করেছি। তিন শতাধিক রেসিপি নিয়েছি। আর সেখান থেকে নানা মানদণ্ডের বিচারে সেরা ১০০ বাছাই করেছি। এরপর সেগুলো নিয়ে হয়েছে গবেষণা। কিছু মসলা নতুন করে জুড়ে দিয়েছি। কিছু বাদ দিয়েছি। আশপাশের মানুষকে একই খাবার নানাভাবে রান্না করে খাইয়ে জিজ্ঞাসা করেছি, এভাবে খেতে বেশি মজা, নাকি এভাবে?’

মা–মেয়ে দুজনই জানিয়েছেন, তাঁরা সুখস্বপ্নেও কল্পনা করেননি যে এই বই তাঁদের এভাবে সম্মানিত করবে। তাঁরা কেবল একটা খারাপ সময় ভালো অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে পার করতে চেয়েছিলেন। এই মা–মেয়ে দুজনই ছোট্টবেলা থেকেই রান্না করতে ভীষণ ভালোবাসেন।

লাতিন আমেরিকার বাইরে ইউরোপ, এশিয়া, এমনকি অস্ট্রেলিয়ার একাধিক দেশেও বইটির তৃতীয় সংস্করণ চলেছে। সেরা পাঁচে আরও ছিল জিম্বাবুয়ে, মালয়েশিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের রান্নার বই। পুরস্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেরা হওয়া এই বইয়ের সঙ্গে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি, স্বাদ, স্বাস্থ্য আর নিরীক্ষার যোগ আছে। রান্নার প্রতি বইটি একটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। রান্নাকে খুব কম মানুষই এভাবে ভাবতে পেরেছে।


পুরস্কারের জন্য এ বছর ১৭৫টি দেশ থেকে ১ হাজার ২৮৮টি বই জমা পড়েছিল।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

নিরাপদ নারী অভিবাসন কতদূর?

প্রকাশিতঃ ৩০ জুলাই ২০২২, শনি, ১০:০৬ অপরাহ্ণ

গোঁফ রেখে আলোচিত এক ভারতীয় নারী

প্রকাশিতঃ ২৫ জুলাই ২০২২, সোম, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

চিরকুমারী: যে নারীরা কোন দিন বিয়ে করেননি , কেমন...

প্রকাশিতঃ ৯ মে ২০২২, সোম, ৬:২৫ অপরাহ্ণ

নারীত্ব, যৌনতা, আবেগ, শারীরিক জটিলতা, রজঃনিবৃত্তির প্রভাব নিয়ে যত...

প্রকাশিতঃ ২৪ জানুয়ারি ২০২২, সোম, ১১:০৯ অপরাহ্ণ

বিরোধীতা কাটিয়ে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টে প্রথম নারী বিচারক

প্রকাশিতঃ ৬ জানুয়ারি ২০২২, বৃহঃ, ১০:৩২ অপরাহ্ণ

পাবনায় পাশাপাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আপন দুই বোন

প্রকাশিতঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, রবি, ১০:২৮ অপরাহ্ণ

ভাগ্নের সঙ্গে পরকীয়ার জেরে পিটুনিতে প্রাণ গেল মামির!

প্রকাশিতঃ ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, শনি, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ