দখিনা দর্পণ এইচআইভি: এইডসে আক্রান্তদের জন্য কী ধরনের চিকিৎসা সুবিধা আছে বাংলাদেশে? – দখিনা দর্পণ
Image

মঙ্গলবার || ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ || ৯ আগস্ট ২০২২ || ১০ মহর্‌রম ১৪৪৪

Add 1

এইচআইভি: এইডসে আক্রান্তদের জন্য কী ধরনের চিকিৎসা সুবিধা আছে বাংলাদেশে?

প্রকাশিতঃ ১ ডিসেম্বর ২০২১, বুধ, ১০:০০ অপরাহ্ণ । পঠিত হয়েছে ৪০০ বার।

এইচআইভি: এইডসে আক্রান্তদের জন্য কী ধরনের চিকিৎসা সুবিধা আছে বাংলাদেশে?

বাংলাদেশে জনসংখ্যার বিচারে এখনো বেশি না হলেও এইডস রোগীর সংখ্যা আক্রান্তদের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের এইচআইভি-এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউনিএইডস

সংস্থাটির তথ্য মতে, বাংলাদেশে এখন এইডস আক্রান্তের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি। তবে দেশে চিকিৎসার আওতায় রয়েছে মাত্র আট হাজার রোগী।

এই আক্রান্ত হয়ে এই বছরে বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে ২০৫ জনের। আর এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ জনের।

তবে বিশ্বব্যাপী আধুনিক ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উদ্ভাবনের ফলে এইডসে আক্রান্ত হলেও মৃত্যুহার অনেক কমে এসেছে। এখন সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে এইডস আক্রান্ত হলেও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা সম্ভব।

বাড়ছে চিকিৎসার আওতা

বাংলাদেশের জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এইডসে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীদের চিকিৎসা সেবার আওতায় নিয়ে আসার হার প্রতিবছর বাড়ছে।

২০১৯ সালেও এইডস হয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে সচেতনতার হার ছিল ৫২ শতাংশ, যা ২০২১ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে। দুই বছর আগের যেভাবে চিকিৎসা সেবার আওতায় থাকা রোগীদের সংখ্যা ছিল ৬৫ শতাংশ, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৭৭ শতাংশে।

জাতিসংঘের চাহিদা অনুযায়ী, এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবায় নিয়ে আসার জন্য লক্ষ্য হচ্ছে অন্তত ৯৫ শতাংশে নিয়ে আসা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।

ইউএনএইডসের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার ড. সায়মা খান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”ইউএনএইডসের আগামী পাঁচ বছরের কৌশল হচ্ছে, ইউ ইজ ইকুয়্যাল টু ইউ। আনডিটেক্টবল ইজ ইকুয়্যাল টু আনট্রান্সমিসেবল। অর্থাৎ আমি যদি ওষুধ খেয়ে দেহের ভাইরাসকে এমন একটা পর্যায়ে কমিয়ে নিয়ে আসতে পারি যে, সেটা আর ছড়াতে পারবে না। তাহলে আমার এইচআইভিও ছড়াচ্ছে না, আমিও বেশিদিন বাঁচতে পারবো।”

”এআরভি ড্রাগসে আধুনিক অনেক ওষুধ এসেছে, সেটার সাইড ইফেক্ট অনেক কম কিন্তু কার্যকারিতা অনেক বেশি। একজনের দেহে ভাইরাস অনেক কমিয়ে দিতে পারে, তবে একেবারে নির্মূল করতে পারে না। ট্রিটমেন্টটা এতো ভালো যে, নিয়মিত ওষুধ খেয়ে গেলে, আজীবনই খেতে হবে এবং ভাইরাল লোডটা কমিয়ে রাখতে হবে। ফলে তার নিজের দেহেও কোন ইমপ্যাক্ট ফেলবে না, অন্যদের দেহেও ছড়াবে না। তাহলে আক্রান্ত হলেও একজন ব্যক্তি একেবারে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে,” তিনি বলছেন।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রথম যে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছিলেন, তিনি এখনো সুস্থ সবলভাবে বেঁচে রয়েছেন। তিনি নিয়মিতভাবে এইচআইভি চিকিৎসা কর্মসূচীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।

এইডস রোগ প্রতিরোধে কাজ করে, এমন একটি সংগঠন বাংলাদেশ কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটিং মেকানিজমের (বিসিসিএম) সদস্য হাফিজ উদ্দিন মুন্না বিবিসি বাংলা বলছেন, ”আয়ু বাড়া কমার বিষয় নয়, একটা মানুষ যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা পায়, চিকিৎসা নেয়, তিনি আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো খুব সাধারণভাবে থাকতে পারে। আপনি কখনোই কাউকে দেখে শনাক্ত করতে পারবেন না, এই লোকটা এইচআইভি পজিটিভ কিনা।”

বাংলাদেশে এইডসের সেবা

বাংলাদেশে সরকারিভাবে এইডসের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। বেসরকারি পর্যায়ে এই সেবা নেয়ার সুযোগ এখনো নেই।

এইডস শনাক্ত করার জন্য সারা দেশে ২৭টি কেন্দ্র রয়েছে আর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় ১১টি কেন্দ্র থেকে।

বাংলাদেশের সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের শরীরে এইডস শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৮৪ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসতে পারছে।

বাংলাদেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে।

সংক্রমিতদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও পুরুষ যৌনকর্মী, সমকামী, যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রবাসী শ্রমিক, হাসপাতালে প্রসব সেবা নিতে আসা মা ও রোহিঙ্গা। আক্রান্তদের ৩৩ শতাংশ সাধারণ মানুষ।

এইডসের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। বেশিরভাগ রোগী বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেন। তবে তাদের নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ করতে হয় এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়।

বড়দের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধ আর শিশুদের জন্য সিরাপ দেয়া হয়ে থাকে।

তবে কারও যদি এইডসের পাশাপাশি অন্য কোন শারীরিক জটিলতা থাকে, তাহলে তার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেই রোগের চিকিৎসা নিতে হবে।

বাংলাদেশ কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটিং মেকানিজমের (বিসিসিএম) সদস্য হাফিজ উদ্দিন মুন্না বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বাংলাদেশের সরকার এইডস রোগের চিকিৎসায় অনেক চেষ্টা করছে, কিন্তু কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।

”এইডস রোগীরা তাদের জন্য দরকারি ওষুধ পাচ্ছেন। কিন্তু এই জনগোষ্ঠীর জন্য অন্যান্য যেসব সেবা দরকার, যেমন তাদের জন্য পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং এবং মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। ওই জায়গায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। অনেকে আবার কিছুদিন পর ওষুধ ছেড়ে দেন বা নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যান। এটা কিন্তু চিকিৎসার জন্য একটি বড় সমস্যা তৈরি করে।” তিনি বলছেন।

”যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের অনেকে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন। তাদের খাবার, কর্মসংস্থান, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে পুনর্বাসন দরকার। কিন্তু সেটাও এখানে হচ্ছে না। অনেকের এইচআইভি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের রোগ আছে, সেটার চিকিৎসার জন্য তাদের জন্য আলাদা খুব বেশি সুবিধা নেই।”

তবে এই বক্তব্য পুরোপুরি মানতে রাজি নন জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ।

তিনি বলছেন, ”বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে স্ট্যান্ডার্ড অব অপারেটিং প্রসিডিউর দিয়েছে, সেটা অনুসরণ করেই আমরা এইচআইভি রোগীদের চিকিৎসা করে থাকি। সেখানেও আমাদের চিকিৎসার সফলতার হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

রোগীদের চিকিৎসা সেবার আওতা বাড়ানোর যে লক্ষ্য ছিল, গত কয়েক বছরের তুলনায় সেটা বাড়ছে বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী রোগী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ”অনেকে মনে করেন, এইডস হলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু যারা জানে না, তারাই শুধু এই কথা বলে। নিয়মিত ওষুধ খেলে একজন মানুষ এই রোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে না। আমি নিজে এই ওষুধ খাচ্ছি এবং ভালো আছি।”

তবে এখনো বাংলাদেশের অনেক এইডস রোগী আক্রান্ত হওয়ার পরেও এই রোগীর চিকিৎসা নিয়ে সংকোচে ভোগেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৬১ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ জনের।

তবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ১০৪ জনকে চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা গেছে। বাকি ১ হাজার ১২৫ জন সংক্রমিত ব্যক্তি এখনো চিকিৎসার বাইরে রয়ে গেছেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

ভোজ্যতেল খাওয়ার উপকারী ও ক্ষতিকর দিকগুলো কী?

ভোজ্যতেল খাওয়ার উপকারী ও ক্ষতিকর দিকগুলো কী?

প্রকাশিতঃ ৯ মার্চ ২০২২, বুধ, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

খাদ্যনালীর ক্যান্সার: লক্ষণ সাধারণ তবে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি, করণীয়...

প্রকাশিতঃ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, শুক্র, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

কোভিড: করোনাভাইরাসে অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের ঢেউয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশের যেসব...

প্রকাশিতঃ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, মঙ্গল, ২:১৮ পূর্বাহ্ণ

অমিক্রন: করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের দেহে যেসব উপসর্গ দেখা...

প্রকাশিতঃ ১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গল, ১১:০৪ অপরাহ্ণ

কোভিড: পাঁচ মাস পর আবার বাংলাদেশে সর্বোচ্চ করোনাভাইরাস রোগী...

প্রকাশিতঃ ১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গল, ১০:২৬ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণ ৮০ শতাংশের উপরে, স্বাস্থ্যের...

প্রকাশিতঃ ১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোম, ১১:৪০ অপরাহ্ণ

হৃদরোগ প্রতিরোধের উপায়

প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারি ২০২২, বুধ, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ