বড়দিন: শান্তিরাজ মহাপ্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন বড়দিন: শান্তিরাজ মহাপ্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন – দখিন দর্পণ
Image
Sorry, no posts Have .......

মঙ্গলবার  •  ১১ কার্তিক ১৪২৮ • ২৬ অক্টোবর ২০২১

বড়দিন: শান্তিরাজ মহাপ্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন

প্রকাশিতঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন । পঠিত হয়েছে ১৫৪ বার।

বড়দিন: শান্তিরাজ মহাপ্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন

আজ ২৫ ডিসেম্বর, প্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন। শুভ বড়দিন। বিশ্বের শত কোটি মানুষ আজ মহানন্দে যীশুর জন্মতিথি উৎসবটি উদ্যাপন করছে। বাংলাদেশের খ্রীষ্ট ভক্তগণও এ উৎসবমুখর দিনটি অতি আনন্দের সাথে উদ্যাপন করছে।
পবিত্র বাইবেলে পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর মানুষের মুক্তির জন্য বার বার পৃথিবীতে ভাববাদীদের পাঠিয়েছেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে মুক্তি কারও দ্বারা সম্ভব হয়নি। তাই ইশ্বর প্রতিশ্রুতি দেন তার পুত্রকে পাঠাবেন বলে। ফলে মানুষ তার মুক্তিদাতাকে দেখার জন্য বিভিন্নভাবে খুঁজে বেড়াতে থাকে। এই ত্রাণকর্তা মুক্তিদাতার আগমন প্রতীক্ষায় বহু বছর ধরে প্রবক্তাগণ ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন ভাবী ত্রাণকর্তা যে একজন কুমারীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করবেন। সে সম্বন্ধে প্রবক্তা ইসাইয়া বলেছিলেন, ‘কোন একটি যুবতী (কুমারী) এখন সন্তান সম্ভাব্য। সে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিবে। সে তার নাম রাখবে ইম্মানুয়েল অর্থাৎ আমাদের সহিত ঈশ্বর।’ (ইসাইয় ৭; ১৪ পদ) ভাবী ত্রাণকর্তা সম্বন্ধে ইসাইয়া আরো বলেছিলেন তার নাম: অনন্য মন্ত্রণাদাতা, শক্তিমান ঈশ্বর, শাশ্বত পিতা, শান্তিরাজ। (ইসাইয়া ৯;৬ পদ)
আজ থেকে প্রায় দুই হাজার ২০ বছর পূর্বে প্যালেস্টাইন দেশের এক মফ:স্বল শহর বেথলেহেমের পান্থশালায় স্থান না পেয়ে যোসেফ তার অন্ত:স্বত্ত্বা স্ত্রী মারিয়াকে নিয়ে এক গোয়াল ঘরে আশ্রয় নেয়। এই গোয়ার ঘরেই কুমারী মারিয়ার গর্ভে জন্ম নিলেণ এক নবজাতক। তিনি হলেন ত্রাণকর্তা, কালজয়ী যীশুখ্রীষ্ট।
তখন স্বর্গের এক দূত এই সংবাদ দিয়ে রাখালদের বললেন, আমি এক মহা আনন্দের সংবাদ তোমাদের জানাতে এসেছি। আর এই আনন্দে সমগ্র জাতির মানুষ আনন্দিত হবে। আজ দায়ুদ নগরীতে তোমাদের ত্রাণকর্তা জন্মেছেন। তিনিই সে খ্রীষ্ট, স্বয়ং প্রভু (লুক ২; ১০, ২১ পদ)। পবিত্র বাইবেল অনুসারে এই তো বড়দিনের আসল ঘটনা। আমরা খ্রীষ্ট বিশ্বাসীগণ প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর মানব মুক্তিদাতা যীশুখ্রীষ্ট্রের জন্মেৎসব বা বড়দিন উৎসব পালন করে থাকি। মানুষের প্রতি ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠতম অবদানের, মানুষের প্রতি ঈশ্বরের প্রগাঢ় ভালবাসার অনন্য এবং অনবদ্য স্বাক্ষর, পৃথবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা, মানুষের আনন্দের সর্বোৎকৃষ্ট উপলক্ষ এই বড়দি। খ্রীষ্ট বিশ্বাসী রূপে আমরা জানি ও বিশ্বাস করি প্রভু যীশুখ্রীষ্ট হলেন মানুষের জন্য ঈশ্বরের অঙ্গীকৃত মুক্তিদাতা। যীশুখ্রীষ্টের জন্ম গোটা মানব জাতির ইতিহাসকে দু’ভাগ করে দিয়েছে। খ্রীষ্টপূর্ব ও খ্রীষ্টাব্দ অর্থাৎ যীশুখ্রীষ্ট জন্মের পূর্বে ও পরের ইতিহাস। যারা খ্রীষ্ট বিশ্বাসী নন তারাও মানব ইতিহাসের এই বিভাগকে মেনে নিয়েছেন। এখানেই খ্রীষ্ট জন্মেরক গুরুত্ব ও বিশেষত্ব। যীশুর জন্মের আগে ঈশ্বর, স্বর্গ, নরক, বিচার, মুক্তি ইত্যাদি সম্বন্ধে মানুষের ধারণা ছিল অস্পষ্ট ও জটিল। যীশু জন্মগ্রহণ করে মানুষের নতুন ধারণা দিলেন যে, তিনি প্রেমময়, ক্ষমাশীল ও দয়ালু পিতা। মুক্তিলাভ বা স্বর্গে প্রবেশাধিকার অসাধ্য কোন ব্যাপার নয়। এ জন্য প্রয়োজন পাপ থেকে মন ফিরানো এবং ঈশ্বর ও মানুষকে ভালবাসা। যীশুর জন্মের ফলে মুক্তির দ্বার উন্মুক্ত সকল মানুষের কাছে। যীশু সার্বজনীন মুক্তিদাতা, যারা তার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাঁর শিক্ষা মেনে চলে তিনি তাদের সবার জন্য।
মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খ্রীষ্টের জন্মের মূল অর্থ হচ্ছে যারা অসহায়, বিচলিত, যারা বেদনার্ত তাদের প্রতি প্রেম, প্রীতি ও ভালবাসা প্রকাশের এবং যারা পরিশ্রান্ত ও অন্ধকারে আছে তাদেরকে আলোর পথে আনার উদ্দেশ্যই খ্রীষ্টের আবির্ভাব। প্রভু যীশুখ্রীষ্টের প্রধান আদেশ হল প্রতিবেশিকে আপনার মতো প্রেম কর। তিনি এসেছিলেন প্রেম প্রদর্শন করতে। বিশ্রাম বারে ধর্মীয় নীতি ছিল সব কাজ থেকে বিরত থাকা, এমনকি অসুস্থকে সুস্থতা প্রদান আইনে দন্ডনীয় ছিল কিন্তু সেখানেও খ্রীষ্ট অসুস্থকে সুস্থতা প্রদান করে দেখিয়ে ছিলেন যে, নিয়মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য নিয়ম। তেমনিভাবে ধর্মীয় গোঁড়ামিতে ধর্মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য ধর্ম। যীশুখ্রীষ্ট চান প্রত্যেকে যেন ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রেখে খ্রীষ্টের মত মানুষ সেবায় জীবন বিলিয়ে দেয়।
যে প্রয়োজনে প্রভু যীশু এ পৃথিবীতে জন্ম নিলেন ও মানবীয় জীবন যাপন করলেন তাহল আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করে শাশ্বত জীবন দান করা। বড়দিনের মাহাত্মা, সার্থকতা ও সাফল্য এখানেই। খ্রীষ্ট চলার পথে অনেক উপদেশ দিয়েছেন। তোমরা আপনার জ্ঞানে বুদ্ধিমান হইও না। মন্দের প্রতিরোধে কাহারও মন্দ করিও না। সকল মানুষের দৃষ্টিতে যাহা উত্তম, ভাবিয়া চিন্তিয়া তাহাই কর। যদি সাধ্য হয়, তোমাদের যতদূর হাত থাকে মনুষ্য মাত্রের সহিত শান্তিতে থাক। এই জন্ম উৎসবের অন্তরালে একটি বিষয় হচ্ছে খ্রীষ্ট রাজাধিরাজ হয়েও দীনবেশে পৃথিবীতে নেমে এলেন। মানবীয় দূরদর্শিতায় ও পৃথিবীর বন্ধনে নিজেকে বাঁধলেন। খ্রীষ্ট ছিলেন জগতের জ্যোতি ও সত্যের আলো। খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য নিজেকে নত করলেন। তিনি নিজেকে মানবের সেবায় বিলিয়ে দেবার জন্য মাটির জীবন বেছে নিলেন।
আসলে এ দিনটি যে বড়দিনতার কারণ হল এ দিনে এমন ঘটনা ঘটেছিল যা সত্যিকার অর্থে পৃথিবীতে ছিল বড় ও বিস্ময়কর ঘটনা। এ ঘটনাটি পৃথিবীতে একবারই ঘটেছিল। আর কোন দিন ঘটেনি, আর ঘটবেও না। এই ঘটনাটি হল: ঈশ্বর আকারে প্রকারে মনুষ্যবৎ হলেন। তিনি মাংসে মূর্তিমান হলেন। পৃথিবীতে তিনি মনুষ্যদের মধ্যে বাস করিলেন। আর এটাই হল বড়দিন উৎসবের তাৎপর্য।
পরিশেষে বড়দিনের শুভেচ্ছা প্রত্যেকের কাছে, কিন্তু প্রশ্ন হল, বড়দিনের সার্থকতা কোথায়? যদি না ঈশ্বরীয় প্রেম, শান্তি ও সুখের স্পর্শ আমাদের হৃদয়ে না থাকে। তাই আসুন, যথাযথ মর্যাদায় প্রভু যীশুর এই জন্ম উৎসবকে পালন করি এবং ঈশ্বরীয় প্রেমে আবদ্ধ হয়ে একে অপরের প্রতি সহনশীল হই। বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করি। আজ এ বড়দিনে, শান্তির রাজপুত্রের জন্মদিনে, অশান্তির কালো ছায়া দূর করি। খ্রীষ্টের শান্তি আলো ছায়ায় অর্জন করি প্রেম, আনন্দ, মৃদুতা, আত্মসংযম। তবেই আমাদের বড়দিন হবে সার্থক, সুন্দর এবং শ্রেষ্ঠ বড়দিন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

মিয়ানমারে সেনাঅভ্যুত্থান ও বিক্ষোভ: বেরিয়ে এল চীনের ভূমিকা

প্রকাশিতঃ ১৯ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ১০:১২ অপরাহ্ন
ফোর্বস-এর চোখে ২০২০ তালিকা

ফোর্বস-এর চোখে ২০২০ তালিকা

প্রকাশিতঃ ৩ জানুয়ারী ২০২১, রবিবার, ১১:১৪ অপরাহ্ন
সন্তানের উপর রাগ করে সম্পত্তি লিখে দিলেন পোষ্য কুকুরকে!

সন্তানের উপর রাগ করে সম্পত্তি লিখে দিলেন পোষ্য কুকুরকে!

প্রকাশিতঃ ১ জানুয়ারী ২০২১, শুক্রবার, ৮:১০ অপরাহ্ন

প্রকৃতির এমন বিধ্বংসী রূপ ১৪০ বছরেও দেখেনি ক্রোয়েশিয়া

প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন
সৌদিতে শপথ নিয়ে মন্ত্রীরা ইয়েমেনে ঢুকতেই বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, নিহত ৫

সৌদিতে শপথ নিয়ে মন্ত্রীরা ইয়েমেনে ঢুকতেই বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, নিহত ৫

প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ৯:০১ অপরাহ্ন

বিশ্বসেরা ১০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি

প্রকাশিতঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার, ১১:২৫ অপরাহ্ন

বড়দিন: শান্তিরাজ মহাপ্রভু যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিন

প্রকাশিতঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন