দখিনা দর্পণ সাতক্ষীরায় ১২ হাজার মেট্রিক টন আমন সংগ্রহ করবে সরকার – দখিনা দর্পণ
Image

শুক্রবার  •  ৮ বৈশাখ ১৪২৮ • ২১ জানুয়ারী ২০২২

Add 1

সাতক্ষীরায় ১২ হাজার মেট্রিক টন আমন সংগ্রহ করবে সরকার

প্রকাশিতঃ ৯ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৩:৫২ অপরাহ্ন । পঠিত হয়েছে ৭৫ বার।

সাতক্ষীরায় ১২ হাজার মেট্রিক টন আমন সংগ্রহ করবে সরকার

সাতক্ষীরা জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১২ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ করবে সরকার। কৃষকের নিকট থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে চার হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন ধান ও মিল মালিকদের নিকট থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে সাত হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে খাদ্য বিভাগ। গত ৭ নভেম্বর থেকে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। একজন কৃষক সর্বনি¤œ ১২০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান দিতে পারবেন। মিল মালিকদের সাথে চুক্তির শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সংগ্রহ অভিযান সফল করতে সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে ১৫টি নির্দেশনা।

জেলা খাদ্য নিয়োন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ১২ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ করবে সরকার। এরমধ্যে চার হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন ধান ও সাত হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে। সদর উপজেলায় এক হাজার ৪৮ মেট্রিক টন ধান ও তিন হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, কলারোয়া উপজেলায় ৬৫২ মেট্রিক টন ধান ও ৫৩৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, দেবহাটা উপজেলায় ৩০১ মেট্রিক টন ধান ও ২১৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৯৫৭ মেট্রিক টন ধান ও ৩৩১ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, শ্যামনগর উপজেলায় ৯১৯ মেট্রিক টন ধান ও ৬০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, আশাশুনি উপজেলায় ৫০৫ মেট্রিক টন ধান ও ৭৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং তালা উপজেলায় ৫১৬ মেট্রিক টন ধান ও দুই হাজার ৫০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে।

এদিকে, আমন মৌসুমে সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান সফল করতে ১৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা দিয়ে গত ৮ নভেম্বর খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র আকারে জারি করা হয়। ইতোমধ্যে ধান ও চালের উপজেলাওয়ারি বিভাজন মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। সংগ্রহ অভিযান সফল করতে ১৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সেগুলো হলো-‘অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা, ২০১৭’ অনুসারে বিনির্দেশসম্মত সদ্য উৎপাদিত আমন ধান ও চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২৪ অক্টোবরের স্মারক মোতাবেক চুক্তিযোগ্য মিলারদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চাল সংগ্রহের জন্য মিলারদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার অব্যবহিত পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মিলারদের অনুকূলে বরাদ্দপত্র ইস্যু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুলিপি দিয়ে অবহিত করতে হবে। হাস্কিং মিলারদের ক্ষেত্রে চুক্তিকৃত চাল সর্টিং করে সংগ্রহ করতে হবে। ধান সংগ্রহের বিষয়টি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, ক্যাবল টিভি স্ক্রল প্রদর্শন প্রভৃতি উপায়ে বহুল প্রচারণার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে অবিলম্বে জেলা/উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভা সম্পন্ন করতে হবে।

কৃষকের অ্যাপের বাইরে উপজেলায় লটারি করে ধান সংগ্রহ দ্রুত শুরু ও শেষ করতে হবে। কৃষকের অ্যাপভুক্ত উপজেলায় রেজিস্ট্রেশন দ্রুত সম্পন্ন করে সিস্টেমে লটারি করে কৃষক নির্বাচনপূর্বক দ্রুত ধান সংগ্রহ করতে হবে। খাদ্যগুদামে কৃষকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক যেন কোনোক্রমেই হয়রানির শিকার না হন সেবিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যেহেতু চলমান সংগ্রহ মৌসুমে পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অপেক্ষা বরাদ্দ কম তাই জাতীয় পর্যায়ে চাল সংগ্রহ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৬৫ শতাংশ, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ৮৫ শতাংশ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১০০ ভাগ সম্পন্ন করার জন্য (তারিখ, পরিমাণ, সময়ভিত্তিক সিডিউল প্রস্তুতপূর্বক) জেলা, উপজেলা ও গুদামভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি ও সে অনুসারে সংগ্রহ সম্পন্ন করতে হবে। সংগৃহীত প্রতিটি চালের বস্তায় সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী স্টেনসিল প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

যুগপৎভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। গুদামে স্থান সংকট দেখা দিলে ‘চলাচল সূচি প্রণয়ন নীতিমালা, ২০০৮’ অনুসারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, মহাপরিচালক (খাদ্য) নিজ নিজ অধীক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক স্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলাচল সূচি জারি করবেন। খালি বস্তার স্বল্পতা দেখা দিলে নিজ নিজ অধীক্ষেত্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বস্তার স্বল্পতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংগ্রহ কার্যক্রমে সর্বোচ্চ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের মনিটরিং জোরদার করতে হবে। সংগ্রহ ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সর্বদা সর্বোচ্চ তৎপর ও সতর্ক থাকবেন। প্রতিদিন বিকেলে সকল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে ধান ও চাল সংগ্রহের তথ্য ও দৈনিক বাজারদর ই-মেইলে খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) প্রিয় কমল চাকমা বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলার চারটি উপজেলায় লটারির মাধ্যমে এবং বাকি তিন উপজেলায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কৃষক নির্বাচন করে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থকরী ফসল ‘গোলগাছ’

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১:০৭ পূর্বাহ্ন

ঘোড়া দিয়ে চাষ করে জীবিকার চাকা ঘোরাচ্ছেন নজু

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

ধান কাটার যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে ব্রি

প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, শুক্রবার, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালীরা

প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:৫০ অপরাহ্ন

গ্রামে গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম

প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

আমরা কবে বুঝব কৃষির ক্ষতি মানে সবার ক্ষতি

প্রকাশিতঃ ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার, ১০:২২ অপরাহ্ন

পঞ্চাশে বাংলাদেশ: এক টেলিভিশন তারকা আর দরিদ্র কৃষকের সন্তান...

প্রকাশিতঃ ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন