দখিনা দর্পণ পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন – দখিনা দর্পণ
Image

মঙ্গলবার  •  ৫ বৈশাখ ১৪২৮ • ১৮ জানুয়ারী ২০২২

Add 1

পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশিতঃ ৮ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার, ১০:৫৫ অপরাহ্ন । পঠিত হয়েছে ৭৩ বার।

পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর বাউফলে চলতি মৌসুমে অনুকুল আবহাওয়া আমন ধানের বাম্পার ফলনে এবং কাঙ্খিত বাজার মূল্য থাকায় কৃষকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছিল। কয়েকদিন সোনার ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিল কৃষক। জাওয়াদের প্রভাবে  পানিতে  ভাসছে কৃষকের সেই স্বপ্ন। টানা চার দিনের বৃষ্টিতে  হাজার হাজার একক পাকা ধানসহ শীতকালীন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল। এতে কৃষকদের হাসি মুখে হতাশার ছাপ। বছরের খোরকি নষ্ট হয়ে যাওয়া অনেক কৃষকের মাথা হাত পড়েছে।   
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর বাউফলে ৩৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ১৭ হাজার ১১৩ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ১৭ হাজার ৫৪৩ হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ১৪ হেক্টর জমি রয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার হেক্টর জমিতে খেসারী ডাল চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধান এবং ডালের ফলন ছিল  ভাল। ইতিমধ্যেই মোট আবাদের ৫-৬ ভাগ অগ্রিম জাতের ধান কাটা হয়েছে। বাজারে ধানের মূল্যও ছিল উর্ধমূখী। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর কৃষকরা ধানের বাম্পার ফলন এবং বাজার মূল্য ভাল থাকার বাসনা নিয়ে প্রহর গুণছিল। দক্ষিণাঞ্চলে সাধারনত: পৌষ মাসেই আমন ধান কাটা হয়। কিন্তু অগ্রহায়ণ মাসের দ্বিতীয়ভাগে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে হওয়া অকাল বর্ষণে কৃষকের সব আসাই ভেঙ্গে গেল। 
সরেজমিন বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ, কালাইয়া এবং কেশবপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে প্রায় অর্ধপাকা ধানের গোছা ক্ষেতে লুটিয়ে পড়েছে। সদ্য অংকুরোদ্গম হওয়া খেসারী ডাল পানির নিচে ডুবে গেছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, বৃষ্টির কারণে কিছু ধানে চিটা হবে এবং অনেক ক্ষেতের ধান কাটা যাবে না। পানির কারণে ধান পচেঁ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে খেসারী ডাল একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধান এবং খেসারী ডাল ছাড়াও কৃষকরা অগ্রিম জাতের তরমুজ, মিষ্টি আলু এবং গম চাষ করেছিল। অকাল বর্ষণে এই ফসলগুলোও একবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় এই ফসল রক্ষায় কোন কিছুই করার নেই।  
চর শৌলা গ্রামের কৃষক মো. ওলিউর জানান, আমাদের অঞ্চলে আমন মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের  কোন ব্যবস্থা থাকে না। তাই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করার আগেই ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। বিভিন্ন চরে অগ্রিম জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছিল। তরমুজের বীজ অংকুরোদ্গমের পর কেবল লতায় পরিণত হচ্ছিল। এসকল তরমুজ একেবারেই পচেঁ যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা জানান। অকাল বর্ষণে কৃষকদের কয়েক কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়ছে বলে কৃষকরা ধারণা করছেন। 
বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, অকাল বর্ষণে শতকরা ৩০ ভাগ খেসারী নষ্ট হতে পারে। পানি নিষ্কাসন করাতে পারলে ধান, তরমুজ, গম এবং মিষ্টি আলুর কোন ক্ষতি হবে না। তবে মঙ্গলবার (গতকাল) নাগাদ বৃষ্টি থাকলে সার্বিক ফসলের ব্যপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি কমার পর ক্ষয়ক্ষতির নিরুপণ করা হবে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার  এ প্রতিবেদন লেখাকালীন সময়ে বাউফলের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছিল।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থকরী ফসল ‘গোলগাছ’

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১:০৭ পূর্বাহ্ন

ঘোড়া দিয়ে চাষ করে জীবিকার চাকা ঘোরাচ্ছেন নজু

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২২, বুধবার, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

ধান কাটার যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে ব্রি

প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, শুক্রবার, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালীরা

প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:৫০ অপরাহ্ন

গ্রামে গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম

প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

আমরা কবে বুঝব কৃষির ক্ষতি মানে সবার ক্ষতি

প্রকাশিতঃ ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার, ১০:২২ অপরাহ্ন

পঞ্চাশে বাংলাদেশ: এক টেলিভিশন তারকা আর দরিদ্র কৃষকের সন্তান...

প্রকাশিতঃ ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন