দখিনা দর্পণ মুজিব শতবর্ষের ইতিহাস (১৯২০-২০২০) – দখিনা দর্পণ
Image

মঙ্গলবার || ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ || ৯ আগস্ট ২০২২ || ১০ মহর্‌রম ১৪৪৪

Add 1

মুজিব শতবর্ষের ইতিহাস (১৯২০-২০২০)

প্রকাশিতঃ ৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবি, ৬:১৫ অপরাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ৩৬১ বার।

মুজিব শতবর্ষের ইতিহাস (১৯২০-২০২০)

দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী জনসাধারণের লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে কষ্টার্জিত এক অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। অনেক রক্ত, সম্ভ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে পরম পাওয়া এই স্বাধীনতা আমাদের স্বকীয়তা বিনির্মাণের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এই স্বাধীনতার অন্যতম কারিগর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্ম শতবাষির্কী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্ম থেকে গত একশ বছরের  প্রকৃত ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক ড. এ.এইচ.এম মাহবুবুর রহমান `মুজিব শতবর্ষের ইতিহাস’ (১৯২০-২০২০) শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

গ্রন্থটির ভুমিকা লিখেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে, আব্দুল মোনেম। এছাড়াও বইটি সম্পর্কে মূল্যবান মন্তব্য করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম মোস্তাফিজুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামগ্রিক জীবনের অবয়ব সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যবহুল পরিসরে উঠে এসেছে বইটিতে। সহজ ও সাবলীল ভাষায় রচিত বইটি পড়ে তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বেড়ে উঠবে। উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম মোস্তাফিজুর রহমান মন্তব্য করেছেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য গ্রন্থটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে বইটি সহায়ক হবে।

ভূমিকা, মুখবন্ধ ও তথ্যসূত্রসহ এই গ্রন্থে ভারতীয় উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বাপর ইতিহাস ও তৎপরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে জানতে হবে। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতোনা। বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটতোনা। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ১০০ বছরের ইতিহাস সক্ষেপে এ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

লেখক এই গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর জন্ম, শিক্ষা জীবন, ইসলামিয়া কলেজে ছাত্র রাজনীতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি, পারিবারিক জীবন বিশেষ করে বিবাহ ও সন্তানাদি, বঙ্গবন্ধুর কৈশোর ও সমসাময়িক রাজনীতি, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা ১৯৪৯, যুক্তফ্রন্ট  নির্বাচন ১৯৫৪, আইয়ূব খানের শাসনামল (১৯৫৮-১৯৬৯), বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ঘোষণা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও গণ আন্দোলন; ইয়াহিয়া খানের শাসনামল ও পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন (১৯৬৯-১৯৭১); ক্ষমতা হস্তান্তরে ষড়যন্ত্র; ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ১৯৭১; উত্তাল মার্চ ও অসহযোগ আন্দোলন; অপারেশন সার্চ লাইট ও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা; বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার ও মুজিবনগর সরকার গঠন; সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি; সেক্টর কমান্ডারস; মুক্তিফৌজ, মুক্তিবাহিনী, গণবাহিনী; স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি- শান্তিকমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল শামস্ বাহিনী; মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী; মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান; স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র; গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ; ডা. মালিকের মন্ত্রীসভা; মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্বের ভূমিকা; স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম; পাকিস্তান কারাগারে বঙ্গবন্ধু; বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন; বঙ্গবন্ধুর শাসনামল (১৯৭২-১৯৭৩); বিশ্বরাজনীতি ও বঙ্গবন্ধুর ভাবনা; বঙ্গবন্ধুর শাসনামল (১৯৭৩-১৯৭৫); বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র; বঙ্গবন্ধু হত্যা ১৯৭৫; বঙ্গভবনে খন্দকার মোশতাক; জিয়া ও প্রেসিডেন্ট সায়েম; জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন; বিচারপতি সাত্তার এবং  এইচ, এম, এরশাদ  ও রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন; বিএনপির শাসনামল (১৯৯১-১৯৯৫); আওয়ামী লীগের শাসনামল (১৯৯৬-২০০০); বিএনপি ও চারদলীয় জোটে শাসনামল (২০০১-২০০৬); তত্ত্বাবধায়ক সরকার (২০০৬-২০০৮); আওয়ামী লীগের শাসানামল (২০০৮-২০১৪); আওয়ামী লীগের শাসনামল (২০১৪- ২০১৮); আওয়ামী লীগের শাসনামল (২০১৮-বর্তমান পর্যন্ত) প্রভৃতি বিষয়ে সংক্ষেপে কিন্তু বস্তনিষ্ঠভাবে আলোচনা করেছেন।

এই গ্রন্থ্রটির একটি শক্তিশালী দিক হলো সুবিশাল এক তথ্যসূত্রের সংযোজন। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে  দেশে-বিদেশে প্রকাশিত ১৬০টি গ্রন্থ ও প্রবন্ধ তথ্যসূত্র হিসেবে লেখক এই গ্রন্থে সংযোজন করেছেন যা গ্রন্থটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। উপরোন্থ আগ্রহী পাঠকরা এই তথ্যপঞ্জীতে সংযোজিত যেকোনো গ্রন্থ বা প্রবন্ধ পড়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে সক্ষম হবেন। গ্রন্থটি তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে। গ্রন্থটি পাঠে তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবেন বলে প্রত্যাশা করি।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

স্বাধীনতার ৫০ বছর: ২৫শে মার্চের হত্যাযজ্ঞের পর যেভাবে এল...

প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহঃ, ১০:৫১ অপরাহ্ণ

কাদের বিজয় উৎসব করে বাংলাদেশ?

প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহঃ, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রেজিস্টারি মাঠ

প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহঃ, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

১৬ ডিসেম্বর: একটি রক্তগোলাপ ফোটার দিন

প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহঃ, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

আত্মসমর্পণের সেই মহেন্দ্রক্ষণ

প্রকাশিতঃ ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, বুধ, ১১:২৯ অপরাহ্ণ

তিন লেখকের টার্গেটে গুপ্তচর ‘মাসুদ রানা

প্রকাশিতঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, মঙ্গল, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

কবিতার প্রতি তরুণদের অনিহার কারণ কী

প্রকাশিতঃ ৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবি, ৬:২৮ অপরাহ্ণ