দখিনা দর্পণ ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার সংগঠনের উত্থান: বিপাকে পেশাদার সাংবাদিক – দখিনা দর্পণ
Image

শনিবার  •  ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ • ২৭ নভেম্বর ২০২১

Add 1

ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার সংগঠনের উত্থান: বিপাকে পেশাদার সাংবাদিক

প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১১:৪৩ অপরাহ্ন । পঠিত হয়েছে ২১৫ বার।

ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার সংগঠনের উত্থান: বিপাকে পেশাদার সাংবাদিক

ভূয়া মানবাধিকার কর্মি আর ভূয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে চরমে পৌঁছেছে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায়। সাংবাদিক পরিচয়ে এরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, দোকানপাট দখল, থানায় দালালী, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়ছে।

ভুয়া সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ পেতে এবং কথিত মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য-সমর্থকরা নিজেদেরকে ’মানবাধিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিরীহ লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দামি বেশভূষা, হাতে ক্যামেরা, বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার, কোমরে/গলায় কিংবা পকেটে ঝোলানো যেনতেন পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচয়পত্র, দেখে বোঝার উপায় নেই এরা প্রতারক বা চাঁদাবাজ। এরা সরাসরি প্রবেশ করছে সরকারি দপ্তরে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে পড়ছে। থানায় যাচ্ছে, দালালি করছে। ব্যবসায়ী মহলকে বিপাকে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

কিছু ভুঁইফোড় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের মালিক ও সম্পাদক নামধারী সুবিধাভোগীদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে এসকল নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের পরিচয় পত্র (সাংবাদিক কার্ড) বাগিয়ে নিয়ে চষে বেড়াচ্ছে যত্রতত্র। এতে করে পেশাদার সাংবাদিকরা আজ নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন। ভূয়া সাংবাদিকদের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে খোদ পুলিশেরও অনেকটা ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে।
কারণ, পুলিশের সঙ্গেই ওইসব ভূয়া ও নামধারী সাংবাদিকদের বেশি সখ্যতা দেখা যায়। এরা প্রায়ই থানার ভিতরে দারোগাদের সাথে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডাবাজিতে মত্ত থাকেন। দালাল হিসেবে ঘুষ বাণিজ্যে সরাসরি এরা সহায়তা করে, পুলিশের ’সোর্স’ হিসেবেও তারা বিশ্বস্ত। ফলে অলিতে গলিতে গজিয়ে উঠেছে নাম সর্বস্ব ভূয়া মানবাধিকার সংগঠন। যার মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি তালা উপজেলায় ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’ নামের একটি সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন গড়ে উঠেছে। এদের সংগঠনে আনুপাতিক হারে পেশাদার সাংবাদিক না থাকলেও তারাই এখন তালা উপজেলায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের নূন্যতম শিক্ষাগত জ্ঞানও নেই, তাদের হাতে মাত্র এক হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হচ্ছে মানবাধিকার কর্মীর আইডি কার্ড। এরা আবার তথাকথিত কেন্দ্রীয় কমিটি হতে ৫হাজার টাকা নিয়ে থানা কমিটি এবং ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলা কমিটি গঠনের অনুমোদনও নিয়ে আসছে। মানবাধিকার নামক সংস্থায় কাজ করে মুরগী আর পান ব্যবসায়ী, মোটরসাইকেল ড্রাইভার, চা বিক্রেতাও নামের আগে পিছে বসাচ্ছে ‘সাংবাদিক’। নিজের নাম লিখতে কলম ভাঙে, যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডিও পার হয়নি। সাংবাদিক বলতে গেলে উচ্চারণ করে বসে ‘সামবাদিক’, নিজের সংগঠনটির নাম পর্যন্ত বলতে পারে না-তারাই রাতারাতি মানবাধিকার-সাংবাদিক সংগঠনের নেতা বনে গেছেন। তাদের ভাবসাব দেখলে মনে হবে তারা যেন কোন বিশ্ব বিদ্যালয়ের জার্নালিজিয়ামের উপর ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। ‘ভুয়া সাংবাদিকদের প্রতারণার জাল’ কোন এক ছড়াকার টিটকারির সুরেই ছন্দ মিলিয়ে লিখেছেন-‘হঠাৎ করে এলো যে এক সাংবাদিক, কথায় কথায় তোলে ছবি ভাবখানা তার সাংঘাতিক। তিলকে সে বানায় তাল-তালকে আবার তিল, চড়–ইকে সে পেঁচা বানায় কাককে বানায় চিল।’

এরা সাংবাদিকদের মতো বেশভুষায় সেজেগুজে অলিগলিসহ হাট-বাজার চষে বেড়াচ্ছেন। এরা পান থেকে চুন খসলেই রীতিমত বাহিনী নিয়ে হামলে পড়ছেন সেখানে। প্রকৃত ঘটনা কী-সে ঘটনার আদৌ কোনো নিউজ ভ্যালু আছে কী না, সেসব ভেবে দেখার ফুসরৎ তাদের নেই।
এদিকে বেশ কিছুদিন আগে তালায় একজন ভূয়া সাংবাদিক সময় টিভির লোগোসহ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আটক হন। সেখানে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান তিনি। তখন তার কাছ হতে ২টি টিভির লোগো কয়েকটি পত্রিকার আইডি কার্ড জব্দ হয়। সে তালায় স্টিকার সাইদ নামে পরিচিত হলেও থেমে থাকেনি তার দোরত্ব। সে কখনও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিশেষ দূত, কখনও উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা কখনও সময় টিভির দক্ষিণাঞ্চল প্রতিনিধি আবার কখনও পুলিশের সোর্স। করেছেন নতুন বাড়ি ও গাড়িও।

একজন মানবাধিকার কর্মী জানান, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট এন্ড কালচারাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নামের মানবাধিকার সংগঠন সম্প্রতি গড়ে উঠেছে। এই সংগঠনের আইডি কার্ডের উপরে বড় করে লেখা রয়েছে ‘গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা’। একইভাবে মানবাধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি নামেও আরেকটি সংগঠন সদস্যদের ‘মানবাধিকার সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয়পত্র দেওয়ার নাম করে এক হাজার টাকা এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠন করে আঞ্চলিক পরিচালক, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৩ হাজার টাকা করে আদায় করছে। তিনি আরও জানান, এদের নানারকম দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু নামধামের এসব মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকান্ড মনিটরিং না করায় বাঁধাহীনভাবে তাদের অপকর্ম বেড়েই চলেছে।

এবিষয়ে দুই থানার কর্মকর্তারা বলেন, শুধু তালা উপজেলায় নয় সারা বাংলাদেশে এমন ভূয়া মানবাধিকার সংগঠন গড়ে উঠেছে। আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে এদেরকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পৃষ্টপোষকতায় আবার তারা প্রভাব খাটিয়ে বিস্তার লাভ করেন। পুলিশের সাথে সখ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমরা অতি দ্রুত ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।
উপজেলার দুই থানার প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাব এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধুমাত্র ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার দের বিরেুদ্ধে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করলে হবে না। এদের বিরুদ্ধে আমাদের এক হয়ে উৎখাত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে পেশাদার সাংবাদিক ভাইয়েরা তাদের পেশাগত কাজ করতে বাঁধাগ্রস্ত হবেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পাটকেলঘাটায় ১০বোতল ফেন্সিডিলসহ এক ব্যক্তি আটক

প্রকাশিতঃ ২৭ নভেম্বর ২০২১, শনিবার, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরার তালার শিরাশুনি দাখিল মাদ্রসার সুপারের অনিয়ম দূর্নীতির প্রতিবাদে...

প্রকাশিতঃ ২৬ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার, ৬:১১ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় ১০০ টাকায় নিয়োগ পেলেন ৪১ জন পুলিশ সদস্য

প্রকাশিতঃ ২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় ১৫শ দরিদ্র কৃষকের মাঝে বোরো ধানের বীজ বিতরণ

প্রকাশিতঃ ১৫ নভেম্বর ২০২১, সোমবার, ১০:১৫ অপরাহ্ন

নৌকা ৩টি বিদ্রোহী ৫টি, বিএনপি ২টি, জামাত ২টি জাতীয়...

প্রকাশিতঃ ১২ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার, ৩:৪৭ অপরাহ্ন

মোজাফফর গার্ডেনের ৫৯ পশুপাখি জব্দ

প্রকাশিতঃ ৫ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

দেবহাটায় স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে মারপিটের মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে...

প্রকাশিতঃ ৫ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন