দখিনা দর্পণ কিছু কথা না বললেই নয় – দখিনা দর্পণ
Image

বুধবার || ১৮ মাঘ ১৪২৯ || ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ || ৯ রজব ১৪৪৪

Add 1

কিছু কথা না বললেই নয়

প্রকাশিতঃ ৮ ডিসেম্বর ২০২১, বুধ, ১১:৫২ অপরাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ৪২৯ বার।

কিছু কথা না বললেই নয়

কিছু কথা না বললেই নয়। কাটাপ্পা বাহুবলীকে কেন মেরেছিল? এক সময় এটি বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন ছিল। কারণ, বাহুবলী প্রথম খণ্ড আচমকা শেষ করে দেয়াটা অনেকেই ভালোভাবে নিতে পারেনি। সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেছিল দর্শক মহল। সবার এক কথা- পরিচালক-প্রযোজক প্রতারণা করেছে। অবশ্য তারা সেই আক্ষেপ চূড়ান্ত খণ্ডে মিটিয়ে দিয়েছে। তাই দর্শকও ভুলে যায় তাদের সেই অতৃপ্তির কথা।

এবার আসি মিশন এক্সট্রিমের কথায়। বাংলাদেশের দর্শক এরকম সিক্যুয়েল সিনেমা দেখতে কতটা প্রস্তুত? আর, মিশন এক্সট্রিম যে দুই খণ্ডের একটি সিনেমা এটা ক’জনে জেনেশুনে সিনেমা দেখতে এসেছিল? উওরটা হচ্ছে – কেউ কেউ সেটা জানত, আবার অনেকেই হয়তো জানত না? যদিও মিশন এক্সট্রিম টিম শুটিং চলাকালীন এ বিষয়টি জানিয়েছিল। তারপরও যারা জানেন না তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কথা দিচ্ছি আগামী ঈদ-উল-ফিতর (২০২২) এ সেকেন্ড পার্ট মুক্তি দিয়ে আপনাদের এই অতৃপ্তিটুকু মিটিয়ে দেব এবং এই গল্পের সমাপ্তি টানবো।এবার প্রশ্ন হচ্ছে মার্কেটের এ অবস্থা কেন। হল এত কম কেন?? দর্শক সেই ৩/৪ বছর আগের মত হচ্ছে না কেন? আমরা কিন্তু এগুলো জেনেশুনেই সিনেমা মুক্তির দিন-তারিখ নির্ধারণ করেছি। সিনেমা হল কমে গেছে, করোনার পর দেখার ইচ্ছা থাকলেও দর্শক আগের মত হলমুখো হয় কি হয় না- এসব শঙ্কা নিয়েই সিনেমা মুক্তি দিয়েছি। কেননা, পৃথিবীর সব দেশেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শক কমে গেছে। মানুষের বিনোদনের জায়গায় এখন মোবাইল কিংবা ঘর কেন্দ্রীক। কেননা, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমের মত ওটিটি দর্শকরুচিকে ভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে। এখন সেই রুচিকে অতিক্রম করা আমাদের মত দেশের মিডিয়া শিল্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার, অধিকাংশ দর্শক নিজ দেশের কনটেন্ট বিবেচনা করেও একবিন্দু ছাড় দিতে নারাজ। তারা সবকিছু বিশ্বমানের চায়। এই জটিলতা আরো প্রকট হয়েছে গত ২-৩ বছর (করোনাকালীন)। এই প্রকট যুগসন্ধিতে এসে আমরা মিশন এক্সট্রিম মুক্তি দিয়েছি। যদিও এসব ফ্যাক্টর মোকাবিলা করে মিশিন এক্সট্রিম যতটুকু সাড়া পাচ্ছে তা করোনা আসার পর এদেশে সর্বোচ্চ। হল মালিকরা তো তেমনই বলছেন। তারা আর ২০২০-এর আগের অবস্থা বিবেচনা করছে না। তবে খুশির খবর একটা আছে, তা হলো ইদানিং অনেক হলের বিকেলে ও সান্ধ্যকালীন শো-তে সিট ৮০% বা ৭০%, ৬০% পূরণ হচ্ছে যা আমাদের আকাঙ্ক্ষারও বেশি। এবং এটা ক্রমাগত বাড়ছেই। যুক্তরাষ্ট্র, ফান্স ও অষ্ট্রেলিয়াতেও একই হারে বাড়ছে দর্শক।

এবার আসি সিনেমার মান নিয়ে। মান উন্নতির চেষ্টা চলাকালীন যে মান হওয়ার কথা ‘মিশন এক্সট্রিম’ সে মানের সিনেমা। দেশীয় সিনেমাকে উচ্চ লেভেলে নিয়ে যাবার একটা প্রচেষ্টা মাত্র। ভুলেও অহংকার করবো না যে, সেই লেভেলের সিনেমা বানিয়ে ফেলেছি। স্বল্প বাজেটে এবং দেশীয় কারিগরি মানে যতটুকু বানানো যায় ততটুকুই বানানোর চেষ্টা করেছি। ‘সেই’ লেভেলের সিনেমা বানাতে আমাদের হয়তো আরো ১০-১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই অতি আকাঙ্ক্ষার পাহাড়ের চাপে যেন ‘মিশন এক্সট্রিম’ পিষ্ট না হয় সে কামনা করছি। এটা অস্কার সমতুল্যও নয়, আবার খারাপও নয়। এটা আমাদের একটা স্মার্ট এবং মানসম্পন্ন সিনেমা যা আমাদের সংস্কৃতি, জীবন ও সামর্থ্যের কথা বলে। যারা দেখেছেন তাদের ৯০% প্রশংসা করেছেন।

অনেকের মনে সবসময় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়-  আমরা ‘সেই’ লেভেলে যেতে পারছি না কেন? তাহলে বলছি, শুনুন- না পারার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের মজবুত অবকাঠামো নেই, পেরে উঠার খুব একটা চর্চাও নেই, উৎসাহ নেই, একতা নেই, পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ নেই, সহমর্মিতা নেই, সিনেমা হলের পরিবেশ নেই, প্রজেকশন-সাউন্ড কোয়ালিটি দুর্বল ইত্যাদি। সমান্তরালে আছে কিছু বিভেদ, দ্বন্দ্ব, আক্ষেপ ও ইগো ইত্যাদি। সর্বোপরি সিনেমা শিল্পকে তার ক্রান্তিলগ্ন থেকে কাটিয়ে উঠাতে এখানে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বড় অভাব। তবে অনেকেই চেষ্টা করছে। সেই চেষ্টার প্রতি সমর্থন একেবারেই নগণ্য। 

আমি একজন ক্ষুদ্র সিনেমাপ্রেমী হিসেবে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি মাত্র। আমি সবার সাথে একযোগে কাজ করে একটা পরিবর্তন দেখতে চাই। শুধু নিজের পেশা নয়, বরং নিজের দেশের সংস্কৃতিকে স্মার্ট এবং আধুনিক মানের কনটেন্টের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে চাই। নতুন প্রজন্মকে দেশী কনটেন্ট দেখাতে চাই।

শেষকথা :
করোনায় থমকে যাওয়া কপ ক্রিয়েশনের ৪টা সিনেমা প্রজেক্ট অচিরেই শুরু হতে যাচ্ছে। ইচ্ছা আছে গুণীদের নিয়ে কাজ করার। এসবে থাকতে পারেন  শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, শরিফুল রাজ, আফরান নিশোসহ আরোও কয়েকজন মেধাবী শিল্পী (যদি সবকিছু ব্যাটে-বলে মিলে যায়)। আর, আরিফিন শুভ তো আছেনই।

দেশপ্রেম সবসময় ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী প্রেমের ঊর্ধ্বে রাখতে চাই। আমি চাই দেশের সকল শিল্পীরা সার্বজনীনভাবে সমাদৃত হোক। চলচ্চিত্র প্রাণ ফিরে পাক। হলগুলো টিকে যাক। বাংলা সংস্কৃতি সমুন্নত থাক।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। আমিন।—সানী সানোয়ার

এ জাতীয় আরো সংবাদ

রাজ-রাজ্যকে নিয়ে আবারও পরীমণির পোস্ট

প্রকাশিতঃ ১৬ জানুয়ারি ২০২৩, সোম, ১০:৫০ অপরাহ্ণ

দুবাই যাচ্ছেন রাজ-পরী!

প্রকাশিতঃ ৭ জানুয়ারি ২০২৩, শনি, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

সিনেমাকে বিদায় জানাচ্ছেন সাই পল্লবী!

প্রকাশিতঃ ২৯ নভেম্বর ২০২২, মঙ্গল, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

ডিসেম্বরেই বিয়ে করছেন সিদ্ধার্থ-কিয়ারা!

প্রকাশিতঃ ১ নভেম্বর ২০২২, মঙ্গল, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

এই বয়সে টুকটাক কাজ পাচ্ছি এই তো অনেক, কেন...

প্রকাশিতঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবি, ৯:১৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশেও ছুঁয়েছে কোরিয়ান সিনেমার ঢেউ

প্রকাশিতঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবি, ৬:২৯ অপরাহ্ণ

গল্প বলার স্বাধীনতা নেই বাংলাদেশের সিনেমায়?

প্রকাশিতঃ ২৬ আগস্ট ২০২২, শুক্র, ১১:৩১ অপরাহ্ণ