দখিনা দর্পণ র‍্যাব ও তার ছয় কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ – দখিনা দর্পণ
Image

মঙ্গলবার  •  ৫ বৈশাখ ১৪২৮ • ১৮ জানুয়ারী ২০২২

Add 1

র‍্যাব ও তার ছয় কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ

প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০২১, শনিবার, ১১:৫০ অপরাহ্ন । পঠিত হয়েছে ৭৩ বার।

র‍্যাব ও তার ছয় কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ

‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ছয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থ দফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের এই দিনে মার্কিন অর্থ দফতরের ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস (ওএফএসি) বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে – যারা মানবাধিকার লংঘন এবং নিপীড়নের সাথে সংশ্লিষ্ট।

মার্কিন অর্থ দফতরের ওয়েবসাইটে নিষেধাজ্ঞার খবর জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি
ছবির ক্যাপশান,মার্কিন অর্থ দফতরের ওয়েবসাইটে নিষেধাজ্ঞার খবর জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি

এই তালিকাভুক্তদের অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশের র‍্যাব ও এর ছয়জন কর্মকর্তা।

ছয় জন র‍্যাব কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ছয় জন কর্মকর্তা হচ্ছেন: চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (র‍্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক), বেনজির আহমেদ (সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক, জানুয়ারি ২০১৫-এপ্রিল ২০২০), খান মোহাম্মদ আজাদ (বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স), তোফায়েল মুস্তাফা সরওয়ার (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, জুন ২০১৯-মার্চ ২০২১), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, সেপ্টেম্বর ২০১৮-জুন২০১৯), এবং মোহাম্মদ আনোয়ার লতিফ খান (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, এপ্রিল-২০১৬-সেপ্টেম্বর ২০১৮)।

এতে বলা হয়, গুরুতর মানবাধিকার লংঘনে জড়িত থাকার জন্য আজ বেনজির আহমেদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর – যার ফলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য হবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

এ ব্যাপারে র‍্যাবের দিক থেকে এখনও কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

তবে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা কাদির কল্লোলের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কথা হয়েছে। মন্ত্রী তাকে বলেছেন, তারা এখনো বিজ্ঞপ্তিটি দেখেননি, এবং দেখার পর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

‘প্রায় ৬০০ বিচারবহির্ভূত হত্যা’

বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে র‍্যাব এবং অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৬০০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ৬০০-রও বেশি লোকের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, এবং নির্যাতনের জন্য দায়ী।

কিছু রিপোর্টে আভাস পাওয়া যায় যে এসব ঘটনায় বিরোধীদলীয় সদস্য,সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের টার্গেট করা হয়েছে – বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে ‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ৬ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, “বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপক অভিযোগ – আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, ও বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হেয় করার মাধ্যমে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে।”

‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, যেটি র‍্যাব নামে পরিচিত সেটি এবং এর ছয়জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তার ফলে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন না। এরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য বলেও বিবেচিত হবেন।

আর র‍্যাবও প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছ থেকে যেসব সহযোগিতা পাচ্ছিলো সেগুলো বাতিল হতে পারে।

একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত বেনজির আহমেদ ও র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ র‍্যাবের আরও চারজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিদেশে সম্পদ থাকলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

শুক্রবার মার্কিন অর্থ দফতরের ‘ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস’ (ওএফএসি) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে – যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তারা এখনো মার্কিন এই রিপোর্ট দেখেননি এবং দেখার পর তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

কিন্তু হঠাৎ করে বাংলাদেশের পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধান ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ছয় কর্মকর্তার ওপর এমন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী

ঢাকায় র‍্যাব সদর দপ্তরে এগারটি উইংয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে র‍্যাব এবং দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির পনেরটি ব্যাটালিয়ান আছে সশস্ত্র বাহিনৗ ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে। এর আগে গুম খুনের মতো ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তখনকার সেনা কর্মকর্তাকেও আটকের উদাহরণ আছে।

রাজনীতির বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলছেন দীর্ঘদিন যাবৎ র‍্যাবের বিরুদ্ধে ধরণের এমন অভিযোগের কথা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছিলেন।

“তার চেয়ে বড় কথা হলো গত বছর অক্টোবর মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছে সিনেটের আটজন সদস্য চিঠি দিয়ে র‍্যাবের বিরুদ্ধে কিছু সুস্পষ্ট অভিযোগ করেছিলেন। তারই ভিত্তিতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে আমরা ধরে নিতে পারি”।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে একত্রে কাজ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে বলা হচ্ছে অর্থ বা ট্রেজারি বিভাগের বক্তব্য থেকে।

এ নিষেধাজ্ঞার ফল কেমন হবে

বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে র‍্যাব নামে এলিট ফোর্সটি যাত্রা শুরু করেছিলো ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে। শুরু থেকেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর কাজের ধরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে আসছে।

কিন্তু এতদিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন গুম খুন নিয়ে নানা ধরণের বিবৃতি দিলেও সুনির্দিষ্টভাবে এই প্রথম কোন ব্যবস্থা নিল। সে কারণেই এর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।

বিশ্লেষক আলী রীয়াজ বলছেন এর একটা হলো প্রশাসনিক। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব যেসব সহায়তা পাচ্ছিল বা বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলো বা বিদেশ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছিলো নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো বাতিল হতে পারে।

তার মতে সেটাই স্বাভাবিক, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা এ নিষেধাজ্ঞার পর তাদের আর সহযোগিতা করবে না।

সাধারণত এ ধরণের ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু বার্তা দেয়া হয়। সেটা হলো প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ধর্তব্যের মধ্যে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা।

“তাদের যদি সম্পদ থাকে যুক্তরাষ্ট্রে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বেনজির আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না। সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের ক্ষেত্রে তাকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে,” বলছিলেন মি. রীয়াজ।

তবে তিনি মনে করেন যে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কূটনৈতিক চাপ। নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন বাংলাদেশ সরকারের ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ তৈরি হল।

এখন কেন এমন পদক্ষেপ

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে গুম-খুন সহ নানা অভিযোগ তুলে ধরছিলো র‍্যাবের বিরুদ্ধে। কক্সবাজারে কাউন্সিলর একরাম হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল আন্তর্জাতিক মহলে।

তারও আগে নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র‍্যাবের ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত যা এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে।

যদিও বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উত্থান যখন হয়েছিল,তখন শায়খ আব্দুর রহমান এবং বাংলা ভাই নামে পরিচিত সিদ্দিকুল ইসলামসহ মূল জঙ্গিদের গ্রেফতারের বিষয়কে র‍্যাবের সাফল্য হিসেবে দেখা হত।

কিন্তু র‍্যাব প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরে বিভিন্ন সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের অনেক ঘটনা বাহিনীটিকে বিতর্কে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ বলছে অন্তত ছয়শ মানুষকে গুমের অভিযোগ আছে বাংলাদেশে পুলিশের এ এলিট ফোর্সের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার ট্রেজারি বিভাগে রিপোর্টে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ – আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, ও বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হেয় করার মাধ্যমে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে।”

আলী রীয়াজ বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাইডেন প্রশাসন বারবার মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলছেন এবং এ মুহূর্তে ওয়াশিংটনে গণতন্ত্র নিয়ে ভার্চুয়াল সম্মেলন হচ্ছে। যেখানে একটা বিষয় মানবাধিকার।

আবার যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিলো সেনেট থেকে। সেখানে আটজন সদস্য চাপ দিয়েছিলেন।

ফলে কংগ্রেসের পর থেকে চাপ ছিল ও আছে। আর দ্বিতীয় নতুন প্রশাসন শুরু থেকেই বলার চেষ্টা করেছিলেন যে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে। তার সঙ্গে সঙ্গতি নিয়েই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, অনেক দেশ নিয়েই নেয়া হচ্ছে।

এখনকার কারণ সম্পর্কে মি. রীয়াজ মনে করেন যে নতুন প্রশাসন আসলে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাচ্ছেন যে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদসহ র‍্যাব কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে ঢাকায় মার্কিন দূত আর্ল আর মিলারকে তলব

রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার
ছবির ক্যাপশান,ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার (ফাইল ফটো

পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ ও কয়েকজন র‍্যাব কর্মকর্তার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় বাংলাদেশ অসন্তোষ জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে তলব করে এই অসন্তোষের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

“মার্কিন রাষ্ট্রদূত কে সকালে আমরা ডেকে নিয়েছি। আমার পররাষ্ট্র সচিব আলোচনা করেছেন। উনিও অনেকটা সারপ্রাইজের মতো যে এরকম হয়েছে,” মন্ত্রী শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ মোমেন তার সাথেই ছিলেন, তবে এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

তবে পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের কাছে পুলিশ ও র‍্যাব প্রধানের ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বাংলাদেশের অসন্তুষ্টি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব।

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রাষ্ট্রদূত মি. মিলার বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগ তার সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে পররাষ্ট্র সচিবকে জানিয়েছেন।

শুক্রবার মার্কিন অর্থ দফতরের ‘ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস’ (ওএফএসি) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে – যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মধ্যে র‍্যাব এবং এর সাবেক ডিজি হিসেবে বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ ও র‍্যাবের বর্তমান ডিজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন না, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোন সম্পদ থাকলে তা বাজেয়াপ্তও হতে পারে।

বাংলাদেশে শুক্রবার রাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তোলপাড় শুরু হলেও সরকার, পুলিশ বা র‍্যাবের দিক থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ কে আবদুল মোমেন যা বললেন:

সকালে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূতকে তলবের বিষয়টি প্রকাশ করেন মি. মোমেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান ও র‍্যাব ডিজির ওপর নিষেধাজ্ঞার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এটা খুবই দুঃখজনক। কিছু এনজিও ও হিউম্যান রাইটস গ্রুপ নাকি অভিযোগ করেছে”।

মি. মোমেনের দাবি, আমেরিকাতে প্রতি বছর ছয় লাখ মানুষ নিখোঁজ হয় কিন্তু কিভাবে নিখোঁজ হয় সেটা মার্কিন সরকারই জানে না।

এছাড়া প্রতিবছর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমেরিকার পুলিশ হাজার খানেক লোককে মেরে ফেলে, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে দশ বছরে ৬০০ লোক নাকি র‍্যাব মেরেছে। কিন্তু কাকে মেরেছে সে তথ্য আমাদের কাছে নেই। তারা একটা কিছু বলে দেন আর কি। আমরা আশা করবো যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তথ্যভিত্তিক হওয়া”।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমেরিকাতে যে ছয় লাখ লোক নিখোঁজ হয় সেজন্য সেখানকার কোন হেড অফ অথরিটির শাস্তি হয় না”।

“আর এখানে নতুন ঢং বের হল যে হেড অফ দা ইন্সটিটিউশনকে – এগুলো লোক দেখানো অপচেষ্টা। সব দেশেই কিছু লোক নিখোঁজ হয়। এগুলো দুঃখজনক”।

তিনি বলেন, “আমেরিকার মতো উন্নত ও পরিপক্ব দেশ অনেক পদক্ষেপ নেয় যা অপরিপক্ব। অনেক দেশে তাদের পদক্ষেপ কারও জন্য মঙ্গলকর হয়নি এমনকি আমেরিকার জনগণের জন্যও না”।

“আসলে যে দেশগুলো উন্নতি করে, যেসব দেশের সরকার ভালো কাজ করে অনেক সময় তাদের ওপর আক্রমণ হয়। আপনি ভালো কাজ করলে তখন সমস্যা হয়। অনেক দেশে লোকজন সন্তুষ্ট ছিলো সেসব দেশ বিভিন্ন অজুহাতে তারা ধ্বংসই করে দিয়েছে। আপনি মঙ্গল করলে অনেকে জেলাসি থেকে অনেক কিছু করে”।

ইচ্ছে করে ক্রসফায়ার হয় না – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে, র‍্যাব যে মন্ত্রনালয়ের অধীনে সেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রধান আসাদুজ্জামান খান র‍্যাবের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সরাসরি কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ ইচ্ছে করে ক্রসফায়ার বা কেউ ইচ্ছে করে গুলি করতে পারে না।

“আমাদের সিস্টেম সুন্দর। কেউ ইচ্ছে ক্রসফায়ার বা কেউ ইচ্ছে করে গুলি করতে পারে না। এসব ঘটনার পেছনে যথাযথ কারণ ছিলো বলেই প্রতীয়মান হয় আমাদের কাছে”, ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন মি. খান।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি না দেখে কোন মন্তব্য করা যাবেনা। তবে নিষেধাজ্ঞা যে কারণে দিয়েছে সেটি কিন্তু যে ঘটনাই ঘটেছে তার জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি হয়, যে এক্সিডেন্টের পেছনে দুর্ঘটনা নাকি গাফিলতি ছিল”।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীরা যখন আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে তখন নিরাপত্তা বাহিনী জীবন রক্ষার্থে হয়তো অনেক সময় গুলি করেন।

“কিন্তু সেটা যুক্তিসঙ্গত ছিল কিনা সেটা নিয়ে তদন্ত হয়। এখন আমরা আগে দেখে নেই কেন দিয়েছে (নিষেধাজ্ঞা)। কি উদ্দেশ্যে করেছে,” বলছিলেন তিনি।

যাদের উপর নিষেধাজ্ঞা:

‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ছয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থ দফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের এই দিনে মার্কিন অর্থ দফতরের ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস (ওএফএসি) বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে – যারা মানবাধিকার লংঘন এবং নিপীড়নের সাথে সংশ্লিষ্ট।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ছয় জন কর্মকর্তা হচ্ছেন: চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (র‍্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক), বেনজির আহমেদ (সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক, জানুয়ারি ২০১৫-এপ্রিল ২০২০), খান মোহাম্মদ আজাদ (বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স), তোফায়েল মুস্তাফা সরওয়ার (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, জুন ২০১৯-মার্চ ২০২১), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, সেপ্টেম্বর ২০১৮-জুন২০১৯), এবং মোহাম্মদ আনোয়ার লতিফ খান (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, এপ্রিল-২০১৬-সেপ্টেম্বর ২০১৮)।

এতে বলা হয়, গুরুতর মানবাধিকার লংঘনে জড়িত থাকার জন্য আজ বেনজির আহমেদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর – যার ফলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য হবেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

উত্তর কোরিয়া: জানুয়ারি মাসে কেন একের পর এক মিসাইল...

প্রকাশিতঃ ১৮ জানুয়ারী ২০২২, মঙ্গলবার, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পকে হত্যার ভিডিও প্রকাশ, টুইটার অ্যাকাউন্ট বাতিল

প্রকাশিতঃ ১৭ জানুয়ারী ২০২২, সোমবার, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

কাজাখস্তান: ১০ দিনের মধ্যে রুশ সেনা প্রত্যাহার হবে বলে...

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

ভারত: উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বেনারসে গঙ্গার ঘাটে মুসলিম ও...

প্রকাশিতঃ ১০ জানুয়ারী ২০২২, সোমবার, ১০:১৭ অপরাহ্ন

প্রিন্সেস বাসমা বিনতে সৌদ: সৌদি রাজকুমারী তিন বছর পর...

প্রকাশিতঃ ১০ জানুয়ারী ২০২২, সোমবার, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

কাজাখস্তান: রুশ সৈন্যরা পাহারা দিচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ছয় হাজার...

প্রকাশিতঃ ৯ জানুয়ারী ২০২২, রবিবার, ১১:৫২ অপরাহ্ন

ভারতে অ্যাপে নারীদের নিলামে তোলার মূল হোতা গ্রেফতার

প্রকাশিতঃ ৬ জানুয়ারী ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:৪০ অপরাহ্ন